যৌনবোধের বিভিন্নমুখী প্ৰকাশ (১)

স্বয়ংমৈথুন (Auto-eroticism)

হ্যাভলক এলিস Auto-eroticism নামে যে অভিব্যক্তির উল্লেখ করিছেন, আমরা তাহাকে স্বয়ংমৈথুন বলিব। তিনি বলেন, “অপর কাহারও অবর্তমানে বা সমবায় ব্যতিরেকে যৌনবৃত্তি জাগ্রত, উত্তেজিত ও চরিতার্থ করাকে আমি স্বয়ংমৈথন বলিব।”

কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বযংমৈথুনের প্রক্রিয়াগুলি বালক-বালিকারা সহজাত বুদ্ধিবলে আবিষ্কার করিয়া ফেলে, অপরের প্ররোচনা ব্যতিবেকে নিজ হইতেই এই সমস্ত পুলকে ধাবা তাহারা বাহির করিয়া লয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সংসর্গ হইতেই শেখে।

মানুষের মধ্যেই যে স্বয়ংমৈথুন বা উহার প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ তাহা নহে। ইতর প্ৰাণীর মধ্যেও উহার প্রচলন দেখা যায়। অবশ্য বন্য পশু লক্ষ্য করিবার সুযোগ দেয় না। গৃহপালিত পশুর মধ্যে ঘোড়া নিজের পেটের উপর জননেন্দ্রি ঘর্ষণ করিয়া বেতঃস্খলন করে, ষাড় ও পাঠা পাছা উঁচু বা নিচু করিয়া সামনের পায়ের সহায়তাষ বীর্যপাত করে। এমন কি পাঠা নিজের মুখে লিঙ্গ রাখিয়া তৃপ্তি পায়। হরিণ উত্তেজনার মুহূর্তে গাছের গায়ে ঘর্ষণ করিয়া উহা প্রশমিত করে। হাতী পিছনের পা দুখানির মধ্যে চাপিয়া নিবৃত্তি লাভ করে। পুরুষ বানরেরা দস্তুরমত মানুষের মত হস্ত ব্যবহার করিয়া থাকে।

মানুষের মধ্যে সভ্য, অসভ্য, বন্য বা আদিম সকল জাতির সকল স্তরে মধ্যেই স্বয়ংমৈথুন দেখা যায়। অনেক অসভ্য জাতির মধ্যে হস্তমৈথুন সম্বন্ধে কোন লজ্জার ভাব পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয় না। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে আদিম অধিবাসীদের মধ্যে ইহা খোলাখুলিভাবে প্রচলিত ছিল, মেয়েদের মধ্যে ইহা ছাড়া কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ-ব্যবহারের প্রথা ছিল। বলীদ্বীপেও ঐরূপ প্রথা দেখা গিয়াছে। সেখানে মোমের কৃত্রিম লিঙ্গের প্রচলন আছে, বস্তুত পৃথিবীর সর্বত্রই স্বয়ংমৈথুন দেখা যায়। অবশ্য সুসভ্য সমাজে মানুষ স্বাভাবিক যৌনলালসা চরিতাৰ্থতায় নানাভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় বলিয়া উহার প্রকোপ আরও প্রকট। তবে গোপন চর্চা ছাড়া উপায় নাই।

হস্তমৈথুন (Masturbation)

শিশুর যৌনচেতনা দৈহিক ক্রিয়ার বিশিষ্ট রূপ গ্রহণ করে হস্তমৈথুনে। হস্তের সাহায্যে যৌনবৃত্তি জাগ্রত ও পরিতৃপ্ত কবার নাম হস্তমৈথুন। সাধারণভাবে হস্তের সাহায্য যে-কোনও উপায়ে যৌনানন্দলাভ করাকেই হস্তমৈথুন বলা যাইতে পারে।

বালক-বালিকাদের মধ্যে অতি অল্পবয়সেই এই অভ্যাস দেখা দিয়া থাকে। ডাঃ গার্নিয়ার এ বিষয়ে দীর্ঘকাল গবেষণা করিয়া বহু তথ্য লাভ করিয়াছেন। এক বৎসর বয়সের শিশুকেও তিনি হস্তমৈথুন করিতে দেখিয়াছেন। ডাঃ গার্নিয়ারের পরে ডাঃ ফ্রয়েডও এ বিষয়ে গবেষণা করিয়া অনুরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন। তবে তিনি এ কথাও বলিয়াছেন যে, সাধারণত শিশুদের তিন বৎসর বয়সে লিঙ্গোদ্রেক হইয়া থাকে এবং ঐ সময় হইতেই তাহারা ইহা আরম্ভ করে। বেনে গাইও-ও এই মতের সমর্থক।

বালকের পক্ষে ইহাতে হাতের যতটা প্রয়োজনীয়তা আছে, বালিকার পক্ষে ততটা নাই। তবু বালিকা কামাদ্রি, ভগদেশ, ক্ষুদ্রোষ্ঠ ও ভগাঙ্কুর মর্দন করিতে হাতের ব্যবহার করিয়া থাকে। হস্তের সাহায্য ব্যতিরেকেও বালক ও বালিকারা অনেক উপায়ে তৃপ্তিলাভ করিয়া থাকে। বালকদের পক্ষে ছিদ্র করা বালিশ, পাঊরুটি, রবারের টিউব বা অন্য যেকোন প্রকার জিনিসেব ছিদ্রে অঙ্গ প্রবেশ করাইয়া এবং বালিকাদের পক্ষে চেয়ার বা দেরাজের হাতল টেবিলেব কোণ ইত্যাদিতে ভগদেশ ঘর্ষণ করিয়া কিংবা কলা, শশা, বেগুন, কাচের শিশি বা টিউব, মোমবাতি, পেন্সিল ইত্যাদি যে কোন সহজলভ্য জিনিস যোনিপথে বা যোনিমুখে প্রবেশ করাইয়া যৌনতৃপ্তি লাভ করা সাধারণ ব্যাপার।

এতদ্ব্যতীত ঊরুদ্বয়ের ফাঁকে লিঙ্গকে সজোরে চাপিয়া শুক্রঙ্খলন বা উহার চেষ্টা করা বালকদের পক্ষে এবং কেবলমাত্র ঊরুদ্বয়ের ঘর্ষণে তৃপ্তিলাভ করা বালিকাদের পক্ষে অতীব সহজসাধ্য। এইগুলিতে বিশেষ করিয়া হাতেরও কোন প্রয়োজন নাই। যে উপায়েই বালক-বালিকাদের এই জ্ঞানলাভ হউক না কেন এই অভ্যাস তাহাদের মধ্যে একরূপ সার্বজনীন।

ডাঃ ক্যাথারিন ডেভিস পাশ্চাত্য বালিকাদের স্বয়ংমৈথুন-ব্যাপারে বিশেষ গবেষণা করিয়াছেন। তিনি ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে তাঁহার Factors In The Sex Life of Twenty Two Hundred women গ্রন্থে ১২০০ অবিবাহিতা ও ১০০০ বিবাহিতা নারীর লিখিত উত্তর হইতে এই বিষয়ে বিবিধ ও বিচিত্র সংখ্যা তালিকায় নানা তথ্যের সমাবেশ ও তাহাদের সম্বন্ধে মন্তব্য করিয়াছেন। তাহার মধ্যে কতক তথ্য সঙ্কলন করিয়া দিলাম :

(ক) ১২০০ অবিবাহিতার মধ্যে যথাক্রমে বয়স আত্মরতি কখনও করেন নাই, আত্মরতি ত্যাগ করিয়াছেন এবং এখনও যাহারা করিতেছেন তাহার শতকরা হিসাব নিম্নরূপ :-

২০-২৯ বৎসর -৩৬%, ৩৬%, ২৮%
৩০-৩৯ বৎসর -৩৪%, ৩০%, ৩৬%
৪০-৪৯ বৎসর —৩৪%, ২৯%, ৩৭%
৫০-৫৯ বৎসর —৩৯%, ২৯%, ৩২%
৬০-৬৯ বৎসর -৩০%, ৬১%, ৯%

(খ) যে অবিবাহিতারা এখনও করিতেছেন ও যাহারা ছাড়িয়াছেন তাহাদের আরম্ভ করার ও প্রথমবার চরমান লাভের বয়স :-

বয়স এখনও করিতেছেন (শতকরা) ছাড়িয়াছেন
(শতকরা)
প্রথম চরমানন্দ ও তৃপ্তি লাভ–করিতেছেন
(শতকরা)
প্রথম চরমানন্দ ও তৃপ্তি লাভ–ছাড়িয়াছেন
(শতকরা)
৩-১০ বৎসর ৪০ ৪৩ ১২ ১৯
১১-১৫ বৎসর ১৭ ২০ ১৮ ২৫
১৬-২২ বৎসর ১৫ ১৪ ২০ ২১
২৩-২৯ বৎসর ১৮ ১৬ ৩১ ২৪
৩০-৩৯ বৎসর ১৭ ১০
৪০-৪৯ বৎসর

(গ) অভ্যাসের প্রসার :- ১০০০ জন বর্তমানে বিবাহিতার মধ্যে অর্ধেকের কিছু কম (প্রায় ৪০০ জন অর্থাৎ শতকরা ৪০ জন) আত্মরতি করিয়াছেন অথবা করেন। অর্ধেকের কিছু বেশী (প্রায় ৬০০ জন অর্থাৎ শতকরা ৬০ জন) কখনও করেন নাই বলেন।

(ঘ) ঐ শতকরা ৪০ জনের (প্রকৃত সংখ্যা ৩৮১ জনের) ইহা আরম্ভ করার বয়স :-(১) বালিকা বয়সে (In girlhood) অর্থাৎ ৩-১৪ বৎসরের মধ্যে ২২৭ জন (প্রায় ৬৪)। (২) যুবতী বয়সে (In womanhood) অর্থাৎ ১৫-৩৪ বৎসরের মধ্যে মোট ১২৩ জন (প্রায় ৩৩%)। বয়স মনে নাই কিংবা উত্তর দেন নাই মোট ৩১ জন।

উপরোক্ত তথ্যসমূহ ছাড়াও ভাং ক্যাথাবিন ডেভিসের গবেষণায় অন্য যে সব তথ্য প্রকাশ পায় তাহা সংক্ষেপে বিবৃত করিতেছি।

(ঙ) ১২০০ অবিবাহিতার মধ্যে যাহারা আত্মরতি করিয়াছেন বা করিতে ছেন তাহাদের ইহা শিক্ষার সূত্র হইল :-(১) দৈবাৎ আবিষ্কাব; (২) অপর ব্যক্তির কাছে শেখা, (৩) বড় হইয়া স্বেচ্ছায় আরম্ভ করা।

দৈবাৎ আবিষ্কারের হেতু–দৈবাৎ আবিষ্কার করিয়াছেন মোট ২০৯ জন অর্থাৎ শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। তাহাদের আবিষ্কারের হেতু নিম্নরূপ :

১। গোপনাঙ্গে দৈবাৎ চাপ লাগা; ২। চুলকানি অথবা irritation-এর জন্য বাড়ানো বা চুলকানো, ৩। সুড়সুড়ি (Irritation) সম্ভবতঃ কৃমির জন্য, ৪। স্নানের সময় জলেব ধাবা (Spray) লাগা, ৫। কৌতূহলবশতঃ পৰীক্ষা; ৬। বিশেষভাবে চেয়ার অথবা টেবিল প্রভৃতির সম্পর্কে অবস্থান (Position of furniture), ৭। শয্যায় অর্ধজাগ্রত অর্ধনিদ্রিত অবস্থায়; ৮। বৃক্ষে আরোহণ অথবা অবরোহণের সময় ঘর্ষণে, ৯। ছেলেবেলায় পুরুষের হত্যার্পণে, ১০। হাঁটু অথবা পা বসা অথবা শোওয়া অবস্থায় একটির উপর অপরটি বাখা (crossed), ১১। প্রেমিক কর্তৃক আলিঙ্গন প্রভৃতি, ১২। ড়ুশ ব্যবহাবে পুলকলাভ, ১৩। পুস্তক পাঠে, ১৪। ঘোড়ায় অথবা বাই-সিকেলে চড়া।

অপর ব্যক্তির কাছে যাহারা শিখিয়াছেন তাহাদের সংখ্যা মোট ১৫৮ জন। ইহাদের অধিকাংশ অপর মেয়ের কাছ হইতে শিখিয়াছেন। তাহা ছাড়া বড় ভগিনী, সম্পর্কিত ভগিনী, বাড়ীর নাম, ছেলেবয়সের বান্ধবী, ভাই, অপর বালক-বালিকা এবং পুরুষ বন্ধুর কাছ হইতেও কেহ কেহ শিখিয়াছেন।

বড় হইয়া স্বেচ্ছায় আরম্ভ করিয়াছেন মোট ৪৯ জন। ইহাদের অধিকাংশ ইহা অবলম্বন করিয়াছেন পুস্তকপাঠের ফলে। তাহা ছাড়া পরীক্ষাচ্ছলে, স্নায়বিক অস্বস্তি হইতে শান্তিলাভের জন্য, ডাক্তারের পরামর্শে, কামচিন্তা হইতে নিষ্কৃতিলাভের জন্য, বাসনার তৃপ্তির জন্য, কোন বিশেষ পুরুষের প্রতি আকাঙ্খা নিবারণের জন্য এবং সহবাসের পর উত্তেজনায় শান্তিলাভের জন্যও কেহ কেহ ইহা অবলম্বন করিয়াছেন।

(চ) উপরোক্ত অবিবাহিতাদের জবানবন্দীতে মোটামুটিভাবে স্বমেহন করিবার এই কারণসমূহ প্রকাশ পায়—(১) সুখের জন্য, (২) শারীরিক অন্তি নিবারণ, (৩) পুরুষের সহিত ঘনিষ্ঠতা (spooning), নাচ, পাঠ ইত্যাদি, (৪) অদম্য আবেগ ও উত্তেজনাব আকাক্ষা, (৫) কৌতূহল, প্রেমচিন্তা বা মনোবিলাস, স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রভৃতি।

(ছ) ১২০০ অবিবাহিতাদের যাহারা আত্মরতির অভ্যাস ছাড়িয়াছেন, তাহাদের ছাড়িবার কারণ :-(১) কুফলের ভয় (শতকরা ৩৫ জনের), (২) বাসনা কমিয়া যাওয়ায় অনাবশ্যক, (৩) লজ্জা ও ঘৃণা, (৪) উহা মন্দ বলিয়া অনুভব, (৫) উহার পরিবর্তে অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহ ও মনোযোগ, (৬) উত্তেজনার হেতু দূর হওয়া।

(জ) অবিবাহিতাদের মধ্যে ৩০৮ জন এখনও আত্মরতি করিতেছেন। তাহাদের মধ্যে ৬১ জনের মতে ইহার ফল ভাল, ৮৩ জন মনে করেন ইহার ফল মন্দ; ভাল ও মন্দ দুই-ই এ রকম মন্তব্য করেন ১৪ জন, ফলাফল যাহাদের কাছে অস্পষ্ট, তাহারা সংখ্যায় ১২৪ জন। ২৬ জন এ সম্পর্কে কোন জবার দেন নাই।

উপরোক্ত ৩০৮ জনের মধ্যে ১৪৬ জন ইহাকে অনিষ্টকর বলিয়া বিশ্বাস করিতেন। কেহ কেহ আগে মনে করিতেন অনিষ্টকর এখন নয। কাহারও কাহারও মতে—যদি খুব বেশী কিংবা শৈশবে হয় তবে ইহা অনিষ্টকর।

(ঝ) কেন ভাল। ১২০০ অবিবাহিতাদের মধ্যে ৩০৮ জন এখনও করিতেছেন এবং ৬১ জন ইহার ফল ভাল মনে করেন। তাঁহাদের কতকগুলি মন্তব্য :-

১। স্নায়বিক চাঞ্চল্য হইতে নিষ্কৃতি। কতক ক্ষেত্রে, ইহা ছাড়া, কাজে চিত্ত একাগ্র করিবার সমধিক ক্ষমতা, অপরদের (অর্থাৎ অভ্যাসযুক্তদের এবং চরিত্রহীনাদেবগ্রন্থকার) দুর্বলতার প্রতি সমধিক সহানুভূতি ও তাহাদের বেশী বুঝিতে পারা। ২। মানসিক অবসাদ ও হতাশ ভাব দূর হওয়া। ৩। মেজাজ ও স্বাস্থ্যের উন্নতি ও শিরঃপীড়া দূর হইল। ৪। অধিক সন্তোষলাভ। ৫। বদ মেজাজ কমিয়াছে। ৬। ভালবাসিবার ও ভালবাসা পাইবার ইচ্ছা তৃপ্ত করে (satisfies emotional craving)। ৭। ধৈর্য ও ধৈর্য আনিয়াছে। ৮। অপরদের সম্বন্ধে বেশী সহিষ্ণু করিয়াছে। ৯। শক্তিদায়ী ও তাজাকারী (stimulating & refreshing)। ১০। অনিদ্রা দূর হইয়াছে। ১১। যৌন-ব্যাপারে বুঝিবার ক্ষমতা বাড়িয়াছে। ১২। যৌন-উত্তেজনা নিবৃত্তির উত্তম পথ। ১৩। ইহার জন্য বেশী স্বাভাবিক ভাব।

(ঞ) কেন মন্দ। যে ৮৩ জন মনে করেন যে ইহার ফল মন্দ হইয়াছে, তাহাদের কতিপয় মন্তব্য :-

১। আত্মসম্মান হানিকর, আত্মগ্লানি ও অনুতাপ ঘটায়। ২। বিবাহ হইলে (স্বামীর কাছে-গ্রন্থকার) স্বীকার করিতে হইবে, বহু বৎসর যাবৎ এই ভয়। ৩। স্বাভাবিক সহবাস অরুচিকর হইবে এই সন্দেহ। ৪। উন্মত্ততার ও আধ্যাত্মিক শাস্তির ভয়। ৫। গুরুতর দুর্ভাবনা। ৬। ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা। ৭। কাম-চিন্তা বৃদ্ধি। ৮। মনের সতেজভাব নষ্ট করিয়াছে। ৯। দক্ষতার হানি। ১০। মন একাগ্র করার অক্ষমতা। ১১। বৃতিশক্তির হানি। ১২। অস্থিরতা জন্মাইল, অথবা বৃদ্ধি করিল। ১৩। শারীরিক দৌর্বল্যকর। ১৪। মনের অবনতিকর ও সম্ভবত অনিয়মিত ঋতু ঘটাইয়াছে। ১৫। মানসিক শক্তি হ্রাস করিয়াছে, ইহার ফলে সঙ্গম হইয়াছে। ১৬। চরিত্র দুর্বল ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করিয়াছে। ১৭। শারীরিক অবসাদ, বুদ্ধি, সৌন্দর্য জ্ঞান ও বিচার ক্ষমতার (Asthetic and critical sense) হানি ঘটাইয়াছে। ১৮। নার্ভাস ভাব, ধরা পড়িবার বিষম ভয়। ১৯। নৈতিক দুর্বলতা ও শিরঃপীড়া।

(ট) যাঁহারা ইহার ফল ভাল ও মন্দ উভয় প্রকার মনে করেন তাহাদের মন্তব্য :-

১। কখনও কখনও উত্তেজক আবার কখনও শান্তিক ও নিদ্ৰা আনয়নকারী। ২। ক্লান্তিকর, আত্মগ্লানিজনক, কিন্তু অন্তত অতটুকু যৌন-উপভোগ হওয়ায় আনন্দিত। ২। দৌর্বল্য ও অবসাদকর কিন্তু বালিকাদের বুঝিতে, সাহায্য করে। ৪। সংযমের অভাবে আত্মসম্মান হ্রাস করিয়াছে, কিন্তু পাপীদের প্রতি সমধিক সহানুভূতিসম্পন্ন হইয়াছি। ৫। অনিদ্রা ও অস্থিরতা ঘটাইয়াছে, কিন্তু মেয়েদের দুর্বলতা, স্বলন ও পতন-গ্রন্থকার) সমধিক বুঝিতে পারিতেছি (জনৈক M.D. ডাক্তার)। ৬। সংযমে লজ্জাজনক অসাফল্য, কিন্তু শারীরিক আরাম এবং কর্মে মনোযোগের ক্ষমতা বাড়িয়াছে ইত্যাদি।

(ঠ) উপরোক্তদের আত্মরতির ফল সম্বন্ধে এমন কতকগুলি মন্তব্য যেগুলি ভাল বা মন্দ ইহাদের কোন কোঠায় ফেলা যায় না (unclassified):-

১। যৌন-ব্যাপারে আগ্রহ জানাইলে। ২। বুঝিলাম যে আমি কামশীতল নই, কিন্তু অবদমিত মাত্র। ৩। আগে (৩১ বৎসর বয়সের পূর্বে) যৌনআবেগ সম্বন্ধে কিছু বুঝিতাম না, এখন যৌন-উত্তেজনার ব্যাপারে বেশী নাড়া দিতে পারি। ৪। পুরুষেরা আকর্ষণের বস্তু হইয়াছে। ৫। বিবাহের ইচ্ছা জাগিয়াছে। ৬। এখন নারীর সহিত প্রণয় করিতে ভয় হয় (ইনি পারস্পরিক হস্তমৈথুন করিয়াছেন—গ্রন্থকার)। ৭। মানসিক বা নৈতিক ক্ষতি হয় নাই।

(ড) অবিবাহিতাদের মধ্যে যাহারা আত্মরতি ত্যাগ করিয়াছেন (মোট ২৯৫ জন) ইহার ফলাফল সম্পর্কে তাহাদের মতামত -২৫ জন ইহাকে ভাল মনে করেন : ৮৫ জনের মতে ইহা মন্দ; ভাল ও মন্দ দুইই এরূপ মন্তব্য করেন ২ জন, যাহাদের কাছে ইহার ফলাফল অস্পষ্ট তাহারা সংখ্যায় ১০৯ জন এবং ৭৪ জন এ সম্পর্কে নিরুত্তর।

(ঢ) স্বাস্থ্যসমগ্র ১২০০ জনের মধ্যে শতকরা ৭৭ জন, এখনও যাহারা করিতেছেন তাহাদের ৮১%, যাহারা ত্যাগ করিয়াছেন তাহাদের ৭১%, যাহারা কখনও করেন নাই তাহাদের ৭৭% এর স্বাস্থ্য চমৎকার বা ভাল। অবশিষ্টাংশের স্বাস্থ্য মাঝারি বা মন্দ।

(ণ) শিক্ষা সম্পর্কে আত্মরতির অভ্যাস (বিবাহিতাদের)—

অভ্যাস সমগ্র ১০০০ বিবাহিতাদের মধ্যে শতকরা গ্রাজুয়েটদের মধ্যে
(শতকরা)
কলেজী শিক্ষাহীনাদের মধ্যে
(শতকরা)
করিয়াছেন ৪০ ৪১ ৩৮
অস্বীকার করেন ৬০ ৫৯ ৬২

(ত) গ্রায়েট ও অপরদের আরম্ভ করার বয়স :-

আরম্ভ করার বয়স সমগ্র দলের (শতকরা) অবিবাহিতাদের মধ্যে
(শতকরা)
বিবাহিতাদের মধ্যে শতকরা –
গ্রাজুয়েট
বিবাহিতাদের মধ্যে শতকরা –
অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিতা
একাদশের মধ্যে ৫০ ৪৮ ৪৬ ৬১
১২-১৪ ১৯ ১২ ২০ ১৬
১৫-১৭
১৮ ও তাহার পর ২২ ৩৬ ২৫ ১৪

(থ) ১০০০ জন বর্তমানে বিবাহিতাদের মধ্যে ৮১ জন কোন না কোন সময়ে আত্মরতি করিয়াছেন, তাহারা কিরূপে লিখিলেন :–

(১) যাহারা (২৪৬ জন) ছেলে বয়সে আরম্ভ করিয়াছেন—

  শিক্ষার উপায় সংখ্যা শতকরা
দৈবাৎ—নিজে নিজে ১২৮ ৫২
অপরের কাছে ১০২ ৪১
মনে নাই ১৬

(২) যাহারা (১৩৫ জন) কৈশোর হইতে আরম্ভ করিয়াছেন :- শিক্ষার উপায়

  শিক্ষার উপায় সংখ্যা শতকরা
দৈবাৎ—নিজে নিজে ১২৮ ৫২
অপরের পরামর্শে ১০২ ৪১
নিজের বাসনা ও কৌতূহল ১৬
প্রণয়ীর চিন্তা ও প্রণয় চিন্তা ১৬
উত্তেজক পুস্তক পাঠ
নৃত্য ও পুরুষের সান্নিধ্য

(দ) এই (২৪৬+১৩৫) মোট ৩৮১ জন বর্তমানে বিবাহিতাদের মধ্যে এই অভ্যাস কালের দৈর্ঘ্য :-

