২১৭. বর্গা প্রভৃতি অপ্সরার শাপমোচন, বভ্রূবাহনের উৎপত্তি

২১৭. বর্গা প্রভৃতি অপ্সরার শাপমোচন, বভ্রূবাহনের উৎপত্তি

সপ্তশাধিকদ্বিশততম অধ্যায়।

বর্গা কহিল, হে ভরতবংশাবতংস! অনন্তর অমির অভিশাপগ্রস্ত ও একান্ত দুঃখিত হইয়া ব্রাহ্মণের শরণাপন্ন হইলাম। কহিলাম, হে বিপ্র। আমরা রূপ, যৌবন ও কন্দর্পমদে মত্ত হইয়া আপনার নিকট যে অপরাধ করিয়াছি, তাহা ক্ষমা করুন। আপনি মহাত্মা, আমরা যে আপনাকে প্রলোভন দেখাইবার নিমিত্ত আগমন করিয়াছিলাম, তাহাতেই আমাদিগের বধ পৰ্যাপ্ত হইয়াছে। ধার্মিকেরা স্ত্রীলোকদিগকে অধ্যা কহেন, অতএব হে তপোধন। আপনি স্বধর্ম প্রতিপালন করুন, আমাদিগের প্রতিহিংসা করিয়া আপনার কি উপকার দর্শিবে? ব্রাহ্মণই সর্বজীবের বন্ধু, একথা যেন নিতান্ত অমুলক না হয়। শরণাগত লোকদিগকে আশ্রয় প্রদান করাই সাধুদিগের কাৰ্য, এক্ষণে আমরা আপনার শরণাপন্ন হইয়াছি, ক্ষমা করুন।

তখন চন্দ্রসূৰ্য্য-সমপ্রভ দ্বিজবর অপ্সরাদিগের এইরূপ স্তুতিবাক্যে প্রসন্ন হইয়া কহিলেন, হে অপ্সরাগণ! শুত বা শত সহস্র শব্দ আনত্যবাচক বটে, কিন্তু আমি যে শত বৎসর, শব্দ নির্দেশ করিয়াছি, উহা কেবল পরিমাণবাচকমাত্র, আন্যবাচক নহে। কিন্তু যৎকালে তোমরা কুম্ভীরযোনি প্রাপ্ত হইয়া জলমধ্যে মনুষ্যের পাদগ্রহণ করিবে, তদবসরে যদি কেহ তোমাদিগকে জলমধ্য হইতে উদ্ধার করিতে পারেন, তাহা হইলে তোমর পুনব্বার স্বমূৰ্ত্তি লাভ করিতে পারিবে। আমি পরিহাসচ্ছলেও কদাচ মিথ্যা কহি নাই। আর তোমরা যে তীর্থে বাস করিবে, তাহা তদবধি পবিত্র নারীতীর্থ বলিয়া সর্বত্র বিখ্যাত হইবে।

বর্গা কহিল, অনন্তর আমরা বিপ্রকে প্রদক্ষিণ ও অভিবাদনপূর্বক দুঃখিত মনে তথা হইতে অপসৃত হইয়া চিন্তা করিতে লাগিলাম, যিনি আমাদিগকে সূলে আকর্ষণপূর্বক পূর্ববৎ রূপসম্পন্ন করিলেন, আমরা সেই মহাত্মাকে কত কালে সন্দর্শন পাইব? আমরা মুহূর্তকাল এইরূপ চিন্তা করিতেছি, ইত্যসরে দেবর্ষি নারদ আমাদিগের নয়নপথে পতিত হইলেন। তাঁহাকে সৃষ্টিগোচর করিবামাত্র আমরা সন্তুষ্টমনে অভিবাদন করিয়া লজ্জাবনতমুখে সম্মুখে দণ্ডায়মান রহিলাম। দেবর্ষি আমাদিগকে দুঃখের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আমরাও আদ্যোপান্ত সমুদায় নিবেদন করিলাম। তখন তিনি সবিশেষ শ্রবণ করিয়া কহিলেন, দক্ষিণ মহাসাগরের কচ্ছদেশে পঞ্চতীর্থ নামে অতি পবিত্র ও রমণীয় স্থান আছে, তোমরা তথায় যাইয়া বাস কর। পাণ্ডুনন্দন অর্জুন অচিরকালমধ্যে তথায় উপস্থিত হইয়া তোমাদিগের দুঃখ মোচন করিবেন, সন্দেহ নাই। তৎপরে আমরা তদীয় আদেশানুসারে এই স্থানে আগমন করিয়াছি। অদ্য আমার দুঃখ মোচন হইল সত্য বটে, কিন্তু আমার অপর চারি সহচরী এই জমধ্যে বাস করিতেছেন, আপনাকে তাঁহাদিগেরও দুঃখশান্তিরূপ শুভকর্ম করিতে হইবে।

অনন্তর পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ অর্জুন তাহাদিগেরও শাপ মোচন করিয়াদিলেন। তাহারা জলমধ্য হইতে উত্থিত ও পূর্বাকার প্রাপ্ত হইয়া পূর্ববৎ শোভা পাইতে লাগিল। অনন্তর মহাবীর অর্জুন তীর্থশুদ্ধি সম্পাদনপূর্বক অপ্সরাদিগকে গমনের আদেশ দিয়া চিত্রাঙ্গদাকে দর্শন করিবার নিমিত্ত পুনর্বার মণিপুরে গমন করিলেন। তথায় চিত্রাঙ্গদাগর্ভে বব্ৰুবাহন-নামক পুত্র উৎপাদন করিয়া গোকতীর্থে যাত্রা করিয়াছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *