নীল অপরাজিতা (১৯৯১)

নীল অপরাজিতা - উপন্যাস - হুমায়ূন আহমেদ

০১. তিনি ট্রেন থেকে নামলেন দুপুর বেলা

তিনি ট্রেন থেকে নামলেন দুপুর বেলা। দুপুর বলে বোঝার কোন উপায় নেই। চারদিক অন্ধকার হয়ে আছে। আকাশ মেঘে মেঘে কালো। বৃষ্টি এখনো নামেনি, তবে যে কোন মুহূর্তে নামবে বলে মনে হয়। আষাঢ় মাসে বৃষ্টিবাদলার কোন ঠিক নেই। এই বৃষ্টি এই রোদ। ময়মনসিংহ থেকে যখন ট্রেন ছাড়ল তখন আকাশ ছিল...

০২. থাকার জায়গা আহামরি ধরনের হবে

থাকার জায়গা আহামরি ধরনের হবে এ জাতীয় ধারণা শওকত সাহেবের ছিল না। অজ পাড়াগাঁয়ে রাজপ্রাসাদ থাকার কোনই কারণ নেই। তবে বজলুর রহমান যিনি এই জায়গার খোঁজ তাঁকে দিয়েছেন, তিনি বার তিনেক উজ্জ্বলিত গলায় বলেছেন, আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। এত সুন্দর বাড়ি যে কল্পনাও করতে পারবেন না। শওকত...

০৩. মোফাজ্জল করিম সাহেব

মোফাজ্জল করিম সাহেব ফজর ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠেন। হাত মুখ ধোয়ার আগেই চুল ধরিয়ে ভাতের হাড়ি চাপিয়ে দেন। ওজু করে নামাজ শেষ করতে করতে চাল ফুটে যায়। মাড় গেলে আগুন-গরম ভাতে তিন চামুচ ঘি ঢেলে খাওয়া শুরু করেন। খাওয়া শেষ হতে হতে সূর্য উঠে যায়। তিনি রওনা হয়ে যান স্কুলে। স্কুল তাঁর...

০৪. শওকত সাহেব বারান্দায় বসেছিলেন

শওকত সাহেব বারান্দায় বসেছিলেন। আজো তাঁর খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে। ঘুম ভেঙ্গেছে পাখির ডাকে। পাখির দল যে ভোরবেলা এত হৈ চৈ করে তিনি আগে কল্পনাও করেন নি। কবিরা পাখির ডাক নিয়ে এত মাতামাতি কেন করেন তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর কাছে যন্ত্রণার মত মনে হচ্ছে। তবে রাত কেটে ভোর হবার...

০৫. শওকত সাহেব বজরায় বাস করছেন

গত দুদিন ধরে শওকত সাহেব বজরায় বাস করছেন। প্রথম রাতে বেশ অস্বস্তি লেগেছে। বজরার দুলুনি ঠিক সহ্য হয়নি। বজরা দুলছিল না। কিন্তু তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে দুলছে। নদীর জলস্রোতের শব্দও মনে হল মাথায় চাপ ফেলছে। দ্বিতীয় দিনে সব অস্বস্তি দূর হয়ে গেল। মনে হল রাত্রি...

০৬. আজ লিখতে খুব ভাল লাগছে

আজ লিখতে খুব ভাল লাগছে। কলম চলছে দ্রুত গতিতে। আকাশ মেঘলা। অল্প অল্প বাতাস দিচ্ছে। সেই বাতাসে বজরা দুলছে। এই দুলুনীর সঙ্গে কোথায় যেন লেখার খানিকটা মিল আছে। ঘুঘু ডাকছে। ঘুঘু নামের এই বিচিত্র পাখি সকালে বা সন্ধ্যায় কেন ডাকে না? বেছে বেছে ক্লান্ত দুপুরে ডেকে দুপুরগুলিকে...