নতুন চাঁদ

অভেদম্

অভেদম্ দেখিয়াছ সেই রূপের কুমারে, গড়িছে যে এই রূপ? রূপে রূপে হয় রূপায়িত যিনি নিশ্চল নিশ্চুপ! কেবলই রূপের আবরণে যিনি ঢাকিছেন নিজ কায়া লুকাতে আপন মাধুরী যে জন কেবলই রচিছে মায়া! সেই বহুরূপী পরম একাকী এই সৃষ্টির মাঝে নিষ্কাম হয়ে কীরূপে সতত রত অনন্ত কাজে। পরম নিত্য হয়ে...

অভয়-সুন্দর

অভয়-সুন্দর কুৎসিত যাহা, অসাম্য যাহা সুন্দর ধরণিতে – হে পরম সুন্দরের পূজারি! হবে তাহা বিনাশিতে। তব প্রোজ্জ্বল প্রাণের বহ্নিশিখায় দহিতে তারে যৌবন ঐশ্বর্য-শক্তি লয়ে আসে বারে বারে। যৌবনের এ ধর্ম বন্ধু, সংহার করি জরা অজর অমর করিয়া রাখে এ প্রাচীনা বসুন্ধরা। যৌবনের সে ধর্ম...

অশ্রু-পুষ্পাঞ্জলি

অশ্রু-পুষ্পাঞ্জলি চরণারবিন্দে লহো অশ্রু-পুষ্পাঞ্জলি, হে রবীন্দ্র, তব দীন ভক্ত এ কবির। অশীতি-বার্ষিকী তব জনম-উৎসবে আসিয়াছি নিবেদিতে নীরব প্রণাম। হে কবিসম্রাট, ওগো সৃষ্টির বিস্ময়, হয়তো হইনি আজও করুণাবঞ্চিত! সঞ্চিত যে আছে আজও স্মৃতির দেউলে তব স্নেহ করুণা তোমার, মহাকবি!...

আজাদ

আজাদ কোথা সে আজাদ? কোথা সে পূর্ণ-মুক্ত মুসলমান? আল্লাহ্ ছাড়া করে না কারেও ভয়, কোথা সেই প্রাণ? কোথা সে ‘আরিফ’ , কোথা সে ইমাম, কোথা সে শক্তিধর? মুক্ত যাহার বাণী শুনি কাঁদে ত্রিভুবন থরথর! কে পিয়েছে সে তৌহিদ-সুধা পরমামৃত হায়? যাহারে হেরিয়া পরান পরম শান্তিতে ডুবে যায়। আছে...

আমার কবিতা তুমি

আমার কবিতা তুমি প্রিয়া-রূপ ধরে এতদিনে এলে আমার কবিতা তুমি, আঁখির পলকে মরুভূমি যেন হয়ে গেল বনভূমি! জুড়াল গো তার শত জনমের রৌদ্রদগ্ধ-কায়া– এতদিনে পেল তার স্বপনের স্নিগ্ধ মেঘের ছায়া! চেয়ে দেখো প্রিয়া, তোমার পরশ পেয়ে গোলাপ দ্রাক্ষাকুঞ্জে মরুর বক্ষ গিয়াছে ছেয়ে! গভীর নিশীথে,...

আর কতদিন?

আর কতদিন? আমার দিলের নিদ-মহলায় আর কতদিন, সাকি, শারাব পিয়ায়ে, জাগায়ে রাখিবে, প্রীতম আসিবে নাকি? অপলক চোখে চাহি আকাশের ফিরোজা পর্দা-পানে, গ্রহতারা মোর সেহেলিরা নিশি জাগে তার সন্ধানে। চাঁদের চেরাগ ক্ষয় হয়ে এল ভোরের দর-দালানে, পাতার জাফরি খুলিয়া গোলাপ চাহিছে গুলিস্তানে।...

ঈদের চাঁদ

ঈদের চাঁদ সিঁড়ি-ওয়ালাদের দুয়ারে এসেছে আজ চাষা মজুর ও বিড়িওয়ালা; মোদের হিস্‌সা আদায় করিতে ঈদে দিল হুকুম আল্লাতালা! দ্বার খোলো সাততলা-বাড়িওয়ালা, দেখো কারা দান চাহে, মোদের প্রাপ্য নাহি দিলে যেতে নাহি দেব ঈদ্গাহে! আনিয়াছে নবযুগের বারতা নতুন ঈদের চাঁদ, শুনেছি খোদার হুকুম,...

ওঠ রে চাষি

ওঠ রে চাষি    চাষি রে! তোর মুখে হাসি কই? তোর গো-রাখা রাখালের হাতে বাঁশের বাঁশি কই? তোর খালের ঘাটে পাট পচে ভাই পাহাড়-প্রমাণ হয়ে, তোর মাঠের ধানে সোনা রং-এর বান যেন যায় বয়ে,   সে পাট ওঠে কোন লাটে? সে ধান ওঠে কোন হাটে?   উঠানে তোর শূন্য মরাই মরার মতন পড়ে–   স্বামীহারা...

কিশোর রবি

কিশোর রবি হে চিরকিশোর কবি রবীন্দ্র, কোন রসলোক হতে আনন্দ-বেণু হাতে লয়ে এলে খেলিতে ধূলির পথে? কোন সে রাখাল রাজার লক্ষ ধেনু তুমি চুরি করে বিলাইয়া দিলে রস-তৃষাতুরা পৃথিবীর ঘরে ঘরে। কত যে কথায় কাহিনিতে গানে সুরে কবিতায় তব সেই আনন্দ-গোলোকের ধেনু রূপ নিল অভিনব। ভুলাইলে জরা,...

কৃষকের ঈদ

কৃষকের ঈদ বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিমে আশমানে, লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গোরস্তানে! হেরো ঈদ্গাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত-কঙ্কাল কশাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গোরুর পাল? রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রু-সলিলে হায়, বেলাল! তোমার কন্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়! থালা ঘটি বাটি...

কেন জাগাইলি তোরা

কেন জাগাইলি তোরা কেন ডাক দিলি আমারে অকালে কেন জাগাইলি তোরা? এখনও অরুণ হয়নি উদয়, তিমিররাত্রি ঘোরা! কেন জাগাইলি তোরা? যে আশ্বাসের বাণী শুনাইয়া পড়েছিনু ঘুমাইয়া বনস্পতি হইয়া সে বীজ পড়েনি কি ছড়াইয়া– দিগদিগন্তে প্রসারিয়া শাখা? বাঁধেনি সেথায় নীড়, প্রাণ-চঞ্চল বিহগের দল করেনি...

চাঁদিনি রাতে

চাঁদিনি রাতে কোদালে মেঘের মউজ উঠেছে গগনের নীল গাঙে, হাবুডুবু খায় তারা-বুদ্‌বুদ, জোছনা সোনায় রাঙে। তৃতীয়া চাঁদের ‘সাম্পানে’ চড়ি চলিছে আকাশ-প্রিয়া, আকাশ-দরিয়া উতলা হল গো পুতলায় বুকে নিয়া। নীলিম-প্রিয়ার নীলা গুল-রুখ নাজুক নেকাবে ঢাকা দেখা যায় ওই নতুন চাঁদের কালোতে আবছা...

চির-জনমের প্রিয়া

চির-জনমের প্রিয়া আরও কতদিন বাকি? বক্ষে পাওয়ার আগে বুঝি, হায়, নিভে যায় মোর আঁখি! অনন্তলোকে অনন্তরূপে কেঁদেছি তোমার লাগি সেই আঁখিগুলি তারা হয়ে আজও আকাশে রয়েছে জাগি। চির-জনমের প্রিয়া মোর! চেয়ে দেখো নীলাকাশে ভ্রমরের মতো ঝাঁক বেঁধে কোটি গ্রহ-তারা ছুটে আসে তোমার...

দুর্বার যৌবন

দুর্বার যৌবন ওরে অশান্ত দুর্বার যৌবন! পরাল কে তোরে জ্ঞানের মুখোশ সংযম-আবরণ? ভিতরের ভীতি ঢাকিতে রে যত নীতি-বিলাসীরা ছলে উদ্ধত যৌবন-শক্তিরে সংযত হতে বলে। ভাবে, ভাঙনের গদা লয়ে যদি যৌবন মাতে রণে, গুড়ুক টানিতে পারিবে না বসে সোনার সিংহাসনে! ওরে দুরন্ত! উড়ন্ত তোর পাখা কে...

নতুন চাঁদ

নতুন চাঁদ দেখেছি তৃতীয় আশমানে চিদাকাশে চির-পথ-চাওয়া মোর নতুন চাঁদ হাসে। দেহ ও মনের রোজা আমার ‘এফতার’ করে গেরেফতার করিব, তৃষিত বক্ষে মোর ওই চাঁদে, সহিতে পারি না বিরহ ওর, মন কাঁদে! জুড়াব এবার জুড়াব গো, খুশির পায়রা উড়াব গো নামিবে ও চাঁদ মোর হৃদয়-আশমানে, মত্ত হইব আনন্দের...

নিরুক্ত

নিরুক্ত আর কতদিন রবে নিরুক্ত তোমার মনের কথা? কথা কও প্রিয়া, সহিতে নারি এ নিদারুণ নীরবতা। কেবলই আড়াল টানিতে চাহ গো তোমার আমার মাঝে সে কি লজ্জায়? তবে কেন তাহা অবহেলা সম বাজে? হেরো গো আমার তৃষিত আকাশ তব অধরের কাছে যে কথা শোনার তরে শত যুগ আনত হইয়া আছে, বলো বলো প্রিয়া, সে...

মোবারকবাদ

মোবারকবাদ মোরা ফোটা ফুল, তোমরা মুকুল এসো গুল-মজলিশে ঝরিবার আগে হেসে চলে যাব – তোমাদের সাথে মিশে। মোরা কীটে-খাওয়া ফুলদল, তবু সাধ ছিল মনে কত– সাজাইতে ওই মাটির দুনিয়া ফিরদৌসের মতো। আমাদের সেই অপূর্ণ সাধ কিশোর-কিশোরী মিলে পূর্ণ করিয়ো, বেহেশ্‌ত এনো দুনিয়ার মহফিলে। মুসলিম...

শিখা

শিখা যৌবনের রাগ-রক্ত লেলিহান শিখা জ্বলিয়া উঠিবে কবে ভারতে আবার জড়তার ধূমপুঞ্জ বিদারণ করি উদ্ভাসিয়া তমসার তিমির-শর্বরী? কোথা সে অনাগত সাগ্নিক পুরোধা নির্বাপিত-প্রায় এই যজ্ঞ হোমানলে উচ্চারিয়া বেদমন্ত্র দানিবে আহুতি, নব নব প্রাণের সমিধ কে জোগাবে সেথা? হায় রে ভারত, হায়...

সে যে আমি

সে যে আমি ওগো দুরন্ত সুন্দর মোর! কার পরে রাগ করি তারার মুক্তা-মালিকা ছিঁড়িয়া ছড়ালে গগন ভরি? কারে তুমি ভালোবাস প্রিয়তম? কার নাহি পেয়ে দেখা চাঁদের কপোলে মাখাইয়া দিলে কালো কলঙ্ক-লেখা? কার অনুরাগ নাহি পেয়ে তুমি লাল হয়ে ওঠ রাগে? প্রভাত-সূর্যে, সৃষ্টিতে সেই রাগের বহ্নি...