দিল-দরিয়ায় ডুবিলে সে দরের খবর পায়।।
নইলে পুথি পড়ে পণ্ডিত হইলে কি হয়।।
স্বয়ং রূপ দৰ্পণে ধরে
মানব রূপ সৃষ্টি করে, (হে)

দিব্যজ্ঞানী যারা
ভাবে বোঝে তারা
মানুষ ভজে কার্যসিদ্ধি করে যায়।।

একেতে হয় তিনটি আকার
অযোগী সহজ সংস্কার (হে)
যদি ভাব-তরঙ্গে তারো
মানুষ চিনে ধর
দিনমণি গেলে কি হবে উপায়।।

মূল হৈতে হয় ডালের সৃজন
ডাল ধরলে পায় মূল অন্বেষণ, (হে)
অমনি রূপ হইতে স্বরূপ
তাতে ভেবে বে-রূপ
অবোধ লালন সদায় নিরূপ ধরতে যায়।।

———–

লালন ফকির : কবি ও কাব্য, পৃ. ১৬০-৬১; লালন-গীতিকা, পৃ. ৮৩-৮৪