বাঘবন্দি মিসির আলি

০১. যখন যা প্রয়োজন

যখন যা প্রয়োজন তা হাতের কাছে পাওয়া গেলে কেমন হত-এরকম চিন্তা ইদানীং মিসির আলি করা শুরু করেছেন। এবং তিনি খানিকটা দুশ্চিন্তায়ও পড়েছেন। মানুষ যখন শারীরিক এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয় তখনই এ ধরনের চিন্তা করে। তখনই শুধু মনে হয়—সব কেন হাতের কাছে নেই। তিনি মানসিক এই অবস্থার...

০২. লুনাকে সামলে রাখার দায়িত্ব

লুনাকে সামলে রাখার দায়িত্ব পড়েছে ফতের ওপর। প্রতি মাসে এক-দুদিন ফতেকে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ প্রতি মাসে এই এক-দুদিন তসলিমা খানম যাত্রাবাড়ীতে তার বোনকে দেখতে যান। বোনের ক্যানসার হয়েছে। বাঁচার কোনো আশা ডাক্তাররা দিচ্ছেন না, আবার দ্রুত মরে গিয়ে অন্যদের ঝামেলাও...

০৩. দাওয়াতের কার্ড

বদরুল সাহেবের হাতে দাওয়াতের একটা কার্ড। দাওয়াতের কার্ডটা মিসির আলির। বদরুল সাহেবের ঠিকানায় এসেছে, তিনি নিজেই কার্ড দিতে এসেছেন। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। মিসির আলি বললেন, আপনার আসার প্রয়োজন ছিল না। কার্ডন্টা কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই হত। বদরুল সাহেব বললেন, আপনার সঙ্গে তো কথা...

০৪. দিন শুরু হয়েছে রুটিন মতোই

মিসির আলির দিন শুরু হয়েছে রুটিন মতোই। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখেছেনমশারির ভেতর দিয়ে খবরের কাগজটা ঢুকিয়ে দেওয়া। একসময় বাসিমুখে খবরের কাগজ পড়তে তিনি আনন্দ পেতেন, এখন পান না, কিন্তু অভ্যাসটা রয়ে গেছে। অভ্যাস সহজে যায় না। খবরের কাগজ পড়তে পড়তেই ইয়াসিন চা নিয়ে আসে। মশারির ভেতরে...

০৫. স্যার কেমন আছেন

স্যার কেমন আছেন? প্রশ্নের জবাব দেবার আগে মিসির আলি দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালেন। সকাল নটা। দেয়ালঘড়িটা আধুনিক ইলেকট্রিক্যাল ঘড়ি না হয়ে পুরোনো দিনের পেন্ডুলাম ঘড়ি হলে ঢং ঢেং করে নটা ঘণ্টা বাজাতে শুরু করত। মিসির আলি শুকনো গলায় বললেন, ভালো আছি। প্রতিমা তুমি কেমন আছ? ফাক নাম তা...

০৬. জটিল হইচই

বদরুল সাহেবের বাড়ির সামনে জটিল হইচই হচ্ছে। বদরুল সাহেবের স্ত্রীর তীক্ষ্ণ গলা শোনা যাচ্ছে। মিসির আলি ইয়াসিনকে বললেন, কী হয়েছে রে? ইয়াসিন বলল, জানি না। মনে হয় চোর ধরছে। সন্ধ্যার দিকে ঐ বাড়িতে রোজই হইচই হয়। এতে গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। কিন্তু মহিলার তীক্ষ্ণ গলার স্বর কানে...