কৃষ্ণপক্ষ

কৃষ্ণপক্ষ । উপন্যাস । হুমায়ূন আহমেদ

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০১

কৃষ্ণপক্ষ । হুমায়ূন আহমেদ উৎসর্গ অধ্যাপক মোঃ আবদুল বায়েছ ভূঞা প্রিয়জনেষু আমার ব্যালকনির জানালা বন্ধ করে রেখেছি কারণ, কানড়বার শব্দ আমার পছন্দ নয়। তবু ধূসর দেয়ালের আড়াল থেকে কানড়বা ছাড়া আর কোন কিছুরই শব্দ শোনা যায় না। ( লোরকা ) ॥ ১ ॥ ‘নোটটা বদলাইয়া দেন আফা, ছিড়া নোট।‘...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০২

॥ ২ ॥ শফিকুর রহমান বাড়ি ফিরলেন রাত সাড়ে দশটায়। সাড়ে দশটা হচ্ছে তাঁর বাড়ি ফেরার শেষ লিমিট। এপার্টমেন্ট হাউস। এগারোটার সময় কলাপসেবল গেট বন্ধ হয়ে যায়। যারা গভীর রাতে বাড়ি ফেরে তাদের স্ত্রীদের চাবি হাতে বসে থাকতে হয়। শফিকুর রহমান তাঁর স্ত্রী জেবাকে এই ঝামেলা পোহাতে দেন...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৩

॥ ৩ ॥ রাগে “হাত কামড়াতে“ ইচ্ছা করছে। এই বাগধারা কার সৃষ্টি কে জানে। মুহিবের এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে এরচে‘ সঠিক বাগধারা বাংলা সাহিত্যে আর নেই। সত্যি সত্যি তার হাত কামড়াতে ইচ্ছা করছে। চিটাগাং যাবার জন্যে তৈরি হয়ে সে ভোর আটটায় চলে এসেছে। কারণ তার দুলাভাই মানুষটি অফিসে আসেন...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৪

॥ ৪ ॥ অরুদের বাড়ির নাম রূপ নিলয়। দশ কাঠা জায়গা নিয়ে বেশ বড় বাড়ি। সামনে বাগান আছে। উল্লাসিত হবার মত বাগান না বরং বিরক্ত হবার মত বাগান। যে-কেউ এই বাগান দেখে ভুরু কুঁচকে বলবে এত সুন্দর জায়গাটাকে গর্ত-টর্ত খুঁড়ে এসব কি করেছে? আপাতদৃষ্টিতে যেগুলিকে গর্ত বলে মনে হচ্ছে তার...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৫

॥ ৫ ॥ মহসিন বলল, শালা হারামী। এই-জাতীয় গালি সে কিছুক্ষণ পর পর দিচ্ছে। যাকে দেয়া হচ্ছে সে অবশ্যি শুনছে না। সে দশটনি ট্রাক নিয়ে ছুটে যাচ্ছে। যার পেছনে বাম্পারে লেখা – মায়ের দোয়া। এই ট্রাক ড্রাইভার মহসিনকে সাইড দিচ্ছে না। অন্যদের দিচ্ছে কিন্তু মহসিনের পিকআপকে...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৬

॥ ৬ ॥ মীরুর মুখ শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। আবীর দুপুর থেকে কিছু মুখে দিচ্ছে না। ঠোঁট শক্ত করে বন্ধ করে আছে। গা একটু গরম। সেই উত্তাপ অবশ্যি থার্মোমিটারে ধরা পড়ছে না। মীরুর ধারণা জ্বর আছে। সে খানিকক্ষণ পর পর ছেলের কপালে এবং বুকে হাত রাখছে। মীরুর মা বেশ বিরক্ত হচ্ছেন। সেই...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৭

॥ ৭ ॥ সাদা রঙের পিক-আপ ধানক্ষেতে পড়ে আছে। ঢাকা চিটাগাং হাইওয়েতে গাড়ির ভিড়। এরা কেউ থামছে না। বরং একসিডেন্টের কাছাকাছি তাদের গাড়ির গতি বেগ বেড়ে যাচ্ছে। এখন গাড়ি থামানোই সমস্যা। আহত মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এসে পড়তে পারে। কেই মারা গিয়ে থাকলে সমস্যা আরো...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৮

॥ ৮ ॥ ডাক্তার সাহেব বললেন, এখানে শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই। আমাদের যা করার আমরা করছি। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন। হৈচৈ, কানড়বা-কাটিতে সমস্যা হয়। জেবা শান্ত স্বরে বলল, আমি তো কানড়বাকাটি করছি না। ‘তবু বাইরে থাকুন। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আমরা রুগীর আত্মীয়-স্বজন রাখি না।...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৯

॥ ৯ ॥ মুহিবের সব বন্ধুরাই এখনো আছে। চারজন ছিল, তার সঙ্গে আরো দুজন যুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের নাম তোফাজ্জল। সে হাসপাতালের ডাক্তারদের বড় বিরক্ত করছে। দশ মিনিট পর পর হাত কচলাতে কচলাতে জিজ্ঞেস করছে, স্যার অবস্থা কি রকম দেখছেন? ইমপ্রুভমেন্ট বোঝা যায়? ব্লাড লাগবে কি-না...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ১০

॥ ১০ ॥ রাহেলা বললেন, রাত তো অনেক হয়েছে, দশটা প্রায় বাজে খেয়ে যাও না। আবরার লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, জ্বি না। এখন উঠব। অনেক দেরি করে ফেললাম। অরু বলল, উঠব বলে তো বসেই আছেন। উঠছেন তো না। মীরু তাকাল শাসনের ভঙ্গিতে। চোখের ভাষায় বলার চেষ্টা – এসব কি হচ্ছে? রাহেলা বললেন,...

কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ১১

॥ ১১ ॥ পঁচিশ বছর পরের কথা। অরুর বড় মেয়ে রুচির আজ বিয়ে। বিরাট আয়োজন। ছাদে প্যাণ্ডেল হয়েছে। পাঁচশ‘র মত মানুষ দাওয়াত করা হয়েছিল – ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে হাজারের ওপর দাওয়াতী মেহমান এসে পড়েছে। সমস্যা হচ্ছে আকাশের অবস্থা ভাল না। সারাদিন ঝকঝকে রোদ গিয়েছে। সন্ধ্যা...