০১.আদিপর্ব

০০১.অনুক্রমণিকাধ্যায় – নৈমিষারণ্যে সূতের আগমন | সৃষ্টিবর্ণন | ভারতলেখনার্থ গণেশের স্মরণ | ধৃতরাষ্ট্রাদির জন্ম | মহাভারতের সংক্ষিপ্তাসার | ধৃতরাষ্ট্রের বিলাপ | ধৃতরাষ্ট্রের প্রতি সান্ত্বনা | মহাভারত প্রশংসা

নারায়ণ ও নরোত্তম নর ও দেবী সরস্বতীকে[১] নমস্কার করিয়া জয়[২] উচ্চারণ করিবে। ১. টীকাকার নীলকণ্ঠের মতে প্রণাম পাঁচটি;–নারায়ণ , নর, নরোত্তম, দেবী এবং সরস্বতী ২. জয় শব্দের অর্থ জয়গ্রন্থ, ‘জয়’ শব্দমাত্র নহে। অষ্টাদশ পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, বিষ্ণুধর্ম্ম ও...

০০২.সমন্তপঞ্চকোপাখ্যান | অক্ষৌহিণী-পরিমাণ | পর্ব্বসংগ্রহ | শ্লোকসংখ্যা

সমন্তপঞ্চকোপাখ্যান ঋষিগণ কহিলেন, “হে সূতনন্দন! আমরা ভারতের অনুক্রমণিকা শুনিলাম, এক্ষণে সমন্তপঞ্চক নামক যে তীর্থের উল্লেখ করিয়াছ, তাহার যাহা কিছু বর্ণনীয় আছে সমুদয় শ্রবণ করাইয়া আমাদিগকে চরিতার্থ কর।” ঋষিদিগের এইরূপ প্রার্থনাবাক্যে সন্তুষ্ট হইয়া অতি...

০০৩.পৌষ্যপর্ব্ব-জনমেজয় শাপ | সোমশ্রবা ঋষির উপখ্যান | আয়োধধৌম্য ও আরুণিবৃত্তান্ত | উপমন্যু উপাখ্যান | বেদ ঋষি উতঙ্ক-বৃত্তান্ত | জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞ প্ররোচনা

তৃতীয় অধ্যায় পৌষ্যপর্ব্ব-জনমেজয় শাপ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, কুরুক্ষেত্রে পরীক্ষিতপুৎত্র রাজা জনমেজয় ভ্রাতৃগণ সমভিব্যাহারে এক দীর্ঘ-সত্র [দীর্ঘকালব্যাপী যজ্ঞ] অনুষ্ঠান করিতেছেন। তাঁহার তিন সহোদর– শ্রুতসেন, উগ্রসেন ও ভীমসেন। তাঁহাদিগের যজ্ঞানুষ্ঠানকালে একটা কুক্কুর তথায়...

০০৪.পৌলোম-পর্ব্ব

চতুর্থ অধ্যায় পৌলোম-পর্ব্ব সৌতি কহিলেন, নৈমিষারণ্যে কুলপতি শৌনকের দ্বাদশবর্ষব্যাপী যজ্ঞে যে-সকল মহর্ষিগণ সমাগত হইয়াছিলেন, সূত বংশ-সম্ভূত লোমহর্ষণাত্মজ উগ্রশ্রবাঃ পুরাণপাঠ দ্বারা তাঁহাদিগের শুশ্রূষা করিতেছিলে। উগ্রশ্রবাঃ কৃতাঞ্জলিপুটে তাঁহাদিগকে নিবেদন করিলেন,...

০০৫.ভূগুবংশ-চ্যবনোৎপত্তি

পঞ্চম অধ্যায় ভূগুবংশ-চ্যবনোৎপত্তি শৌনক কহিলেন, বৎস সূতনন্দন! তোমার পিতা মহর্ষি বেদব্যাসের নিকট সমস্ত পুরাণ অধ্যয়ন করিয়াছিলেন, তুমিও সেই সমুদয় অধ্যয়ন করিয়াছ। তোমার পিতার মুখে শ্রবণ করিয়াছি, পুরাণে অলৌকিক কথা-সকল ও আদিবংশ-বৃত্তান্ত-সকল বর্ণিত আছে, তন্মধ্যে প্রথমতঃ...

০০৬.রাক্ষস কর্ত্তৃক পুলোমা-হরণ

ষষ্ঠ অধ্যায় রাক্ষস কর্ত্তৃক পুলোমা-হরণ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, দুরাত্মা রাক্ষস অগ্নির সেই বাক্য শ্রবণ করিয়া বরাহরূপ ধারণপূর্ব্বক ভৃগুজায়াকে অপহরণ করিয়া বায়ুবেগে পলায়ন করিতে লাগিল। তখন পুলোমার গর্ভস্থ বালক রাক্ষসের এইরূপ গর্হিত অনুষ্ঠান অবলোকনে ক্রোধান্বিত হইয়া মাতৃগর্ভ...

০০৭.পুলোমা রাক্ষস নিধন

সপ্তম অধ্যায় পুলোমা রাক্ষস নিধন উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, ভৃগু এইরূপ শাপ প্রদান করিলে অগ্নি সাতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া কহিলেন, “হে ব্রহ্মন্! আপনি কেন অকারণে আমাকে এই নিদারুণ অভিসম্পাত করিলেন? আমি তৎকর্ত্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া ধর্ম্মপ্রতিপালনার্থ সত্যকথা কহিয়াছি, ইহাতে আমার দোষ...

০০৮.রুরু-চরিত

অষ্টম অধ্যায় রুরু-চরিত সূত কহিলেন, হে ব্রহ্মন্! ভৃগুনন্দন চ্যবন সুকন্যার গর্ভে পরমতেজস্বী প্রমতি নামে এক পুৎত্র উৎপাদন করেন। ঘৃতাচীর গর্ভে প্রমতির রুরু-নামক এক সন্তান হয়। রুরুর ঔরসে প্রমদ্বরার গর্ভে শুনক নামে তনয় জন্মে। সেই মহাতেজা রুরুর সমস্ত বৃত্তান্ত সবিস্তর বর্ণনা...

০০৯.ডুণ্ডুভ-উপাখ্যান

নবম অধ্যায় ডুণ্ডুভ-উপাখ্যান সৌতি কহিলেন, সেই সকল মহাত্মা দ্বিজগণ তথায় উপবিষ্ট হইলে, রুরু সাতিশয় দুঃখিত হইয়া অরণ্যানী প্রবেশপূর্ব্বক উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতে লাগিলেন এবং শোকে একান্ত ব্যাকুল হইয়া স্বীয় প্রিয়তমা প্রমদ্বরাকে স্মরণ করিয়া করুণস্বরে এইরূপে বিলাপ করিতে লাগিলেন...

০১০.রুরুর সর্পমাত্র হিংসার কারণ

দশম অধ্যায় রুরুর সর্পমাত্র হিংসার কারণ রুরু কহিলেন, “হে ভুজঙ্গম! এক দুষ্ট সর্প আমার প্রাণতুল্যা প্রেয়সীকে দংশন করিয়াছিল, সেই অবধি আমি এই অনুল্লঙ্ঘনীয় দৃঢ়-প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে, সর্প দেখিতে পাইলেই তাহার প্রাণসংহার করিব; অতএব আমি তোমাকে হত্যা করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি।...

০১১.আস্তীকপর্ব্ব-খগম-ঋষিবৃত্তান্ত

একাদশ অধ্যায় আস্তীকপর্ব্ব-খগম-ঋষিবৃত্তান্ত ‌ ডুণ্ডভ কহিল, “সত্যবাদী ও তপোবীর্য্য-সম্পন্ন খগম নামে এক ব্রাহ্মণ আমার বাল্যকালের সখা ছিলেন। একদা তিনি অগ্নিহোত্র-কার্য্যানুষ্ঠানে অত্যন্ত আসক্ত আছেন, এমত সময়ে আমি বালস্বভাবসুলভ কৌতুকের পরতন্ত্র হইয়া তৃণ-নির্ম্মিত...

০১২.সর্পযজ্ঞের প্রশ্ন

দ্বাদশ অধ্যায় সর্পযজ্ঞের প্রশ্ন রুরু কহিলেন, “হে দ্বিজোত্তম! ভূপতি জনমেজয় কি নিমিত্ত সর্পকুল ধ্বংস করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, আর কি জন্যই বা ধীমান্ আস্তীক মুনি তাহাদিগকে রক্ষা করিলেন, আমি সবিশেষ শুনিতে ইচ্ছা করি।” “আপনি ব্রাহ্মণদিগের মুখে...

০১৩.জরৎকারু-চরিত্র

ত্রয়োদশ অধ্যায় জরৎকারু-চরিত্র শৌনক কহিলেন, “হে সৌতে! মহারাজ জনমেজয় কি নিমিত্ত সর্পযজ্ঞ করিয়া সর্পগণকে ধ্বংস করিয়াছিলেন এবং কি কারণেই বা তপোধনাগ্রগণ্য আস্তীক মুনি প্রদীপ্ত হুতাশন হইতে ভুজঙ্গমদিগকে রক্ষা করিয়াছিলেন, তাহা সবিশেষ বর্ণন কর। যে রাজা সর্পসত্রের...

০১৪.জরৎকারুর বিবাহ

চতুর্দ্দশ অধ্যায় জরৎকারুর বিবাহ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, তদনন্তর জরৎকারু মুনি গার্হস্থ্য আশ্রম করিতে কৃতসঙ্কল্প হইয়া পত্নীলাভার্থ সমস্ত মহীমণ্ডল ভ্রমণ করিতে লাগিলেন, কিন্তু কেহই তাঁহাকে কন্যা প্রদান করিল না। একদা তিনি পিতৃলোকের বাক্য স্মরণ করিয়া বনপ্রবেশপূর্ব্বক উচ্চৈঃস্বরে...

০১৫.সর্পরক্ষার সংক্ষিপ্ত কথা

পঞ্চদশ অধ্যায় সর্পরক্ষার সংক্ষিপ্ত কথা উগ্রশ্রবাঃ মহর্ষি শৌনককে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, হে ব্রহ্মজ্ঞানপারদর্শিন্! পূর্ব্বকালে সর্পগণ স্বীয় জননীর নিকট এইরূপ শাপগ্রস্ত হইয়াছিল যে, রাজা জনমেজয়ের যজ্ঞে অগ্নি তাহাদিগকে দগ্ধ করিবেন। ভুজঙ্গরাজ বাসুকি সেই শাপবিমোচনের অভিসন্ধি...

০১৬.অরুণ ও গরুড়ের জন্ম

ষোড়শ অধ্যায় অরুণ ও গরুড়ের জন্ম শৌনক কহিলেন, হে সূতনন্দন! তুমি যাহা কীর্ত্তন করিলে, পুনর্ব্বার তাহাই সবিস্তরে বর্ণন কর; আস্তীকবৃত্তান্ত বিশেষরূপে শ্রবণ করিতে আমাদিগের নিতান্ত ঔৎসুক্য হইয়াছে। আস্তীকোপাখ্যানটি অতি সুললিত ও সুমধুর বোধ হইল। ইহা শুনিয়া আমার পরম পরিতোষ...

০১৭.সমুদ্রমন্থনের প্রশ্ন

সপ্তদশ অধ্যায় সমুদ্রমন্থনের প্রশ্ন উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, হে তপোধন! ঐ সময়ে উচ্চৈঃশ্রবা কদ্রু ও বিনতার সমীপ দিয়া গমন করিতেছিল। দেবগণ অমৃতমন্থনকালে উৎপন্ন সেই সর্ব্বোৎকৃষ্ট ও সর্ব্ব-সুলক্ষণ-সম্পন্ন হয়-রত্নকে গমন করিতে দেখিয়া প্রশংসা করিতে লাগিলেন। শৌনক কহিলেন, হে সূতপুৎত্র!...

০১৮.সমুদ্রমন্থনারম্ভ

অষ্টাদশ অধ্যায় সমুদ্রমন্থনারম্ভ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, দেবগণ অমৃত-মন্থনে আদেশ পাইয়া মন্থর-ভূধরকে মন্থনদণ্ড করিতে মনস্থ করিলেন, কিন্তু গগনস্পর্শী শিখরমালায় সুশোভিত, বহুতর লতাজালে জড়িত, নানাজাতীয় বিহঙ্গমনিনাদে নিনাদিত, বহুবিধ-ব্যালকুল [সর্পসমূহ] সমাকীর্ণ, অপ্সরাগণ ও...

০১৯.রাহুর মস্তকচ্ছেদ । দেবাসুর-সংগ্রাম

ঊনবিংশ অধ্যায় রাহুর মস্তকচ্ছেদ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, অনন্তর সমস্ত দৈত্যগণ একত্রিত হইয়া নানাপ্রকার অস্ত্র-শস্ত্র গ্রহণপূর্ব্বক দেবগণকে আক্রমণ করিল। তদবলোকনে মহাপ্রভাবশালী ভগবান নারায়ণ নরদেব সমভিব্যাহারে দানবেন্দ্রদিগকে বঞ্চনা করিয়া অমৃত হরণ করিলেন। অনন্তর দেবগণ বিষ্ণুর...

০২০.নাগগণের প্রতি অভিশাপ

বিংশ অধ্যায় নাগগণের প্রতি অভিশাপ উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, হে ঋষিবর! অমৃতমন্থনসময়ে শ্রীমান্ অতুলতেজা উচ্চৈঃশ্রবানামক যে অশ্বরাজ জলনিধি হইতে সমুত্থিত হয়, তাহার সমস্ত বিবরণ বিশেষরূপে বর্ণিত হইল। কদ্রু সেই অশ্বরাজকে অবলোকন করিয়া স্বীয় সপত্নী বিনতাকে কহিলেন, “বিনতে! বল...