০৯. ধৃতরাষ্ট্র কৃর্ত্তৃক পাণ্ডবগণের নিকটে সঞ্জয়কে প্রেরণ

জন্মেজয় জিজ্ঞাসিল কহ মুনিরাজ।
অতঃপর কি করিল অন্ধ-মহারাজ।।
মুনি বলে, নরপতি শুন একমনে।
কারো বাক্য দুর্য্যোধন না শুনিল কাণে।।
তাহাতে বিরক্ত হয়ে অন্ধ নৃপবর।
সঞ্জয়ের প্রতি তবে কহেন সত্বর।।
দেখিলে সঞ্জয় দুর্য্যোধনের দুষ্টতা।
না শুনিল না মানিল মহতের কথা।।
সে কারণে যাহ তুমি বিরাট-নগর।
মম আশীর্ব্বাদ দেহ পাণ্ডব গোচর।।
একে একে পঞ্চ জনে করিবে কল্যাণ।
বিনয় প্রণয় করি হয়ে সাবধান।।
দ্রৌপদীরে আশীর্ব্বাদ কহিবে আমার।
দৈবগতি দেখ এই সকল সংসার।।
দৈবে যাহা করে, তাহা কে খণ্ডিতে পারে।
পরম সুবুদ্ধি জ্ঞান দৈবে নষ্ট করে।।
সে কারণে মন্দবুদ্ধি হৈল দুর্য্যোধনে।
কপট করিয়া তোমা পাঠাইল বনে।।
রাজপুত্রী হয়ে তুমি রাজার মহিষী।
পাইলে অনেক কষ্ট অরণ্যে নিবসি।।
নানা দুঃখ পেয়ে তুমি করিলে যাপন।
সে সব স্মরিয়া সদা পোড়ে মম মন।।
দৈবের ঘটনে এত হৈল বিসম্বাদ।
মোরে দেখি কৌরবের ক্ষম অপরাধ।।
সতী সাধ্বী গুণবতী তুমি পতিব্রতা।
লক্ষ্মী-অবতার তুমি ধর্ম্ম-অনুরতা।।
এইরূপে দ্রৌপদীরে কহিবে বিনয়।
কদাচ আমার প্রতি ক্রোধ নাহি হয়।।
কহিবে পাণ্ডবগণে কাল অনুক্রমি।
পাইলে অনেক কষ্ট বনে বনে ভ্রমি।।
ত্রয়োদশ বর্ষাবধি তোমা পঞ্চ বিনে।
দহিছে আমার আত্মা চিন্তার আগুনে।।
তাপিত আমার মন, শান্ত নাহি হয়।
কাষ্ঠ ঘরষণে যথা হয় অগ্নিময়।।
অন্ন নাহি রুচে মম, নাহি রুচে নীর।
তোমা সবা বিচ্ছেদেতে চিত্ত নহে স্থির।।
নয়নে নাহিক নিদ্রা, ভোজনে না সুখ।
তোমা সবাকার দুঃখে বিদরিছে বুক।।
গান্ধারী সুবলসুতা তোমা সবা বিনে।
করে খেদ, বহে নীর সদাই নয়নে।।
বিদুর বাহ্লীক আর সোমদত্ত বীর।
তোমা সবা অভাবেতে সর্ব্বদা অস্থির।।
নগর-নিবাসী চারি জাতি প্রজাগণ।
তোমা সবা না দেখিয়া নিরানন্দ মন।।
হস্তিনার লোক যত দুঃখী রাত্রিদিন।
সদা দীন ক্ষীণ হেন জলহীন মীন।।
তোমার বিহনে রাজ্য শোভা নাহি পায়।
ফলহীন বৃক্ষ যেন জন্ম বৃথা যায়।।
জলহীন নদী যেন পদ্মহীন সর।
চন্দ্রহীন রাত্রি যেন ধর্ম্মহীন নর।।
জ্ঞানহীন জন যেন বীজহীন মন্ত্র।
বেদহীন বিপ্র যেন যোগহীন তন্ত্র।।
তোমা সবা বিহনেতে তথা প্রজাগণ।
এইরূপে বিনয়েতে কহিবে বচন।।
নানাবিধ অলঙ্কার দিব্য বস্ত্র লয়ে।
শীঘ্রগতি যাও পাণ্ডুপুত্রে দেখ গিয়ে।।
দ্রুতগামী অশ্ব রথে করি সংযোজন।
শুভলগ্ন তিথি আজি, করহ গমন।।
সঞ্জয় এতেক শুনি উঠি সেইক্ষণ।
যুড়ি খচরের রথ পবন-গমন।।
বিরাট নগর মধ্যে পাণ্ডুর কুমার।
সভা করি বসিয়াছে দেব অবতার।।
সঞ্জয় এ হেন কালে হন উপনীত।
দেখিয়া বিরাট তারে জিজ্ঞাসিল হিত।।
দিব্য রত্ন-সিংহাসন দিলেন বসিতে।
পাণ্ডবে সম্ভাষি দূত বসিল সভাতে।।
কহেন সঞ্জয় প্রতি ভাই পঞ্চজন।
সবার কুশল বার্ত্তা কহ বিবরণ।।
ধৃতরাষ্ট্র দ্রোণ ভীষ্ম বাহ্লীক নৃপতি।
জননী আমার কুন্তী গান্ধারী প্রভৃতি।।
এয়োদশ বর্ষকাল নাহি দরশন।
কেবা মরে, কেবা জীয়ে না জানি কারণ।।
কোথা হৈতে এই স্থানে তব আগমন।
জ্যেষ্ঠতাত পাঠাইল, এই লয় মন।।
কি কহিয়া পাঠাইল অম্বিকা-নন্দন।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ আর যত সভাজন।।
কি কহিল কর্ণ বীর রাধার কুমার।
দুর্য্যোধন কি বলে শকুনি দুরাচার।।
উভয় কুলের হিত সবে কি চিন্তিল।
সম্প্রীতি করিতে বুঝি তোমা পাঠাইল।।
যেই সত্য করিলাম তোমার অগ্রেতে।
তাহাত হইনু মুক্ত ধর্ম্মের কৃপাতে।।
সর্ব্বধর্ম্ম মূল হরি ব্রহ্ম সনাতন।
তাঁহার কৃপায় হৈল সঙ্কটে তারণ।।
এত দুঃখ পেয়ে তবু রাখিলাম ধর্ম্ম।
সবে সুখে আছেন, সবার মূল কর্ম্ম।।
সমুচিত ভাগ যেই হয়ত আমার।
তাহা ছাড়ি দিতে করিয়াছে কি বিচার।।
আমারে বিভাগ দিতে কৌরব কি চাহে।
সম্প্রীতে না দিবে, কিম্বা মজিবে কলহে।।
কহত সঞ্জয় তুমি সব বিবরণ।
সঞ্জয় শুনিয়া তবে করে নিবেদন।।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ আর বাহ্লীক নৃপতি।
সম্প্রীতি করিতে সবে দিল অনুমতি।।
কারো বাক্য না শুনিল কৌরব দুর্ম্মতি।
অনেক সান্ত্বনা করে অন্ধ নরপতি।।
ভীষ্ম মুখে শুনি তোমা সবার উদয়।
আনন্দিত সকলের হইল হৃদয়।।
চারি জাতি নগরেতে যত প্রজাগণ।
বার্ত্তা পেয়ে হৃষ্টচিত্ত হৈল সর্ব্বজন।।
মৃতের শরীরে যেন ‍পাইল জীবন।
তোমা সবা সমাচারে যত প্রজাগণ।।
সুহৃদ অমাত্য জ্ঞাতি যত বন্ধুজন।
সদা হাহাকার শব্দে করিত রোদন।।
ডাকিত পাণ্ডব বলি সদা ঊর্দ্ধমুখে।
তোমা সবা না দেখিয়া অন্ধ ছিল ‍দুঃখে।।
আত্মার বিহনে যথা না রহে জীবন।
তোমা সবা বিরহেতে তথা সর্ব্বজন।।
এয়োদশ বর্ষাবধি যত প্রজাগণ।
সুখলেশ নাহি কার জীয়ন্তে মরণ।।
এবে সমাচার শুনি তোমা সবাকার।
দেখিতে উদ্বেগচিত্ত, আনন্দ অপার।।
তোমা পঞ্চ ভাই যবে গেলে বনবাসে।
বিনা মেঘে নগরেতে রুধির বরিষে।।
দিবসে ডাকয়ে শিবা অতি কুলক্ষণ।
উল্কাপাত আদি শব্দ হয় ঘনে ঘন।।
সেইক্ষণে ধূমকেতু প্রকাশে আকাশে।
অশ্ব হস্তী পশুগণ কান্দে চারিপাশে।।
এই অলক্ষণ দেখি বলে জ্ঞানী জন।
কুলক্ষয় হৈল রাজা তোমার কারণ।।
অতি কুলক্ষণ রাজা দেখি শাস্ত্রমতে।
এখন উপায় কর, যদি লয় চিতে।।
দিনে দিনে অলক্ষণ দেখ নৃপমণি।
পৃথিবী হরিল শস্য, মেঘে অল্প পানি।।
সে কারণে নরপতি মম বাক্য ধর।
আপন কুলের হিত যদি বাঞ্ছা কর।।
বাহুড়িয়া আন পঞ্চ পাণ্ডুর কুমার।
সেই ইন্দ্রপ্রস্থে পুনঃ দেহ অধিকার।।
তবে সে মঙ্গল হয় প্রজার কল্যাণ।
এরূপে পূর্ব্বেতে কহে যত জ্ঞানবান।।
পুত্রবশ ধৃতরাষ্ট্র শুনি না শুনিল।
সেই কাল আসি রাজা উপস্থিত হৈল।।
উত্তর গোগৃহে যুদ্ধে যত কুরুগণে।
অপমান করিলেক ধনঞ্জয় রণে।।
ভগ্নদণ্ড হয়ে আসে কৌরবের পতি।
ভীষ্ম দ্রোণ ধৃতরাষ্ট্র বুঝাইল নীতি।।
অনেক দৃষ্টান্ত দিয়া কহিল বচন।
কারো বাক্য না শুনিল রাজা দুর্য্যোধন।।
পরে ধৌম্য পুরোহিত তোমার আদেশে।
শাস্ত্র উপদেশ কহি বুঝাল বিশেষে।।
অনাদর করি তাহা না শুনিল কানে।
শুনিয়া থাকিবে তাহা ধৌম্যের সদনে।।
কারো কথা দুর্য্যোধন যবে না শুনিল।
আমারে ডাকিয়া অন্ধরাজ পাঠাইল।।
এই রত্ন ধন দিল বস্ত্র অলঙ্কার।
পুনঃ পুনঃ বহু কথা কহে বার বার।।
কহিব সে সব কথা শুনহ রাজন।
এয়োদশ বর্ষ তব না ছিল মিলন।।
পাইলে অনেক কষ্ট ভ্রমি বনে বন।
সে সকল মনে নাহি কর কদাচন।।
কপটী কুমন্ত্রী কর্ণ আর দুঃশাসন।
সৌবল শকুনি আর রাজা দুর্য্যোধন।।
তা সবার কপটেতে হৈল সর্ব্বনাশ।
তোমা সবে বনে গেলে, আমরা নিরাশ।।
অন্ধ দেখি দুর্য্যোধন আমারে না মানে।
যতেক কহি যে আমি, না শুনে শ্রবণে।।
আমার বচন সেই নাহি লয় মনে।
কর্ণ দুঃশাসন বাক্য শুধুমাত্র শুনে।।
কালেতে কুবুদ্ধি হয়, কে করিবে আন।
ইত্যাদি বলিল ধৃতরাষ্ট্র বর্ত্তমান।।
দুর্য্যোধন রাজ্য ছাড়ি দিতে নাহি চায়।
যেই চিত্তে আসে, তাহা কর ধর্ম্মরায়।।
ইহা শুনি পুনরাপি কহে পঞ্চ জন।
কহ শুনি কি বলিল রাজা দুর্য্যোধন।।
কি বলিল কর্ণবীর রাধার নন্দন।
সত্য করি বল তাহা, শুনি দিয়া মন।।
সঞ্জয় কহিছে, শুন পাণ্ডুর কুমার।
কহিল নিষ্ঠুর দুর্য্যোধন দুরাচার।।
বিনা যুদ্ধে রাজ্য নাহি আমি দিব তারে।
কোন্ শক্তি তার, মোরে জিনিবারে পারে।।
মহা মহা বীরগণ আমার সহায়।
মুহূর্ত্তেকে পাণ্ডবেরা হবে পরাজয়।।
সত্য সত্য সুনিশ্চয় করি যুদ্ধপণ।
এইরূপে কহে কথা রাজা দুর্য্যোধন।।
রাধেয় করিয়া দম্ভ কহিল বিস্তর।
কার শক্তি মোর সঙ্গে করিবে সমর।।
যেবা ধনঞ্জয় আছে সংগ্রামে প্রখর।
প্রথমে যুদ্ধেতে তারে মারিব সত্বর।।
তারে মারি চারি জনে রাখিব বান্ধিয়া।
নিষ্কন্টকে রাজ্য কর নির্ভয় হইয়া।।
এইরূপে কহিলেন রাধেয় দুর্ম্মতি।
চিত্তে যাহা আসে তাহা কর নরপতি।।
নিশ্চয় হইবে রণ নহে নিবারণ।
বুঝিয়া করহ কার্য্য ভাই পঞ্চ জন।।
পৃথিবীতে বসে যত রাজরাজেশ্বর।
যুদ্ধ হেতু বরিবারে পাঠাইল চর।।
নানা অস্ত্র শস্ত্র রথ সামগ্রী বিস্তর।
দুর্য্যোধন আদেশেতে করে অনুচর।।
শুনিয়া সঞ্জয়-বাক্য ধর্ম্মের নন্দন।
ক্রোধেতে কম্পিত অঙ্গ অরুণ-লোচন।।
যাহত সঞ্জয় পুনঃ মম দূত হয়ে।
যাহা কহি, কৌরবেরে কহিবে বুঝায়ে।।
ধৃতরাষ্ট্র জ্যেষ্ঠতাত, তাঁর উপরোধ।
সে কারণে পূর্ব্ব হৈতে না করিনু ক্রোধ।।
সেই হেতু এত দিন রহিল জীবন।
আপনার মৃত্যু বুঝি চাহিছে এখন।।
পূর্ব্বে যেই সত্য ছিল মুক্ত হই তাহে।
তবে কেন রাজ্য মম নাহি দিতে চাহে।।
মৃত্যু শ্রেয়ঃ সে বুঝিল, বুঝি অনুমানে।
সে কারণে যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা মনে।।
অল্পকার্য্যে জ্ঞাতিবধে নাহি প্রয়োজন।
আপনার মান রক্ষা কর দুর্য্যোধন।।
সমুচিত ভাগ যেই শাস্ত্র নিরূপণে।
তাহা দিয়া বশ কর আমা পঞ্চ জনে।।
নহিলে প্রলয় বড় হবে কুলক্ষয়।
এইরূপে কৌরবেরে কহিও নিশ্চয়।।
তবে ভীমসেন কহে ক্রোধ করি মনে।
বলিও আমার বার্ত্তা কৌরব রাজনে।।
হিমাদ্রি ত্যজয়ে ধৈর্য্য সূর্য্য না প্রকাশে।
অনল শীতল হয়, সপ্ত সিন্ধু শোষে।।
নক্ষত্র সহিত শশী ত্যজয়ে আকাশ।
পূর্ণিমার চন্দ্র যদি না হয় প্রকাশ।।
যোগী যোগ ত্যজে, ধর্ম্ম ত্যজে ধর্ম্মিজন।
গায়ত্রী বিহীন হয় ব্রাহ্মণ-নন্দন।।
তথাপি প্রতিজ্ঞা মম না হবে খণ্ডন।
ঊরু ভাঙ্গি দুর্য্যোধনে করিব নিধন।।
প্রতিজ্ঞা করেছি পূবের্ব সভা বিদ্যমানে।
এখন সঞ্জয় কহিলাম তব স্থানে।।
দুর্য্যোধন লয় যদি ধর্ম্মের শরণ।
যতেক প্রতিজ্ঞা মম সব অকারণ।।
মোর হাতে সব ভাই রক্ষা পাবে তবে।
এই কথা বুঝাইয়া কহিবে কৌরবে।।
অবশ্য আমার হাতে হইবে নিধন।
যত দুঃখ ‍পাইলাম আছে যে স্মরণ।।
এই সব দুঃখে অঙ্গ হতেছে দহন।
সেই সব দুঃখভরে সদা পোড়ে মন।।
সভামধ্যে দ্রৌপদীর অপমান কৈল।
দেখিয়া অন্ধের মুখ সকলি সহিল।।
সেই সব অগ্নিপ্রায় জ্বলিছে অন্তরে।
ধর্ম্ম আজ্ঞা দিলে যেত শমনের ঘরে।।
রাজ্য ভাগ ছাড়ি দিতে বলিও আমারে।
নতুবা সবংশে নিজে যাবে ছারখারে।।
এরূপে কহিবে তুমি রাজা দুর্য্যোধনে।
দুঃশাসন কর্ণিআদি যত কুরুগণে।।
এত বলি নিবর্ত্তিল পবন-তনয়।
বলেন সঞ্জয় প্রতি তবে ধনঞ্জয়।।
কহিবে অন্ধেরে তুমি মম নমস্কার।
তোমা বিদ্যমান দুঃখ পাইনু অপার।।
কৌরবের পতি তুমি, কৌরবের গতি।
তোমা বিনা কুরুকুলে নাহি অব্যাহতি।।
আমার বিভাগ রাজ্য দেহ অবিকল।
অল্প হেতু জ্ঞাতিবধে নাহি কোন ফল।।
তুমি যদি আজ্ঞা কর আমারে রাজন।
আপনার রাজ্য গিয়া লই এইক্ষণ।।
তবে যদি দ্বন্দ্ব করে মূর্খ দুর্য্যোধন।
আমি দ্বন্দ্ব কদাচ না করিব রাজন।।
সমর করিলে তবু প্রাণে না মারিব।
আজ্ঞা কর যদি, তারে বান্ধিয়া রাখিব।।
বলিকে বান্ধিয়া যথা ইন্দ্র রাজ্য করে।
তব হিত হেতু রাজা কহি যে তোমারে।।
এইমত যদি নাহি কর কদাচিত।
তব হিত হেতু রাজা কহি যে তোমারে।।
এইমত যদি নাহি কর কদাচিত।
বংশের সহিত তবে মজিবে নিশ্চিত।।
এইরূপে মম কথা কহিবে অন্ধেরে।
না শুনিলে পুনরপি কহিবে তাঁহারে।।
বাতাপি পক্ষীর কথা শুনেছি কথন।
সেইরূপ ধৃতরাষ্ট্র তব আচরণ।।
মুখেতে সৌজন্য কথা অন্তরেতে আর।
তোমার কপটে বংশ হৈবে ছারখার।।
এই শুনি ধনঞ্জয়ে জিজ্ঞাসে সঞ্জয়।
বাতাপি পক্ষীর কথা কহ মহাশয়।।
পক্ষিযোনি হয় হিংসা কৈল কি কারণ।
শুনিবারে ইচ্ছা হয়, কহ বিবরণ।।
মহাভারতের কথা অমৃত-সমান।
কাশীরাম দাস কহে, শুনে পুণ্যবান।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *