তারা তিন জন (২০০২)

তারা তিন জন - সায়েন্স ফিকশন - হুমায়ূন আহমেদ

০১. লী আকাশের দিকে তাকাল

লী আকাশের দিকে তাকাল। লী যা করে, অন্য দুজনও তাই করে। তারাও আকাশের দিকে তাকাল। আকাশের রঙ ঘন হলুদ। সন্ধ্যা হয়ে আসছে বলেই হলুদ রঙ ক্ৰমে ক্ৰমে ঘঘালাটে সবুজ বর্ণ ধারণ করছে। লী হঠাৎ বলল, আকাশের বাইরে কী আছে? এই প্রশ্ন আগেও অনেক বার করা হয়েছে, তবু প্রতিবারই মনে হয় এই যেন...

০২. স্কাউটশিপের এনথ্রোমিটারের কাঁটাটি

স্কাউটশিপের এনথ্রোমিটারের কাঁটাটি লাল ঘরে। যার অর্থ এ গ্রহে মানুষের পক্ষে জীবন ধারণ করা সম্ভব নয়। শুধু মানুষ নয়, অক্সিজেন নির্ভর কোনো প্রাণীর পক্ষেই সম্ভব নয়। এখানে বাতাসে আছে মিথেন এবং হাইড্রোজেন। খুব অল্প মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড। কোথাও কোনো পানির চিহ্ন নেই।...

০৩. এ রকম অসম্ভব ঘটনাও ঘটে

এ রকম অসম্ভব ঘটনাও ঘটে। অয়ু সমগ্র ব্যাপারটি চোখের সামনে ঘটতে দেখল। প্ৰকাণ্ড বড় জিনিস থেকে ছোট্ট জিনিসটি নেমে এল মাটিতে। তার মধ্যে দুটি কী যেন বসে আছে। তারা কে? দু জনের কম্পনাঙ্ক রকম। এক জনের মধ্যে আরে এ কি! অয়ুর মনে হল একজনের সমস্ত চিন্তাভাবনা সে বুঝতে পারছে। এতে অবাক...

০৪. লী ও নীম নিঃশব্দে হাঁটছিল

লী ও নীম নিঃশব্দে হাঁটছিল। হাঁটবার সময় এরা সচরাচর কথা বলে না। লুখগুলি শরীরের ভেতর লুকানো থাকে। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া বের করে না। সকালবেলার দিকে তারা ঘরগুলির সামনে এসে দাঁড়াল। ঝড় নেই। শান্ত ভাব চারদিকে। লী বলল, আজ কোন ঘরটির ভেতর প্রথম ঢুকবে? নীম জবাব না দিয়ে প্রথম ঘরটির...

০৫. গ্যালাক্সি-ওয়ানের নিয়ন্ত্রণকক্ষ

গ্যালাক্সি-ওয়ানের নিয়ন্ত্রণকক্ষে জরুরি মীটিং বসেছে। একটি জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। তিনটি প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বাধীনতাবে। এখন পর্যন্ত তারা কারোর কোনো ক্ষতি করে নি। তাই বলে যে ভবিষ্যতেও করবে না, তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, অত্যন্ত শক্তিশালী রেডিয়েশনও...

০৬. নিয়ন্ত্রণকক্ষে সবাই গম্ভীর

নিয়ন্ত্রণকক্ষে সবাই গম্ভীর মুখে বসে আছে। অতি অল্প সময়ে বেশ কিছু বড় বড় ঘটনা ঘটে গেল। জানা গেল, প্রাণীগুলি নিওলিথি সভ্যতার সঙ্গে পরিচিত। প্রাণীগুলি অসাধারণ বুদ্ধিমান এবং তারা মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে। ক্যাপ্টেন আবেগশূন্য স্বরে বললেন, প্রথম শ্রেণীর জরুরি অবস্তু তুলে...

০৭. ঘরগুলির ভেতরে আবছা অন্ধকার

ঘরগুলির ভেতরে আবছা অন্ধকার, প্রথম কিছুক্ষণ ডঃ জুরাইন কিছুই দেখতে পেলেন না। অন্ধকার চোখে সয়ে আসতে বেশ সময় নিল, তবু পরিষ্কার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নিমায়ের অবাক হয়ে বলল, ভেতরে কিন্তু কোনো সুরধ্বনি নেই, লক্ষ করেছেন ডঃ জুরাইন? কথা খুবই ঠিক। ভেতরটা ছমছমান নীরবতা। ডঃ জুরাইন...

০৮. ক্যাপ্টেনের ঘর অন্ধকার

ক্যাপ্টেনের ঘর অন্ধকার। তাঁর ঘরের বাইরে তারকাকৃতির দুটি লালবাতি জ্বলছে। যার মানে হচ্ছে, দ্বিতীয় শ্রেণীর জরুরি অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ডাকা যাবে না। ক্যাপ্টেন বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর ঘুম আসছে না। স্নায়ু উত্তেজিত হয়েছে। ঘুম আসবার কথা নয়। অনেকগুলি বড় বড় ঝামেলা...

০৯. অয়ুর পায়ের যন্ত্ৰণা

অয়ুর পায়ের যন্ত্ৰণা অসম্ভব বেড়ে গেছে। সে কিছুক্ষণের জন্যে জেগেছিল, ব্যথার তীব্রতায় অস্থির হয়ে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা নিয়ে ভাবতে শুরু করল। নীম পরীক্ষা করে দেখল পা-টি-নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেটা তেমন ভয়াবহ নয়, কিন্তু ভয়াবহ হচ্ছে শরীরের অন্যান্য কোষগুলিও নষ্ট হতে শুরু করেছে। তার...

১০. স্রুরা অবজারভেশন টাওয়ারে গিয়েছিল

স্রুরা অবজারভেশন টাওয়ারে গিয়েছিল মন ভালো করবার জন্যে। কোনো একটি বিচিত্র কারণে তার মন ভালো নেই। কেন জানি অস্বস্তি লাগছে। এ রকম যখন হয়, তখন অবজারভেশন টাওয়ারে গিয়ে বসলে ভালো লাগে। বাইরের অদ্ভুত দৃশ্য মনকে অভিভূত করে দেয়। এ গ্রহের চাঁদ তিনটি। তিনটি চাঁদের জ্যোৎস্না এমন...

১১. মহাকাশযানের প্রধান

মহাকাশযানের প্রধান তাদের আলাদা আলাদা সেলে থাকতে বলেছেন কেন, লী ঠিক বুঝতে পারল না। এখনো কি মানুষরা তাদের ভয় করছে? তাদের গা থেকে মৃদু বিটা রেডিয়েশন হয় এ কথা ঠিক, কিন্তু মেডিকেল বোর্ড তো স্পষ্টই বলছে, এতে মানুষের ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই। ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করে সঠিক কারণ...

১২. একটি লাল তারা

ক্যাপ্টেনের ঘরের সামনে একটি লাল তারা এবং দুটি সবুজ তারা জ্বলজ্বল করছে। যার মানে, অবস্থা যত জরুরিই হোক, তাকে বিরক্ত করা চলবে না। তবু স্রুরা তাঁর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সুইচ টিপল। কে। আমি স্রুরা। লাল তারা এবং সবুজ তারা দুটি কি তোমার চোখে পড়ছে না? পড়ছে। কিন্তু আপনার সঙ্গে...