০৫. গোটা জ্যৈষ্ঠ্যমাসে এক ফোঁটা বৃষ্টি হয় নি

গোটা জ্যৈষ্ঠ্যমাসে এক ফোঁটা বৃষ্টি হয় নি। বৃষ্টি-বাদলা না হলে জ্বরজারি হয় না। রুগীপত্র নেই, আমিন ডাক্তার মহা বিপদে পড়ে গেল। হাত একেবারে খালি। চৌধুরীবাড়িতে ত্রিশ টাকা কর্জ হয়েছে। গত বিশ দিনে রুগী এসেছে মাত্র একটি। সুখানপুকুরের অছিমুদ্দিনের মেজ ছেলে। ভিজিটের টাকা দূরে...

০৪. শরিফার কিছুই ভালো লাগে না

শরিফার কিছুই ভালো লাগে না। এটি যেন তার নিজের বাড়ি নয়। যেন সে বেড়াতে এসেছে। পাড়া-প্রতিবেশী বৌ-ঝিরাও কেমন যেন সমীহ করে কথা বলে। একটু দূরত্ব রেখে বসে। নানান কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করে, কাটা পাওড়া কই ফালাইয়া আসছ? শরিফার অসহ্য বোধ হয়। সরু গলায় বলে, হাসপাতালেই...

০৩. রহিমা তার পুঁটলি গুটিয়ে মেয়ের হাত ধরে

রহিমা তার পুঁটলি গুটিয়ে মেয়ের হাত ধরে চৌধুরীবাড়ি চলে গেল। তার নিজের বাড়ি-ঘর কিছু নেই। চৌধুরীদের দালানের শেষ মাথায় একটি অন্ধকার কুঠরিতে সে মাঝেমধ্যে এসে থাকে। চৌধুরীরা কিছু বলে না। যত দিন এখানে থাকে, তত দিন যন্ত্রের মতো এ বাড়ির কাজকর্ম করে। যেন এটিই তার বাড়ি-ঘর।...

০২. গয়নার নৌকায়

মতি মিয়া পাঁচ দিন পর গয়নার নৌকায় ফিরে এল। সঙ্গে নুরুদ্দিন। নিখল সাব ডাক্তার (রিচার্ড এ্যালেন নিকলসন) বলেছেন সারতে সময় নেবে। অবস্থা ভালো নয়, কাটাকুটি করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাসখানেক লেগে যাওয়া বিচিত্র নয়। আমিন ডাক্তারের নাকি তেমন কাজকর্ম নেই। সে নিজেই দায়িত্ব...

০১. মতি মিয়া দ্রুত পায়ে হাঁটছিল

ফেরার গল্প ভাটি অঞ্চল নিয়ে। আমার নানার বাড়ির দেশ, যেখানে শৈশবের বর্ণাঢ্য দিনগুলি কাটিয়েছি। গল্পের মূল চরিত্রের কেউ আর বেঁচে নেই। তাদের কথা আজ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে করছি। গল্পে বেশ কিছু আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেছি। কৌতূহলী পাঠক-পাঠিকাদের জন্যে অপ্রচলিত আঞ্চলিক...

০৮. বকুল ফুলের গন্ধ

মাথার উপর উজ্জ্বল আলো। চারদিকে মুখোশ-পরা সব মানুষ। সাবাই বড় বেশি চুপচাপ। আমার একটু শীতশীত করছে। কে এক জন আমার নাকের উপর কী একটা চেপে ধরে বললেন, সহজভাবে নিঃশ্বাস নিন। বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছি। নেত্রকোণায় আমাদের বাড়ির পাশে বকুলগাছে প্রচুর ফুল ফুটত, সেই বকুলগাছে এক...

০৭. অপারেশনের ডেট

আমার অপারেশনের ডেট দিয়েছে। বুধবার সকাল নটা। যে প্রফেসর অপারেশন করবেন, তিনি এক দিন দেখা করতে এলেন। হাসতে-হাসতে বললেন, কি ভাই, কেমন আছেন? ভালেই আছি। ভয় লাগছে নাকি? জ্বি-না। দ্যাটস ভেরি গুড। আচ্ছা, আমি কি আপনাকে ঐ গল্পটা বলেছিলাম?–ঐ যে অপারেশন টেবিলে এক রুগী ভয়ে...

০৬. ভিজিটিং আওয়ার

ভিজিটিং আওয়ার চারটায়। বাবা তিনটার সময় উপস্থিত। গেটে আটকে রেখেছিল। তিনি হৈ-চৈ চেঁচামেচি করে চলে এসেছেন। কি রে, আছিস কেমন? ভালো। চিঠি পেয়েছেন তো? হ্যাঁ। আজই পেয়েছেন? হ্যাঁ। বাবা কি বলবেন তার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমার ব্যাপারে খোঁজ করবেন, নাকি বাবুলের পাঠান টাকার...

০৫. আমার হাসপাতাল জীবন

আমার হাসপাতাল জীবন শুরু হল। সোমবার বিকাল চারটায় রহমানের যোগাড়-করা জীপে চড়ে চলে এলাম হাসপাতালে। এই জীবন দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। এখন যেমন খারাপ লাগছে, এক সময় তেমন খারাপ লাগবে না। ফিনাইলের গন্ধও আপন মনে হবে। ডাক্তারদের সঙ্গে পরিচয় হবে। নার্সদের কেউ কেউ হাসপাতালের...

০৪. বাসায় ফিরলাম একটার দিকে

বাসায় ফিরলাম একটার দিকে। বন্ধুরা কেউ আসে নি তখনো। গণি সাহেব এসে একটি রেজিস্ট্রি চিঠি দিয়ে গেলেন। বাবুল ভাইয়ের চিঠি। ইংরেজিতে লেখা। যার অর্থ অনেকটা এরকম–বাবার অনেকগুলি চিঠি পেয়েছি। বুঝতে পারছি তোমাদের অবস্থা শোচনীয়। কিছু করতে পারছিলাম না। আমার নিজের অবস্থাও তাই।...
পাতা 30 / 176« ১ম...1020...2829303132...405060...শেষ »