০১৪. শ্রীবৎসের প্রতি শনির বাক্য

অন্তরীক্ষে থাকি শনি,                   কহিছে আকাশ বাণী,
শুন শুন শ্রীবৎস নৃপতি।
আমি ছোট লক্ষ্মী বড়,                   তুমি কহিয়াছ দড়,
তার শাস্তি করিব সম্প্রতি।।
সম্পত্তিতে করি গর্ব্ব,                   আমারে করিলে খর্ব্ব,
আমি তব কি করিতে ‍পারি।
যেই লজ্জা দিলে মোরে,                   সেকথা কহিব কারে,
শুন দুষ্টমতি মন্দকারী।।
পণ্ডিত ধার্ম্মিক জ্ঞানে,                   আইলাম তব স্থানে,
তুমিত করিবে সুবিচার।
কপট চাতুরী করি,                   মম গুণ পরিহরি,
তুমি দুঃখ দিয়াছ অপার।।
কি কব দুঃখের কথা,                   স্মরণে মরম-ব্যথা,
রহিবেক হৃদয়ে আমার।
আসন বলিয়া শ্রেষ্ঠ,                   লক্ষ্মীরে বলিলে জ্যেষ্ঠ,
এবে লক্ষ্মী কোথায় তোমার।।
করিয়াছি রাজ্যনাশ,                   অপর অরণ্যে বাস,
শেষে এই স্ত্রী ভেদ করিব।
শুন রাজা বলি তোরে,                   তবেত চিনিবে মোরে,
নহে মিথ্যা যে কথা বলিব।।
শুন শুন মহারাজ,                   ধরিয়া বিবিধ সাজ,
দেব দৈত্য নাগ আদিগণে।
অবধ্য সর্ব্বত্রগামী,                   সর্ব্বঘটে ‍থাকি আমি,
অতিশয় পূজ্য ত্রিভুবনে।।
শুন হে শ্রীবৎস ভূপ,                   ত্রেতাযুগে রামরূপ,
হইল প্রভুর অবতার।
এক ব্রহ্ম চারি অংশে,                   জন্মিলেন রঘুবংশে,
রাজা দশরথের কুমার।।
দশরথ ধর্ম্মাচর,                   দেন তাঁরে রাজ্যভার,
আমি তাঁরে পাঠাই কানন।
অনুজ লক্ষ্মণ সাথে,                   প্রবেশে গহন পথে,
জটাবল্ক করিয়া ধারণ।।
স্বয়ং লক্ষ্মী সীতা সতী,                   পতি অনুগতা অতি,
শুনহে দুর্গতি যত তাঁর।
কাননে পতির সহ,                   ভুঞ্জিবারে পাপগ্রহ,
বনে গেল দীনের আকার।।
পর্ব্বত কানন পথে,                   বঞ্চিয়া স্বামীর সাথে,
পরে তাঁরে হরে দশানন।
রাজ্য ধন স্বামী ছাড়ি,                   গেলেন রাবণ-বাড়ী,
বাস হৈল অশোক কানন।।
আর কিছু বলি শুন,                   দেবদেব পঞ্চানন,
সতী কন্যা অর্দ্ধ অঙ্গ যাঁর।
সতী গতে কৃত্তিবাস,                   দক্ষযজ্ঞ করি নাশ,
ছাগমুণ্ড দক্ষের আকার।।
সতী দেহত্যাগ করে,                   জন্মি হিমালয়-ঘরে,
সর্ব্বহেতু মম মায়াজাল।
আমারে হেলন করি,                   ইন্দ্র স্বর্গ পরিহরি,
দুঃখেতে বঞ্চিল কত কাল।।
মম সহ বাদ করি,                   বৈকুণ্ঠ নিবাসী হরি,
কীটরূপ ধারণ করিল।
ঘুচিল বৈকুণ্ঠ-লীলা,                   গণ্ডকী পর্ব্বতে শিলা,
দেবমানে বহুকাল ছিল।।
বলি দৈত্য অধিপতি,                   স্বর্গ রসাতল ক্ষিতি,
ত্রিভুবন করে অধিকার।
হেলন করিল মোরে,                   পাতালে লইয়া তারে,
রাখিলাম বদ্ধ কারাগার।।
স্বর্গ মর্ত্ত্য রসাতল,                   সর্ব্বত্র আমার বল,
সবে করে আমার পূজন।
তোর কাছে অল্প আমি,                   তুই পৃথিবীর স্বামী,
লক্ষ্মী তোর দেখিব কেমন।।
এতেক কহিয়া শনি,                   হইল আকাশগামী,
স্বপ্নবৎ শুনিল রাজন।
চিন্তিয়া বুঝিল মর্ম্ম,                   শনির যতেক কর্ম্ম,
হল রাজা নিরানন্দ মন।।
অরণ্যপর্ব্বের কথা,                   অতি সুখ মোক্ষ-দাতা,
রচিলেন মহামুনি ব্যাস।
রচিল পাঁচালি ছন্দে,                   মনের আবেশানন্দে,
কৃষ্ণদাসানুজ কাশীদাস।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *