১৭.মুষলপর্ব্ব

০১. যদুবালকদিগের প্রতি ব্রহ্মশাপ এবং শাম্বের মুষল প্রসব

জন্মেজয় বলে শুনি কহ তপোবন। কি কি কর্ম্ম করিলেন রুক্মিণীরমণ॥ ভার নিবারণ হেতু হৈয়া অবতার। একে একে নাশিলেন পৃথিবীর ভার॥ তবে কোন্‌ কর্ম্ম করিলেন যদুমণি। বিবরিয়া আমাকে কহিবা মহামুনি॥ ভারত শুনিতে রাজা বড় হৃষ্টমন। পরাগে করয়ে যেন ষট্‌পদ ভ্রমণ॥ প্রশ্ন করি সর্ব্ব তত্ত্ব লন...

০২. যদুকুল ক্ষয়ার্থে কৃষ্ণ-বলরামের যুক্তি

মুনি বলে শুন পরীক্ষিতের নন্দন। মুষল বৃত্তান্ত কহি শুনহ কারণ॥ মুষল ঘষিয়া ক্ষয় কৈল শিশুগণ। সেই হ্রদে হৈল নল-খাগ্‌ড়ার বন॥ শেষ লৌহ জলে যেই টানিয়া ফেলিল। জলে ছিল মৎস্যরাজ তাহারে গিলিল॥ ধীবর আইল মৎস্য করিতে ধারণ। জালে বন্দী হৈল মৎস্য দৈবের কারণ॥ লৌহ শেষ পায় মৎস্য...

০৩. যাদবগণের সহিত শ্রীকৃষ্ণের প্রভাসতীর্থে গমন

কৃষ্ণ সঙ্গে চলিলেন যত যদুগণ। বলভদ্র কৃতবর্ম্মা সাত্যকি সারণ॥ কামদেব চারুদেষ্ণ সুদেষ্ণ সুচারু। চারুদেহ চারুগুপ্ত ভদ্রচারু চারু॥ চারুচন্দ্র বিচারু এ দশটী নন্দন। রুক্মিণীর গর্ভে এরা লভিল জনম॥ সুভানু স্বর্ভানু আর চন্দ্রভানু ভানু। প্রভানু বিভানু বৃহদ্ভানু প্রতিভানু॥...

০৪. যদুবালকগণের জলক্রীড়া

আসিয়া প্রভাস তীরে যাদব-মণ্ডলী। জলে নামি স্নান দান করে কুতূহলী।। পরম আনন্দে জলে করেন বিহার। সলিলেতে কেলি করে সকল কুমার।। কূল হৈতে ঝাঁপ দিয়া কেহ পড়ে জলে। অন্য অন্য কেহ জল সিঞ্চে কুতূহলে।। জলেতে সাঁতারি কেহ যায় বহুদুর। বহুক্ষণ জলে ডুবি রহে কোন শূর।। নানামতে ক্রীড়া করে...

০৫. সাত্যকির সহিত শ্রীকৃষ্ণের বাদানুবাদ

সাত্যকির বচনে হাসেন নারায়ণ। পুনরপি সাত্যকিরে বলেন বচন।। জানি আমি সাত্যকি তোমার বীরপণা। কুরু-পাণ্ডবের দলে জানে সর্ব্বজনা।। কর্ণের সহিত রণ কৈলে একবার। প্রাণ ল’য়ে পালাইলে করি পরিহার।। দ্রোন সঙ্গে যুঝিয়া পাইলে পরাভব। কেহ কেহ না যুঝিল করিয়া গৌরব।। সিংহনাদ করিয়া বলিলে...

০৬. যদুকুল ধ্বংস ও বলরামের দেহত্যাগ

এইরূপে বলাবলি হইল বিস্তর। গর্জ্জিয়া উঠিল কৃতবর্ম্মা ধনুর্দ্ধর।। হাতে অসি করি যায়, কাটিবার আশে। গর্জ্জন করিয়া বলে বচন কর্কশে।। আরে দুরাচার পাপী শিনির নন্দন। এতেক তোমার গর্ব্ব না বুঝি কারণ।। গোবিন্দের নিন্দা কর দুষ্ট অধোগামী। ইহার উচিত ফল তোরে দিব আমি।। ভূরিশ্রবা ঢাল...

০৭. শ্রীকৃষ্ণের দেহত্যাগ

যদুবংশে অবতরি,     বাসুদেব নাম ধরি, কৌতুকেতে অবনীবিহারী। যাঁহার কটাক্ষে হয়,     সৃজন পালন লয়, ভকত-বৎসল চক্রধারী॥ যাঁর নাম গুণ গাই,     সর্ব্বপাপে ত্রাণ পাই, নাহি রহে ‘শমনের ভয়। ব্রহ্মশাপ লক্ষ্য করি,     ক্ষিতিভার ত্রাণ করি, নিজ বংশ সব করি ক্ষয়॥ এক জন নাহি...

০৮. অর্জ্জুনের দ্বারকায় আগমন এবং প্রভাসে রামকৃষ্ণের মৃতশরীর দর্শন

হস্তিনা নগরে এল দারুক সারথি। করজোড়ে কহে কথা ধর্ম্মরাজ প্রতি।। অবধান কর রাজা পাণ্ডুর নন্দন। কৃষ্ণ পাঠাইল মোরে তোমার সদন।। গোবিন্দের প্রিয়বন্ধু তোমা পঞ্চভাই। তোমার ভাবনা বিনে অন্য মনে নাই।। সে কারণে আমারে পাইলেন হেথা। দ্বারকা লইয়া যাইব পার্থ মহারথা। বহুদিন তাঁর সহ নাহি...

০৯. অর্জ্জুনের বিলাপ

হায় কৃষ্ণ প্রাণধন,                        বন্ধুরূপে নারায়ণ, করুণা সাগর অবতার। পাণ্ডবের প্রাণধন,                        সব হৈল অকারণ, তোমা বিনা দিবসে আঁধার।। করুণা নিদান হরি,                        বৃষ্ণিকুলে অবতরি, দুষ্ট নাশি শিষ্টের পালন। হলধর সহ লীলা,              ...

১০. অর্জ্জুন কর্ত্তৃক শ্রীকৃষ্ণাদির ঔর্দ্ধদেহিক কার্য্য সম্পাদন

কৃষ্ণের শরীর পার্থ কোলেতে করিয়া। বিলাপ করেন বহু কান্দিয়া কান্দিয়া।। কৃষ্ণ প্রাণ, কৃষ্ণ নাথ, কৃষ্ণ ধন জন। কৃষ্ণ বিনা পাণ্ডবের আছে কোন জন।। এত দিনে পাণ্ডবেরে বঞ্চিলেন বিধি। কোন্ দোষে হারাইনু কৃষ্ণ গুণনিধি।। এই দ্বারাবতী আমি পূর্ব্বে আসিতাম। আমারে পাইলাম কত পাইতে আরাম।।...

১১. দস্যুগণ কর্ত্তৃক যদুপত্নীগণ হরণ ও তাঁহাদের পাষাণত্ব বিবরণ

কৃষ্ণের শরীর পার্থ কোলেতে করিয়া। বিলাপ করেন বহু কান্দিয়া কান্দিয়া॥ কৃষ্ণ প্রাণ কৃষ্ণ নাথ কৃষ্ণ ধন জন। কৃষ্ণ বিনা পাণ্ডবের আছে কোন্‌ জন॥ এতদিনে পাণ্ডবেরে বঞ্চিলেন বিধি। কোন দোষে হারাইনু কৃষ্ণ গুণনিধি॥ এই দ্বারাবতী আমি পূর্ব্বে আসিতাম। আমারে পাইলে কত পাইতে বিশ্রাম॥...

১২. অর্জ্জুন কর্ত্তৃক যুধিষ্ঠিরের নিকট যদুবংশ ধ্বংস কীর্ত্তন

জন্মেজয় কহে তবে শুন তপোধন। অতঃপর কি হইল কহ বিবরণ।। পাণ্ডুপুত্র পঞ্চভাই শ্রীকৃষ্ণ বিয়োগে। কিমতে ধরিল প্রাণ এত শোক ভোগে।। বিশেষিয়া কহ মুনি মহাশয় মোরে। এ তাপ খণ্ডাও মম মনের ভিতরে।। তব মুখে শ্রুতবাক্য সুধা হৈতে সুধা। শ্রবণেতে আমার খণ্ডিল সব ক্ষুধা।। পিতামহ উপাখ্যান...

১৩. যুধিষ্ঠিরের বিলাপ

অর্জ্জুনের বাক্য শুনি, যুধিষ্ঠির নৃপমণি, পড়িলেন ধরনী উপর। ভীমসেন মাদ্রীসুত,  ভদ্রা কৃষ্ণা পরীক্ষিত, লোটাইয়া ধূলায় ধূসর।। চিত্রের পুত্তলি প্রায়, ভূমে গড়াগড়ি যায়, প্রাণধন গোবিন্দ বিহনে। হাহাকার শব্দ করি, কান্দি ধর্ম্ম অধিকারী, পড়িলেন ভূমে অচেতনে।। হা কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু,...

১৪. দ্রৌপদীর সহিত পঞ্চ পাণ্ডবের মহাপ্রস্থান

রাজা বলে ভাই সব কি ভাবিছ আর। ব্রাহ্মণে আনিয়া দেহ সকল ভাণ্ডার।। কৃষ্ণ বিনা গৃহবাসে নাহি প্রয়োজন। কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে যাব নিশ্চয় বচন।। সকল সম্পদ মম সেই জগৎপতি। তাঁহা বিনে তিলেক উচিত নহে স্থিতি।। যথায় পাইব দেখা শ্রীনন্দননন্দনে। কৃষ্ণ অনুসারে আমি যাইব আপনে।। বুঝিয়া রাজার মন...

১৫. প্রজাগণের খেদোক্তি

হায় ধর্ম্ম বৃকোদর,                          ধনঞ্জয় বীরবর, সহদেব নকুল কুমার। দ্রৌপদী পাঞ্চাল-সুতা,                          সতীসাধ্বী পতিব্রতা, চরিতে লক্ষ্মীর অবতার।। দ্রুপদ তোমার তাত,                          পাঞ্চালের নরনাথ, তোমা কন্যা হৈতে হৈল সুখী। তব...

১৬. প্রজালোকের প্রতি যুধিষ্ঠিরের প্রবোধবাক্য এবং অর্জ্জুনের গাণ্ডীব ধনু ও অক্ষয় তূণীরদ্বয় পরিত্যাগ

ধর্ম্ম বলিলেন শুন আমার বচন। শোক না করহ সবে যায় নিকেতন।। এই পরীক্ষিত হ’ল রাজ্যেতে রাজন। আমা সম তোমা সবে করিবে পালন।। সংসার অসার সার নন্দের নন্দন। মনেতে চিন্তহ সেই কৃষ্ণের চরণ। কৃষ্ণ ভজ কৃষ্ণ চিন্ত কৃষ্ণ কর সার। ভেবে দেখ কৃষ্ণ বিনা গতি নাহি আর।। এইরূপে প্রবোধ...