আজ আমি কোথাও যাব না (২০০২)

আজ আমি কোথাও যাব না - উপন্যাস - হুমায়ূন আহমেদ

০১. নাকের ভেতর শিরশির করছে

উৎসর্গ মানুষ পৃথিবীতে এসেছে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নিয়ে। শোনা যায় কিছু মহাসৌভাগ্যবান মানুষ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নিয়েও আসেন। আমার কপাল মন্দ, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দূরের কথা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের এক ইন্দ্রিয় কাজ করে না। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে আমি কোনো কিছুর গন্ধ পাই না। ফুলের ঘ্রাণ, লেবুর ঘ্রাণ, ভেজা...

০২. কৈ মাছের তরকারিটা

কৈ মাছের তরকারিটা খেতে এত ভালো হয়েছে। মনে হলো গত দশ বছরে তিনি এমন রান্না খান নি। ছোট ছোট আলু দিয়ে রান্না। ধনেপাতার হালকা গন্ধ। কাঁচা মরিচের ঝাল। ঝালটা জিভে লেগে থাকে, কখনো মিলায় না। টমেটোও দেয়া হয়েছে। টমেটো গলে যায় নি। আস্তু আছে। গলে গেলে কৈ মাছে টুক ভাব চলে আসত, সেটা...

০৩. মানুষটাকে চেনা চেনা লাগছে

মানুষটাকে চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু ঠিকমতো চেনা যাচ্ছে না। তার কী নাম, তার সঙ্গে কোথায় দেখা হয়েছে কিছুই মনে পড়ছে না। শামসুদ্দিন অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে আছেন। তাঁর সামনে দাঁড়ানো মানুষটা রীতিমতো সুটেট বুটেট। সোনালি রঙের ব্লেজার, লাল টাই। মাথায় হালকা নীল রঙের ক্যাপ। সোনালি...

০৪. ঘরে কি টেলিভিশন চলছে

ঘরে কি টেলিভিশন চলছে? টেলিভিশনের শব্দই তো আসছে। কার্টুন চ্যানেল। ঝা ঝুমঝুম ঋ মিউজিক। পৃথুর হাসি শোনা যাচ্ছে। এই ছেলেটার হাসি খুব অদ্ভুত। খিলখিল করে হাসতে হাসতে হঠাৎ থেমে একেবারে চুপচাপ। একশ কিলোমিটারের গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষে থেমে গেল। শামসুদ্দিনের মনে হলো তিনি স্বপ্ন...

০৫. টিম্বার মার্চেন্ট এস আলম অ্যান্ড সন্স

টিম্বার মার্চেন্ট এস আলম অ্যান্ড সন্স এর অফিসে তিনঘণ্টা দশ মিনিট ধরে জয়নাল বসে আছে। এস আলম সাহেবের সঙ্গে জয়নালের দেখা হয়েছে। জয়নাল তাকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছে যে তার কিছু টাকা দরকার। সাহায্য না, ঋণ! ছমাসের জন্য সুদমুক্ত ঋণ। আমেরিকায় যাবার টিকিট কেনার জন্যে টাকাটা...

০৬. অনেকক্ষণ ধরে দরজার কড়া নড়ছে

অনেকক্ষণ ধরে দরজার কড়া নড়ছে। জয়নাল উঠতে পারছে না। কড়াইয়ে তেল গরম হচ্ছে, ডিমের ওমলেট হবে। কাঁচা তেলে ডিম ঢেলে দিলে তেলের গন্ধ থাকবে। তেল বেশি গরম হয়ে গেলে আবার ধক করে তেলে আগুন জ্বলে উঠবে। এই কড়াইটার হয়তো কোনো সমস্যা আছে। তেল সামান্য গরম হলেই আগুন লেগে যায়। জয়নাল বলল,...

০৭. পৃথু কাঁদছে

পৃথু কাঁদছে। শামসুদ্দিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে ছেলেটার কান্না শুনছেন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না। বেচারা কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করছে, পারছে না। নিশ্চয়ই কোনো কঠিন শাস্তির ভেতর দিয়ে তাকে যেতে হচ্ছে। শামসুদ্দিনের ইচ্ছা করছে ছেলেটাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। সকালে ঘুম ভাঙবে...

০৮. দুঃস্বপ্ন দেখে জয়নালের ঘুম ভেঙেছে

দুঃস্বপ্ন দেখে জয়নালের ঘুম ভেঙেছে। সে বিছানায় জবুথবু হয়ে বসে আছে। টিনের চালে ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টিভেজা ঠাণ্ডা বাতাস আসছে। ব্যাঙ ডাকছে। রীতিমতো বর্ষা-পরিবেশ। জয়নাল ঘড়ি দেখল, তিনটা সাত বাজে। পানি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়া যায়। গায়ে চাদর দিয়ে শুয়ে পড়লে...

০৯. আছরের নামাজ

শামসুদ্দিন সাহেব আছরের নামাজ পড়তে পারলেন না। নামাজে দাঁড়ানোর পর থেকে তার হচি শুরু হয়ে গেল। তিনি নামাজ রেখে জায়নামাজে বসে পড়লেন। হাঁচি বন্ধ হলো না। এক সময় নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে লাগল। হাঁচির সময় মাঝে মাঝে রক্ত যায় কিন্তু এরকম অবস্থা কখনো হয় না। শামসুদ্দিন সাহেবের...

১০. পৃথু খুব মজার একটা স্বপ্ন দেখছে

পৃথু খুব মজার একটা স্বপ্ন দেখছে। বড়মামা হাঁচি কম্পিটিশনে নাম দিয়েছেন। তিনি সাদা রঙের জার্সি পরে বিশাল একটা মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে খুঁচি দিচ্ছেন। একজন সবুজ রঙের পোশাক পরা মহিলা রেফারি, হাতে স্টপওয়াচ নিয়ে হাঁচির সংখ্যা গুনছে–ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর, ফাইভ। মাঠের চারদিকে...