চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক (২০০৯)

চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক - উপন্যাস - হুমায়ূন আহমেদ

০১. শামসুল আলম

When I am dead, dearest, Sing no sad songs for me; Plant thou no roses at my head, Nor shady cypress tree. আসুন, আপনাদের কয়েকজন যুবকের একটি গল্প বলি। গল্পটি মিথ্যা, তবে যে শহর নিয়ে এই গল্প সেই শহরটি সত্যি। যে চাঁদের আলোয় গল্প সাজানো হয়েছে, সেই চাঁদের আলেও সত্যি। যাদের...

০২. দ্বিতীয় যুবকের নাম মজিদ

দ্বিতীয় যুবকের নাম মজিদ। আবদুল মজিদ। আবদুল মজিদের কাছে এলে তার বন্ধু-বান্ধবদের সময় ভালো কাটে এই তথ্য মজিদের ফুপু এবং ফুপা দুজনের কেউই জানেন না। তারা মজিদকে চেনেন এক জন অপদাৰ্থ, অকৰ্মণ্য স্বল্পবুদ্ধির মানুষ হিসেবে ইতোমধ্যেই চোর হিসেবে যার কিঞ্চিৎ অখ্যাতি রটেছে। মজিদ...

০৩. মির্জা সাহেব কোমল গলায় ডাকলেন

মির্জা সাহেব কোমল গলায় ডাকলেন, এই পলিন, এই! পলিনের ঘুম ভাঙ্গল না। ঘুমের মধ্যেই বড় করে নিঃশ্বাস নিল। একটু যেন চমকাল। শীতের রাতে গায়ের উপর থেকে লেপ সরে গেলে যেভাবে শিশুরা চমকে উঠে আবার নিথর হয়ে যায় ঠিক সেরকম। পলিন মা, আমরা এসে গেছি। এয়ার হোস্টেস ঢাকা শহরের তাপমাত্রা...

০৪. স্টেডিয়ামের রেস্টুরেন্ট

স্টেডিয়ামের যে রেস্টুরেন্টে আলম এবং মজিদ বসে আছে সেখানেও আলো নেই। ক্যাশিয়ারের টেবিলে একটি মাত্র ইমার্জেন্সি বাতি জ্বলছে। আর একটি মামবাতি জ্বলছে হাত দেয়ার জায়গায়। বাইরের ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলেও ইলেকট্রিসিটি এখনো আসে নি। রেস্টুরেন্টের সামান্য আলোতেও খাওয়া-দাওয়া চলছে। মজিদ...

০৫. মির্জা সাহেব ঘড়ি দেখলেন

মির্জা সাহেব ঘড়ি দেখলেন। দুটা চল্লিশ। তিনি খানিকক্ষণ ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। দুটা চল্লিশ হবে কেন? ঘড়ির সময় কি বদলানো হয় নি? এ রকমতো কখনো হয় না। তিনি ঘড়ির ব্যাপারে খুব সজাগ। আজ নিশ্চয়ই পলিনের কারণে সব এলোমললা হয়ে গেছে। তাঁর সমস্ত ইন্দ্ৰিয় জুড়ে আছে মেয়েটি। মির্জা...

০৬. রেসকোর্সের মাঠে

মজিদ বলল, রেসকোর্সের মাঠে যাবি না-কি? কেউ জবাব দিল না। মনে হচ্ছে সবাই কিছুটা ক্লান্ত। মাহিন বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে। তার পিছিয়ে পড়াটা ইচ্ছাকৃত। সিগারেট খেতে হবে প্যান্টের পকেটে চারটা ইমার্জেন্সি সিগারেট আছে। তারই একটা সে ধরাল। অন্যরা টের পেলে মুশকিল হবে। মাহিন...

০৭. ইসলাম ব্রাদার্সের আঠারতলা দালানের চত্বর

দলটি আবার ঢুকল ইসলাম ব্রাদার্সের আঠারতলা দালানের চত্বরে। ঢোকার মুখে স্থূপ করে রাখা রডে পা বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল মজিদ। যে কোনো পতনের দৃশ্য হাস্যরস তৈরি করে। এই দৃশ্যটি করল না। বরং সবাই মিলে খানিকটা শংকিত বোধ করল। মাহিন বলল, ব্যথা পেয়েছিস? মজিদ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে...

০৮. হাতে রক্ত লেগে আছে

অনেকক্ষণ কড়া নাড়ার পর মজিদের ফুপা দরজা খুললেন। তিনি কিছু বলার আগেই মজিদ বলল, ভালো আছেন ফুপা? জমির সাহেব থমথমে গলায় বললেন, রাত দুপুরে এটা কী ধরনের রসিকতা? মজিদ উদাস গলায় বলল, রসিকতা না ফুপা। কিছুক্ষণ আগে একটা খুন করে আসলাম। ফুপুকে ডেকে তোলেন। সাবান আর পানি দিতে বলেন।...