অভ্যাসকালের দৈর্ঘ্য ছেলে বয়সে আরম্ভকারিণী কৈশোরর পর আরম্ভকারিণী
লিখিবার সময় অবধি (বিবাহিতা অবস্থায়) ২৪
বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত ২৪ ২৯
বাগদানের পূর্ব পর্যন্ত
বাগদানের সময় পর্যন্ত
বহু বৎসব ১৪
সাবা বালিকা বয়স
২০ হইতে ৩০ বৎসর
১৪-১৫ বৎসর
৮-১৩ বৎসর ২০
৩-৭ বৎসর ৩৯ ২৫
১-২ বৎসর ২৮ ১৬
কয়েক মাস ১৩
কয়েক সপ্তাহ
অল্প দিন ২৮ ১৫
২/১ বার
মনে নাই, উত্তর দেন নাই ৩৮ ১১
মোট ২৪৬ ১৩৫

 (ধ) ১৯০ জন বর্তমানে বিবাহিতাদের উপর ইহার ফলাফল :

ফলাফল সংখ্যা শতকরা
কিছুই না ৬০ ৩২

সুফল :–

১। স্নায়বিক অস্থিরতায় শান্তি – ৪

২। মনে শান্তি – ১

৩। প্রলোভন সম্বন্ধে পবিষ্কার ধারণা হওয়ায় সমধিক সহানুভূতিপূর্ণ (পাপীদের প্রতি–গ্রন্থকার) ও সহায় – ২৯

৪। অভ্যাস দমনের চেষ্টা চবিত্রবল বৃদ্ধি – ৬

সুফল লাভ-মোট ৪০ — ২১

অনিষ্টকর :–

১। আত্মগ্লানি, অবদমিত, নার্ভাস ও অসুস্থ – ৩৬

২। শাবাবিক ও নৈতিক দুর্বলতা – ১৯

৩। পরবর্তী অনুভূতির (স্বামী সহবাস সুখের-গ্রন্থকার) ক্ষতি ও বাসনার হ্রাস – ৫

৪। ইচ্ছাশক্তি দৌর্বল্য – ৬

৫। হতাশ ভাব ও দুঃখবাদ আনিয়াছে – ২

৬। কামেব বৃদ্ধি – ১

৭। কোন্ কুফল তাহা লেখেন নাই – ২১

(মোট পুর্ণ যাহারা অনিষ্টকর বলেন)- ৯০ — ৪৭

—————–

যাহারা স্পষ্ট উত্তর দিয়াছেন তাহারা সংখ্যায় ১৯০ জন। উত্তর দেন না মোট ৮২ জন। “জানি না” বলিয়াছেন এবং অসংলগ্ন (Irrelevant) ও অস্পষ্ট উত্তর দিয়াছেন মোট ১২২ জন।

(ন) স্বাস্থ্য।১০০০ জন বর্তমানে বিবাহিতাদের সমগ্র দলের প্রান্তের সহিত তাহাদের মধ্যে যাঁহারা কখনও আত্মরতিতে লিপ্ত হইয়াছেন ও যাহারা কখনও হন নাই তাহাদের স্বাস্থ্যের তুলনা :-

স্বাস্থ্যের অবস্থা সমগ্র দল (শতকরা) করিয়াছেন (শতকরা) করেন নাই (শতকরা) নিরুত্তর (শতকরা)
চমৎকার ৩০ ৩০ ৩৫ ৪১
ভাল ৪২ ৪৩ ৪২ ৩৭
মাঝারি (fair) ১৭ ১৬ ১৮ ১৪
বরাবরই ক্ষীণ (delicate)
মন্দ (poor)

 

আত্মরতির অভ্যাসের সহিত স্বামীসহবাস সুখের সম্পর্ক

যাহাদের সারা বিবাহিত জীবনে স্বামীসহবাস সুখময় বোধ হইয়াছে, তাহাদের মধ্যে যাহারা আত্মরতি করিয়াছেন ও যাহারা কখনও করেন নাই এই দুই দলের দাম্পত্য জীবনের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দলের শতকরা অনুপাত দেওয়া হইল :-

দাম্পত্য জীবনের দৈর্ঘ্য বরাবর সুখ অনুভবকারিণীদের শতকরা অনুপাত
আত্মরতি করিয়াছেন করেন নাই
১ হইতে ৫ বৎসর ৪৫ ২৮
৬ হইতে ১০ বৎসর ২২ ২৭
১১ হইতে ১৫ বৎসর ১৮ ১৮
১৬ হইতে ২০ বৎসর ১১
২১ হইতে ২৫ বৎসর
২৬ হইতে ৩০ বৎসর
৩১ হইতে ৩৫ বৎসর
৩৬ হইতে ৪০ বৎসর
৪১ হইতে ৪৫ বৎসর
৪৬ হইতে ৫০ বৎসর
৫১ ও বেশী বৎসর

হস্তমৈথুনের প্রসার বালিকা অপেক্ষা বালকদের মধ্যে বেশী। এলিসের গবেষণার ফল এই যে, শতকরা ৯০ জন পুরুষই নিজের জীবনের কোন-না কোন সময়ে ইহাতে লিপ্ত হইয়া থাকে। ইংলণ্ডের রাগবী স্কুলের চিকিৎসক ডাঃ ডিউস লিখিয়াছেন যে, ঐ স্কুলের শতকরা ৯৫ জন বালক কোন-না- কোন প্রকাবে ইহা করিয়া থাকে। জার্মানীর ডাঃ জুলিয়ান মার্কিউস ও ডাঃ বেহেল্ডার বলেন যে, জার্মানীতে শতকরা ৯২ জনের উপর ইহা করিয়া থাকে। আমেবিকাতে ডাঃ সিয়ারলিব গবেষণার সময় দেখিয়াছেন যে, ছাত্রদের মধ্যে মাত্র শতকরা ৬ জন করে নাই। ডাঃ কম্যান বলিয়াছেন যে, এমন যে সার্বিক শিক্ষাক্ষেত্র পাত্রী স্কুল সেখানকার শতকরা ৫৬ জন ছাত্র স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া স্বীকার করিয়াছে যে, তাহারা কোনও প্রকার স্বয়ংমৈথুন না করিয়া থাকিতে পারে না। মস্কোর ডাঃ গেনফ বলিয়াছেন যে, তাহার দেশে শতকরা ৬০ জন ছাত্র স্বয়ংপ্রবৃত্ত হইয়া বলিয়াছে যে, তাহারা ইহাতে লিপ্ত আছে।

কোনও গবেষক ভারতবর্ষের এই বিষয়ক অবস্থা সম্বন্ধে গবেষণা করেন নাই। সুতরাং এ সম্বন্ধে কোনও তথ্যের উল্লেখ করা সম্ভব হইতেছে না। কিন্তু মানব প্রকৃতি সর্বত্রই এক, এই মূলসূত্র হইতে ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে যে, ভারতবর্ষের অবস্থাও মোটামুটি ঐরূপ।

অনেকের মতে শতকরা একশত জনই হস্তমৈথুন করে, করিয়াছে বা করিবে। বার্জার বলেন, “হস্তমৈথুনের অভ্যাস সার্বজনীন–ইহাতে শতকরা ৯৯ জন যুবক-যুবতী কোন-না-কোন সময়ে ব্ৰতী হয়ই; বাকী একজনও যাহাকে হয়ত আমরা ‘পবিত্র’ বা ‘সাধু’ বলিয়া থাকি, স্বীকার করে না মাত্র।”

স্টেকেল বলেন, প্রত্যেকেই হস্তমৈথন করে।

নরম্যান হাই বলেন, এই অভ্যাস ছেলেদের এবং যুবকদের মধ্যে খুব ব্যাপক। প্রায় প্রত্যেক স্বাভাবিক অবস্থার বালক কোন-না-কোন কালে সপ্তাহে এক হইতে চারিবার উহা করিয়াই থাকে।

নরনারীর আত্মরতি আরম্ভ করার বয়সের তুলনা

অনূর্ধ্ব ১১ বৎসর – পুরুষ ২১%, নারী ৪৯%
১২-১৪ বৎসরে – পুরুষ ৪৪%, নারী ১৫%
১৫-১৭ বৎসরে – পুরুষ ৩০%, নারী ৬%
১৮ এবং তদুর্ধ্ব – পুরুষ ৫% নারী ৩০%

কোন্ বয়সে এই অভ্যাসের প্রকোপ কত বেশী তাহা লইয়াও বহু গবেষণা হইয়াছে। বালকদের কোন্ সময়ে হস্তমৈথুন প্রথম আরম্ভ হয় তা হাসফেন্ড তাহাব একটি তালিকা প্রণয়ন করিয়াছেন :

বালকদের কোন বয়সে আরম্ভ হয়

৪ বৎসর বয়সে শতকরা .২৫
৫ বৎসর বয়সে শতকরা ১.৮
৬ বৎসর বয়সে শতকরা ১.৮
৭ বৎসর বয়সে শতকরা ২.৩
৮ বৎসর বয়সে শতকরা ২.৮
৯ বৎসর বয়সে শতকরা ৩.২
১০ বৎসর বয়সে শতকরা ৫.৩
১১ বৎসর বয়সে শতকরা ৫.৪
১২ বৎসর বয়সে শতকরা ১৫
১৩ বৎসর বয়সে শতকরা ১৩.৭
১৪ বৎসর বয়সে শতকরা ১৫.৫
১৫ বৎসর বয়সে শতকরা ১১.৪
১৬ বৎসর বয়সে শতকরা ৯.৮
১৭ বৎসর বয়সে শতকরা ৪.৬
১৮ বৎসর বয়সে শতকরা ২.৫
১৯-২০ বৎসর বয়সে শতকরা ২.৫

ডঃ কিন্‌যে ও সহকর্মীদের অনুসন্ধানেও ২-৩ বৎসর হইতে কয়েক মাসের নবশিশুকে পর্যন্ত স্বমেহনের চেষ্টা করিতে দেখা গিয়াছে কিন্তু ইহাদের বিশৃঙ্খল চেষ্টায় বোধ হয় খুব বেশী আনন্দ বোধ না হওয়ায় ইহারা আর কিছুকাল পুনর্বার চেষ্টা করে না। অবশ্য অপর কেহ দেখাইয়া শিখাইয়া দিলে উহার কথা স্বতন্ত্র। তখন হইতে অবশ্য পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিতে থাকা স্বাভাবিক।

অত ছোটবেলার কথা মনে সব সময়ে নাও থাকিতে পারে। তাই বয়স্থদের স্মৃতিকথার ভিত্তিতে যতটা পাওয়া যায় প্রকৃতপক্ষে শৈশবে হস্তমৈথুনের প্রকৃত অবস্থা আরও কতটা বেশী হইবে। এইজন্য ডঃ কিন্‌যে ধরিয়া লইয়াছেন যে আমেরিকায় প্রায় ১০% বালক ৯ বৎসব বয়সের পূর্বেই এবং ১৬% বালক ১০ বৎসরের পূর্বেই আত্মরতি করিয়া থাকে।

তবে পুরুষের জীবনে ইহার সবচেয়ে বেশী প্রকোপ হয় ১৬ হইতে ২০ বৎসর পর্যন্ত বয়সে। এই সময়ে প্রায় ৮৮% ইহাতে অভ্যস্ত থাকে। ইহার পর হইতে প্রকোপ কমিতে থাকে।

আমাদের মতে উষ্ণপ্রধান পাক-ভারতে যৌনবোধ আরও সকাল সকাল জাগ্রত হয় বলিয়া ১০ হইতে ১৪ বৎসরের মধ্যে প্রায় সকল বালকের ঐ অভ্যাস আরম্ভ হইয়া যায়। অবশ্য ইতিমধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হইয়া বসিলে উহার প্রকোপ অপেক্ষাকৃত কম হইবারই কথা।

সকলেই কোন-না-কোন সময়ে এই অভ্যাসের সাময়িক দাস হইলেও ব্যক্তিভেদে উহার প্রকোপে ব্যতিক্রম হয়। কেহ কেহ দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪-৫ বারও কবে। দুই-এক ক্ষেত্রে অবশ্য ইহার বেশী বারও হইয়া থাকে। তবে সাধারণতঃ দৈনিক ২-৩ বার হইতে মাসে ২-৩ বার পর্যন্ত দেখা যায়। স্বভাবতই যাহাদের কাম বেশী এবং খেলাধুলা, ব্যায়াম বা সমাজসেবা করে না, লোকেব সঙ্গে বেশী মিশে না, বাড়ীতেই অধিকাংশ সময় থাকে তাহারাই বেশী করিয়া থাকে। সচরাচর স্বাভাবিক ও সুস্থ বালকবালিকা ইহাতে বাড়াবাড়ি করে না।

শিশুদের মধ্যে কি করিয়া প্রথমে এই প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয়, তাহা লইয়াও অনেক অনুসন্ধান হইযাছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খেলাধূলা বা প্রস্রাবের সময়ে হস্তের সংস্পর্শে পুলকানুভূতি সৃষ্টি হয়। ডাক্তার ফ্রয়েডের অনুবর্তী পণ্ডিতে বলেন, ধুইবার কালে পিতামাতা, নার্স বা অপরের হাত লাগায় হঠাৎ সুখানুভূতি হইতেও শিশুমনে ঐরূপ কার্যের পুনরাবৃত্তি করিবার স্পৃহা জন্মে। খেলার বা পড়ব সাথী হইতে শিখিয়া লওয়ার কথা বলা ত বাহুল্য মাত্র।

কি করিয়া এই ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, ইহার উত্তরেও যৌনবিজ্ঞানীগণ বহু তথ্যের উল্লেখ করিয়াছেন। পুরুষের বেলায় মুষ্টির মধ্যে অঙ্গ ধরিয়া অগ্রপশ্চাৎ হস্তচালন করা হয়। শুক্রসঞ্চয়ের পূর্বে বালকেরা মেয়েদের মত শুধু তৃপ্তি ও কিয়াশেষে মূলাধারে এক রকম ঝাকানি এবং সর্বশরীরে স্নায়বিক বিস্ফোরণজনিত কম্পন ও শিহরণ অনুভব করে। বেশীর ভাগ পুরুষই খুব শীঘ্র শীঘ্র চরমতৃপ্তি লাভ করে; কেহ কেহ আনন্দানুভূতি বেশীক্ষণ উপভোগ করিবার জন্য কয়েক মিনিট হইতে অর্ধ ঘণ্টাকাল পর্যন্ত প্রক্রিয়ায় লিপ্ত থাকে অতি অল্প সংখ্যক শুক্রস্খলনের পূর্বেই বিরত হয়।

বালকদের বিছানায়, নিভৃত স্থানে, তৈলমর্দন ও যৌনকেশ মুণ্ডনের সময়ে স্নানাগারে স্নানের পুর্বে এবং পায়খানায় মলমূত্র ত্যাগের সময়ে সবচেয়ে বেশী সুযোগ ও সুবিধা হয়। অভ্যস্তদের উচিত এই সমস্ত সময়ে ইচ্ছা করিলে মনকে অন্য চিন্তায় ফিরাইয়া তাড়াতাড়ি অন্য লোকের সঙ্গে বাহির হইয়া আসা।

মেয়েদের কাছে অনেক ক্ষেত্রে অঙ্গুলির ব্যবহার ঘৃণাজনক বোধ হয়। তাহাদের যৌনপ্রদেশের মধ্যে কেহ ভগদেশ, শ্রেষ্ঠ অথবা ভগাঙ্কুর তালে তালে ও ছন্দে ছন্দে ঘর্ষণ ও মর্দন করিয়াই ক্রিয়া শেষ করে। বিশেষত সতীচ্ছদ অক্ষত অবস্থায় বর্তমান থাকা পর্যন্ত যোনিপথে কিছু করিবার মত সুযোগ হয় না। কুমারীদের সে ইচ্ছাও সাধারণত হয় না। বিবাহিতা স্ত্রীলোক বা বেশ্যারা অবশ্য সমস্ত যোনিপথে উত্তেজনা সৃষ্টি করিতে পারে ও করিয়া থাকে। অঙ্গুলির অনুরূপ নানারকম জিনিস ব্যবহার করার কথা পূর্বে বলা হইয়াছে।

বালকও বালিকাদের মধ্যে স্বয়ংমৈথুনের অভ্যাস কাহাদের বেশী, এই লইয়া গবেষকগণের মধ্যে মতভেদ দৃষ্ট হয়। কেহ কেহ বলেন, দশ বৎসর বয়সের পূর্বে বালিকাদের মধ্য এবং তৎপরে বালকদের মধ্যে এই অভ্যাস অধিক দৃষ্ট হয়। এলিসের মত ইহার ঠিক বিপরীত। তিনি বলেন যে, বালিকাদের মধ্যে যৌনবোধ বিলম্বে জাগ্রত হয় বলিয়া কৈশোরের পূর্বে বালিকা অপেক্ষা বালকদের মধ্যে ইহার অভ্যাস বেশী। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়া পুরুষেরা যে সব উপায়ে যৌনবৃত্তির তৃপ্তিসাধন করিতে পাবে, মেয়েদের সে সমস্ত সুযোগ সহজলভ্য নহে বলিয়া যুবক অপেক্ষা যুবতীদের মধ্যে ইহা বেশী। এলিসেব চিকিৎসাধীনেই কোন কোন যুবতীকে পুরুষাঙ্গের অনুরূপ তরি-তরকারী, পেন্সিল, মোমবাতি, কর্ক, কাচের টিউব, রবারের নল, কলাব প্রভৃতি দ্বারা স্বয়ংমৈথুন করিতে দেখা গিয়াছে। সুতরাং তাঁহার মতে, অধিক বয়সের সময় পুরুষ অপেক্ষা মেয়েদের মধ্যেই এই অভ্যাস বেশী। তবে আমাদের দেশে অজ্ঞতা, অত্যধিক লজ্জাব ভাব, ধর্মের ভয়, ইত্যাদি কারণে মেয়েদের মধ্যে ইহার প্রসার পাশ্চাত্যদেশের মত নাও হইতে পারে।

পুরুষের স্বয়ংমৈথুন যেমন সৰ্ববাদীসম্মত, মেয়েদের স্বয়ংমৈথুন (বা সমমৈথুন) সেরূপ নহে। এ সম্বন্ধে অনেকেরই বিশেষ কোন জ্ঞান নাই। অবিবাহিতা নারী ও অমিত কুমারীরা সাধারণতঃ ভগাঙ্কুর, লঘুভগৌষ্ঠ অথবা। সমগ্র ভগদেশ ঘর্ষণ বা হস্তদ্বারা মর্দন করিয়া তৃপ্তিলাভ করে। কেহ কেহ বা এক ঊরুর উপর অন্য ঊরু চাপিয়া পরস্পরের ঘর্ষণ দ্বারা ভগাঙ্কুর নিপীড়িত করিয়া চরমানন্দ আনয়ন করে। ইহাদের সাধারণতঃ যোনিনালীকে উত্তেজিত করিবার স্পৃহা জাগে না, তাহার কারণ সতীচ্ছদ অক্ষত অবস্থায় বর্তমান থাকা নহে (কতকের সতীচ্ছদ থাকে না, কোন কারণে ছিন্ন হইয়া যায় অথবা অত্যন্ত সম্প্রসারণশীল থাকে—তাহাদের ঐ পথে অঙ্গুলি বা অনুরূপ বস্তু ব্যবহাবে কোন বাধা নাই), তাহাদের যোনিনালীর অভ্যন্তরে কোন অনুভূতি জাগে না। যাহাদের কৌতূহল বা অনুভূতির জন্য সেরূপ ইচ্ছা হয় তাহারা আর সতীচ্ছদের বাধা মানে না, অঙ্গুলি বা লিঙ্গানুরূপ কিছু ব্যবহার করিয়া সতীচ্ছদ ছিন্ন করিয়া লয়। বিবাহিতা বা পুরুষ-সংসর্গে অভ্যস্ত রমণীরাই যোনিনালীতে উত্তেজনা সৃষ্টি না করিয়া তৃপ্তিলাভ করিতে পারে না, কারণ তাহাদের কামকেন্দ্র কতকটা যোনিপথ ও জরায়ুমুখে কেন্দ্রীভূত হয, সেই জন্য তাহাদের অঙ্গুলি বা লিঙ্গানুরূপ কোন পদার্থ ব্যবহার করিতে হয়।

পূর্বোক্ত স্বেচ্ছাকৃত আত্মরতি ব্যতীত আরও বহু উপায়ে স্বয়ংমৈথুন সংঘটিত হইতে পাবে। ব্যায়াম কবা, ফল পাড়িবার জন্য ঘর্ষণপূর্বক গাছে উঠা বা নামা, সাইকেল কিংবা অশ্বে আৰোহণ করা, সেলাইয়েব পা-কল চালনা করা ইত্যাদি কার্যকালে শুধুমাত্র অঙ্গে ঘর্ষণ ও কম্পনে অকস্মাৎ অত্যন্ত পুলক সহকারে তৃপ্তিলাভ হইতে পাবে।*

————
* জনৈক ডাক্তার-বন্ধু এই সম্বন্ধে বলেন-“বক্ষ ঘর্ষণা বা প্রচাপন দ্বারা যৌনতৃপ্তি নারীর মধ্যে সম্ভবপর বলিয়া বোধ হয়। বহু যুবতী বা বালিকাকে ছাদে বা বারান্দায় দাড়াইবার সময়ে রেলিংয়ে বুক চাপিয়া দাঁড়াইতে দেখা যায়। টুলে বা চেয়ারের কিনারায় বসিয়া সেলাইয়ের পা-কল চালাইবার সময় যেতে ঘর্ষণ ও তজ্জন্য পুলকলাভের সম্ভাবনা পুর অপেক্ষা রুণীদের মধ্যেই অনেক বেশী। অনেকক্ষণ বসিয়া পা কল চালাইলে Bartholin’s glands-এ চাপ পড়িবার ফলে (এবং যোনির ঘর্ষণজনিত উত্তেজনার ফলেও) যোণি রসসিক্ত ও পিচ্ছিল হইয়া থাকে।

—————

ডঃ কিন্‌যে ও সহকর্মীদের গবেষণাফল

পূর্বোক্ত আলোচনায় বহু যৌন-বিজ্ঞানীরই গবেষণার ফল উদ্ধত করা হইল। সম্প্রতি ডঃ কিন্‌যে প্রমুখ গবেষকদের অনুসন্ধানক্ষেত্র আমেবিকাব হাজার হাজার নর ও নারী। হস্তমৈথুনের সংজ্ঞা দিতে গিয়া ইহাবা ইচ্ছাকৃত যৌন-আনন্দলাভের কথা বলিয়াছেন।

যৌন-আনন্দলাভের যে প্রধান ছয়টি প্রক্রিয়ার কথা আমরা একটু আগে বলিয়াছি, তাহার মধ্যে হস্তমৈথুনের স্থান অতি উচ্চে অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ার প্রসার অতি সাধারণ। বালকদের মধ্যে ইহা প্রায় সার্বজনীন, মেয়েদের বেলায়ও ইহার প্রসার ব্যাপক।

ডঃ কিন্‌যে ও তাঁহার সহকর্মীরা বলেন যে, শতকরা ১০০ জন বালকই যে এই অভ্যাসে রত এমন সাধারণ উক্তি বহু জায়গায় দেখা গেলেও তাহারা এ কথার পূর্ণ সমর্থন পান নাই। কম হইলেও কিছুসংখ্যক বালক এমন আছে যাহারা নানা কারণে করে না। যথা—যৌন-চেতনা তত প্ৰবল না হওয়া, বিপবীত লিঙ্গের সংস্পর্শে অবাধ সুযোগ পাওয়া, হস্তমৈথুন চেষ্টার প্রকৃত আনন্দলাভ করিতে না পারা, প্রভৃতি। বালিকাদের মধ্যে বালকদের চেয়েও হস্তমৈথুন একেবারে না কবার দৃষ্টান্ত আরও বেশী।

কিশোরদের ২/৩ অংশের প্রথম শুক্রস্খলনই হস্তমৈথুনের দরুন হইয়া থাকে; বাকী কিশোরদের বেশীর ভাগ শুক্রস্খলন হয় প্রথম প্রথম স্বপ্নদোষে বা নারী সংসর্গে। মেয়েদের বেলায় বিবাহের পূর্বে পুরুষের সহিত প্রেমক্রীড়া (পূর্ণমিলন নহে) বিবাহের পরে পুরুষের সহিত রতিক্রিয়া—এই দুই প্রক্রিয়ায় যৌন-আনন্দলাভের পরেই হস্তমৈথুনে আনন্দলাভ হয় বেশী ক্ষেত্রে।

লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, নারীদের সকল প্রকার যৌনব্যবহারের মধ্যে হস্তমৈথুনেই বেশীর ভাগ চরমপুলক-লাভ হইয়া থাকে। ইহার একটি বড় কারণ পুরুষের সহবাসে দ্রুতস্খলন। হস্তমৈথুন নিজেদের ইচ্ছাধীন, চরম-পুলক-লাভ না হওয়া পর্যন্ত তাহারা উত্তেজনা স্থায়ী করিতে পারে—পরের মুখাপেক্ষী হইতে হয় না।

পুরুষেরা প্রায় সকলেই হস্তমৈথুন করে বলিয়া তাহাদের ধারণায় নারীরাও ঐরূপ সার্বজনীনভাবে উহা করে বলি ভ্রম হওয়া স্বাভাবিক। নারীর দৈহিক ও স্নায়বিক অনুভূতিশীলতা ঠিক হুবহু পুরুষের মত নয়।

ইচ্ছাকৃত যৌন উত্তেজনা সম্পাদনকে হস্তমৈথুন আখ্যা দিলেও নারীর বেলায় ঠিক হাতের ব্যবহার হইতেই হইবে এমন কথা নাই। বক্ষ প্রচাপ, ঊরু-ঘর্ষণ, শরীরে যৌনপ্রদেশে মর্দন ইত্যাদি করিয়া আনন্দ লাভ করাকেও হস্তমৈথুন পর্যায়ে ফেলা হয়।

কিভাবে প্রথম সুত্রপাত হয়

বালকদের মধ্যে সাধারণত অপরেব কাছে শুনিয়া ও অপরকে করিতে দেখিয়াই বেশীর ভাগ শিক্ষালাভ হইয়া থাকে। নিজে নিজে আবিষ্কার করিবার উদাহরণও বহু। বালিকাদের মধ্যে কিন্তু অপরের কথা ও কাজ শুনিবার দেখিবার সুযোগ কম হয়। তাহারা নিজেই আনন্দের প্রক্রিয়া আবিষ্কার করিয়া ফেলে। নিজেদের যৌনপ্রদেশ বা অঙ্গ লইয়া ঘাঁটাঘাঁটি বা স্পর্শন মদনে সুখানুভূতি হওয়া স্বাভাবিক।

একটি লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, জিজ্ঞাসিত নারীদের মধ্যে কেহ কেহ বিশ বা ত্রিশের কোঠায় পা দিবার পূর্বে হস্তমৈথুন করে নাই এবং তার পরে করিয়াছে তাহাও নিজে নিজে আবিষ্কার করিয়াছে। ইহা হইতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, নারীদের মধ্যে এ বিষয়ে কতটা অজ্ঞতা রহিয়া যায় বিশেষ করিয়া যখন ঐ বয়সের অপরাপর নারীদের মধ্যে ইহার প্রসার ব্যাপক। তাহাদের তালিকার শতকরা ২৮ জন বালক নিজে নিজে এ সম্পর্কে আবিষ্কার করে কিন্তু শতকরা প্রায় ৭৫ জনই অপরের নিকট শুনিতে পায়, ৪০ জন অপরের অনুরূপ ক্রিয়াকলাপ দেখে এবং ৯ জন অপরের দ্বারা প্ররোচিত হয়। ইহা হইতে স্পষ্টই বুঝা যাইবে যে, কম বা বেশী বয়সের নারীদের মধ্যে পুরুষের মত খোলাখুলিভাবে যৌন-বিষয়ে আলোচনা হয় না।

অবশ্য এখন যৌনবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় পুস্তকে যে খোলাখুলি আলোচনা হইয়া থাকে তাহা দেখিয়া বহু কিশোর-কিশোরীই এই সম্পর্কে জানিতে পাবে। এই জানিতে পারাটা আপত্তিজনক মনে করেন এই ভাবিয়া যে বোধ হয় তাহা না হইলে আর ইহা এই পথের পথিক হইতেন না!

বাস্তবিকপক্ষে কিন্তু এই জানাটা ক্ষতির চেয়ে লাভেবই বেশী কারণ। হস্তমৈথুনের মত প্রায় সার্বজনীন অভ্যাসেও না জানিয়া বা ভুল ভয় পাইয়া নব ও নারী সর্বদা শঙ্কিত ও কুষ্ঠিত বোধ করে। ডঃ কিন্‌যে ও সহকর্মীরা যে তাহাদের প্রকাশিত ২য় খণ্ডে এ সম্পর্কে বহু তথ্য, চার্ট ও সংখ্যানুপাতের অবতারণা করিয়াছেন তাহা প্রশংসারই যোখ্য। আমাদের আলোচনাও যে সদুদ্দেশ্যে-ভুল ভাঙাইবার জন্য—সে কথা বলাই বাহুল্য।

প্রক্রিয়া ভেদ

পুরুষের মধ্যে হন্তদ্বারা মর্দন অধিকতর সহজসাধ্য বলিয়া হস্তমৈথুনের প্রক্রিয়াভেদ বিশেষ নাই। নারীদের মধ্যে কিন্তু উহা নানাভাবে সাধিত হয়। ডঃ কিনযেদের অনুসন্ধানে প্রায় ৬-৭ প্রকার অভ্যাসের তথ্য মিলিয়াছে।

ভগাঙ্কুর ও ক্ষুদ্রোষ্ঠের সাহায্যে–বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই একটি বা দুইটি মৃদুভাবে ও তালে তালে ভগাঙ্কুর কিংবা ক্ষুদ্রোষ্ঠদ্বয়ের মধ্যে ঘর্ষণে তাহা সাধিত হয়। ক্ষুদ্রোষ্ঠদ্বয়ের মধ্যে অঙ্গুলি এভাবে চালনা করা হয় যে প্রত্যেকবার তাহা ভগাঙ্কুর স্পর্শ করে। কখনও বা উহারা নিয়মিতভাবে ছন্দে ছন্দে কয়েকটি অঙ্গুলি অথবা সমগ্র করতল দ্বারা চাপ দেয়। কখনও গোড়ালি অথবা অপর কোনও বক্তারা সেখানে ঐ ভাবে চাপ দেওয়া হয়। কখনও বা ক্ষুদ্রোষ্ঠদ্বয়কে মৃদুভাবে ও তালে তালে আকর্ষণ করে। সে গুলির ঊর্ধ্বসীমা ভগাঙ্কুরের সহিত যুক্ত থাকায় তাহাও উত্তেজিত হয়। ৮৪% নারীই এই প্রক্রিয়ার কথা স্বীকার করিয়াছে। নারীর এই দুইটি দেহাংশেই অতি অনুভূতিশীল। বৃহদোষ্ঠ প্রচাপনে আনন্দলাভের দৃষ্টান্তও আছে কিন্তু বিরল।

ঊরু প্ৰচাপন—প্রায় ১০% জিজ্ঞাসিত নারী ঊরুদ্বয় প্রচাপন ও ঘর্ষণ করিয়া সমগ্র যোনিপ্রদেশের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এইভাবে ভগাঙ্কুর, বৃহদোষ্ঠ, ক্ষুদ্রোষ্ঠও প্রভাবিত হয়। ঊরু-ঘর্ষণের সহিত যোনিপ্রদেশে হস্ত-সঞ্চালনও হইতে পারে।

পেশী সঞ্চালন—উপুড় হইয়া শুইয়া অথবা সেই অবস্থাতেই জাহয় পেটের নীচে আনিয়া নিতম্বের এবং ঊরুর মাংসপেশীসমূহ প্রকম্পন-সম্প্রসারণ করিবার প্রক্রিয়াও কেহ কেহ স্বীকার করিয়াছে। এই প্রক্রিয়ায় বিছানায় বক্ষিত বালিশ বা অন্য কিছু দ্বারা ভগদেশ চাপিবার কথাও কেহ কেহ বলে। ডঃ কিন্‌যে এই প্রক্রিয়াকে জীব-বিজ্ঞানের দিক হইতে গুরুত্বপূর্ণ বলেন। এই প্রক্রিয়ায় পুরুষের রতিক্রিয়ার অনুরূপ ক্রিয়াকলাপের নকল করা হয়। ইহাতে মনে হয় যৌন-উত্তেজনায় যে দৈহিক ও স্নায়বিক অনুভূতির পর্যায়ক্রম রহিয়াছে তাহার পরিসমাপ্তি ঘটিয়া যৌনতৃপ্তি আসে।

