রুবাইয়াত-ই-হাফিজ – ১১-২০

১১

রক্ত-রাঙা হল হৃদয় তোমার প্রেমের পাষাণ-ব্যথায়।
তোমার ও-রূপ জ্ঞান-অগোচর, পৌঁছে নাকো দৃষ্টি সেথায়।
জড়িয়ে গেল ভীরু হৃদয় তোমার আকুল অলক-দামে,
সন্ধ্যা-কালো কেশে বাঁধা দেখছি ওরে ছাড়ানো দায়॥

১২

রবি, শশী, জ্যোতিষ্ক সব বান্দা তোমার, জ্যোতির্মতি!
যেদিন হতে বান্দা হল – পেল আঁধার-হরা জ্যোতি।
রাগে-অনুরাগে মেশা তোমার রূপের রৌশনীতে
চন্দ্র হল স্নিগ্ধ-কিরণ সূর্য হল দীপ্ত অতি॥

১৩

যেদিন হতে হৃদয়-বিহগ ব্যথার জালে পড়ল ধরা,
সেই হতে তার মাথার পরে ঝুলছে ছুরি রক্ত-ঝরা।
ত্যক্ত আমি হাতের কাছের পেয়ালা-ভরা শরবতে, তাই
করতেছি পান-পাত্রে ব্যথার রক্ত আমার হৃদয়-ক্ষরা॥

১৪

আমার করে তোমার অলক জড়িয়ে বীণার তারের মতো।
এ হৃদি-ভার আমার – শুধু তোমার ঠোঁটে হয় আনত।
চিকন তোমার ও-মুখখানি ভুখা হিয়ার সান্ত্বনা মোর
সর্বগ্রাসী মোর ক্ষুধার খোরাক ওই দেহটুক? হায় বিধাতঃ॥

১৫

তোমার পথে মোর চেয়ে কেউ সর্বহারা নাইকো, প্রিয়!
আমার চেয়ে তোমার কাছে নাই সখী, কেউ অনাত্মীয়।
তোমার বেণির শৃঙ্খলে গো নিত্য আমি বন্দি কেন? –
মোর চেয়ে কেউ হয়নি পাগল পিয়ে তোমার প্রেম-অমিয়॥

১৬

দলতে হৃদয় ছলতে পরান দক্ষ সদা আমার প্রিয়া।
তারই মিলন মাগি ঝুরে ভাগ্য-হত আমার হিয়া।
গোলাব-ফুলী গাল গো তাহার, রুপালি মুখ, চিকন অধর;
ফুলকে ভোলায় ফুল্লমুখী মিঠে হাসির ছিটেন দিয়া॥

১৭

পরান-ভরে পিয়ো শরাব, জীবন যাহা চিরকালের।
মৃত্যু-জরা-ভরা জগৎ, ফিরে কেহ আসবে না ফের।
ফুলের বাহার, গোলাব-কপোল, গেলাস-সাথি মস্ত্ ইয়ার,
এক লহমার খুশির তুফান, এই তো জীবন! – ভাবনা কীসের॥

১৮

আয়না তোমার আত্মার গো – তরল তোমার ওই লাবণি
সাধ জাগে ওই ধ্যানের চরণ করি আমার নয়ন-মণি।
না, না, আমার ভয় করে গো, নয়ন-পাতার কাঁটায় পাছে
কমল-পায়ে বাজে ব্যথা! ধেয়ানে থাক সারাক্ষণই॥

১৯

রঙিন মিলন-পাত্র প্রথম পান করালে ইমান্‌দারি ।
নেশায় যখন বুঁদ হয়েছি – জাল বিছালে অত্যাচারী।
আঁখির সলিল-ধারা গো, আর বুকের আগুন-জ্বালা নিয়ে
ভেজাই পোড়াই আপনারে পথের ধূলি হয়ে তারই॥

২০

তোমার মুখের মিল আছে, ফুল, সাথে সে এক কমল-মুখীর।
যে-ফুল হেরে দিল দেওয়ানা , গন্ধ যথা সদাই খুশির।
সাধ জাগে – এক ফুলদানিতে রাখি তোরে আর তাহারে,
ফুলেল ঠোঁটে চুম্ব নিতে লাগবে সুবাস পুষ্প-মদির॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *