বৃহন্নলা – মিসির আলি

০২. সাধুবাবা

যুবক বয়স থেকেই আমাকে সবাই ডাকত সাধুবাবা। . . . . যদিও ঠিক সাধু বলতে যা বোঝায় আমি তী নই। তবে প্রকৃতিটা একটু ভিন্ন ছিল। সবকিছু থেকে নিজেকে দূরে-দূরে রাখার স্বভাব আমার ছিল। শ্মশান, কবরস্থান এইসব আমাকে ছোটবেলা থেকেই আকর্ষণ করত। অল্প বয়স থেকেই শ্মশান এবং কবরস্থানের আশেপাশে...

০৩. মামাতো ভাইয়ের বিয়ে

আমার মামাতো ভাইয়ের বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হল না। মেয়ে কিছুতেই কবুল বলল না। যত বার বলা হল, মা, বল কবুল। তত বারই মেয়ে কঠিন গলায় বলল, না। আমি ছেলের পক্ষের সাক্ষীদের এক জন। বড় বিব্রত বোধ করতে লাগলাম! মেয়ের এক খালা বললেন, আপনারা একটু পরে আবার আসুন। বাড়িতে এত বড় একটা দুৰ্ঘটনা...

০৪. বছর তিনেক পরের কথা

বছর তিনেক পরের কথা। সন্ধ্যা সাতটার মতো বাজে। একটা সেমিনার টক তৈরি করছি। বিষয়– পরিবেশ দূষণে পলিমারের ভূমিকা। চারদিকে কাগজপত্র, চাট, গ্রাফ নিয়ে বসেছি। সব এলোমেলো অবস্থায় আছে। ঠিক করে রেখেছি, কাজ শেষ না করে উঠব না। মার্ফি’স ল বলে একটা ব্যাপার আছে। মার্ফি’স ল বলে—...

০৫. ভদ্রলোক আবার এলেন

এক সপ্তাহ পর ভদ্রলোক আবার এলেন। আমিই দরজা খুললাম। ভদ্রলোক বললেন, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? আমি বললাম, পারছি। আপনার নাম মিসির আলি। আপনি অ্যাবনর্ম্যাল সাইকোলজির একজন অধ্যাপক। গতি সপ্তাহে আমার এখানে এসে একটা পাউরুটি এবং দুটো কলা ফেলে গেছেন। ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। হাসিটি...

০৬. চিঠি লিখলাম

চিঠি লিখলাম আমার মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে যে-মেয়েটির বিয়ের কথা হয়েছিল, সেই মেয়ের বড়চাচাকে। আমার ধারণা ছিল ভদ্রলোক জবাব দেবেন না। যে-পরিচয়ের সূত্র ধরে চিঠি লিখেছি, সেই সূত্রে চিঠির জবাব দেওয়ার কথা নয়। ভদ্রলোক কিন্তু জবাব দিলেন। এবং বেশ গুছিয়েই জবাব দিলেন। আপনার পত্র...

০৭. মিসির আলির খাতা নিয়ে বসা হল না

ব্যক্তিগত কাজ অনেক জমে ছিল, মিসির আলির খাতা নিয়ে বসা হল না। আমি তেমন উৎসাহও বোধ করছিলাম না। সামান্য গল্প নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ির আমি কোনো অর্থ দেখি না। আমি লক্ষ করেছি–গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বেশির ভাগ মানুষ সম্পূর্ণ অবহেলা করে, মাতামতি করে তুচ্ছবিষয় নিয়ে। মিসির আলিও...

০৮. মিসির আলি সাহেব আজ অনেক সুস্থ

মিসির আলি সাহেব আজ অনেক সুস্থ। গায়ে চাদর জড়িয়ে বিছানায় বসে আছেন। হাতে শিবরাম চক্রবর্তীর বই জন্মদিনের উপহার। কিছুক্ষণ পড়ছেন, তারপর গা দুলিয়ে হাসছেন। আবার পড়ছেন, আবার হাসছেন। আশেপাশের রুগীরা ব্যাপারটায় বেশ মজা পাচ্ছে। আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে তারা দেখছে এই বিচিত্র...

০৯. সুধাকান্তবাবুর বাড়ির উঠোনে

রাত প্রায় ন’টা। আমি এবং মিসির আলি সুধাকান্তবাবুর বাড়ির উঠোনে বসে আছি। সুধাকান্তবাবু চুলায় চায়ের পানি চড়িয়েছেন। তিনি আমাদের যথেষ্ট যত্ন করছেন। মিসির আলিকে খুব আগ্রহ নিয়ে বাড়ি ঘুরে-ঘুরে দেখালেন। নানা গল্প করলেন। বাড়ি আগের মতোই আছে। তবে কামিনী গাছ দুটির একটি নেই। মরে...