বক্ষের সাহায্যে–নারীর বক্ষ বিশেষত স্তনবৃন্ত অতিশয় অনুভূতিশীল। শুধু উহা চাপিয়া বা তাহাতে সুড়সুড়ি দিয়া অতি অল্পসংখ্যক নারী চমপুলক লাভ করে। সাধারণতঃ উক্ত ক্রিয়ার সহিত যৌন-অঙ্গও স্পর্শন-ঘর্ষণে প্রায় ১১% নারী উত্তেজনা লাভ করে।

যোনিপথে–প্রায় ২০% নারী যোনিনালীতে অঙ্গুলি, বা অনুরূপ অন্য কিছু প্রবেশ করাইবার কথা স্বীকার কবে। (এ জন্য ব্যবহৃত সকল সাধারণ দ্রব্যের কথা আমরা পূর্বেই বলিয়াছি)।

যাহারা এ কথা বলে তাহাদের মধ্যে অনেকেই ভগাঙ্কুরের ঊর্ধ্বে অবস্থিত স্বল্পপরিসর স্থানকে (যাহাতে প্রচুর উত্তেজনাশীল ও সুখদায়ক স্নায়ু প্রান্তসমূহ আছে) যোনি বলিয়া ভ্রম করে। যোনিতে উক্তরূপ স্নায়ুপ্রান্ত ১৪% নারীর আছে, বাকী ৮০% এর আদৌ নাই। অনেক সময় রমণী নিজ অঙ্গুলি যোনি মুখের ভিতর শুধু ততটাই প্রবিষ্ট করে যাহাতে তাহার হস্ত স্থিরভাবে অবস্থান করিতে পারে। ইহাতে সে তাহার অঙ্গের বহির্ভাগ উত্তেজিত করে। অধিকাংশ পুরুষ সহবাসের দৃষ্টান্তে কল্পনা করে যে, নারীগণও পুরুষদেবই মত স্বমেহনেব সময় সঙ্গমের অনুকরণে যোনির গভীবে অঙ্গুলি অথবা অপর কোন তৎসদৃশ বস্তু বার বার প্রবেশ করায়। এইজন্য অনেক পুরুষ কামকেলির সময় উহাতে নিজের অঙ্গুলি দিয়া নাড়াচাড়া করে এবং পুরুষদের লেখা পুস্তকসমূহে কৃত্রিম পুরুষাঙ্গের বর্ণনা দেখা যায়। কিন্তু কিনযেরা যে সহস্র সহস্র রমণী স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করিয়াছেন তাহাতে দেখা যায় যে, নানা কারণে কতক স্ত্রীলোক (প্রায় ২০%) অঙ্গুলি অথবা অপর কিছু ঐজন্য ব্যবহার করে, যথা:-১) কতক নারীর (১৪%) যোনিপথে সুখদায়ক স্নায়ুপ্রান্ত সমূহ থাকায় তাহারা বাস্তবিকই ঐভাবে রতিসুখ লাভ করে। (২) মনে মনে সুরত ও যোনিপথে কিছু প্রবেশের সম্পর্ক বোধ থাকায় মানসিক তৃপ্তিলাভ। (৩) কোনও পুরুষ বন্ধু অথবা পুরুষ বা নারী চিকিৎসক, যাহার সহবাসের প্রকৃতি সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা ছিল, ঐরূপ ক্রিয়ার পরামর্শ দিয়াছে। (৪) সুরতে বহুদিন অভ্যস্ত থাকিবার পর আত্মরতি চেষ্টা করিয়াছে, সেই জন্য সুরতের অনুকরণের চেষ্টা করিয়াছে। কিন্তু এরূপ বহুক্ষেত্রে নিজ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদির অবস্থান এবং যৌন সাড়ার উৎস সম্বন্ধে সম্যক্ জ্ঞানলাভ করিবার পর ঐ নিস্ফল ক্রিয়া ছাড়িয়া দিয়াছে। (৫) তাহাদের প্রণয়ীরা ঐ ক্রিয়া দেখিয়া উত্তেজনা ও আনন্দ পায় বলিয়া তাহাদের সুখী করিবার জন্যই করিয়াছে।

যোনিনালীর গভীর প্রদেশ বমিত হইলে যে সব কারণে কোনও কোনও নারীর তৃপ্তিবোধ হয় তাহা দ্বিতীয় খণ্ডের অঙ্গের পবিমাপ ও কার্যকারিতা অধ্যায়ে আছে।

কেবলমাত্র রতিক্রিয়ার কল্পনা করিয়া চরমপুলক লাভ শুধু ২% নারীর হইয়াছে। পুরুষের এইভাবে পূর্ণ শুক্ৰস্খলন হওয়ার দৃষ্টান্ত আরও কম।

ডঃ কিনযেদের উক্ত অনুসন্ধান-লব্ধ তথ্যসমুহ হুবহু অন্য দেশে বা সমাজ-ব্যবস্থায় ঠিক নাও হইতে পারে তবে মানুষের শারীরিক ও স্নায়বিক সংগঠন ও ক্রিয়াপদ্ধতি এক এই হেতু অনেকটা সত্য হইতে বাধ্য।

ডঃ কিনযেদের তালিকায় পুরুষ ও নারীর মধ্যে স্বমেহন সম্পর্কে তুলনামূলক নিম্নলিখিত পরিসংখ্যান লক্ষ্য করিবার যোগ্য :

মানব ও মানবেতর জন্তুসমুহ — নারীদের মধ্যে — নরদের মধ্যে
উক্ত অভ্যাস মানবেতর জন্তুসমূহে–কতক শ্রেণীতে–বহু শ্রেণীতে
উক্ত অভ্যাস চরমপুলক লাভ পর্যন্ত–জানা যায় নাই–কতক ক্ষেত্রে
উক্ত অভ্যাস আদিম মানব সমাজে–তথ্য কম–তথ্য কিছু

শিখিবার প্রণালী—নারী–নর

নিজে নিজে আবিষ্কারে– নারী ৫৭%– নর ২৮%
মৌখিক বা লিখিত সমাচারে– নারী ৪৩%– নর ৭৫%
চুম্বন, আলিঙ্গন, মর্দনাদির ফলে— নারী ১২%– নর —
চাক্ষুষ দৃষ্টান্ত দেখা— নারী ১১%– নর ৪০%
সমকামমূলক সংযোগে— নারী ৩%– নর ৯%

বয়স ও বিবাহের সঙ্গে সম্পর্ক

অভিজ্ঞতার সমষ্টি– নারী ৬২% –নর ৯৩%
চরমপুলকলাভের সমষ্টি– নারী ৫৮%– নর ৯২%
বয়সে–বার বৎসর পর্যন্ত— নারী ১২%– নর ২১%
বয়সে—পনব বৎসর পর্যন্ত— নারী ২০%– নর ৮২%
বয়সে—বিশ বৎসব পর্যন্ত— নারী ৩৩%– নর ৯২%

প্রক্রিয়া

যৌনাঙ্গে হস্তদ্বারা—নারী ৮৪%–নর ৯৫%
ঊরু-প্ৰচাপন—নারী ১০%–নর বিরল
নিতদাদির মাংসপেশী সঙ্কোচন-প্রসারণ—নারী ৫%–নর বিরল
যোনিনালীতে কিছু প্রবিষ্ট করাইয়া—নারী ২০%–নর —
কেবল মাত্র কল্পনা করিয়া—নারী ২%–নর বিরল

দৈহিক ফলাফল

আনন্দানুভূতি হয়—নারী হ্যাঁ—নর হ্যাঁ
দৈহিক প্রয়োজন মিটায়—নারী হ্যাঁ—নর হ্যাঁ
শারীরিক অনিষ্ট—নারী কিছুই না—নর কিছুই না

মানসিক ফলাফল

মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য আনে—নারী হ্যাঁ—নর হ্যাঁ
কদাচিৎ উৎকণ্ঠা ঘটায়–নারী ৪৭%–নর বেশীর ভাগের

হস্তমৈথুনের কুফল সম্পর্কে পুরাতন বহিপুস্তক, হেকিমী, করিরাজী শাস্ত্র ও পঞ্জিকাদি এত জোরে প্রচারণা চালাইয়া আসিতেছে যে, বালকবালিকা, কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতী সাধারণতঃ খুবই উদ্বিগ্ন থাকে। এ উদ্বেগ কুসংস্কারমূলক। ২৭ অধ্যায়ে আলোচনা দেখুন।

Share This