শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)

০১. বাস থেকে নেমে

ভূমিকা – শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩) সোমেন চন্দের লেখা অসাধারণ ছোট গল্প ইন্দুরা পড়ার পরই নিম্ন মধ্যবিত্তদের নিয়ে গল্প লেখার একটা সুতীব্র ইচ্ছা হয়। নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার ও মনসুবিজন নামে তিনটি আলাদা গল্প প্ৰায় সঙ্গে সঙ্গেই লিখে ফেলি। নিজের উপর বিশ্বাসের অভাবের...

০২. তেইশ বছর আগে

তেইশ বছর আগে মা এসেছিলেন আমাদের ঘরে। তেইশ বছরে একটি বারের জন্যও নিজের বাবার প্রকাণ্ড বাড়িতে যান নি। কতই—বা দূর, বাসে চোর আনার বেশি লাগে না! এত কাছাকাছি থেকেও যেন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরের গৃহে তেইশ বছর কাটিয়ে দিলেন। হাসপাতালে মার চারপাশে তাঁর পরিচিত আত্মীয়স্বজনেরা ভিড়...

০৩. আবিদ হোসেন

ও! ইনি আবিদ হোসেন। রাবেয়া হাসিমুখে বলল। চকোলেটের প্যাকেট পেয়ে সে খুব খুশি হয়েছে। কোথায় দেখা হয়েছে তাঁর সাথে? বাসায় এসেছিলেন, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলাপ হল। ছোটবেলা তোকে নাকি লিফট্‌ দিতেন গাড়িতে? হ্যাঁ। স্কুলটা অনেক দূরে পড়ে গিয়েছিল। যাওয়ার সময় বাবা সঙ্গে যেতেন, আসবার সময়...

০৪. রুনু টেবিল-ল্যাম্প জ্বলিয়ে

রুনু টেবিল-ল্যাম্প জ্বলিয়ে কী যেন একটা লিখছিল। আমাকে দেখেই হকচাকিয়ে উঠে দাঁড়াল। লেখা কাগজটা সন্তৰ্পণে আড়াল করে বলল, কি দাদা? কোথায় কি? কী করছিলি? রুনু টেনে টেনে বলল, অঙ্ক করছিলাম। বলতে গিয়ে যেন কথা বেধে গোল মুখে। একটু বিক্ষিত হয়েই বেরিয়ে এলাম। রুনু কি কাউকে ভালোবাসার...

০৫. রুনু মারা যাবার পর

রুনু মারা যাবার পর আমার মনে হল মায়ের মৃত্যু আমি ঠিক অনুভব করতে পারি নি। মা যখন মারা যান। তখন অনেক রকম দুশ্চিন্তা ছিল, নিনুকে কে মানুষ করবে, ঘর-সংসার কী করে চলবে। কিন্তু এখন কোনো দুশ্চিন্তা নেই। রুনুর জন্যে কোনো কিছু আটকে থাকার কথা ওঠে না, কিন্তু সমস্তই যেন আটকে গেল।...

০৬. ঝুনুর ছেলে হবে

ঝুনুর ছেলে হবে। যাতে কেউ গিয়ে তাকে নিয়ে আসে, সে-জন্যে সে সবার কাছে চিঠি লিখেছে। তারা আসতে দেবে কিনা কে জানে! মোটেই ভালো ব্যবহার করছে না তারা। রুনু মারা যাবার পরও আসতে দেয় নি। তবু বাবা যাচ্ছেন আনতে। সঙ্গে রাবেয়াও যাবে। যদি ঝুনু আসে, তবে বেশ হয়। অনেক দিন দেখি না। ওকে...

০৭. মায়ের গানের রেকর্ড

মায়ের গানের রেকর্ডটা একটা লোক এসে দিয়ে গেল। খুব যত্ন করে কাগজে মোড়া। রেকর্ডের লেবেলে মায়ের নাম মিস শিরিন সুলতানা খুব অস্পষ্টভাবে পড়া যায়। হিজ মাস্টার্স ভয়েসের কুকুরের ছবিটার উপর আবার লাল কালিতে কাঁচা হাতে ইংরেজিতে মায়ের নাম লেখা হয়তো তিনিই লিখেছিলেন। বাসায় একটা সাড়া...

০৮. নিঃসঙ্গতায় ডুবছি

বাবার হঠাৎ কেন জানি শখ হয়েছে, রানার বই লিখবেন একটি। রকমারি রানার কায়দা-কানুন নোট বইয়ে লিখে রাখছেন। বাজার থেকে অনেক বইপত্রও কিনে এনেছেন। পুরানো বেগম থেকে ঘেটে ঘেটে নারকেল-ইলিশ বা ছানার ভালনার রন্ধনপ্রণালী অসীম আগ্রহে খাতায় তুলে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করছে...