১.১৫ যৌনবোধ বিকাশের ধারা

১.১৫ যৌনবোধ বিকাশের ধারা

যৌনবোধের ক্রমবিকাশের যে ধারা ও গতিপথ বর্ণনা করিলাম তাহার সহিত পাঠক-পাঠিকা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা মিলাইয়া দেখিলে বুঝিতে পারিবেন যে, অনেকক্ষেত্রে তাঁহাদের জীবনে এমনিতরই ঘটিয়াছে। ইহাতে অস্বাভাবিক বা অনুশোচনার কিছু না থাকিবারই কথা।

নরনারীর স্বীয় জীবন সম্বন্ধে বিবৃতি

আমাদের অনেক পাঠক-পাঠিকা তাহাদের প্রাথমিক যৌনজীবনের যে ইতিহাস লিখিয়া পাঠাইয়াছেন, তাহার সহিত অন্যান্য দেশের যুবক-যুবতীর বৃত্তান্ত মিলাইয়া দেখা গিয়াছে যে, এই সার্বজনীন ও তীব্র যৌনবৃত্তির বিকাশ পৃথিবীর সর্বত্রই প্রায় একই ধারায় হয়।

১। একজন পাঠক (ল’ কলেজের ছাত্র) লিখিয়াছেনঃ

“নিম্নে আমার যৌনজীবনের আনুপূর্বিক বিবরণ অকপটে লিখিতেছি। কোন কিছু গোপন করিব না বা অতিরঞ্জিত করিয়া লিখিব না। জ্ঞান উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে যৌনবাসনা এবং যৌন সম্ভোগেচ্ছা প্রবল ভাবে দেখা দেয়। ইহার origin (সূত্রপাত) কোথা ও কিরূপভাবে হয় তাহা আমার এক্ষণে ঠিক মনে নাই। তবে যাহা মনে আছে, একে একে লিখিতেছি।

(ক) “আমি অনেক বয়স পর্যন্ত পিতামাতার সহিত এক শয্যায় শয়ন করিতাম এবং মাঝে মাঝে তাহাদের সঙ্গম করিতে দেখিতাম এবং ঐ বিষয়ে কথাবার্তা শুনিতাম। ঠিক অনুরূপ কার্যগুলিই আমি সমবয়স্ক ও সমবয়স্কাদিগের উপর খেলাচ্ছলে experiment (পরীক্ষা) করিয়া দেখিতাম। উহাতে বেশ আনন্দ পাইতাম”।

(খ) “আমাদের বাড়ীতে আমার এক দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় থাকিতেন। তাঁহার naked picture-এর (নগ্ন ছবি) অনেকগুলি album (সংগ্রহ) ছিল। সেগুলি আমাদের বাড়ীর এক চাকর আমাকে দেখাইয়া দেয়। আমি প্রত্যহ লুকাইয়া লুকাইয়া সেগুলি দেখিতাম এবং মাঝে মাঝে সেই picture-এর (ছবি) উপরই পুরুষাঙ্গ ঘর্ষণ করিতাম এবং টিপিয়া ধরিতাম। ঐ অবস্থায় মাঝে মাঝে লালার ন্যায় একরূপ তরল secretion (স্রাব) হইত এবং সমস্ত শরীর পুলকিত হইয়া উঠিত। বড়ই আনন্দ লাগিত; সেইজন্য প্রায়ই ঐরূপ করিতাম। তখন আমার বয়স ৮-৯ বৎসর মাত্র। অতি অল্প বয়স হইতেই আমি খারাপ environment-এ (পরিবেশে) মানুষ হইয়াছি, কারণ মা-বাবা বিশেষ নজর রাখিতেন না। আমি ছোটলোকদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করিতাম। কাজেই কতকটা তাদের কাছে, কতকটা বাড়ীর চাকরদের কাছে এইরূপ ভাবে শিখিয়াছি।”

পরবর্তী ইতিহাস উদ্ধৃত করিবার মত নহে। তাহার সারমর্ম এই যে, ১৪ বৎসর বয়সে তাহার হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হয় এবং তাহার পূর্বে তিনি সমবয়স্ক ও সমবয়স্কাদের সহিত নানাবিধ যৌনক্রিয়া করিতেন। তিনি বীর্যপাত করিবার নানাপ্রকার পন্থাও আবিষ্কার করেন। হস্তমৈথুনের অভ্যাস তাহাকে এত পাইয়া বসিয়াছে যে, তিনি কি করিবেন বুঝিতে পারেন না। অনুশোচনা এবং দুর্ভাবনায় মুষড়াইয়া পড়িয়াছেন।

২। অপর একজনের বৃত্তান্তে জানা যায়, তাহার পিতা শিক্ষক ছিলেন। পড়িবার জন্য ছাত্ৰেরা তাহাদের বাড়ীতে থাকিত। ইহারা সকলেই যুবক ছিল। তাহাকে ইহারা শিক্ষকের ছেলে বলিয়া আদর, স্নেহ ও সম্মান করিত। ইহা তাহাকে অতি অল্প বয়স হইতেই যৌনশিক্ষা দিত এবং সমমৈথুনে প্রবৃত্ত করিত। বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত এইভাবে অহরহ যৌনলালসার তৃপ্তিলাভ করিয়া থাকিলেও তাহার শারীরিক ও মানসিক কোন ক্ষতি হয় নাই এবং বিবাহের পর হইতেই ঐ সকল অভ্যাস সম্পূর্ণ শোধরাইয়া গিয়াছে।

৩। আরও একজনের বিবরণে জানা যায়, তিনি সুন্দর ও সুশ্রী থাকায় ছেলেবেলা হইতেই বহু যুবক-বন্ধু তাঁহার সহিত বন্ধুত্ব করিবার জন্য অহরহ চেষ্টা করে। আলাপ-সম্ভাষণ হইতে চুম্বন, আলিঙ্গন এবং উহা হইতেই সমমৈথুন প্রবৃত্তি আসে। তাহার বিবাহিত জীবনে এইসকল প্রাথমিক সাময়িক ক্রীড়া কোন রেখাপাত করিতে পারে নাই এবং তাহার শারীরিক বা মানসিক কোন ক্ষতি হয় নাই।

৪। একাদশ অধ্যায়ের যে বালকটির (সুকুমার) উক্তি হইতে খানিকটা উদ্ধৃত করিয়াছি সে লিখিয়াছে: “(পূর্বোদ্ধৃত অংশের পর) ইহার প্রায় তিন বৎসর পর হইতে (অর্থাৎ তাহার ১৪ বৎসর বয়সে) স্ত্রীলোকের স্তন সম্বন্ধে অত্যন্ত interested (কৌতূহলী) হইয়া উঠি এবং যুবতী স্ত্রীলোক দেখিলেই তাহার স্তনের দিকে লক্ষ্য পড়িত। ১৪ বৎসর বয়সের সময় আত্মরতিতে আমার অল্প অল্প বীর্য নির্গত হইত (হস্তমৈথুনে)। ইহার প্রায় ৪-৫ মাস পরে আমি সমবয়স্কদের নিকট হইতে জানিতে পারি যে, বীর্য অত্যন্ত সাধনার জিনিস ইহা ক্ষয় করা আদৌ উচিত নয়।

“আমার সমবয়স্করাও হস্তমৈথুনে লিপ্ত তাহা জানিতাম না। মনে করিতাম যে, একমাত্র আমিই এই কার্য করি। সেই জন্য মনে করিতাম ইহা অত্যন্ত বদ অভ্যাস, কারণ বীর্য নষ্ট হয়। সেই কারণে মনে অনুশোচনাও হইতে থাকে। তখন সপ্তাহে ২-৩ বার এইরূপ করিতাম। দুঃখের বিষয়, যখন আমার বয়স ১৫ বৎসর তখন বুঝিতে পারি যে, প্রত্যেকেই উহাতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও আমার দৃঢ় ধারণা হইয়া গিয়াছে বীর্য নষ্ট হওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর; সেই ধারার বশবর্তী হইয়া (এখন লিখিতে লজ্জা করে) আত্মরতির পর বীর্য কোন পাত্র বা কাগজে ধারণ করি এবং তাহা নিজেই খাইয়া ফেলি”। (এই কদভ্যাসের জন্য ছেলেটির ভুল ধারণা দায়ী। বীর্য বাহির হইয়া গেলে কোন ক্ষতি হয় না, তাহা পান করিলেও কোন উপকার হয় না। আমাদের দেশে কতিপয় অশিক্ষিত সম্প্রদায় ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতার নামে শুধু শুক্র নয় মলমূত্র ইত্যাদিও গ্রহণ করে।)

“এখন আমি প্রায় দুই দিন অন্তর হস্তমৈথুন করি। এখন আমার শারীরিক বা মানসিক কোন অস্বাচ্ছন্দ্য নাই। কিন্তু বুঝিতে পারি না, এই ‘ভক্ষণ-ক্রিয়াতে’ আমার শারীরিক কোন ক্ষতি হইবার আশঙ্কা আছে কিনা। ইহাতে ফল কি হইতে পারে? প্রায় ছয় মাস এইরূপ করিতেছি।” (সমস্ত বুঝাইয়া লেখায় ছেলেটি এই অভ্যাস পরিত্যাগ করিয়াছে।)

ইহার পরের অংশ উদ্ধৃত করিবার উপযুক্ত নহে। তবে তিনটি মামাত ভগ্নীর পীড়াপীড়িতে সে উহাদের কথা না মানিয়া পারে না এবং এজন্য খুব বিব্রত এরূপ লিখিয়াছে। এই প্রসঙ্গে আমাদের দেশে জ্যাঠাত, খুড়াত, মামাত ভ্রাতা-ভগিনীদের, ভগ্নীপতি ও শালীদের, নানা সম্পর্কীয় বৌদিদি ও ঠাকুরপোদের মিলিতে মিশিতে দেওয়ার কথা উঠে। উভয় পক্ষের গুরুজনের মনে রাখা উচিত যে, যৌবনসুলভ বাসনায় ঠাট্টা এবং হাসিতামাশা সম্পর্কের সুযোগে ইহা অনেকক্ষেত্রে সীমা ছাড়াইয়া যাইতে পারে।

আমরা দশম একাদশ অধ্যায়ে যৌনজ্ঞানের সূচনা কি ভাবে হয় দেখাইতে গিয়া যে আলোচনা করিয়াছি তাহার সমর্থনও পাঠক-পাঠিকার উল্লিখিত বহু দৃষ্টান্তে পাওয়া গিয়াছে।

হ্যাভলক এলিস তাহার সুবৃহৎ গ্রন্থে (Studies in the Psychology of Sex) বহু সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত নর ও নারীর, এবং আমেরিকার স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যায় অভিজ্ঞ, ৫০ বৎসর যাবৎ ঐ সবের চিকিৎসাকারী ডাঃ ডিকিনসন (B. L. Dikinson) তাহার Thousand Marriages পুস্তকে তাঁহাব রোগিণীদের মধ্যে এক হাজারের উপর বিবাহিতাদের, এবং The single woman পুস্তকে শতশত কুমারীদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করিয়াছেন। ঐ সকল উক্তিতে বহু তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

অনেকে মনে করিতে পারেন যে, যৌনবোধের ক্রমবিকাশের ধারা ত সকলেরই জানা আছে, তাহা লইয়া আর ঘাঁটাঘাঁটি করিয়া লাভ কি? এলিস বলেন, মানুষে মানুষে যতটা একই রকম যৌন-অভিজ্ঞতা ঘটে, ততটা আবার ব্যতিক্রমও দেখা যায। স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিকের মধ্যে সীমারেখা টানিতে হইলে বহুসংখ্যক লোকের অভিজ্ঞতা বিচার না করিয়া উপায় নাই। পক্ষান্তরে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের ধারা জানা থাকিলে কি করিয়া যৌন-স্বাস্থ্য রক্ষা করিয়া চলিতে হইবে তাহা শেখা বা শেখানো সম্ভবপর হইবে।

হ্যাভলক এলিসের উল্লিখিত কয়েকটি ক্ষেত্রে যৌনবৃত্তির প্রাথমিক বিকাশ হইয়াছিল এই ভাবে

৫। –ই-টি– ইনি সচরাচরই নিজের ছোট ভগ্নীকে স্নান করাইতে দেখিতেন। তাই ছেলে ও মেয়ের বিভিন্ন যৌন-অঙ্গ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম কৌতূহল জাগে তাহার প্রায় নয় বৎসর বয়সে। তখনই তিনি তাঁহার পিতাকে জিজ্ঞাসা করেন, শিশুরা জন্মায় কেমন করিয়া? পিতা তাহাকে ধমক দিয়া নিরস্ত করেন। ইহার পরে আরও প্রশ্ন করায় পিতা তাহাকে মারিবেন বলিয়া ভয় দেখান। তাঁহার মাতা বলেন যে, ডাক্তারেরা শিশুদের লইয়া আসেন। তিনি ইহা এতদূর বিশ্বাস করেন যে, তাঁহার মাতার পরবর্তী সন্তান হইবার সময়ে ডাক্তারের গতিবিধি খুব পুখানুপুঙ্খরূপে লক্ষ্য করেন। ডাক্তার বগলে করিয়া কোন বাণ্ডিল লইয়া আসেন কিনা তাও লক্ষ্য করেন। নিরাশ হইয়া ষোল বৎসরের একটি চাকরাণীর নিকট তিনি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এই মেয়েটি তাহাকে দেখাইবে বলে এবং পরে একদিন যৌনমিলনে প্রবৃত্ত করে। তিনি এই বয়সে (৯ বৎসরে) এই কাজে যারপর নাই ঘৃণা বোধ করেন।

ইহার পর হইতেই তিনি যৌনবিষয়ে চিন্তা করিতে থাকেন এবং পশুপক্ষীর যৌনসম্মিলন লক্ষ্য করেন। ১০ বৎসর বয়সে তিনি ২৫ বৎসর বয়স্কা একটি যুবতীর গলার স্বর শুনিয়া তীব্র আকর্ষণ বোধ করেন। ইহার পর যৌন সম্মিলনের কথায় তাহার আর ততটা ঘৃণা বোধ হইত না।

বোর্ডিং স্কুলে ছেলেদের নিকট হইতে অশ্লীল চর্চা শুনিয়া তাহার যৌন কৌতূহল আরও উদ্ৰিক্ত হইত। ভালবাসার গল্প পড়িয়া তিনি মেয়েদের কথা খুব ভাবিতেন। যৌনকার্য মহাপাপ, বাইবেলে এই কথা পড়িয়া এবং মাতার উপদেশমত তিনি মেয়েদের সম্বন্ধে কুচিন্তা না করিয়া ভাল চিন্তাই করিতে চেষ্টা করিতেন। তাহার স্বাস্থ্য খুব ভাল ছিল।

বার বৎসর বয়সে প্রথমে ১২ বৎসরের একটি মেয়ের দিকে তিনি আকৃষ্ট হন। এই ভালবাসা বা আকর্ষণে বেশীর ভাগ সাহচর্য, আলাপ, সম্ভাষণ ইত্যাদির ইচ্ছাই বলবতী থাকিত। ইহার পরে ১৫ বৎসর বয়সে ঐ বয়সের একটি মেয়ের সহিত আলাপ হয় এবং উহাও সাময়িক প্রেম ও মিলনে পর্যবসিত হয়। কিছুকাল পরেই আলাপের অবসান হয়। ১২ বৎসর বয়সে তিনি ১৩ বৎসর বয়স্ক একটি মেয়ের চেহারায় বিমুগ্ধ হন এবং বহুদিন উহা তাহার স্মৃতি পটে অঙ্কিত থাকে। পাঁচ বৎসর পরে ঐ মেয়ের সহিত আবার দেখা হয় এবং পরম্পর পরম্পরে আকৃষ্ট হন। বিবাহের প্রস্তাব করিলে অল্প বয়সের অজুহাতে মেয়েটি প্রত্যাখ্যান করে। ইহাতে তাহার খুব দুঃখ হয়। কিন্তু ইহার ৮ বৎসর পরে উভয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইয়া তৃপ্তিকর দাম্পত্যজীবন যাপন করেন।

তাহার মতে তাহার যৌন-চেতনা সকাল সকাল জাগ্রত হইবার মূলে রহিয়াছে ঐ চাকরাণীর প্ররোচনা। তবে তিনি মনে করেন যে, তাঁহার বাসনা গোড়া হইতেই যেরূপ প্রবল ছিল, তাহাতে কোনও-না-কোনও উপায় উহা চরিতার্থ না করিয়া তিনি থাকিতে পারিতেন না। তিনি হস্তমৈথুন করিয়াছেন কিনা তাহা কিছু বলেন নাই। তাহার মতে, কৈশোর হইতে যৌনবাসনা তৃপ্তি করিবার সুযোগ থাকিলে উহা বক্র, কুটিল এবং ক্ষতিকর পথ ধরিবে না।

৬। একটি বিবাহিতা রমণী এলিসের নিকট যে বিবৃতি দিয়াছেন, তাহার সংক্ষিপ্তসার এইরূপ : “আমার মাতা সুন্দরী ও তেজস্বিনী ছিলেন। তিনি আমাদিগকে সুষ্ঠু ও নিষ্পাপ করিয়া গড়িয়া তুলিবেন বলিয়া সর্বদা ভাল কাজে ও ভাল চিন্তায় নিয়োজিত রাখিতেন। খারাপ কোন বই বা গল্প পড়িতে দেখিলে তিনি বারণ করিতেন এবং ভালবাসা বা বিবাহের কথায় কখনও আমল দিতেন না। তাই যৌনবিষয়ে আমি এত অজ্ঞ ছিলাম যে, ১৭ বৎসর বয়স পৰ্যন্ত আমি বিশ্বাস করিতাম, পুরুষ ওষ্ঠে চুম্বন করিলেই মেয়েদের সন্তান হয়।

 “নয় বৎসর বয়সেই আমার নানা বিষয়ে জানিবার কৌতূহল জাগে। বিজ্ঞানের গ্রন্থ লইয়া নাড়াচাড়া করিতাম, কিন্তু বুঝিতে না পারিয়া খুব দুঃখিত হইতাম। অন্যান্য ভগ্নীদের সঙ্গে বাস করিতে হওয়ায় নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও ঝগড়াঝাটি হইত। ১০ বৎসর বয়সের সময়ে একবার ঐ বয়সের একটি মেয়ে আমাদের বাটীতে বেড়াইতে আসে। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কখনও নিজে নিজে উপভোগ করিয়াছি কিনা। এ কথায় তাহার উপর আমার খুব ঘৃণা হয়। ইহাতে আমি কোন উত্তেজনা বোধ করি না। তবে ছোটবেলা হইতেই লক্ষ্য করিতাম, কখনও কখনও উত্তেজনা হইত। বিছানায় পড়িয়া কামচিন্তা করিলে সাধারণতঃ প্রস্রাবের বেগ হইত এবং প্রস্রাব করিলে উত্তেজনা প্রশমিত হইত”।

“ছেলেবেলা হইতেই আমার মনে ধর্মের ভাব প্রবল ছিল। তখন আমি ভগবানকেই স্বামীর আসন দিব মনে করিতাম”।

“সতের বৎসর বয়সে আমি একটি বোর্ডিং-স্কুলে যাই। এখানে ১৭ হইতে ১৯ বৎসরের ৭০টি মেয়ে ছিল। ইহাদের মধ্যে কোন অশ্লীল আলোচনা হইতে শুনি নাই। আমার মনে হয়, আমরা নানারকম ব্যায়াম ও খেলাধুলায় নিয়োজিত থাকায় অন্য চিন্তা মনে উদিত হইত না”।

“আমি অন্য সকল মেয়ের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব করি নাই, কিন্তু ওখানকার ফরাসী শিক্ষয়িত্রীর দিকে খুবই আকৃষ্ট হইয়াছিলাম। তাহার বয়স ৩০ বৎসর ছিল এবং তিনি খুব শাসন করিতেন। পক্ষপাতিত্ব দেখানো হইবে এই ভয়ে তিনি বরং আমাকে অন্যদের অপেক্ষা বেশী শাসন করিতেন।

স্কুল ছাড়িবার পূর্বেই আমার যৌনবোধের বিকাশ হইল, কিন্তু নানারূপ কলাবিদ্যা আয়ত্ত করিবার প্রয়াসেই তাহা পর্যবসিত হইল। আমার এক ভগ্নীসহ আমি ভ্রমণ ও কলাশিক্ষার জন্য ইটালীতে গমন করিলাম। আমার মনে হয় যে, কলাচর্চার দিকে অসংখ্য মেয়ের যে প্রবল ঝোঁক দেখা যায় তাহা তাহাদের যৌনবাসনা তৃপ্তিরই নামান্তর মাত্র”।

“এই সময়ে ইটালীতে ৪৫ বৎসরের একজন পুরুষকে আমার ভাল লাগে। তিনি আমাকে পছন্দ করিতেন এবং আমিও মনে করিতাম, আমি আর এখন বালিকা নই, পুরুষের ভালবাসা পাইবার অধিকারিণী হইয়াছি।

প্রথমতঃ ভাল লাগা, দ্বিতীয়তঃ সুখবোধ ও তজ্জনিত যৌনাঙ্গে রসসঞ্চার এবং তৃতীয়তঃ সম্পূর্ণ পুলকানুভবের দরুন তৃপ্তি—এই তিন স্তর লক্ষ্য করিয়াছি। প্রথম স্তর সাধারণতঃ বিক্ষিপ্ত ও নির্লিপ্তভাবের–ছোট বেলায় ভগবান বা আমার শিক্ষয়িত্রীর প্রতি যেরূপ ভাবের উদয় হইত, দ্বিতীয় স্তরের উদয় হইতে কিছুকাল পরে–সাধারণত কোন ব্যক্তিবিশেষের অথবা কোন গল্পের নায়কের চিন্তায়। তৃতীয় স্তর উদিত হইত—কোন বিশেষ ভালবাসার পাত্রকে উপলক্ষ্য করিয়া, উহার স্পর্শের দরকার হইত”।

“ ইটালীতে অবস্থান কালে একটি পাত্রের সহিত আমি প্রণয়াবদ্ধ হই। বিবাহের নানাবিধ বাধাবিঘ্ন উপস্থিত হয়, কিন্তু পরস্পরের দেখাশুনার সুযোগ হয়। প্রথমে আমাদের একত্র আহার-বিহার অহরহ হয়। দেখা-সাক্ষাতের পর হইতেই আমার প্রবল উত্তেজনা হইতে থাকে। তিন মাস পর্যন্ত এইরূপ দেখা-সাক্ষাতে আমার এক রকম অশান্তি, তলপেটে বেদনা ইত্যাদি হয়। প্রায় নয় মাস পরে বিচ্ছেদ হয় এবং আমার রীতিমত অসুখ হয়। ইহার পরেই বিবাহ-প্রস্তাব ভাঙিয়া যায়”।

“ইহার পরেই অন্য এক পাত্রের সহিত বিবাহের কথাবার্তা হয় এবং বিবাহ হইয়া যায়। আমার মনে হয় পুরুষের সঙ্গলাভে যে বিষম উত্তেজনা হয়, তাহার স্বাভাবিক চরিতার্থতার অভাবের দরুনই নারীর শরীর ও মনে ভীষণ বৈকল্য উপস্থিত হয়।”

৭। এলিসের নিকট একজন পুরুষ যে উক্তি করিয়াছেন তাহার সংক্ষিপ্তসার এইরূপ : “প্রায় ৫ বৎসর বয়সের সময়ে মনে পড়ে, একদিন অপর একটি ছেলের প্ররোচনায় একটি বালিকার পা দেখিবার জন্য কোথায় যেন যাই। ৬৭ বৎসরের সময়ে নার্সের সঙ্গে শুইয়া তাহার খোলা বাহু দেখিয়া আকৃষ্ট হই। তখনও যৌনচিন্তা আমার মনে জাগে নাই—একথা স্পষ্ট মনে আছে”।

“৯ বৎসর বয়সে ইংলণ্ডের উত্তর-উপকূলে অবস্থান করি। এখানে কৃষকের মেয়েদের গরু চরাইতে সাহায্য করি। এই সমস্ত মেয়েরা সাধারণতঃ যৌনবিষয়ে আলোচনা করিত, কিন্তু আমার মনে কোন লালসাই উদিত হইত না। ইহার কিছুদিন পরে আমার একটি দূরসম্পৰ্কীয়া ভগ্নীর প্রেমে পড়ি, কিন্তু ভাল লাগা ছাড়া আর কোনও ভাবের উদয় হয় না”। 

“১৩ বৎসর বয়সে প্রথম স্বপ্নদোষ হয়। ইহার পরে হস্তমৈথুনে প্রবৃত্ত হই। প্রথমত স্বপ্নের সুখানুভূতি জাগ্ৰতবস্থায় লাভ করিতে পারি কিনা, এই কৌতূহলবশেই উহা করি। ইহার পরে ঘন ঘন স্বপ্নদোষও হইতে থাকে।”

এবার এদেশের কয়েকটি বিবৃতিকারীর উদাহরণ দিতেছি। এরূপ অসংখ্য বিবৃতি পাওয়া যাইতেছে।

৮। বিবৃতিকারীর বয়স ৩২ বৎসর, পেশা স্কুল মাষ্টারী। লিখিয়াছেন :

“যৌনবিষয়ে কৈশোরে আমার কৌতূহল জাগে। সমবয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলার মধ্যে দিয়া উহা জাগ্রত হয়। সমবয়সীদের সাথে রতিক্রীড়ায় প্রবৃত্ত হওয়াই প্রশস্ত ছিল”।

“সাধারণতঃ ষণ্ডা নামধারী কামুকগণের গল্প শুনিয়া বা কোকশাস্ত্র, লজ্জতন্নেছা ইত্যাদি বই পড়িয়া যৌনবিষয়ে জ্ঞান হয়। আমি কতিপয় আত্মীয়ের সন্তান-সন্ততিকে তাহাদের সমবয়সী বিপবীতলিঙ্গের কাছে বলিতে শুনিয়াছি—গত রাত্রে মার সঙ্গে বাবা কি যেন করেছেন-আয় আমরাও ঐরূপ করি”। (বয়স্ক ছেলেমেয়েকে পিতামাতার বিছানায় বা কাছে রাখার কুফল।)

“পিতামাতা বা আত্মীয়জনের নিকট হইতে সাহায্য পাইবার কোনও উপায় ছিল না। তবে সমবয়সীরা পুস্তকাদি সংগ্রহ করিয়া দিত এবং রতিক্রীড়ার সুযোগ করিয়া দিত। ১৪-১৫ বৎসর বয়সে যৌনবোধ জাগিয়াছিল”।

“নিতান্ত বাল্যকালে আমার যে সকল খেলার সঙ্গিনী ছিল তার মধ্যে একটি মেয়ে আমার কাছে থাকিত। সে আমাকে বুকের উপর উঠাইয়া লইয়া অঙ্গে অঙ্গে স্পর্শ করাইত। অপর একটি অনবরত তাহার অঙ্গে আমাকে আঙ্গুল প্রবেশ করাইতে বলিত। আর একটি মেয়ে আমার অঙ্গ লইয়া খেলা করিত ও তাহার অঙ্গে হাত বুলাইতে প্ররোচিত করিত। কয়েকটি বিবাহিত ও কুমারী যুবতী প্রায়ই আমাকে বুকে জড়াইয়া ধরিত ও হুড়াহুড়ি করিত। তখন আমি ইহার কারণ বুঝিতাম না”। (অজ্ঞানী ছেলেকে লইয়া মেয়েদের বা মেয়েকে লইয়া ছেলেদের এইরূপ আংশিক কামক্রীড়া প্রায়ই হইয়া থাকে। পাত্র বা পাত্রী কি করা হইতেছে বুঝে না, কিন্তু যাহারা ঐরূপ করে তাহারা খানিকটা তৃপ্তি পায়।-গ্রন্থকার।)

“সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে পরে খেলাধূলা করিতাম। ইহারা আমার বৌ সাজিত ও নিভৃতে আমাকে তাহাদের সহিত স্বামী-স্ত্রীর মত ব্যবহার করিতে হইত। এই খেলার সঙ্গিনীরা কৈশোরে কামক্রীড়ার পাত্রী হইত। মিলনের প্রক্রিয়া সমবয়সী বন্ধুদের নিকট শুনিয়া শিখিয়াছিলাম। এ পর্যন্ত দুইবারের বেশী স্বয়ংমৈথুন করি নাই। উহা হস্ত দ্বারা সাধিত হয়”। (ইনি অন্য প্রকার স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক যৌনসংসর্গের সুযোগ পাইয়াছিলেন বলিয়াই এদিকে ততদূর অগ্ৰসর হন নাই।—গ্রন্থকার।)

“স্বপ্নদোষ আরম্ভ হইবার পূর্বে আমার স্বাভাবিক যৌনবাসনা ক্ষীণ ছিল। ক্ষীণতার কারণ যৌনবোধের উন্মেষ না হওয়াই বলিয়া মনে হয়। মেয়েদের বুক এবং মুখ দেখিলেই উত্তেজনা আসিত এবং সে উত্তেজনা সাময়িকভাবে দেখা দিত। পরে আপনিই প্রশমিত হইত। উক্ত বয়সে অনুত্তেজিত অবস্থায় কুচিন্তা মনে আসিত না। ১৪-১৫ বৎসর বয়সে একটি বালিকাকে উপলক্ষ্য করিয়া ক্ষীণভাবে যৌন-আকর্ষণ অনুভব করি। উহার পরে ১০-১২ বৎসর বয়সের একটি বালকের প্রতি আকৃষ্ট হই। সে আমার কাছে শয়ন করিত এবং স্বেচ্ছায় আমার অঙ্গ ধরিয়া টানিত এবং সমমৈথুনে প্রবৃত্ত করাইত”।

“বিবাহের পূর্বে অশ্লীল ছবি দেখিতে ও অশ্লীল গান শুনিতে ভালই লাগিত। বর্তমানে সে রুচি নাই”।

“কৈশোরে একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ভালবাসা আদান-প্রদান হয়। ইহা শেষে মিলন পর্যন্ত পৌছে। মেয়েটি আমাদের বাড়ীতে পালিতা হিসাবে আসে। একই সঙ্গে শয়ন করিতাম ও সংসারের খুঁটিনাটি কাজও এক সঙ্গে করিতাম। যখন সে ১১-১২ বৎসর বয়সে পদার্পণ করে তখন তাহাকে মিলনে রাজী করি। তখন সে পৃথক বিছানায় থাকিত, কিন্তু নির্দেশ মত আমার কাছে আসিত”।

“ ১৩-১৪ বৎসর বয়সে আমার স্বপ্নদোষ আরম্ভ হয়। তখন অস্বাভাবিক আতঙ্ক উপস্থিত হয়। বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত খুবই হয়। বিবাহের পরে কদাচিং হয়। উহাতে পরিচিত ও অপরিচিত উভয় প্রকার ব্যক্তিই দেখিতাম ও দেখি। দুইটি কারণ লক্ষ্য করিয়াছি-যৌনবিষয়ে চিন্তা; অত্যন্ত গুরুপাক খাদ্য গ্রহণ। প্রায় ২৫ জনের সহিত সকর্মকভাবে সমমৈথুন ঘটিয়াছে। ইহার পরিমাণ অত্যধিক ছিল। ২৪ বৎসরে আমার বিবাহ হয়। স্ত্রীর বয়স তখন ১৩ বৎসর। বিবাহিত জীবন সুখের”।

৯। বিবৃতিকারীর বয়স ২২ বৎসর। কলেজের ছাত্র-অবিবাহিত। ইনি লিখিয়াছেন : শৈশবে ও কৈশোরে পল্লীগ্রামে বহুপ্রচলিত কতকগুলি অশ্লীল গালি শুনিয়া এবং বয়স্ক বালকদের কাছে শুনিয়া যৌনবিষয়ে অস্পষ্ট জ্ঞান হয়। নরনারীতে মিলন হয় বা হইতে পারে তাহা জানা ছিল। কিন্তু বিবাহ দ্বারা যে বৈধ হইতে পারে, তাহা জানা ছিল না। যৌনমিলন মাত্রই অবৈধ, সুতরাং সহবাস হইলে লোকচক্ষুর অগোচরে অনুষ্ঠিত হইবে, এই ছিল আমার ধারণা। আমি মনে করিতাম স্ত্রীর প্রয়োজন শুধু গৃহকাৰ্য নিষ্পন্ন ও পুত্রকন্যা প্রতিপালন করিবার জন্য—যৌনমিলনের মত একটা জঘন্য (!) কাজ কোন অবস্থায়ও বৈধ হইতে পারে তাহা ছিল আমার ধারণার অতীত—আমার একাদশ কি দ্বাদশ বর্ষ বয়ঃক্রম কাল পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না আমার এক সাথী আমাকে ভাল করিয়া বুঝাইয়া দেয় যে, রাত্রে স্বামীস্ত্রীতে প্রতিদিনই মিলন হয়। পিতামাতার একদিনের ব্যবহারে আমার মনেও এরূপ একটি ধারণা জন্মিয়াছিল, কিন্তু আমি আমার পিতামাতার এইরূপ ব্যবহারকে বৈধ মনে করিতে পারি নাই। তাহারা যদিও তাহা করেন তাহা অবৈধভাবেই করেন এইরূপ ছিল আমার ধারণা। বিবাহদ্বারা যৌনমিলন বৈধ হয়, এই কথা সাথী বুঝাইয়া দিলে পরে আমারও বিবাহ করিবার আগ্রহ জন্মে”।

“তিন বৎসর বয়স হইতে ৫-৬ বৎসর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়ে হওয়া সম্বন্ধে ধারণা ছিল যে, ছেলেমেয়েরা আকাশ হইতে পড়ে বা শিশুদিগকে পার্শ্ববর্তী কোনও বাড়ী হইতে আনা হয়। পাঁচ-ছয় বৎসর বয়সের পর বয়স্ক বালকদের কাছে শুনিয়া এবং গরু-ছাগলাদির প্রসব দেখিয়া সঠিক ধারণা করিতে পারিয়াছিলাম, কিন্তু পেটে মানুষ সৃষ্টি হইতে যে যৌনমিলনের আবশ্যক হয় তাহা বুঝি ১১-১২ বৎসর বয়সে সঙ্গীদের কাছে শুনিয়া। হাঁসমোরগের যৌনমিলনকে ঝগড়া মনে করিতাম। গরু-ছাগলের মিলনকে উপভোগ্য তামাশাই মনে করিতাম। আর মনে করিতাম, স্ত্রীলোক বয়স্ক হইলে তাহার পেটে আপনা-আপনিই মানুষ সৃষ্টি হয়”।

“যৌনবিষয়ে আমার কৌতূহল কোন বয়সে জাগে এবং কিরূপে তাহা মনে নাই। জ্ঞান হয় বাল্যকালে সহচরদের কাছে শুনিয়া। যৌনবিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করি প্রথম ১৪ বৎসর বয়সে। এই জাতীয় প্রথম পুস্তকের নাম ভুলিয়া গিয়াছি-বোধহয়, উহা বেহেশতের সোপান’-প্রণেতার নাম মনে নাই। পুস্তকে অন্যান্য ধর্মীয় কথার সাথে দম্পতির রতিজীবন সম্বন্ধেও অনেক গোপনীয় কথা ছিল। সে সকল কথার অনেকগুলিই অবৈজ্ঞানিক। এই সময়ে ‘যৌনবিজ্ঞানে’র প্রথম সংস্করণও হাতে পড়ে এবং তাহার অংশ বিশেষ পাঠ করি। সবটা ভাল করিয়া পড়িবার সুযোগ পাই নাই। ধাতুদৌর্বল্যের বিজ্ঞাপনাদি পড়িয়াও যৌনবিষয়ে অনেক জ্ঞান বা অপজ্ঞান হয়”।

 “যৌনবিষয়ে আলোচনা গোপনীয়, এই বোধ অল্প বয়স হইতেই ছিল। তাই এ বিষয়ে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের কাছে কোনও প্রশ্ন করি নাই। তাহারাও স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া আমার কৌতূহল নিবারণ করেন নাই। বয়স্ক সঙ্গীরা শুধু কথার সাহায্যেই আমার কৌতূহল নিবারণ করিত। তাহাদের কথাগুলির অনেকই ছিল ভ্রান্ত”।

“যৌনবিষয়ে জনসমাজে বিস্তর ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। চতুর্থ সংস্করণের প্রশ্নমালা উত্তরদাতা (২২ নং প্রশ্নের উত্তরে-গ্রন্থকার) যে সকল ভ্রান্ত ধারণার তালিকা দিয়াছেন, তাহা ছাড়াও কতকগুলি অতিরিক্ত ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যথা :

“(ক) বার বিশেষে সহবাসে সন্তান ভাল বা মন্দ হয় অর্থাৎ শুক্র, রবি, সোম ও বৃহস্পতিবার রাত্রির সহবাসে সন্তান সদগুণান্বিত এবং অন্যান্য বার রাত্রির সহবাসে অসগুণান্বিত হয়। (খ) সহবাসে স্ত্রী সকর্মক ভূমিকা গ্রহণ করিলে, সন্তান মেয়ে হইলে পুরুষ-প্রকৃতির হয়। (গ) শুক্লপক্ষের ও কৃষ্ণপক্ষের সহবাসজাত সন্তান যথাক্রমে ফর্সা ও কাল হয়। (ঘ) অমাবস্যার রাত্রির সহবাসজাত সন্তান অন্ধ ও বিকলাঙ্গ হয়। (ঙ) প্রবাসযাত্রার পূর্ব রাত্রিতে সহবাস করা দুষণীয়। (চ) স্ত্রীর যৌন-অঙ্গে দৃষ্টিপাত করিলে দৃষ্টি-ক্ষীণতা জন্মে। (ছ) যৌন-চিন্তা করিলে মুখে ব্রণ হয়। (জ) কামনা কলুষিত যাহার মন, তাহারই স্বপ্নদোষ হয়। (ঝ) দশবার স্ত্রী-সহবাসে যত শক্তি ক্ষয় হয়, একবার স্বপ্নদোষে তত শক্তি ক্ষয় হয়”।

“কোন বয়সে প্রথম আমার যৌনবোধ জাগে তাহা সঠিক মনে করিতে পারিতেছি না। তবে ৮ হইতে ১০ বৎসর বয়সের মধ্যে হইবে কোনও সন্দেহ নাই। একদিন আমা হইতে বৎসর খানেকের ছোট এক সাথীর সঙ্গে খেলিতে খেলিতে সমমৈথুমের প্রবৃতি জাগে এবং সাথীকে প্রস্তাব জানাই। বলা মাত্রই সে রাজী হয়। নির্জনে পরস্পরের দেহভোগের চেষ্টা চলে। সার্থক ভোগ কোন দিন না হইলেও চেষ্টা বরাবরই চলিত। তাহাতে আনন্দ বোধ হইত। প্রথম দুই-তিন দিন করার পরে একজন অভিভাবক দেখিয়া ফেলেন ও শাস্তি দেন; কিন্তু তাহা বন্ধ হয় না। অনেক সময়ে ৪-৫ জন ছেলে মিলিয়াও করিতাম। অন্যান্য সকলেই ছিল আমা হইতে ২-১ বৎসরের ছোট, কিন্তু প্রস্তাব করা মাত্র কাহারও বিষয়টা বুঝিতে সামান্যও দেরি হয় নাই। এরূপ কতদিন চলিয়াছিল মনে নাই। সমমৈথুনের পূর্ব-অভিজ্ঞতা আমার বা আমার সঙ্গীদের কাহারও ছিল না। আমার মনে প্রবৃত্তিটা জাগে অতি স্বাভাবিক ভাবে। পল্লীগ্রামের প্রচলিত অশ্লীল গালির প্রভাব বোধ হয় থাকিয়া থাকিবে। ঐ সময়েই আমা হইতে ২-১ বৎসরের বড় দুইটি ছেলের সহিতও তাহা হইয়াছিল। দুই জনের মধ্যে একজন আমার দেহ জীবনে একবার মাত্র উপভোগ করিতে পারিয়াছিল—উপভোগ বলিতে পারি না—চেষ্টা বলিতে পারি। অন্য ছেলেটি ও আমি বিভিন্ন সময়ে মৈথুন (অসার্থক) করিতাম। ১৪ বৎসর বয়সের সময়ও এই বালকটির সহিত সংসর্গ হইত।

১০-১২ বৎসর বয়সের সময়ে একটি ৭-৮ বৎসরের মেয়ের সহিত সংসর্গ করিবার অত্যন্ত বাসনা জাগে। একদিন মেয়েটি রাজী হয়, কিন্তু ভোগ সার্থক হয় নাই-বোধ হয় অপরিণত অঙ্গের দরুন। আমার ১৪ বৎসর বয়সের সময়ে অন্য একটি ৮-১০ বৎসরের মেয়ের সহিত মিলিবার আগ্রহ হয়, কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই রাজী হয় নাই। এই সময়ে আমার বাড়ীর এক চাকর আমার দেহ উপভোগ করে। অনেক দিনই ঐরূপ করে, কারণ তাহার সহিতই রাত্রে এইতে হইত। তাহার ব্যবহার আমার ভাল লাগিত না। তাহাকে মারিয়া ফেলিবার ইচ্ছা হইত। সে ছিল ২২-২৪ বৎসরের অবিবাহিত যুবক। চাকরটি আমাদের ছাগীর সহিত মৈথুন করিতে গিয়া ধরা পড়ে”। (দাসদাসী, চাকর-চাকরাণীর সঙ্গে এক বিছানায় ছেলেমেয়ের শুইতে দেওয়া বিপজ্জনক—এ কথা আমরা পূর্বেই বলিয়াছি–গ্রন্থকার।)

“১৩-১৪ বৎসর বয়সের সময় জলে নামিয়া প্রায়ই একটি মেয়ের অঙ্গে হাত দিতাম। সে গালি দিত। কিন্তু আমি আগে জল হইতে না উঠিলে সে উঠিত না, আর আমি জলে নামিলেই সেও নামিত। সে যে ঐ কার্যে পুলকানুভব করিত তাহা না বলিলেও চলে।”

“আমি হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত হই ১৪ বৎসর বয়সে। সদ্ভোগের অন্য কোনও উপায় পাই নাই বলিয়াই-ঐরূপ হই। প্রতিদিন রাত্রে শুইবার আগে হাতে তৈল লইয়া উহা করিতাম। কতদিন করিয়াছিলাম তাহা মনে নাই, তবে একমাস কালের বেশী নয়। প্রথম প্রথম ভালই লাগিত। কিন্তু কিছুদিন এইরূপে বীর্যপাত করিবার পরে উহার পর মূলাধারের ভিতর দিকে বেদনা অনুভব করি। সুতরাং পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হই। দুইবারের বেশী কোনও দিন তাহা করি নাই। ইহার পরে স্বপ্নদোষ হইতে থাকে।”

১০। বিবৃতিকারী ম্যাট্রিক পাস-লিখিবার অভ্যাস আছে। বয়স ২২ বংসব। অবিবাহিত। ইনি লিখেন :

 “শৈশবে এবং কৈশোরে যৌন-ব্যাপার সম্বন্ধে আমার ধারণা খুব অস্পষ্ট ছিল। সমবয়স্কদের নিকট হইতে এ বিষয়ে খুব পরিমিত জ্ঞান জন্মে। তখন বিষয়টিকে গোপনীয়, অসভ্য জানিতাম, তবে স্ত্রী-পুরুষের গোপন সম্বন্ধের বিষয় এবং বড়দের গোপনাঙ্গ সমূহের বিষয় জানিবার জন্য মনে মাঝে মাঝে একটা স্বাভাবিক কৌতূহল বা অনুসন্ধিৎসা জন্মিত। সন্তান জন্মের কারণ সম্বন্ধে ঐ সময় কোনও স্পষ্ট জ্ঞান ছিল না। তবে এটুকু তখন জানিতাম যে, বিবাহই সন্তান জন্মের কারণ”।

“যৌন-বিষয়ে আমার প্রথম কৌতূহল জন্মে ১২ বৎসর বয়সে। আমার কনিষ্ঠ মাতুলকে দৈবাৎ ভাড়াটিয়াদের পরিণত বয়স্কা একটি মেয়েকে আলিঙ্গনাবদ্ধভাবে সিড়িতে দাড়াইয়া চুম্বন করিতে দেখিয়া। অনুরূপ ঘটনা এই প্রথম আমার চোখে পড়ে এবং আমাকে অতি নিকটে দেখিয়া তাহাদের উভয়ের মনে যে একটা সলজ্জভাব জাগে তাহা অনুভব করি। এই সময় হইতে মেয়েটি (১৫-১৬) আমাকে খুব তোয়াজ করিত, পাছে কাহাকেও বলিয়া দিই। এ বিষয়ে আমার কৌতূহল নিবৃত্তি করিবার মত তাহার নিকট হইতে কোনও উত্তর পাই নাই, তবে মামার এবং অন্যান্যের অজ্ঞাতে নির্জনে না চাহিতেই মাঝে মাঝে তাহার চুম্বন লাভের সুযোগ হইত”।

“যৌনবিষয়ে গুরুজনবর্গের নিকট জিজ্ঞাসা করিতে সাহস হয় নাই। তাহারা আপনা হইতে আমার কৌতূহল নিবৃত্তি করিবার কোনও চেষ্টা করেন নাই। সমবয়স্কদের নিকট হইতে বুঝিতাম, এটা অসভ্য। গুরুজনের হাবভাবে বুঝিতাম, ইহা গোপনীয় এবং খারাপ, জননী বিশেষ লক্ষ্য রাখিতেন, যাহাতে সমবয়স্ক ছেলেমেয়েদের পাল্লায় পড়িয়া কিছু না শিখিতে পারি”।

 “যৌনবোধ প্রথম ১৩ বৎসর বয়সে জাগে। ফলে, আমার যৌন-আচরণে প্রধানত নারীর প্রতি আকর্ষণের ভাব জাগে। ১৪ বৎসর বয়সে প্রথম নিম্নতলস্থ ভাড়াটিয়াদের একটি ১৪ বৎসর বয়স্ক মেয়ের প্রতি ভালবাসার আকর্ষণ জাগে। এই আকর্ষণ প্রতিদানসূচক। ইহা পরে প্রেমের পর্যায়ে উঠে। ১৫ বৎসর বয়সে আত্মীয় একটি ১৩ বৎসর বয়স্ক মেয়ের প্রতি পারস্পরিক প্রেমাকর্ষণ জন্মে। মেয়েটির সহিত প্রেমপত্রের আদান-প্রদান হইত”।

“১৭ বৎসর বয়সে একটি ১৯ বৎসর বয়স্কা বিবাহিতার প্রতি বিনিময়ে যৌনাকর্ষণ জাগে। সে চন্দননগরে তাহার পিসিমার বাড়ী থাকিত। আমি সেখানে গিয়া কিছুদিন ছিলাম। নিভৃতে প্রেমালাপাদি হইত। ১৮ বৎসর বয়সে পুরীতে ‘রামচন্দ্র গোয়েঙ্কার ধর্মশালায়’ থাকাকালীন মেদিনীপুর হইতে আগত একটি ১৬ বৎসর বয়স্কা মেয়ের প্রতি যৌনাকর্ষণ জন্মে। তাহার সহিত বেশ আলাপ হইত কিন্তু নিভৃতে কখনও পাই নাই”।

“অতীত জীবনে অনেকেরই এইরূপ অযাচিত ভালবাসা লাভ করিয়াছি। কারণ, চিরদিনই আমি সদালাপী, উদারহৃদয়, দরদী, দৃঢ়চেতা এবং প্রতিভাবান। তাহা ছাড়া পূর্বে অর্থাৎ ১৮ বৎসর বয়স পর্যন্ত আমি খুব সুদর্শন ছিলাম”।

(বিবৃতিকারী গ্রন্থকারের সহিত পরিচিত। তাহার কথা সত্য বলিয়া গ্রন্থকারের বিশ্বাস। কুমারী ও বিবাহিত মেয়েরাও সুদর্শন ও মিষ্টভাষী ছেলেদের প্রতি যৌনাকর্ষণ অনুভব করে, এবং প্রতিদান ছাড়া প্রেমনিবেদনও করে সুযোগ পাইলে, তাহা ইহার জীবন হইতে বুঝা যায়।)

“বাল্যকালে চিমটি কাটা সুড়সুড়ি-দেওয়া, আলিঙ্গন জড়াজড়ি, হুড়াহুড়ি প্রভৃতি বালসুলভ যৌনক্রীড়া সমবয়স্ক ছেলেমেয়েদের সহিত করিতাম”।

“বাল্যে ১০ বৎসর বয়সে এক প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন ধনীর গৃহে দাদুর সহিত প্রায়ই যাতায়াত করিতাম। বৈকালেই সাধারণত যাইতাম। তাহাদের বাড়ীর প্রকাণ্ড ছাদে ‘চোর চোর’ খেলা হইত। তখন দেখিতে খুব সুন্দর ছিলাম। ঐ বাড়ীরই একটি ১৮ বৎসর বয়স্কা অবিবাহিতা যুবতী আমাকে খুব আদর করিত। সে খেলার সময় বুড়ী হইত এবং তাহার কথামত সকলে আমাকেই বারে বারে ‘চোর’ করিত। ইহাতে সে খুব আনন্দিত হইত। সে পাঁচিলের বিটের উপর বসিয়া আমার চোখ টিপিয়া ধরিত। এই সময় সে আমার বুকের উপর তাহার উন্নত বুকের চাপ দিত এবং উভয় ঊরুর মাঝে আমাকে আকর্ষণ করিয়া রাধিত। ইহা ব্যতীত আমার গালে সজোরে টিপিয়া দিত। তাহার সঙ্গে ‘লাগিলে’ কাপড়ের উপর হইতে আমাকে অঙ্গ চাপিয়া ধরিয়া অঙ্গুলী দ্বারা কাটিয়া দিবার ভয় দেখাইত। রাত্রে এক একদিন তাহাদের বাড়ীতে থাকিতাম। কারণ, আমাদের নিজের বাড়ী হইতে সে বাড়ী কিছু ভিন্ন ছিল না বলিলেই চলে। রাত্রে আমার পাশে শুইয়া গল্প বলিত এবং নিষ্প্রদীপ ঘরে আমাকে বুকে জড়াইয়া শুইয়া থাকিত। অনেক দিন তাহার উন্মুক্ত বক্ষের প্রবল চাপে জাগিয়া উঠিতাম। অনেক সময়ে আমার একখানি পা তাহার উভয় ঊরুর মধ্যে বালিশের মত চাপিয়া শুইত। তখন অবশ্য এই সকল কার্য নিঃসন্দেহে আদর বলিয়াই ভাবতাম”।

“কৈশোরে ১২ বৎসর বয়সকালে আমাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়ার ১৬ বৎসর বয়স্ক একটি মেয়ের সহিত আমার মামার প্রণয় ছিল (এ কথা পূর্বেই বলিয়াছি)। সে আমার নিকট ধরা পড়িয়া ঘুষ স্বরূপ চুম্বনাদি করিত তাহা পূর্বেই উল্লেখ করিয়াছি। রাত্রে আমাদের ঘরে মা এবং আমি পাশাপাশি শুইতাম। মেয়েটা অনেক রাত্র পর্যন্ত মার এবং আমার মাথার নিকট বসিয়া মার নিকট হইতে গল্প শুনিত। এই সময়ে আমার হাতখানি লইয়া খেলা করিত—কোলে এবং পরে বুকে চাপিয়া ধরিত। আমার আপত্তি না পাইয়া ক্রমশ আমার হাতখানি ধরিয়া ঊরুতে এবং স্তনে বুলাইত। সে নীচে যাইবার পূর্বে আমি ঘুমাইয়া পড়িতাম। একদিন সে কাপড়ের ভিতর দিয়া বক্ষে এবং গোপনাঙ্গে আমার হাত বুলায়”।

“সর্বপ্রথম অযাচিতভাবে এক ভদ্রলোক মাঠে বসা অবস্থায় আমাকে হস্তমৈথুন শিখান। তাহার পরে ঐ অভ্যাস কিছু কিছু হয়, এবং এখনও আছে। ১৭ বৎসর বয়সে প্রথম স্বপ্নদোষ আরম্ভ হয়। পরিমাণ সপ্তাহে গড়ে একদিন। অপরিচিতা এবং পরিচিতদের স্বপ্ন দেখি এবং দেখিয়াছি। ১৫ বৎসর বয়সে আমার প্রথম নারীসংসর্গ হয়। ঘটনার পাত্রী আমার দুরসম্পর্কীয়া ভগ্নী। এক বাড়ীতে বেড়াইতে গিয়া ওখানে অপর একটি মেয়ের উদ্যোগে ইহার সহিত উপগত হই। তারপর আমাদের মধ্যে ভালবাসা জন্মে। ইহার পর বহু নারী ও বিশেষ করিয়া এক প্রণয়িনীর সংসর্গ লাভ করিয়া আসিতেছি। শেষোক্ত মেয়েটির সহিত লোকাচারে বিবাহ না হইয়া থাকিলেও আমরা বিবাহিত বলিয়াই মনে করি। বিবাহ শুদ্ধ করিয়া লইবার প্রতীক্ষায় আছি”।

১১। বিবৃতিকারী চাকুরীজীবী। বয়স ৪২ বৎসর। বি এ. পাস অতীতে মাষ্টারী করিয়াছেন, বর্তমানে কেরানী। ইনি লিখেন :

“শৈশবে ও কৈশোরে জননেন্দ্রিয়ের উত্থানে মনে একটা অব্যক্ত পুলক লাগিত এবং একটা কৌতূহলের ভাব উঠিত। যৌনকার্যে অজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও মনে শিকার ধরিবার প্রবৃত্তি জাগিত। কেন হইত তাহা বুঝিতাম না”।

“ছেলেমেয়ে হওয়া সম্বন্ধে কোনও ধারণা ছিল না। তবে গুহ্যদ্বার দিয়া ছেলেমেয়ে হয়, আবার কখনও কখনও প্রস্রাবের দ্বার দিয়া হয় বলিয়া অস্পষ্ট ধারণ করিতাম। ১৩ বৎসর বয়স পর্যন্ত আমার স্ত্রীরও সম্বন্ধে কোনও স্পষ্ট ধারণা ছিল না”।

“বাল্যকালে সমবয়স্ক ও সমবয়স্কদের সঙ্গে চিমটি কাটা, সুড়সুড়ি দেওয়া চুম্বন, জড়াজড়ি, হুড়াহুড়ি ইত্যাদি অনেক প্রকারের কৌতুক করিয়াছি। তাহাতে মনে একটা অব্যক্ত প্রফুল্লতার ভাব অনুভব করিতাম। আমরা অনেক গুলি ছেলেমেয়ে একত্র হইলেই ঐরূপ আমোদ-ফুর্তি করিতাম। মনের আনন্দেই তখন ঐরূপ করিতাম। অন্য কোনও কারণ উপলব্ধি করিতাম না। অনেক সময়ে আবার আমরা সকলে মিলিয়া ‘চড়ইভাতি’ খেলিতাম। সেখানে কৃত্রিম রান্নাবান্নার কাজকর্ম হইত। সকলে এক পরিবারের লোকের মত খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা করিতাম। আবার অনেক সময়ে বৌ বৌ’ খেলিতাম। আমরা স্বামী স্ত্রী সাজিতাম। কৃত্রিম উপায়ে বিবাহ হইত ও ঘরকন্না চলিত। মেয়েরাই অগ্রণী হইয়া এই কাজ করিত ও শিখাইত। বয়স্ক মেয়েরাও আসিয়া মাঝে মাঝে উৎসাহ দিত। এইভাবে সমবয়সী মেয়েরা আবার নেকড়া দিয়া বৌ বানাইয়া অন্য বাড়ীর পুতুল ছেলের সঙ্গে বিবাহ দিত। আমরা কয়েকজন কৃত্রিম পাল্কী তৈয়ার করিয়া ঐ বৌ লইয়া যাইতাম। রীতিমত শাদী হইত এবং খাওয়া-দাওয়া, হুড়াহুড়ি, হাসি-তামাশা ও আমোদস্ফূর্তি সকলই চলিত। এখনও গ্রামাঞ্চলে ঐ প্রথা বিদ্যমান আছে। তখন আমরা সকলে একত্রে গভীর রাত্র পর্যন্ত এবং কখন কখন দিনের বেলায় বালসুলভ নানাপ্রকার ক্রীড়া করিতাম। যথা:-ডেফল ডেফল* খেলা, লুকোচুরি, টিপমারা*, থাল মাগনী* ইত্যাদি।

*ত্রিপুরা জেলার খেলা।

“বাল্যে ও কৈশোরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে কয়েক ক্ষেত্রে কামপাত্র হইতে হইয়াছে। একদিন একটি জাহাজের সারেং (৫০ বৎসর) আমাকে ডাকিয়া নিয়া নাস্তা করায় (খাওয়ায়) ও পরে আমার সহিত যৌনক্রিয়া করে। তখনও আমার এ সম্বন্ধে কোনও ধারণা ছিল না”। (জাহাজের নাবিকদের মধ্যে নারীসংসর্গের অভাব হেতু সমমৈথুনের প্রচুর প্রচলন আছে।-গ্রন্থকার।)

 “আর একদিন একজন উপযুক্ত মৌলবী সাহেব (৬০ বৎসর) বজরা নৌকায় মহাসমারোহে আসিয়া আমাদের বাড়ীর ঘাটে থাকেন। সন্ধ্যার সময়ে তিনি আমাকে ও আমার এক চাচাত ভাইকে তাঁহার বজরায় ‘বিষাদসিন্ধু’ বই পড়িয়া শুনাইতে ডাকিয়া লন। অনেক রাত্র হওয়ায় আমরা নৌকায় শুইয়া থাকি। রাত্রে তিনি একে একে আমাদের উভয়ের দ্বারা কামতৃপ্তি আদায় করেন। তিনি সকর্মক ও অকর্মক উভয় ভূমিকাই গ্রহণ করেন। ইহার পর আর একবার আর একটি বালককে ঐরূপ ব্যবহার করায় ধরা পড়িয়া অপদস্ত হন”।

 “আমাদের বাড়ীর পার্শ্বের আর একটি বালক আমার সহিত একদিন ঐরূপ ব্যবহার করে। তখন কিছুই বুঝিতাম না”।

“আমার স্ত্রী বলেন যে, তিনি খুব রূপবতী হওয়ায় অনেক সময়ে তাহার নিকট ও দূর সম্পর্কে আত্মীয়েরা তাহার প্রতি আসক্তির ভাব প্রকাশ করিত। কেহ বা গোপনে প্রেমপত্র দিত, কেহ হঠাৎ তাহার অঙ্গ স্পর্শ করিত। একদিন তাহার এক দূর-সম্পৰ্কীয় মামা হঠাৎ তাহার অঙ্গ স্পর্শ করে। ইহাতে তিনি বিরক্তি বোধ করিতেন না। তবে বিষয়টি পরিষ্কার বুঝিতেও পারিতেন না”।

“প্রথমে আমি পিতামাতাকে সংসর্গ করিতে দেখিয়া বিষয়টি বুঝি। পরে বাড়ীর অপর কয়েকজনকেও অলক্ষ্যে দেখি। ইহার পরই এবিষয়ে খানিকটা ধারণা জন্মে”।

“কয়েকটি কিশোর বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিয়াছি। তাহারা কেহ কেহ এক বিছানায় শুইয়া পিতামাতার যৌনকর্ম দেখিয়াছিল। কেহ কেহ নূতন বর-বধুর মধুরাত্রি যাপন গোপনে লক্ষ্য করে। কেহ কেহ গৃহপালিত পশুর মিলন লক্ষ্য করে। দুইটি চার বৎসরের ছেলে মেয়েকে যৌনক্রিয়া করিতে দেখিয়াছি; তখনও তাহাদের কথা ভাল করিয়া ফুটে নাই। (বোধ হয় পিতামাতার অনুকরণ।) একদিন দুইটি ৬-৭ বৎসরের ছেলেকে সমমৈথুন করিতে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করায় তাহারা কোন উত্তর দেয় নাই বরং ভয়ে একের ঘাড়ে অপরে দোষ চাপাইতে চাহিয়াছিল। নূতন বৌকে অথবা বড় বোনকে যখন বিবাহের পর প্রথম বাসরঘরে দেওয়া হয় তখন অনেক বালক-বালিকাই গোপনে উহাদের লক্ষ্য করে। অনেকে আমার নিকট স্বীকার করিয়াছে। কয়েকটি মেয়ে তাহাদের মায়ের কাছে থাকাকালীন শিখে, কারণ মেয়েরা সচরাচর বয়স্কা না হওয়া পর্যন্ত মায়ের কাছেই থাকে। আমার স্ত্রী তাহার চাচীর কাছে থাকাকালীন শিখিয়াছিলেন”।

“১৪ বৎসর বয়সে যৌনবিষয়ে কৌতূহল জাগে। উহা নানা কারণে হয়, যথা :—(ক) পায়খানা ও প্রস্রাবের বেগের সহিত জননেন্দ্রিয়েক উত্থানে। (খ) তৈলমর্দনে। (গ) যৌনকেশ মুণ্ডনের প্রয়াস। (ঘ) জননেন্দ্রিয়ের ক্ষত চুলকাইতে হস্ত ব্যবহারে। এই ভাবেই হস্তমৈথুন আরম্ভ হয়। (৬) স্বপ্নদোষ হওয়ায়। চ) গাভী দোহন কালীন দুধে ভরা সটান বাঁটগুলিতে হাত বুলাইলে উত্তেজনা বোধ করি। (ছ) পশুপক্ষীয় সংযোগ লক্ষ্য করায়। (জ) নভেল নাটক পড়িয়া। যথা –আনোয়ারা, মনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, লায়লী-মজনু, শিরী ফরহাদ, ইউসুফ-জোলেখা, প্রেমের পথে, রামায়ণ, মহাভারত, লজ্জতন্নেছা, স্বামী-স্ত্রী, প্রেমপত্র, মহীউদ্দীন ও শোভনা, রোমিওজুলিয়েট, আকর্ষণ, রিক্তা ইত্যাদি। (ঝ) মাতা-পিতার মিলন দেখিয়া। (ঞ) বয়স্কদের মুখে যৌনবিষয়ক কথা শ্রবণ করিয়া। (ট) বয়স্ক মেয়েদের যৌনপ্রদেশ লক্ষ্য করিয়া। (ঠ) গোপনে বয়স্কদের যৌনক্রিয়া দেখিয়া : (ড) বিদেশ জায়গায় থাকাকালীন বিবাহিতা ও অবিবাহিত মেয়েরা আমাকে সুন্দর দেখিয়া ভালবাসিয়া প্রলুব্ধ করায়। (ঢ) নোয়াখালি ও চট্টগ্রামের মুন্সী মাস্টার ও জাহাজের কর্মচারীদের সমমৈথুন দর্শন করিয়া। (ণ) অশ্লীল গান বাজনা শুনিয়া ও থিয়েটার বায়স্কোপ দেখিয়া।

(বিবৃতিকারী বাল্যে ও কৈশোরে উত্তেজনা জাগিবার কারণগুলি বেশ ভালভাবে বিশ্লেষণ করিয়াছেন। ইহা তাহার নিজের জীবনের কথা হইলেও অনেকের বেলায়ই এ সব কথা খাটে।-গ্রন্থকার)।

“এই পুস্তক পাঠ করার আগে যৌনতত্ত্ব সম্বন্ধে প্রকৃত জ্ঞান ছিল না বলিলেই হয়। বন্ধু-বান্ধবদেরও একই দশা। পুস্তক পাঠ করে নাই এমন অনেক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিয়াছি, যৌনতত্ত্ব সম্বন্ধে তাহারা কিছুই জানে না। যাহা কিছু জানে তাহাও কতকগুলি অলীক উক্তি ও বিবৃতি আহরণ করিয়া—যাহার মূলে কোনও বৈজ্ঞানিক সত্য বা যুক্তি নাই। ঐগুলি নিছক জনশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার জিজ্ঞাসিত বন্ধুদের সংখ্যা প্রায় হাজার (!) হইবে এবং অল্পশিক্ষিত হইতে উচ্চশিক্ষিত পর্যন্ত। সহবাসের জ্ঞানকেই তাঁহারা যৌনজ্ঞান মনে করেন। অনেকে মনে করে গুহ্যদ্বার দিয়া অথবা প্রস্রাবের দ্বার দিয়া সহবাস করা হয় এবং ঐ দুইটির—একটি দিয়াই সন্তানাদি হয়। ১৪ বৎসর বয়স্ক আমার এক জ্যাঠতুতো বোন কিভাবে সহবাস করা হয় তাহা আমার নিকট জানিতে চাহিয়াছিল। আমার স্ত্রীর ১৩ বৎসর বয়সে ঋতু হয়। উহা কি জিনিস তাহা কিছুই বুঝে নাই। সহপাঠিনীরা তাহাকে বুঝাইয়া দেন। আমি যখন বি. এ. পড়ি তখনও জানি নাই যে, মেয়েদের রমণ ও প্রসবপথ ছাড়া অন্য প্রস্রাবের দ্বার আছে। ১২ বৎসর বয়সের একটি মেয়ে সহবাসের অযোগ্য ও অজ্ঞ থাকায় আমার জনৈক বন্ধুকে (তাহার স্বামী) তাহার মুখ দিয়া সহবাস করিতে বলে। স্তনে মুখ লাগানোকে এখনও বহু নারীপুরুষ পাপের কাজ বলিয়া মনে করে। সতীচ্ছদ সম্বন্ধে কোনও ধারণা ছিল না। কেতাবে দেখিয়াছি, মেয়েদেরও খাৎনা আছে। আমি ভাবিম ক্ষুদ্রোষ্ঠের মাথা কাটাকেই খাৎনা বলা হয়। ভগাঙ্কুর নামে যে এক বড় একটা দরকারী জিনিস আছে তাহা আমি কখনও জানিতাম না এবং এই প্রশ্নটি অনেক উচ্চশিক্ষিত বন্ধুবান্ধবকেও জিজ্ঞাসা করিয়াছি। তাহারা অনেকেই উহার কথা জানেন না। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেও শতকরা ৯০ জন লোকই ইহার অস্তিত্ব ও ব্যবহার সম্বন্ধে অজ্ঞ। ১০ মাস ১০ দিন না পুরিলে সন্তান হয় না এই বদ্ধমূল ধারণা এখনও অনেকের আছে। পুরুষের মত মেয়েদেরও যৌনকেশ জন্মিতে পারে, এই ধারণা আমাদের অনেকেই ছিল না। এখন বিশ্বস্তসূত্রে জানিতে পারিয়াছি, অনেক মেয়েই কোনও যন্ত্র ব্যবহার না করিয়া উহা হাতে টানিয়া উঠাইয়া ফেলে, যন্ত্র ব্যবহার কুপ্রথা মনে করে। চিত হইয়া ব্যতীত অন্য কোনও উপায়ে সহবাস করাকে এখনও অনেক মেয়ে অনাচার মনে করিয়া থাকে। মোটাসোটা স্ত্রী-পুরুষের যৌনাঙ্গসমূহ মোটাসোটা হয়, এই ধারণা এখনও প্রচলিত আছে। যৌনক্রিয়ার পর স্নান করাকে অবশ্যকর্তব্য ও গোপনে সমাধ্য মনে করা হয়। সন্তান না হইলে অদৃষ্টে নাই বা খোদাঁ ইচ্ছা করিয়া দেন নাই বলা হয়। দোষ-ত্রুটি আছে বা উহার প্রতিকার সম্ভব-বুঝাইতে গেলে অনেকে ‘খোদার উপর খোদকারী’ বলিয়া উপহাস করে। আমার কনিষ্ঠ ভাইটির একটিমাত্র অণ্ডকোষ হইয়াছে ও এখনও আছে। বয়স ২৬ বৎসর। এই বই পড়িবার আগে সকলের ন্যায় আমিও বলিতাম, খোদা তাহাকে একটি অণ্ডকোষ দিয়াই সৃষ্টি করিয়াছেন। ৪০ বৎসর পরে অন্য আমি এ বিষয়ে নূতন জ্ঞান লাভ করিলাম—অর্থাৎ তাহার অপর অণ্ডকোষটি না নামিয়া শরীরের ভিতরে উপরের দিকে আছে। একটি মেয়ে গর্ভধারণের দুই বৎসর পরে সন্তান প্রসব করিয়াছে বলিয়া প্রকাশ। প্রকৃত গর্ভধারণের সময় ভুল ধরিয়াছে মনে হয়। সারা বৎসর ধরিয়া সহবাস করিলে তবে সন্তান হয়–ইহাই ছিল এক সময়ে আমাদের ধারণা। ত্বকচ্ছেদের উপকারিতা সম্বন্ধে কিছুই জানিতাম না, বরং মনে করিতাম উহা করিলে অঙ্গটি খামকা ছোট হইয়া যায়। জরায়ু বলিয়া কোনও পদার্থ আছে বলিয়া কখনও কল্পনা করি নাই বরং মনে করিতাম, সন্তান সমস্ত তলপেটে ঘুরিয়া বেড়ায়। পেটের ডানদিকে পুত্র ও বামদিকে কন্যা থাকে এবং অনেক পাপকর্ম করিলে কন্যা হয়, এই কুসংস্কার এখনও প্রচলিত আছে। খোদার হুকুমে যমজ সন্তান হয়, এই অন্ধবিশ্বাস এখনও সমাজে শিকড় গাড়িয়া আছে। অণ্ডকোষ ছাড়া অন্য কোনওখানে শুক্ৰ থাকিতে পারে এ কথা কখনও ভাবি নাই। শুক্রকোষের কথা জানা ছিল না। শুক্র বোতলে রাখিয়া লক্ষ্য করিয়াছি সন্তান হয় কিনা। পশুর সহিত সঙ্গম করিলে সন্তান হইতে পারে, ইহাও বদ্ধমূল ধারণা ছিল। এখন আপনার বই পড়িয়া উহা দূরীভূত হইয়াছে। কোন্ পথে সহবাস করিতে হয় তাহা একটি চাকরাণীর নিকট হইতে ১৬ বৎসর বয়সে শিক্ষা করি। যৌনব্যাধি কোথা হইতে ও কিভাবে সংক্রামিত হয় তাহা অনেকেই জানে না। পাড়াগাঁয়ে ত মোটেই না। ইহা না জানায় বিপদ বাড়িয়া যায়। কলিকাতায় ১৯৪৬ সনে আমরা ছয়টা বিভিন্ন পরিবার একত্র বাস করিতাম। তন্মধ্যে পাঁচটারই তখন সন্তান হয় নাই। একটি মেয়ে কিছুতেই দিনে তাহার স্বামীকে সহবাস করিতে দিত না। পাপ মনে করিত ও দিনে আমাদের ঐরূপ কার্যকলাপের নিন্দা করিত। আর একটি মেয়ের বয়স ছিল ১৪-১৫ বৎসর, তাহার স্বামীকে সহবাস করিতে দিত না, উপদেশও মানিত না। যৌনবিষয়ে অজ্ঞতা-দম্পতির অশেষ অ-সুখের কারণ হয়।

(বিবৃতিকারী বিচক্ষণতার সহিত যৌন-অজ্ঞতার একটি চিত্র দিয়াছেন। ইহাতে অতিরঞ্জনের লেশমাত্র নাই। -গ্রন্থকার।)।

“পূর্বেই বলিয়াছি, আমার ১৪ বৎসর বয়সে যৌনবোধ জাগে। নানা ভাবে উহার নিবৃত্তি করিতে প্রয়াস পাইয়াছিলাম। স্ত্রীর ১৩ বৎসর বয়সে উহা জাগে। সে সমলিঙ্গের সহিত একত্র শয়নে মাঝে মাঝে স্তনে হস্ত স্পর্শ ইত্যাদির দ্বারা আনন্দ উপভোগ করিত। যৌনবাসনা তখন তীব্রভাবে তাহার মনে জাগে নাই। পশুপক্ষীর মিলন গোপনভাবে লক্ষ্য করিয়া পুলক পাইত। স্বপ্নদোষের পূর্বে আমার যৌনবাসনা তীব্র ছিল, কিন্তু প্রথম ঋতু স্রাবের পূর্বে স্ত্রীর উহা ক্ষীণ ছিল। আমার ক্ষেত্রে তীব্রতার নানা কারণ পূর্বেই বর্ণনা করিয়াছি। স্ত্রীর বেলায় সুন্দর সাজসজ্জায় সজ্জিত স্বামীর কথা চিন্তা করিলেও উহার সহিত কল্পনায় সংযোগের কথা মনে উঠিলে, অন্য প্রকার যৌনক্রীড়াকলাপ দেখিলে, উত্তেজনা এবং প্রস্রাবের বেগ হইত। আমি বিপরীত লিঙ্গ সংসর্গ খুঁজিতাম, না পাইলে আত্মরতি করিতাম। স্ত্রী প্রস্রাব করিলে শান্ত হইত। অনুত্তেজিত অবস্থায়ও আমার কুচিন্তা মনে আসিত”।

“১৪ বৎসর বয়সে সমপাঠিকাদের উপর বিশেষ এক জ্যাঠাত বোনের উপর নজর পড়িত। তখন মক্তবে পুরাতন নিয়মে পড়াশুনা হইত। তারপর জাযগীব (প্রবাসে থাকিয়া পড়িবার প্রথা) থাকিয়া পড়িবার সময়ে ছাত্রীদের সহিত চুম্বন ও স্পর্শন চলিত। ইহার পর আমার ১৬ বৎসর বয়সে বাড়ীর চাকরাণীর (বয়স ১৮ বৎসর) সহিত সংসর্গ হয়। সে নিজে মুখে ভাঙিয়া না বলিলেও আমার ইঙ্গিতে সাড়া দিত। সন্তান হওয়ার ভয়ে সে মাঝে মাঝে বারণ করিত। দেখিতে সে কাল ছিল, তথাপি আমার কাছে ভালই দেখাইত। আমি সুকুমার ছিলাম। ইহার পর আর একটি বিবাহিতা নারী (১৮ বৎসর) খাবারের দোকানে থাকিত। তাহার স্বামী বর্তমান ছিল। অবস্থা খারাপ। আমরা দুই বন্ধু তাহার নিয়মিত গ্রাহক ছিলাম। সে আমাদিগকে রাত্রে নিমন্ত্রণ করিত। আর একটি বিবাহিত মেয়েলোক (৪০ বৎসর) আমার সংস্পর্শে আসে। তাহার স্বামী ছিল। অবস্থা খারাপ। তাহারা আমাদের প্রজা। তাহাদের বাড়ীতে একটি মেয়েলোক আনিয়া রাখার প্রস্তাবে মেয়েলোকটি নিজেই দেহদানে রাজী হয়। আর একটি বিধবা নারী (৪০ বৎসর) আমার নিকট-আত্মীয়ের স্ত্রী ছিল। স্বামীর অসুখের দরুন উহার তৃপ্তিসাধনে অপারগ ছিল। আমার সহিত নিজেই প্রেম করে। উপরের তিনটি নারীই কয়েকটি সন্তানের মাতা। ইহার পরে কলেজে পড়া কালীন দুইটি বালকের সঙ্গে সমকাম হয়। একটির সহিত প্রায় এক বৎসর কাল সংসর্গ চলে। সে সময়ে বিবাহ করিয়াছি। প্রবাসে আত্মতৃপ্তির জন্যই সমকাম হয়। কতক বন্ধুকে দেখিয়াছি, স্ত্রী থাকা সত্বেও সমকাম পছন্দ করে। আমার সেরূপ প্রবৃত্তি ছিল না। আমি দুইবার বিবাহ করিয়াছি। খানিকটা নিস্তেজ ও অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছি।”

মোটের উপর পারিবারিক ও সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষা, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাভেদে যৌনবোধ বিলম্বে অথবা শীঘ্র জাগ্রত হয়। আরও পার্থক্য হয় বয়স ও সুযোগের তারতম্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *