আমার আছে জল

আমার আছে জল - হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস। আমার আছে জল অবলম্বনে ২০০৮ সালে একই নামে হুমায়ুন আহমেদে একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

আমার আছে জল – ০১ম পরিচ্ছেদ

আমার আছে জল – ০১ম পরিচ্ছেদ

রেল স্টেশনের এত সুন্দর নাম আছে নাকি? “সোহাগী”। এটা আবার কেমন নাম? দিলু বললো—আপা, কি সুন্দর নাম দেখছ? নিশাত কিছু বললো না। তার ঠাণ্ডা লেগেছে। সারারাত জানালার পাশে বসেছিলো। খোলা জানালায় খুব হাওয়া এসেছে। এখন মাথা ভার ভার। কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ত নাক দিয়ে জল ঝরতে শুরু করবে।...

আমার আছে জল – ০২য় পরিচ্ছেদ

নিশাত একটা কাঠের বেঞ্চিতে লাল চাদর গায়ে দিয়ে বসেছিলো। রোদ পড়েছে তার মুখে। শীতের বাতাসে তার কপালে ছোট ছোট কিছু চুল নাচছে। সে বসে আছে বিষন্ন ভঙ্গিতে। তার ফর্সা গালে লাল চাদরের আভা পড়েছে। দিলু ফিস ফিস করে বললো—আপা কত সুন্দর, দেখেছেন? হ্যাঁ, দেখলাম। আপাকে ডেকে সঙ্গে নিয়া...

আমার আছে জল – ০৩য় পরিচ্ছেদ

রেহানা বাবুকে নিয়ে অনেক দূর চলে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলো সাব্বির। সাব্বির তাঁর দূর-সম্পর্কের ভাগ্নে। সাব্বিরে এখানে আসার কথা ছিলো না। হঠাৎ করেই এসেছে। এই হঠাৎ করে আসার অন্য কোন অর্থ আছে কিনা রেহানা তা বুঝতে চেষ্টা করছে। কিন্তু সাব্বির ছেলেটি হয় খুব চাপা কিংবা...

আমার আছে জল – ০৪র্থ পরিচ্ছেদ

গাড়িতে গুছিয়ে বসতে বসতে ন’টা বেজে গেলো। প্রথম কথা হয়েছিলো একটিতে যাবে শুধু মালপত্র। অন্য দু’টির একটিতে জামিল ও সাব্বির এবং আরেকটিতে দিলুরা। কিন্তু নিশাত বললো, আমি মা, বাবুকে নিয়ে একটি গাড়িতে একা যেতে চাই। কেন? কোন কেন-টেন নেই। এমনি যেতে চাই। সব সময় তুই একটা ঝামেলা...

আমার আছে জল – ০৫ম পরিচ্ছেদ

তারা নীলগঞ্জে ডাকবাংলোয় এসে পৌঁছলো বিকেল চারটার দিকে, তখন আলো নরম হয়ে এসেছে। শীতের উত্তরী হাওয়া বইছে। ডাকবাংলোটি চমৎকার। ফিসারিজের বাংলো। হাফ বিল্ডিং। উপরের ছাদ টালীর, মন্দিরের গম্বুজের মত উঁচু হয়ে গেছে। বাড়ি যত বড় তার চেয়েও বড় তার বারান্দা। সেখানে কালো একটি গোল...

আমার আছে জল – ০৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ

পানি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়ার ধাঁধাটি ওসমান সাহেবের মাথায় ঘুরতে শুরু করেছে দুপুর থেকে। ওসমান সাহেব নিজের ওপরই বিরক্ত হচ্ছিলেন। ধাঁধার মত সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে এই বয়সে কেউ এমন চিন্তিত হয়ে পড়ে না। কিন্তু তিনি হচ্ছেন। এটা কি বয়সজনিত স্থবিরতা? তিনি কেমন যেন...

আমার আছে জল – ০৭ম পরিচ্ছেদ

রাতের খাবার দেয়া হলো ন’টার দিকে। দেখা গেলো কারোরই খাওয়ার দিকে মন নেই। শুধু সাব্বির, খাবার দেয়া হয়েছে শোনামাত্র, এসে বসেছে এবং খেতে শুরু করেছে। রেহানা বাবুকে কিছু একটা মুখে দেয়াবার জন্য আবার ঘরে এসে সাব্বিরের একা একা খাওয়ার দৃশ্যটি দেখলেন। সাব্বির ঘন ঘন পানি খাচ্ছে।...

আমার আছে জল – ০৮ম পরিচ্ছেদ

নিশাত খুব ভোরে জেগে উঠলো। তখনো অন্ধকার কাটেনি। পূবের আকাশ লাল হতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশা চারদিকে। নিশাত দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। মাথার যন্ত্রণা আর নেই। শরীর ঝরঝরে লাগছে। প্রচণ্ড ক্ষিধে। এত ভোরে নিশ্চয়ই আর কেউ জাগেনি। নিশাত টুথব্রাশ হাতে বারান্দায় হাঁটতে লাগলো। এত সুন্দর...

আমার আছে জল – ০৯ম পরিচ্ছেদ

শিকারে যাবার প্রোগ্রাম হঠাৎ করেই হয়েছে। নীলগঞ্জ থানার ও সি সাহেব সকালবেলা একটি দোনলা বন্দুক আর একগাদা ছররা গুলি নিয়ে উপস্থিত—স্যার, শিকারে যাবেন নাকি? বড়গাঙ্গের চরে বালিহাঁস পড়েছে। কায়দামত একটা গুলি করতে পারলে বিশ-পঁচিশটা পাখি পড়বে। বলেন কি? স্যার, একটা স্পীডবোটের...

আমার আছে জল – ১০ম পরিচ্ছেদ

ওসমান সাহেব হুইস্কির বোতল নিয়ে বসেছেন। তাঁর ভাগ্য ভালো বরফের জোগাড় হয়েছে। ওসি সাহেব জীপ পাঠিয়ে বরফ আনিয়েছেন। শুধু বরফ নয় তিনি এক কেস বিয়ার এনেছেন। ওসমান সাহেব বিয়ার খান না। তবু খুশী হলেন। প্রথম দিনে এই ওসির উপর এতটা বিরক্ত হওয়া ঠিক হয়নি। ওসমান সাহেব সত্যিকার অর্থেই...

আমার আছে জল – ১১শ পরিচ্ছেদ

রোস্ট জিনিসটি যে খেতে এত ভাল হবে রেহানা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁর আফসোস হতে লাগলো তিনি পাশে বসে রান্নার পুরো ব্যাপারটা কেন দেখলেন না। সাব্বির বললো—আমি খুব গুছিয়ে লিখে রেখে যাব আপনার যখন ইচ্ছা রান্না করতে পারবেন। বালি হাঁস ছাড়া সাধারণ হাঁস দিয়ে রান্না হবে? জানি না।...

আমার আছে জল – ১২শ পরিচ্ছেদ (শেষ)

দিলু ভাসছিল মাঝপুকুরে। তার পরনে লাল একটা স্কার্ট। মাথার কালো চুল চারদিকে ছড়ানো। দীঘির সবুজ জলের ব্যাকগ্রাউণ্ডে একটি অসাধারণ কম্পোজিশন। একজন ফটোগ্রাফার এরকম একটি দৃশ্যের জন্যে সারা জীবন অপেক্ষা করে। সাব্বির দীর্ঘ সময় দিলুর ভেসে থাকা শরীরটির দিকে তাকিয়ে রইলো। ভোরের আলো...