জীবনানন্দ দাশ কবিতা । জীবনানন্দ রচনাবলী । জীবনানন্দ রচনাসংগ্রহ

জীবনানন্দ দাশ । Jibanananda Das

জীবনানন্দ দাশ রচনাবলী – সাম্প্রতিক আপডেট

১৩. রাত দুটোর সময়

রাত দুটোর সময় খুবই কাছাকাছি কোন্ একটা বাড়ির ভেতর বড় কান্নাকাটি পড়ে গেল; মাল্যবানের ঘুম গেল ভেঙে। তাড়াতাড়ি বিছানার থেকে উঠে কম্বল গায়ে দিয়ে সে দরজা খুলে রাস্তায় নামল। তাকিয়ে দেখল ধীরেনবাবুদের সদর দরজার কাছে ভিড় জমে গেছে। ঢুকে দেখল, একটি মেয়েমানুষের শব নিচে নামানো...

১২. কিছুই ভালো লাগছিল না

চার-পাঁচ দিন কেটে গেছে। মাল্যবানের কেমন যেন—কেন যেন কিছুই ভালো লাগছিল না। চলো, আজ একটু বেড়িয়ে আসি— কোথায়? চলো আজ একটু গড়ের মাঠের দিকে যাই—মাল্যবান বললে। থাক। চলো, ভরসাঁঝে এ-রকম একা-একা বসে থাকলে মন খারাপ লাগবে— উৎপলা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বড় বাতাসে ফুল ধরা বাবলার মতো...

১১. স্ত্রী সন্তানের পাট চুকিয়ে দিয়ে

মাল্যবান যা-ই মনে করুক না কেন, স্ত্রী সন্তানের পাট চুকিয়ে দিয়ে একা-একা আইবুড়ো থেকে জীবন কাটানো খুব শক্ত হত তার পক্ষে! গোল-দীঘিতে ঘুরে-ঘুরে বারো-চৌদ্দ বছর সে অনেক হাওয়াই ফসল ফলিয়ে গেছে; সমাজসেবা, দেশস্বাধীনতার জন্যে চেষ্টা, বিপ্লবের তাড়না-তেজ, নিবৈপ্লবিক মনের চারণা,...

১০. পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়েটি

পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়েটি আঁতুড়েই মারা গেল। আমি তো তখনই বলেছিলাম, এই রকম হবে— দুতিন দিন উৎপলা কেমন একটা শোকগ্রাহিতায় আচ্ছন্ন (না, বিমুগ্ধ?) হয়ে কাটাল। বললে, আমি একটু দেখতেও পারলাম না, আমাকে একটু ডেকে দেখালও না। কী করতে তুমি দেখে? এই তো পাশাপাশি বাড়ি-মানুষ জন্মায়—মরে...

০৯. সেলাইয়ের কল

উৎপলার সেলাইয়ের কলটা অনেক দিন ধরে পড়ে ছিল-অবিশ্যি অযত্নে নয়—জিনিসের যত্ন করে সে কিন্তু অব্যবহারে। কলটার ঢাকনি সাফ করা, ঢাকনি খুলে ঝেড়েপুছে ঝকঝক করে রাখা—হাতে কাজ না থাকলে এটা তার খুবই সোহাগের কাজ। এক দিন সকালবেলা পাশের ভাড়াটেদের একটি ছোট্ট মেয়ে এসে বললে, পলা মাসিমা,...

০৮. বড় বৌঠানের সংবাদ

চার-পাঁচ দিন পরে উৎপলা পিওনের হাত থেকে একটা কার্ড নিয়ে পড়তে-পড়তে উৎফুল্ল হয়ে বললে, বড় বৌঠানের সংবাদ লিখেছে। মাল্যবান সর্ষের তেল গায়ে মাখছিল, এই বয়েসে আবার সংবাদ— বলে নিরেস চোখে-মুখে তেল মাখতে লাগল আবার। তা হবে তো। কেন হবে না? বড় বৌঠানের বয়স না কত? চুয়ান্ন। এ-রকম বুড়ো...