মৃণ্ময়ীর মন ভালো নেই (২০০৬)

মৃণ্ময়ীর মন ভালো নেই - উপন্যাস - হুমায়ূন আহমেদ

০১. মৃন্ময়ীর ঘুম ভাঙানোর মহান দায়িত্ব

মৃন্ময়ীর ঘুম ভাঙানোর মহান দায়িত্ব যে-কাজের মেয়েটি পালন করে তার নাম–বিন্তি। তার বয়স মৃন্ময়ীর কাছাকাছি সতেরো। মৃন্ময়ীর উনিশ। বিন্তি এসেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে। এই প্রথম তার ঢাকা শহরে আসা। বড়লোকদের কাণ্ডকারখানা কিছুই তার মাথায় এখনো ঢুকছে না। ভয়ে সারাক্ষণই তার...

০২. জহির অনেকক্ষণ হলো বসে আছে

জহির অনেকক্ষণ হলো বসে আছে। যে ঘরে তাকে বসানো হয়েছে সেটা বসার ঘর না। অতি বিত্তবানদের বসার ঘরে অনেক কায়দা-কানুন থাকে। ইন্টোরিয়ার ডেকোরেটরা কালার চার্ট দেখে ঘর সাজান। হট কালার, কোল্ড কালার, অনেক জটিলতা। এই ঘরে কোনো জটিলতা নেই। বসার সোফা আছে। সোফার কভার ময়লা। একটা জায়গায়...

০৩. মৃন্ময়ীর দাদা আলিমুর রহমান

মৃন্ময়ীর দাদা আলিমুর রহমান শাদা হাফ পেন্ট পরে খালি গায়ে নিমগাছের নিচে উবু হয়ে বসে আছেন। গায়ে নিমের বাতাস লাগানোর ব্যবস্থা। কবিরাজ এই বিধান দিয়েছে। কবিরাজের নাম বিজয়কালী ঠাকুর বেদান্ত শাস্ত্রী। আলিমুর রহমানের হযমের সমস্যা কিছুই খেতে পারেন না। সকালে এক ঘণ্টা নিমের...

০৪. মীনা তার মেয়েকে গোসল দিচ্ছে

মীনা তার মেয়েকে গোসল দিচ্ছে। যথেষ্ট আয়োজনের গোসল। প্লাস্টিকের বেবি বাথটাব কেনা হয়েছে। বাথটাব ভর্তি ফেনা। টুনটুনি বাথটাবে বসে আছে। বাথটাবটা আট হয়ে তার গায়ে বসে গেছে। জহির এসে পাশে বসতে বসতে বলল, ভোম্বা মেয়েকে এমন পিচকি গামলায় ঢুকিয়ে দিলি। বের করবি কীভাবে? মীনা মুখ কালো...

০৫. হ্যালো ছন্দা

হ্যালো ছন্দা। হুঁ। কেমন আছিস? ভালো কে? গলা চিনতে পারছিস না? ও আচ্ছা মৃন্ময়ী! তুই একেক সময় একেক স্বরে কথা বলিস চিনব কীভাবে? মোবাইলের যুগে গলা চিনতে হয় না। কে টেলিফোন করেছে এম্নিতেই টের পাওয়া যায়। তার নাম উঠে। নাম্বার উঠে। খেয়াল করি নি। ঠিকই খেয়াল করেছিস। মাঝখান থেকে...

০৬. আলিমুর রহমান বড় একটা কাঠের চেয়ারে

আলিমুর রহমান বড় একটা কাঠের চেয়ারে পা তুলে জবুথবু ভঙ্গিতে বসে আছেন। তার পরনে শাদা রঙের হাফ-পাজামা হাফ প্যান্ট জাতীয় একটা জিনিস। খালি গা। চেয়ারটা নিমগাছের নিচে বসানো। তিনি নিমগাছের পাতা ভেদ করে আসা রোদ গায়ে মাখছেন। তিনি আগ্রহ নিয়ে তার সামনে দাঁড়ানো যুবকটির কাণ্ডকারখানা...

০৭. মীনা বলল, ভাইয়া তুমি কি দুপুরে খাবে

মীনা বলল, ভাইয়া তুমি কি দুপুরে খাবে? জহির বলল, না। রাতে কখন ফিরবে? দেরি হবে? দশটার মধ্যে ফিরব। মীনা বলল, ভাইয়া একটা ফ্রিজ কিনতে পার না। ফ্রিজ থাকলে খাবার নষ্ট হতো না। গরমের সময় ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খেতে কত ভালো লাগে। জহির কিছু বলল না। মীনার অতি স্বাভাবিক আচরণ মাঝে মাঝে...

০৮. ইয়াকুব আলি সকাল আটটা থেকে

ইয়াকুব আলি সকাল আটটা থেকে মৃন্ময়ীদের বাড়ির ড্রয়িং রুমে বসে আছেন। তাঁর চেহারায় দিশাহারা ভাব। বাড়িতে ঢুকে তিনি বেশ হকচকিয়ে গেছেন। মৃন্ময়ী মেয়েটা বড়লোকের মেয়ে এটা তিনি জানেন কিন্তু সে যে এমন একটা বিশাল ড্রয়িং রুমের এক কোনায় তিনি হতাশ হয়ে বসে আছেন। ম্যানেজার জাতীয় একটা...

০৯. জহির মৃন্ময়ীর হাতে ছবি দিল

জহির মৃন্ময়ীর হাতে ছবি দিল। মৃন্ময়ী অনেক্ষণ ছবির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, আপনাকে যেমন আঁকতে বলা হয়েছিল আপনি সে রকম আঁকতে পারেন নি। আপনাকে বলা হয়েছিল কঠিন চোখে দাদাজান তাকিয়ে আছেন— এমন ছবি আঁকবেন। আপনি দুনিয়ার মমতা দাদাজানের চোখে দিয়ে দিয়েছেন। এই ছবি আমি বাবাকে দিতে দেব...

১০. শাহেদুর রহমানের সামনে ফরিদ

শাহেদুর রহমানের সামনে ফরিদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সংসার। চালানোর কিছু টাকা আজ লাগবেই। বাজার হবে না এমন অবস্থা। স্যারকে ব্যাপারটা যেভাবেই হোক বুঝিয়ে বলতে হবে। বুঝিয়ে বলাটা তার জন্যে কঠিন। সে কাউকেই বুঝিয়ে কিছু বলতে পারে না। মৃন্ময়ী ম্যাডামকেও সে বুঝিয়ে বলতে পারে নি...

১১. জহির ছবি আঁকছে

জহির ছবি আঁকছে। টুনটুনি তার সামনে বসে আছে। সে গভীর আগ্রহে ছবি আঁকার কর্মকাণ্ড দেখছে। শিশুরা যেমন করে এটা-সেটায় হাত দেয়, তা করছে না। একবার শুধু রঙের টিউবের দিকে হাত বাড়িয়েছিল, জহির কঠিনচোখে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। মীনা ঘরে ঢুকল। কিছুক্ষণ ছবি আঁকা দেখল।...