আশাবরী (১৯৯১)

আশাবরী - উপন্যাস - হুমায়ূন আহমেদ

১. তিন মাস ধরে কোন আয়না নেই

“যদি আজ বিকেলের ডাকে তার কোন চিঠি পাই? যদি সে নিজেই এসে থাকে যদি তার এতকাল পরে মনে হয় দেরি হোক, যায়নি সময়?”   ০১. জানেন, আমাদের বাসায় গত তিন মাস ধরে কোন আয়না নেই। ঠাট্টা করছি। সত্যি নেই। একমাত্র আয়নাটা ছিল বাবার ঘরে। ড্রেসিং টেবিল নামের এক বস্তুর সঙ্গে লাগানো। একদিন...

২. বাবা এবার খুব হাসি খুশী

বাবা এবার খুব হাসি খুশী হয়ে ফিরেছেন। সব বার এরকম হয় না। যতবার বাইরে থেকে আসেন তাঁকে ক্লান্ত লাগে, মনে হয় খানিকটা বয়স যেন বেড়েছে। মাথার কয়েকটা চুল বেশী পাকা। চোখের নীচটা যেন আগের চেয়েও সামান্য বেশী ঝুলেছে। এবার ব্যতিক্রম হল। বাবার মাথার সব চুল কুচকুচে কাল। পান খাওয়ার...

৩. পচা মাছের মাথা খেয়ে

পচা মাছের মাথা খেয়ে আমাদের কিছু হলো না, বাবার খুব শরীর খারাপ করল। পেট নেমে গেল, সেই সঙ্গে যুক্ত হল বমির উপসর্গ। ভাইয়া বলল, কলেরা বাঁধিয়ে বসেছ নাকি বাবা? বাবা ক্ষীণ স্বরে বললেন, বাঁচব না রে। বাঁচব না। আমার দিন শেষ। বাবার এই ঘোষণায় আমরা বিশেষ বিচলিত হলাম না কারণ সামান্য...

৪. দেড়মাস পার হল বাবা ফিরলেন না

দেড়মাস পার হল বাবা ফিরলেন না। এর আগে কখনো এতদিন বাইরে থাকেন নি। পনেরো দিন আগে মনি অর্ডারে তের শ টাকা পাঠিয়েছেন। কুপনে গুড়ি গুড়ি অক্ষরে লেখা– পর সমাচার, আমি ভাল আছি। দেশের সামগ্রিক অবস্থা খারাপ। কাজেই ব্যবসা বাণিজ্যও খারাপ। কি কৰিব বুঝিতে পারিতেছিনা। জ্বর...

৫. কাউকে মারা যেতে দেখেছেন

আচ্ছা আপনি কি খুব কাছ থেকে কাউকে মারা যেতে দেখেছেন? একজন মানুষ মারা যাচ্ছে আর এক গাদা লোক তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আপনি সেই একগাদা মানুষের একজন–সেই কথা বলছি না। একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, আপনি তার হাত ধরে পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরে আর কেউ নেই। এমন অবস্থা কি আপনার জীবনে...

৬. দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম

দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুমুব বলে শুইনি। কেন জানি খুব ক্লান্ত লাগছিল। মা ডাকলেন, খেতে আয় বেনু। আমি বললাম, আসছি। বলেই বিছানায় শুয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে ঘুম। মা ডেকে তুললেন না। মা আগের মত নেই। একবার ডেকেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। সারাদিন না খেলেও দ্বিতীয়বার ডেকে কিছু বলবেন না।...

৭. বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্যে

বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্যে যে একমাস সময় দেয়া হয়েছিল সেই একমাস সাতদিন আগে পার হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে কেউ কিছু বলছে না। সুলায়মান চাচার তিন মেয়ে এবং তাঁদের স্বামীদের সঙ্গে আমাদের বেশ কবার দেখা হয়েছে। তাঁরা আমাদের কিছু বলেন নি। সবাই এমন ভাব করেছেন যেন আমাদের দেখতে পান নি।...

৮. ভাইয়া মারা গেল

ভাইয়া মারা গেল উনিশ দিনের দিন। সে কমায় চলে গিয়েছিল, শেষের পাঁচদিন আশে পাশের জগৎ সম্পর্কে তার কোন ধারণা ছিল না। মৃত্যুর আগে আগে পূর্ণ জ্ঞান ফিরে পেল। দুলু আপাকে দেখে বিস্মিত হয়ে বলল–আরে দুলু তুমি! তুমি এখানে কি করছ? দুলু আপা সবাইকে অগ্রাহ্য করে কাছে এগিয়ে গেলেন।...