মহাভারতের চরিতাবলী

অক্রুর

কৃষ্ণের সখা, সম্পর্কে পিতৃব্য।

অগস্ত্য

বিখ্যাত মুনি। পাণ্ডবরা যখন তীর্থে গিয়েছিলেন তখন এঁর জীবন-কাহিনী ওঁরা শোনেন। ওঁর স্ত্রী লোপমুদ্রা ছিলেন বিদর্ভরাজের কন্যা। উনিও একজন তপস্বিনী ছিলেন। ওঁদের পুত্রের নাম দৃঢ়স্যু। অগস্ত্যমুনি একবার তাঁর পত্নী লোপামুদ্রার ইচ্ছাপূরণের জন্য রাক্ষস ইল্বলের কাছে ধন চাইতে...

অগ্নি

আগুনের দেবতা যিনি মহর্ষি ভৃগুর অভিশাপে সর্বভুক হয়েছিলেন। (একবার সংকটে পড়ে অগ্নি পুলোমা নামে এক রাক্ষসকে ভৃগুর বিবাহিত স্ত্রী পুলোমাকে হরণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন – তাই ভৃগু অগ্নিদেবকে এই অভিশাপ...

অগ্নিবেশ

অগ্নি-সম্ভূত ঋষি। ইনি ভরদ্বাজের শিষ্য ছিলেন। ভরদ্বাজ প্রদত্ত একটি আগ্নেয়াস্ত্র ইনি গুরুপুত্র দ্রোণকে দান...

অঙ্গ

ম্লেচ্ছদের রাজা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের পক্ষ নিয়েছিলেন।

অঙ্গদেশ

বর্তমান মুঙ্গের ও ভাগলপুর জেলায়।

অঙ্গারপর্ণ

গন্ধর্বরাজ – যাঁর অপর নাম ছিল চিত্ররথ। সোমাশ্রয়ণ তীর্থে গঙ্গাতীরে অঙ্গারপর্ণ যখন তাঁর ভার্যা কুম্ভীনসী ও অন্যান্য স্ত্রীদের নিয়ে জলক্রীড়া করতে এসেছিলেন, তখন পাণ্ডবদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। পাণ্ডবরা বারণাবতে জতুগৃহদাহের পর নানান জায়গা ঘুরে তখন পাঞ্চাল দেশের দিকে...

অঙ্গিরা

ব্রহ্মার মানসপুত্র ও সপ্তর্ষিদের অন্যতম। অঙ্গিরার পুত্ররা হলেন – বৃহস্পতি, উতথ্য, পয়স্য, শান্তি, ঘোর, বিরূপ, সংবর্ত ও...

অজাতশত্রু

মহাভারতে যুধিষ্ঠিরকে অজাতশত্রু বলা হয়। অজাতশত্রুর অর্থ হল যাঁর কোনও শত্রু জন্মায় নি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে কৌরবরা কি তাহলে যুথিষ্ঠিরের সঙ্গে শত্রুতা করে নি! করে থাকলে উনি অজাতশত্রু হন কি...

অজৈকপাদ

দেবতা। একাদশ রুদ্রের এক রুদ্র।

অতিরথ

সর্বোচ্চ শ্রেণীর যোদ্ধা। রণনৈপুণ্য অনুসারে যোদ্ধাদের শ্রেনী বিভাগ হল – রথি, মহারথ, অতিরথ।

অত্রি (১)

ব্রহ্মার মানসপুত্র ও সপ্তর্ষিদের অন্যতম।

অত্রি (২)

অসুরদের গুরু শুক্রের পুত্র ইনি ভার্যার অনুরোধে বনবাসে যাবার আগে রাজর্ষি বেণ্যের কাছে গিয়ে পুত্র ও ভৃত্যদের দিয়ে যাবার জন্য ধন সংগ্রহ করে...

অদিতি

দক্ষের কন্যা ও কশ্যপের স্ত্রী। অদিতির বারোটি পুত্র – বিবস্বান, অর্যম্‌ পূষা, ত্বষ্টা, সবিতা, ভগ, দাতা, বিধাতা শত্রু (ইন্দ্র), বরুণ, মিত্র ও উরুক্রম। এঁরা আদিত্য বলে...

অদ্রিকা

অপ্সরা। অদ্রিকা যখন শাপুগ্রস্থা হয়ে মৎসরূপে নদীতে বিচরণ করছিলেন, তখন দৈবচক্রে বসুরাজের স্খলিত শুক্র পান করে তিনি গর্ভবতী হন। এক মৎসজীবির হাতে ধরা পড়ে অদ্রিকা গর্ভধান করেন এবং মুক্তি পেয়ে স্বর্গে ফিরে যান। প্রসঙ্গত মৎসজীবি পালিতা অদ্রিকার এই কন্যা সত্যবতীই পঞ্চপাণ্ডব ও...

অধর

পাঞ্চালরাজ দ্রুপাদের (যজ্ঞসেন) পুত্র।

অধর্ম

ক্ষুধার্ত মানুষের খেওখেয়ি থেকে অধর্ম্মের জন্ম। অধর্ম্মের স্ত্রীর নাম নৈর্ঋতি। নৈর্ঋতি ভয়, মহাভয় ও মৃত্যু – এই তিন রাক্ষসের জন্ম দেন, যার থেকে রাক্ষসকুলের শুরু। সেইজন্যে রক্ষসদের অনেক সময় নৈর্ঋত বলা...

অধিরথ

বসুষেণের (কর্ণ) পালক-পিতা। সূতবংশীয় (তন্তুবায় – যাঁরা প্রাচীন ভারতে তাঁত বুনে জীবিকা পালন করতেন) অধিরথ ও তাঁর স্ত্রী রাধা কুন্তির পরিত্যক্ত কানীন (কুমারী অবস্থায় জাত) পুত্র কর্ণকে জল থেকে উদ্ধার করে পরম সনেহে বড় করেন। কর্ণ নিজের আসল পরিচয় জানার পরেও নিজেকে...