১২. কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধসজ্জা করিতে যুধিষ্ঠিরের অনুমতি দান ও কুরুক্ষেত্রের উৎপত্তির কথা

জন্মেজয় কহে, কহ শুনি তপোধন।
অতঃপর কি করিল ভাই পঞ্চ জন।।
হেথা দুর্য্যোধন রাজা করিল সাজন।
তবে কিবা করিলেন পাণ্ডুর নন্দন।।
কোন্ কোন্ রাজা হৈল সহায় তাঁহার।
কহ শুনি মুনিবর করিয়া বিস্তার।।
মুনি বলে, শুন নৃপবর জন্মেজয়।
হৃদয়ে চিন্তিলা তবে ধর্ম্মের তনয়।।
নিশ্চয় হইবে যুদ্ধ, না হবে খণ্ডন।
ভ্রাতৃগণে ডাক দিয়া কহেন বচন।।
শুনিলে কি ভ্রাতৃগণ কৌরব কাহিনী।
সাজিল পাপিষ্ঠ একাদশ অক্ষৌহিণী।।
আমার আছয়ে যত সৃহৃদ সুজন।
যুদ্ধ হেতু সবাকারে কর আমন্ত্রণ।।
ভোজবংশে অন্ধবংশে যতেক নন্দন।
যদুবংশে উগ্রসেন আদি রাজগণ।।
যথাযোগ্য সবাকারে লিখহ লিখন।
অনুচরগণে আজ্ঞা কর শীঘ্রতরে।।
কুরুক্ষেত্রে গড়খাই কহ রচিবারে।
ভক্ষ্য ভোজ্য দ্রব্য আদি করহ সঞ্চার।।
নানা অস্ত্র শস্ত্র নানাবিধ উপহার।।
নৃপতির আজ্ঞা পেয়ে ইন্দ্রের নন্দন।
ধৃষ্টদ্যুন্নে ডাকি তবে কহে সেইক্ষণ।।
আপনিও যাহ তথা, বিলম্ব না সয়।
কুরুক্ষেত্রে কর গিয়া বিচিত্র আলয়।।
সহস্র সহস্র সঙ্গে লহ অনুচর।
দিব্য গড়খাই রচ, আগার বিস্তর।।
কুরুক্ষেত্র মহাতীর্থ পুরাণে বাখানি।
যাহাতে পড়িলে যুদ্ধে পায় দেবযোনি।।
পূর্ব্ব-পিতামহ মম কুরু নৃপমণি।
ব্যাসমুখে শুনিলাম তাঁহার কাহিনী।।
একচ্ছত্র মহারাজ ছিলা ভূমণ্ডলে।
কুরুক্ষেত্র কৈল রাজা নিজ পুণ্যবলে।।
শুনি কহে ধৃষ্টদ্যুন্ন করিয়া বিনয়।
ইহার বৃত্তান্ত কহ, শুনি ধনঞ্জয়।।
কোন্ পুণ্যবলে রাজা কুরুক্ষেত্র কৈল।
কোন্ দেব আরাধিয়া এ বর পাইল।।
অর্জ্জুন বলেন, শুন পূর্ব্বের কাহিনী।
মহাধর্ম্মশীল ছিলা কুরু নৃপমণি।।
বাহুবলে শাসিলেন সর্ব্ব ভূমণ্ডল।
একচ্ছত্র রাজা হৈল বলে মহাবল।।
নানা দান, নানা যজ্ঞ করিল রাজন।
কুরুর মহিমা গুণ বিখ্যাত ভুবন।।
এক দিন পিতৃগণ কহিল তাঁহারে।
মাংস-শ্রাদ্ধে তৃপ্ত কর আমা সবাকারে।।
পিতৃগণ আজ্ঞাকারী কুরু নরপতি।
মৃগয়া কারণে বনে গেলা শীঘ্রগতি।।
মারিল অনেক মৃগ বনের ভিতর।
আগুবাড়ি পাঠাইল মৃগ বহুতর।।
মৃগয়ান্তে শ্রান্ত বড় হইয়া রাজন।
জল অন্বেষণে রাজা ভ্রমে বনে বন।।
জল নাহি পায় রাজা, তৃষ্ণায় পীড়িত।
দণ্ডক কাননে রাজা হৈল উপনীত।।
মুনির আশ্রম সেই অপূর্ব্ব কানন।
মনুষ্য অগম্য স্থল, অতি সুশোভন।।
দিব্য সরোবর আছে বনের ভিতরে।
দেবকন্যাগণ তাহে নিত্য ক্রীড়া করে।।
সেই সরোবরে রাজা হৈল উপনীত।
পরমা সুন্দরী কন্যা দেখি চমকিত।।
বহুরূপা নামে কন্যা দেবের নর্ত্তনী।
রূপেতে কনকলতা খঞ্জন-নয়নী।।
মুখরুচি শত শশী করিয়াছে শোভা।
ওষ্ঠস্থল অতুল বন্ধুক পুষ্প-আভা।।
শুকচঞ্চু জিনি নাসা, জিনি তিলফুল।
বঙ্কিম যুগল ভুরূ, কিবা দিব তুল।।
দেখিয়া কন্যার রূপ মোহিত রাজন।
ক্ষুধা তৃষ্ণা পাসরিল কামে অচেতন।।
নিকটেতে গিয়া রাজা জিজ্ঞাসে কন্যারে।
নিজ পরিচয় তুমি কহিবে আমারে।।
তোমার রূপের সীমা না যায় বর্ণনে।
তোমা সম রূপ গুণ না দেখি নয়নে।।
কিবা লক্ষ্মী, সরস্বতী হবে হরপ্রিয়া।
সাবিত্রী রুক্নিণী কিবা হবে সর্ব্বজয়া।।
কিবা নাগকন্যা হবে, তিলোত্তমা প্রায়।
নিজ পরিচয় কন্যা কহিবে আমায়।।
কন্যা বলে, শুন মম পূর্ব্বের কাহিনী।
বহুরূপা নাম মম পূর্ব্বের কাহিনী।।
বহুরূপা নাম মম ইন্দ্রের নর্ত্তনী।
পূর্ব্বজন্মে আমি রাজা ছিনু পক্ষিযোনি।
প্রভাসে বসতি ছিল, নাম সারঙ্গিণী।।
প্রমাথিক নামে বট প্রভাসের তীরে।
অদ্যাপি সে বৃক্ষ আছে বৃষ্টির গোচরে।।
তথা অবস্থিতি আমি করি বহুকাল।
কত দিনে বৃদ্ধকাল হইল জঞ্জাল।।
জরাতে আতুর তনু, ব্যাধিতে পীড়িল।
সেই বৃক্ষ উপরেতে মম মৃত্যু হৈল।।
মরিয়া শুকায়ে ছিনু বাসার ভিতরে।
বহুকাল ছিল বাসা বৃক্ষের উপরে।।
দৈবের নির্ব্বন্ধ কর্ম্ম না হয় খণ্ডন।
কত দিনে ঘোরতর বহিল পবন।।
বাসার সহিত মম শুষ্ক কলেবরে।
উড়াইয়া ফেলিলেক প্রভাসের নীরে।।
পরশ করিতে অঙ্গ প্রভাসের পানি।
সর্ব্বপাপে মুক্ত হইলাম নৃপমণি।।
দিব্যমূর্ত্তি ধরিলাম রূপেতে পদ্মিনী।
সেই পুণ্যে হইলাম ইন্দ্রের নর্ত্তনী।।
ইন্দ্রের সাক্ষাতে নৃত্য করি বারংবার।
একদিন পাপবুদ্ধি হইল আমার।।
সূর্য্যবংশে মহারাজ খট্টাঙ্গ আছিল।
যুদ্ধ হেতু ইন্দ্র তারে বরিয়া আনিল।।
অসুরগণের সহ কৈল মহারণ।
সবাকারে পরাজিল খট্টাঙ্গ রাজন।।
তুষ্ট হয়ে সভাতলে নিল ইন্দ্র তারে।
যত্নে করাইল নৃত্য আমা সবাকারে।।
খট্টাঙ্গ ‍নৃপতি রূপে পরম সুন্দর।
তাঁরে দেখি হৃদে মম বিন্ধে কামশর।।
পুনঃ পুনঃ চাহিলাম তাঁহার বদন।
দেহি ইন্দ্র ক্রোধে শাপ দিল সেইক্ষণ।।
দেবলোক পেয়ে কর মনুষ্য আচার।
কিছুকাল কর নরলোকে ব্যবহার।।
সে কারণে নরপতি হেথায় বসতি।
বিরহিণী আছি সে, না মিলে যোগ্য পতি।।
ইহা শুনি হাসি হাসি বলে নৃপমণি।
আমারে বরহ যদি আছ বিরহিণী।।
চন্দ্রবংশে মম জন্ম, কুরু নাম ধরি।
সংসার মধ্যেতে হই আমি অধিকারী।।
তোমারে দেখিয়া মম মজিল আমার।
কামানলে দহে তনু করহ নিস্তার।।
শ্রেষ্ঠ পাটেশ্বরী আমি করিব তোমারে।
এত শুনি কন্যা পুনঃ কহিল রাজারে।।
নিশ্চয় নৃপতি আমি করিব বরণ।
এক সত্য মম আগে করহ রাজন।।
আপন ইচ্ছায় আমি করিব যে কাজ।
আমারে বারণ নাহি কর মহারাজ।।
কুবচন বল যদি ত্যজিব তোমারে।
কন্যার বচনে রাজা অঙ্গীকার করে।।
কন্যারে লইয়া রাজা গেল নিজ দেশে।
নিরবধি কেলি করে অশেষ বিশেষে।।
একদিন পরপতি কহিল কন্যারে।
জল আনি শীঘ্রগতি দেহ ত আমারে।।
কন্যা বলে, এবে মম আছে প্রয়োজন।
মুহূর্ত্তেক রহ জল দিবত এখন।।
রাজা বলে, পিপাসাতে দহে কলেবর।
আমারে আনিয়া জল দেহ ত সত্বর।।
নৃপতির বাক্য কন্যা না করে শ্রবণ।
ক্রুদ্ধ হয়ে রাজা বলে বহু কুবচন।।
ক্রোধেতে করিল নিন্দা বিবিধ প্রকারে।
গণিকার জাতি তুই, কি বলিব তোরে।।
পুনঃ পুনঃ স্বামীবাক্য করিস হেলন।
স্ত্রীজাতি নহিলে তোর নিতাম জীবন।।
ইহা শুনি কন্যা হাসি বলিল রাজারে।
পূর্ব্ব সত্য পাসরিলে, ছাড়িনু তোমারে।।
এইক্ষণে ত্যাগ করি যাব নিজস্থান।
এতেক বলিয়া কন্যা হৈল অন্তর্ধান।।
কন্যারে না দেখি রাজা আকুল জীবন।
কন্যার ভাবনা বিনা অন্যে নাহি মন।।
রাজপদে নাহি মতি, সচিন্তিত মন।
বিবাহ না করে রাজা, নবীন যৌবন।।
বৃদ্ধ মন্ত্রিগণ সব বুঝায় রাজারে।
কি হেতু ভূপাল চিন্তা করিছ অন্তরে।।
বহুরূপা কন্যা সে ইন্দ্রের নাচনী।
ইন্দ্রশাপে হয়েছিল তোমার রমণী।।
শাপে মুক্ত হয়ে সেই গেল সুরপুরে।
তার হেতু শোক কেন করহ অন্তরে।।
যদি তুমি সেই কন্যা ইচ্ছ নৃপবর।
ইন্দ্র দেবরাজ হয় সবার ঈশ্বর।।
নিয়ম করিয়া কর ইন্দ্র আরাধন।
তবে সেই কন্যা প্রাপ্ত হইবে রাজন।।
হস্তিনার উত্তরেতে সরস্বতী-তীরে।
উপবন আছে তথা তাহার উত্তরে।।
নিত্য আসি সুরধেনু চরে সেই বনে।
ইন্দ্র-আরাধনা কর সুরভি সেবনে।।
তবে পুনর্ব্বার তুমি পাইবে কন্যারে।
তত্ত্ব উপদেশ রাজা কহিনু তোমারে।।
এত শুনি আনন্দিত হইয়া অন্তরে।
বিধিমতে নরপতি ইন্দ্রে স্তুতি করে।।
করিল কঠোর তপ শাস্ত্রের বিহিত।
সুরভির সেবা রাজা কৈল যথোচিত।।
তুষ্টা হয়ে সুরধেনু বলে নৃপতিরে।
অভিমত বর রাজা মাগহ আমারে।।
তব প্রতি তুষ্ট রাজা হইলাম আমি।
মনোনীত বর যাহা, মাগি লহ তুমি।।
ইহা শুনি করযোড়ে কহে নৃপমণি।
যদি বর দিবে তুমি শুন গো জননি।।
বহুরূপা নামে কন্যা আছে সুরপুরে।
সেই কন্যা প্রাপ্তি যেন হয় ত আমারে।।
স্বস্তি বলি বর তবে দিলেক সুরভি।
পাইবে সে কন্যা তুমি দেবরাজে সেবি।।
ইন্দ্রমন্ত্র পঞ্চাক্ষর দেই, রাজা লহ।
ইন্দ্রমন্ত্র জপি তুমি ইন্দ্রে আবাধহ।।
ত্রিরাত্রি জপিলে ইন্দ্র দিবে দরশন।
যে বাঞ্ছা করিবে রাজা পাইবে তখন।।
এত বলি দিল মন্ত্র প্রসন্ন হইয়ে।
হৃষ্টচিত্ত হৈল তবে রাজা মন্ত্র পেয়ে।।
ত্রিরাত্র জপিল মন্ত্র বসি একাসন।
প্রসন্ন হইল তবে সহস্রলোচন।।
সাক্ষাতে দেখিয়া ইন্দ্রে কুরু-নরপতি।
দণ্ডবৎ প্রণমিয়াকরে বহু স্তুতি।।
তুষ্ট হয়ে ইন্দ্র বলিলেন মাগ বর।
এত শুনি বলে রাজা যুড়ি দুই কর।।
বহুরূপা নামে যেই তোমার নর্ত্তনী।
সেই কন্যা দেহ কৃপা করি সুরমণি।।
ইন্দ্র বলে, যাহা ইচ্ছ, দিলাম তোমারে।
আর বর মাগ যদি বাঞ্ছহ অন্তরে।।
রাজা বলে, যদি আজ্ঞা কর পুরন্দর।
এই স্থান হয় যেন পুণ্য ক্ষেত্রবর।।
কুরুক্ষেত্র নাম হয়, পুণ্যক্ষেত্র সার।
ইথে যুদ্ধ করি যেই হইবে সংহার।।
ভূঞ্জিবে অক্ষয় স্বর্গ সহিতে তোমার।
এই বর আজ্ঞা কর দেব গুণাধার।।
ইন্দ্র বলিলেন, পূর্ণ তব মনস্কাম।
পুণ্যক্ষেত্র হৈল এই, কুরুক্ষেত্র নাম।।
এত বলি ইন্দ্র আজ্ঞা দিল মাতলিরে।
বহুরূপা কন্যা তুমি আনি দেহ এরে।।
ইন্দ্রের আজ্ঞায় কন্যা তথায় আনিল।
সেইক্ষণে নৃপ তারে বিবাহ করিল।।
অনেক যৌতুক তারে দিল সুরপতি।
অন্তর্ধান হয়ে ইন্দ্র গেলেন বসতি।।
ইন্দ্রের বরেতে সেই পুণ্যক্ষেত্র হৈল।
কুরুক্ষেত্র বলি নাম জগতে ব্যাপিল।।
তবে কন্যা লভি তথা হৈতে নরপতি।
হৃষ্ট চিত্ত গেল পরে আপন বসতি।।
মদগর্ব্বে সুরভিরে সম্ভাষ না কৈল।
সেই হেতু সুরধেনু নৃপে শাপ দিল।।
এই অহঙ্কারে পুত্র না হইবে তোর।
এত বলি প্রবেশিল পাতাল ভিতর।।
এ সকল বৃত্তান্ত না শুনিল রাজন।
ইন্দুমতী লয়ে কেলি করে অনুক্ষণ।।
পুত্র না হইল তার যুবাকাল গেল।
এত ভাবি রাজা তবে সচিন্তিত হৈল।।
বহু দান যজ্ঞ তবে করিল নৃপতি।
পুত্র না হইল, রাজ চিন্তাকুল মতি।।
কুল-পুরোহিত যে বশিষ্ঠ তপোধন।
ভার্য্যা সহ তাঁর কাছে করে নিবেদন ।।
দণ্ডবৎ প্রণমিয়া করে বহু স্তুতি।
হৃষ্ট হয়ে দোঁহে আশ্বাসিল মহামতি।।
মনোনীত বর মাগি লহ দুই জনে।
যেই বর ইচ্ছা কর মাগ মম স্থানে।।
ইহা শুনি রাণী সহ কহে নরপতি।
পুত্রবর আজ্ঞা মোরে কর মহামতি।।
তব বরদান মোরা হই পুত্রবান।
ইহা বিনা তোমারে না মাগি বর আন।।
এত শুনি ধ্যানস্থিত হয়ে মুনিবর।
সুরভির শাপে অপুত্রক নৃপবর।।
জানিয়া কারণ তার কহিল রাজারে।
হইবে অবশ্য পুত্রবান মম বরে।।
কিন্তু সুরভির শাপ আছয়ে তোমায়।
সে কারণে রাজা তব না হয় তনয়।।
অভিমানে পাতালেতে গেলেন জননী।
মম গৃহে আছে রাজা তাঁহার নন্দিনী।।
নিয়ম করিয়া সেবা করহ তাঁহার।
অচিরেতে পুত্র রাজা হইবে তোমার।।
সম্বৎসর সেবা তাঁর কর নৃপমণি।
ভজুক দাসীর মত তোমার রমণী।।
তবে সে নৃপতি তুমি হবে পুত্রবান।
অমনি নন্দিনী ধেনু আসে বিদ্যমান।।
নন্দিনীরে কহি মুনি কহিল রাজারে।
হইবে তোমার কার্য্যসিদ্ধি মম বরে।।
এই নন্দিনীরে তুমি সেবহ রাজন।
এক সম্বৎসর রাজা করিয়া নিয়ম।।
মুনির বচনে রাজা সেবিল তাঁহারে।
নিয়ম করিয়া রাজা এক সম্বৎসরে।।
রাজার সেবনে গবী সন্তুষ্টা হইল।
জননীরে সাধি তার শাপান্ত করিল।।
শাপে মুক্ত হয়ে রাজা হৈল পুত্রবান।
দুই পুত্র জনমিল মহামতিমান।।
প্রথম পুত্রের নাম স্বয়ম্বর রাখে।
তাহা হৈতে কুরুবংশ বাড়িবারে লাগে।।
অবশেষে পুত্রে রাজ্য দিয়া নরবর।
ইন্দুমতী সহ গেল বনের ভিতর।।
সাধিয়া পরম যোগ পায় দিব্যগতি।
কহিনু তোমারে এই পূর্ব্বের ভারতী।।
শীঘ্রগতি যাহ তুমি না কর বিলম্ব।
কুরুক্ষেত্রে কর গিয়া গড়ের আরম্ভ।।
হইবে দারুণ যুদ্ধ না হৈবে খণ্ডন।
কুলক্ষয় হেতু বাঞ্ছা কৈল দুর্য্যোধন।।
ইহা শুনি ধৃষ্টদ্যুন্ন হৈল হৃষ্টমতি।
বহু অনুচরগণ লইল সংহতি।।
দুই অক্ষৌহিণী বলে চলিল ত্বরিত।
কুরুক্ষেত্র মধ্যে গিয়া হৈল উপনীত।।
খনকগণেরে আজ্ঞা দিল সেইক্ষণ।
রচিল অদ্ভূত গড়খাই বিচক্ষণ।।
স্থানে স্থানে বিরচিল দিব্য দিব্য ঘর।
রাজগণ রহিবারে আবাস বিস্তর।।
অশ্বশালা বিরচিল আর গজাগার।
নানা অস্ত্র শস্ত্রে পূর্ণ করিল ভাণ্ডার।।
ভক্ষ্য ভোজ্য দ্রব্য আনাইলেন বিস্তর।
দুলক্ষ প্রহরী রাখে করি থরে থর।।
নির্ম্মাইয়া গড়খাই আসিল সত্বর।
নিবেদন করিলেন রাজার গোচর।।
শুনি হৃষ্টমন হৈল ভাই পঞ্চ জন।
যুদ্ধ হেতু রাজগণে লিখিল লিখন।।
কারস্কর রাজা আর রাজা জয়সেন।
শিশুপাল পুত্র সহদেব সুলক্ষণ।।
কাশীরাজ সুষেণ ও সুমিত্র নৃপতি।
অঙ্গরাজ কারক্ষর সুধর্ম্মা প্রভৃতি।।
বাহলীক নৃপতি আর যতেক রাজন।
দূতমুখে শুনি পাণ্ডবের নিমন্ত্রণ।।
চতুরঙ্গ দলে সাজি কুরুক্ষেত্রে এল।
যুদ্ধের সামগ্রী দ্রব্য অনেক আনিল।।
সাত অক্ষৌহিণী সেনা আসিয়া মিলিল।
নানা বাদ্য-কোলাহলে পৃথিবী পূরিল।।
সাত অক্ষৌহিণীপতি হৈল পঞ্চ জন।
একাদশ অক্ষৌহিণীপতি দুর্য্যোধন।।
অষ্টাদশ অক্ষৌহিণী হৈল সৈন্যগণে।
কোলাহলে মহাশব্দে, না শুনি শ্রবণে।।
কুরুক্ষেত্রে দুই দল সমানে রহিল।
নানা অস্ত্র শস্ত্র সবে সঞ্চয় করিল।।
মহাভারতের কথা অমৃত-সমান।
কাশীরাম দাস কহে, শুনে পুণ্যবান।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *