দেখবি যদি সে চাঁদেরে।
যা, যা কারণ-সমুদ্রের পারে।।

কারুণ্য তারুণ্য আড়ি
যে জন দিতে পারে পাড়ি
সেই বটে সাধক
এড়ায় ভাব-রোগ
বসত হবে তার অমর-নগরে।।

এক নদীর তিন বইছে ধারা
নাইকো নদীর কুল-কিনারা
বেগে তুফান ধায়
দেখে লাগে ভয়
পার হও যদি, সাজাও প্রেমের তরী রে।।

মায়ার গেরাফি কাট
ত্বরায় প্ৰেম-তরীতে চড়
সামনে কারণ সমুদ্দুর
পার হয় হুজুর
যারে লালন শুধু গুরুর বাক ধরে।।

—————

বাউল কবি লালন শাহ, পৃ. ২৮৪ এই গ্রন্থের ৩১২ পৃষ্ঠাতেও গানটি সংকলিত হয়েছে। এখানে সঞ্চারী ও আভোগের মতো একটি অতিরিক্ত স্তবক আছে। যথা–

যাস নে রে সামান্য নৌকায়
সে নদী বিষম তর্কায়(1)
গেলে প্রাণে হবি নাশ
থাকবে অপযশ।
ভবের পরে।।

কথান্তর :

দেখবি যদি সে চাঁদেরে
যা, যা কারণ সমুদ্দুরের পারে।।
তারুণ্য কারুণ্য আড়ি
যেজন দিতে পারে পাড়ি
সেই বটে সাধক
এড়ায় ভবরোগ
বসত হবে তার অমর-নগরে।।

যাস রে সামান্য নৌকায়
সে নদীর বিষম গুড়খায়
গেলে প্রাণ হবি নাশ
থাকবি অপযশ
যদি সাজাও প্রেমের তরী রে।।

কারণ সমুদ্দুর পারে
গেলে পায় অধর চাঁদেরে
কারণ সমুদ্দুর
পার হয়ে গুরুর
যারে লালন সৎগুরুর বাক্‌ ধরে।।

–লালন গীতিকা, পৃ. ৬০-৬১
(1) তর্কায়—সম্ভবত শব্দটি তড়পায় হবে। অর্থ ছটফট বা লাফালাফি করা; এখানে উথাল-পাথাল বা ঘুর-পাক খাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *