০৬.ভীষ্মপর্ব

০২৫. শ্রীমদ্‌ভগবতগীতা প্রথম অধ্যায় – সৈন্যদর্শন, অর্জুনবিষাদ

শ্রীমদ্‌ভগবতগীতা – প্রথম অধ্যায় – সৈন্যদর্শন ধৃতরাষ্ট্র কহিলেন, “হে সঞ্জয়! কৌরব ও পাণ্ডবগণ সংগ্রামভিলাষে ধর্মভূমি কুরুক্ষেত্রে সমবেত হইয়া কি করিয়াছিল?” সঞ্জয় কহিলেন, “মহারাজ! রাজা দুর্য্যোধন পাণ্ডবসৈন্য ব্যূহিত অবলোকন করিয়া দ্রোণাচার্য্য-সমীপে...

০২৬. দ্বিতীয় অধ্যায় – বিষাদনাশক সাংখ্যযোগ, কর্মযোগ প্রশংসা

দ্বিতীয় অধ্যায় – বিষাদনাশক সাংখ্যযোগ সঞ্জয় কহিলেন, “ভগবান্‌, বাসুদেব কৃপাবশংবদ, অশ্রুপূর্ণলোচন, বিষন্নবদন অর্জুনকে কহিলেন, ‘অর্জুন! ঈদৃশ বিষম সময়ে কি নিমিত্ত তোমার এই অনার্য্যসেবিত, স্বর্গপ্রতিরোধক (স্বর্গগমনে বাধাজনক), অকীর্তিকর মোহ উপস্থিত হইল? হে পার্থ! তুমি...

০২৭. তৃতীয় অধ্যায় – কর্মযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে কেশব! যদি তোমার মতে কর্ম অপেক্ষা জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ হয়, তবে আমাকে এই মারাত্মক কর্মে কী নিমিত্ত নিয়োজিত করিতেছ? তুমি কখন জ্ঞানের, কখন বা কর্মের প্রশংসা করিয়া আমার বুদ্ধিকে মুগ্ধপ্রায় করিতেছ; এক্ষণে যাহাতে আমার শ্রেয়োলাভ হয়, এমন এক পক্ষ...

০২৮. চতুর্থ অধ্যায় – জ্ঞানযোগ

“ভগবান বলিলেন, ‘আমি পূর্বে আদিত্যকে এই অব্যয়যোগ কহিয়াছিলাম; তৎপরে আদিত্য মনুকে ও মনু ঈক্ষ্বাকুকে কহিয়াছিলেন এবং নিমিপ্রভৃতি রাজর্ষিগণ পরম্পরাগত (পূর্বাপর ধারাবাহিকরূপে আগত) এই যোগবৃত্তান্ত অবগত হইয়াছিলেন, অনন্তর কালক্রমে উহা বিলুপ্ত হইয়াছিল, আজি আমি তোমার নিকটে সেই...

০২৯. পঞ্চম অধ্যায় – সন্ন্যাসযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে কৃষ্ণ! তুমি কর্মসন্ন্যাস (কর্মত্যাগ) ও কর্মযোগ (ফলত্যাগপূর্বক কর্মাচরণ) উভয়ের কথাই কহিতেছ, এক্ষণে উভয়ের মধ্যে যাহা শ্রেয়স্কর, তাহা অবধারিত করিয়া বল।’ “কৃষ্ণ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! কর্মত্যাগ, কর্মযোগ উভয়ই মুক্তির কারণ,...

০৩০. ষষ্ঠ অধ্যায় – ধ্যানযোগ

“‘হে অর্জুন! যিনি ফলে বিতৃষ্ণ (আকাঙ্খারহিত) হইয়া কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান করেন, তিনিই সন্ন্যাসী এবং তিনিই যোগী; কিন্তু যিনি অগ্নিসাধ্য ইষ্ট (যজ্ঞ) ও অনগ্নি পূর্ত প্রভৃতি পরিত্যাগ করিয়াছেন, তিনি সন্ন্যাসীও নহেন যোগীও নহেন। পণ্ডিতেরা যাহা সন্ন্যাস বলিয়া নির্দেশ...

০৩১. সপ্তম অধ্যায় – জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ

“ভগবান্‌ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! তুমি আমার প্রতি অনুরক্ত ও আমার আশ্রিত হইয়া যোগাভ্যাসপূর্বক যে প্রকারে আমাকে সম্পূর্ণরূপে অবগত হইতে পারিবে, তাহা শ্রবণ কর। আমি যে অনুভবসহকৃত (অনুভবের সহিত আচরিত) জ্ঞান সম্যক্‌রূপে কীর্তন করিতে প্রবৃত্ত হইতেছি, ইহা বিদিত হইলে,...

০৩২. অষ্টম অধ্যায় – অক্ষরব্রহ্মযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! ব্রহ্ম, অধ্যাত্ম ও কর্ম কাহাকে বলে? অধিভূত ও অধিদৈবই বা কি? মনুষ্যদেহে অধিযজ্ঞ কিরূপে অবস্থান করিতেছে? সংযতচিত্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুকালে কি প্রকারে ব্রহ্মকে বিদিত হয়েন?’ “বাসুদেব কহিলেন, ‘হে অর্জুন! যিনি পরম, অক্ষয় ও জগতের মূল কারণ, তিনিই...

০৩৩. নবম অধ্যায় – রাজবিদ্যা-রাজগুহ্যযোগ

“ভগবান্‌ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! তুমি অসূয়াশূন্য; অতএব যাহা অবগত হইলে সংসারবন্ধন হইতে মুক্ত হইবে, আমি সেই গোপনীয় উপাসনাসহকৃত ঈশ্বরজ্ঞান কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। এই উৎকৃষ্ট জ্ঞান বিদ্যাশ্রেষ্ঠ, রাজগণেরও গোপনীয়, অতি পবিত্র, প্রত্যক্ষফলদ, ধর্মানুগত ও অব্যয়; ইহা...

০৩৪. দশম অধ্যায় – বিভূতিযোগ

“ভগবান্‌ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! তুমি আমার বাক্যশ্রবণে নিতান্ত প্রীত হইতেছে; এক্ষণে আমি তোমার হিতবাসনায় পুনরায় যে সমস্ত উৎকৃষ্ট বাক্য কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষি ও সুরগণও আমার প্রভাব অবগত নহেন; আমি সকল বিষয়েই তাঁহাদিগের আদি। যিনি আমাকে অনাদি, জন্মবিহীন ও...

০৩৫. একাদশ অধ্যায় – বিশ্বরূপদর্শন

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করিয়া যে পরম গুহ্য আত্মা ও দেহ প্রভৃতির বিষয় কীর্তন করিলে, তদ্দ্বারা আমার ভ্রান্তি দূর হইয়াছে। হে পদ্মপলাশলোচন! আমি তোমার মুখে ভূতগণের উৎপত্তি, প্রলয় এবং তোমার অক্ষয়মাহাত্ম্য সবিস্তর শ্রবণ...

০৩৬. দ্বাদশ অধ্যায় – ভক্তিযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! যাহারা ত্বদ্‌গতচিত্তে (অনন্যমনে–একমাত্র ভগবানে মন রাখিয়া) তোমার উপাসনা করে এবং যাহারা কেবল অক্ষয় ও অব্যক্ত ব্রহ্মের আরাধনা করিয়া থাকে, এই উভয়বিধ লোকের মধ্যে কাহারা শ্রেষ্ঠ যোগী বলিয়া নির্দিষ্ট হয়?’ “অর্জুন...

০৩৭. ত্রয়োদশ অধ্যায় – ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে বাসুদেব! আমি প্রকৃতি, পুরুষ, ক্ষেত্র, ক্ষেত্রজ্ঞ, জ্ঞান ও জ্ঞেয়, এই কয়েকটি বিষয় শ্রবণ করিতে অভিলাষ করি।’ “কৃষ্ণ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! এই শরীরই ক্ষেত্র বলিয়া অভিহিত হয়; যিনি ইহা বিদিত হইয়াছেন, তিনি ক্ষেত্রজ্ঞ; আমি সকল...

০৩৮. চতুর্দশ অধ্যায় – গুণত্রয়বিভাগযোগ

“ভগবান বলিলেন, ‘হে অর্জুন! আমি পুনরায় উৎকৃষ্ট জ্ঞান কীর্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। মহর্ষিগণ ইহা অবগত হইয়া দেহান্তে মোক্ষলাভ করিয়া থাকেন এবং ইহা আশ্রয় করিলে আমার সারূপ্য প্রাপ্য হইয়া সৃষ্টিকালেও জন্মগ্রহণ করেন না ও প্রলয়কালেও ব্যথিত হয়েন না! হে অর্জুন!...

০৩৯. পঞ্চদশ অধ্যায় – পুরুষোত্তমযোগ

“ভগবান্‌ বলিলেন, ‘হে অর্জুন! সংসাররূপ এক অব্যয় অশ্বত্থ (সংসারকে অশ্বত্থবৃক্ষে রূপক করা হইয়াছে। ‘শ্ব’ শব্দের অর্থ পরবর্তী প্রভাতকাল। ইহার সহিত স্থিতিবোধক ‘খ’ শব্দযোগে সংসারের অল্পকালস্থায়িত্ব নির্ণীত হইয়াছে; তাহার সহিত আবার অভাবার্থ...

০৪০. ষোড়শ অধ্যায় – দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ

“ভগবান বলিলেন, ‘হে অর্জুন! যাহারা দৈবসম্পদ্‌ লক্ষ্য করিয়া জন্মগ্রহণ করে, তাহারা অভয়, চিত্তশুদ্ধি, আত্মজ্ঞানোপায়ে (আত্মজ্ঞানসাধনে) পরনিষ্ঠা (ঐকান্তিকভাব), দান, দম, যজ্ঞ, স্বাধ্যায়, তপ, ঋজুতা, অহিংসা, সত্য, অক্রোধ, ত্যাগ, শান্তি, অখলতা, প্রাণীর প্রতি দয়া,...

০৪১. সপ্তদশ অধ্যায় – শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ

“অর্জুন কহিলেন, ‘হে কৃষ্ণ! যাহারা শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করিয়া শ্রদ্ধাসহকারে যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে, তাহাদের শ্রদ্ধা সাত্ত্বিক কি রাজসিক অথবা তামসিক?’ “কৃষ্ণ কহিলেন, ‘হে অর্জুন! দেহিগণের স্বাভাবিক শ্রদ্ধা তিন প্রকার;–সাত্ত্বিক, রাজসিক ও...

০৪২. অষ্টাদশ অধ্যায় – মোক্ষযোগ

শ্রীমদভগবদগীতা – অষ্টাদশ অধ্যায় – মোক্ষযোগ “অর্জুন কহিলেন, ‘মহাবাহো! আমি সন্ন্যাস ও ত্যাগের প্রকৃত তত্ত্ব পৃথকরূপে শ্রবণ করিতে অভিলাষ করি, তুমি তাহা কীর্তন কর।’ “বাসুদেব কহিলেন, ‘হে অর্জুন! পণ্ডিতেরা কাম্যকর্মের ত্যাগকেই...