ধর রে অধর চাঁদেরে অধরে অধর দিয়ে।।
ক্ষীরোদ মৈথুনের ধারা
ধরা রে রসিক নাগরা
সে রসেতে অধর ধরা
দেখরে সচেতন হয়ে।।(1)

অরসিকের ভোলে ভুলে
ডুবিসনে কুপ-নদীর(2) জলে
কারণ বারির মধ্যস্থলে
ফুটেছে ফুল অচিন দলে
চাঁদ-চকোরা তাহে খেলে
প্ৰেম-বাণে প্ৰকাশিয়ে।।

নিত্য ভেবে নিত্য থেকো
লীলার বসে সেও নাকো
যে দেশেতে মহাপ্রলয়
মায়েতে পুত্রধরে খায়
ভেবে বুঝে দেখা পুনরায়(3)
এমন দেশে(4) কাজ কি যেয়ে।.
পঞ্চ বাণের(5) ছিলে কেটে
প্ৰেম যাচো স্বরূপের হাটে
সিরাজ সাঁই বলে রে, লালন
বৈদিক বাণে করিসনে রণ
বাণ হারায়ে পড়বি তখন
রণ-খেলাতে হুমড়ি খেয়ে।

——–

লালন-গীতিকা, পৃ. ২৯-৩০

কথান্তর :

1. থাক স-চৈতন্য হয়ে; 2. ভাব-নদীর; ৩. মনুরায়; 4. সে দেশে তোর; 5. রাণ-খোলাতে

বাংলার বাউল ও বাউল গান, পৃ. ৭০-৭১; বাউল কবি লালন শাহ, পৃ. ২৮৪

পঞ্চ বাণ- মদন, মাদন, শোষণ, স্তম্ভন ও সম্মোহন। হিন্দু পুরাণমতে মদন প্রেমের দেবতা জীবের প্ৰেম ঘটিত যাবতীয় কর্ম মদনের পঞ্চ বাণের প্রভাবে ঘটে থাকে।