নবনী (১৯৯৩)

০১. আজ আমার বিয়ে

দুপুরে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মা এসে গায়ে হাত দিয়ে ঘুম ভাঙালেন। ব্যাকুল গলায় ডাকলেন, নবনী! নবনী!! আমি চোখ মেলতেই তিনি আমার মুখের কাছে মুখ এনে কাতর গলায় বললেন, ওঠ মা। ওঠ! আমি হকচকিয়ে উঠে বসলাম। মা এভাবে আমাকে ডাকছেন কেন? কিছু কি হয়েছে? বাবা ভাল আছে তো?...

০২. বাসরঘর

বাসরঘরে ঢুকতে ঢুকতে রাত দুটা বেজে গেল। এর মধ্যে কত সমস্যা যে হল। ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। বরযাত্রী একজনের মানিব্যাগ হারিয়ে গেল। ইরার এক বান্ধবীর কানের দুল খুলে পড়ে গেল। কলেজে পড়ে মেয়ে অথচ আকাশ ফাটিয়ে কান্না। এটা তার মার দুল। মা না-কি তাকে জ্যান্ত কবর দিয়ে ফেলবে। আমার বড়...

০৩. ঢাকার বাসা

আমি ঢাকায় ওর বাসায় উঠে এলাম। সেগুন বাগিচায় অফিসের সাথেই বাসা। একতলা দোতলা জুড়ে অফিস। দোতলার পেছন দিকে ওর বাসা। একটা মোটে ঘর। বারান্দার খানিকটা অংশ আলাদা করে রান্নাঘর। গ্যাসের ব্যবস্থা নেই। কেরোসিনের চুলায় রান্না। বারান্দায় অন্য মাথায় বাথরুম। বাথরুম এবং রান্নাঘরের...

০৪. সফিক সাহেবের বাড়ি

দেখলে কত বড় বাড়ি? সে এমনভাবে বলল যেন বাড়িটা ওর নিজের। আমি হাসলাম। ওর ছেলেমানুষিগুলো এখন আমার চোখে পড়তে শুরু করেছে। দোকানে কেনাকাটার সময় প্রথম চোখে পড়ল। যা দেখছে তা-ই দাম করছে। জাপানি একটা ডিনার সেট দাম করল। বাহান্ন পিসের সেট— দাম তের হাজার টাকা। সে গম্ভীর গলায় বলল,...

০৫. দরজার কড়া

অনেকক্ষণ ধরে দরজার কড়া নাড়ছে। আমাদের বাসায় কলিংবেল নেই। কেউ এলে কড়া নাড়ে। বিশ্ৰী খটাং খটাং শব্দ হয়। আমি বাথরুমে গায়ে পানি ঢালছি আর কড়া নাড়ার শব্দ শুনছি। কে এসেছে ভর দুপুরে? আমি কি করব? ভেজা গায়ে দরজা খুলিব? কে হতে পারে? তাড়াতাড়ি গায়ে কোনমতে একটা শাড়ি জড়িয়ে দরজা খুলে...

০৬. নোমান ফিরল

সাতদিনের জায়গায় দশদিন পার করে নোমান ফিরল। রোদে পুড়ে চেহারা এমন হয়েছে যে তাকানো পর্যন্ত যায় না। এর সঙ্গে আছে কাশি। খুক খুক, খুক খুক কাশি লেগে আছে। ঘরে ঢোকার পর থেকেই কাশছে। খুব পরিশ্রম হচ্ছে নবনী। ছবি তৈরি যে কি কঠিন কাজ তুমি ধারণাই করতে পারবে না। একটা সাধারণ দুই...

০৭. ড্রেসিং টেবিল

আমাদের ড্রেসিং টেবিলটা চলে এসেছে। গাবদা ধরনের একটা জিনিস। আয়নাটাও বোধহয় সস্তা— মুখ কেমন বাঁকা দেখা যায়। যে পালিশের জন্যে এতদিন দেরী হল সেই পালিশে ড্রেসিং টেবিলের কোন উন্নতি বলে মনে হল না। ম্যাট ম্যাটে রঙ। নোমান হাসি মুখে বলল, কি জিনিসটা সুন্দর না? আমি বললাম, সুন্দর।...

০৮. বাড়িতে গিয়েছি

প্রায় ন মাস পর বাড়িতে গিয়েছি। নিখুঁত হিসাব হল আট মাস সতেরো দিন। নোমান আমার সঙ্গে আসতে পারে নি। তার ছবির কাজ পুরোদমে চলছে। তাদের না-কি দু মাসের মধ্যে ছবি শেষ করতে হবে। চল্লিশ মিনিটের ছবি। তারা চেকোস্লোভাকিয়ায় শর্ট ফ্রিম ফেষ্টিভ্যালে ছবি পাঠাবে। সময় পেলে ইংরেজিতে ডাব...

০৯. মানুষের চরিত্র

মানুষের চরিত্রের একটা অংশ উদ্ভিদের মত। উদ্ভিদ যেমন মাটিতে শিকড় ছেড়ে দেয়, মানুষও তাই করে। কিছু দিন কোথাও থাকা মানে সেখানে শিকড় বসিয়ে দেয়া। মাটি যদি চেনা হয়। আর নরম হয় তাহলেতো কথাই নেই। দশদিন মার কাছে ছিলাম। এই দশদিনে শিকড় গজিয়ে গেল। সেখান থেকে উঠে আসা মানে শিকড় ছেড়ে...

১০. কলিংবেল

ক্রিং ক্রিং করে কলিংবেল বাজছে। আমাদের বাসায়তো কলিংবেল ছিল না। কলিং বেল কোথেকে এল? নতুন কলিং বেল লাগিয়েছে না-কি? আমি অবাক হয়েই দরজা খুললাম। কে এসেছে সেটা দেখার চেয়ে কলিং বেলটা দেখার জন্যেই আমার আগ্রহ বেশি। দরজা খুলে দেখি সফিক সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। আজো তাঁর গায়ে নীল হাফ...

১১. ছবির স্যুটিং

নোমান বলছিল ছবির স্যুটিং খুব বিরক্তিকর। আমি দেখছি ব্যাপারটা মোটেই সে রকম না। আমার বিরক্তিতো লাগছেই না। বরং মজা লাগছে। আমি ছবির কিছুই জানি না। তবু বুঝতে পারছি। সফিক সাহেব ছবির কাজ খুব ভালই বুঝেন। একেবারে এলাহি কারবার। দিনের বেলা কাজ হচ্ছে অথচ মাঠের মাঝখানে মাঝখানে লাইট...