অন্য ভুবন – মিসির আলি

০১. কাজের মেয়েটি মিসির আলিকে ডেকে তুলল

দুপুরবেলা কাজের মেয়েটি মিসির আলিকে ডেকে তুলল। কে নাকি দেখা করতে এসেছে। খুব জরুরি দরকার। মিসির আলির রাগে গা কাঁপতে লাগল; কাজের মেয়েটিকে বলে দেয়া ছিল কিছুতেই যেন তাঁকে তিনটার আগে ডেকে তোলা না হয়। এখন ঘড়িতে বাজছে দুটা দশ! যত জরুরি কোজই থাকুক, এই সময় তাঁকে ডেকে তোলার কথা...

০২. তিন্নি অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিল

তিন্নি অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙল সন্ধ্যার আগে—আগে আধার হয়ে আসছে। চারদিকে সুনসান নীরবতা। দোতলায় কেউ নেই। কেউ থাকে না কখনো। এ-বাড়ির সব মানুষজন থাকে একতলায়। তিনি যখন কাউকে ডাকে, তখনি সে আসে, তার আগে কেউ আসে না। তিন্নির কাউকে ডাকতে ইচ্ছা করছে না। সে জানালার পাশে গিয়ে...

০৩. ময়মনসিংহ এসে পৌঁছলেন

তাঁরা ময়মনসিংহ এসে পৌঁছলেন ভোররাতে। তখনো চারদিক অন্ধকার। কিছুই দেখার উপায় নেই। মিসির আলির মনে হল, বিশাল একটি রাজপ্ৰসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। গাছগাছালিতে চারদিক ঢাকা। বারান্দায় অল্প পাওয়ারের একটি বাতি জ্বলছে। তাতে চারদিকের অন্ধকার আরো গাঢ় হয়েছে। মিসির আলি বললেন,...

০৪. সারাটা দিন ছাদে

সারাটা দিন তিনি ছাদে কাটাল। এক বার এ-মাথায় যাচ্ছে, আরেক বার ও-মাথায়। মাঝে-মাঝে বিড়বিড় করে নিজের মনে কথা বলছে এবং হাসছে। শীতের দিনের রোদ দুপুরের দিকে খুব বেড়ে যায়। সারা গা চিড়বিড় করে। কিন্তু মেয়েটি নির্বিকার। হাঁটছে তো হাঁটছেই। রহিমা দুপুরে ছাদে এসে ভয়ে-ভয়ে বলেছিল, ভাত...

০৫. মিসির আলি সারাদিন ঘুমুলেন

মিসির আলি সারাদিন ঘুমুলেন। দুপুরে এক বার ঘুম ভেঙেছিল। মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা। তিনি পরপর দুগ্লাস ঠাণ্ডা পানি খেয়ে আবার বিছানায় গড়িয়ে পড়লেন। যখন জাগলেন, তখন বেশ রাত। বিছানার পাশে উদ্বিগ্ন মুখে বরকত সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। এক জন বেঁটেমতো লোক আছে, হাতে ষ্টেথিসকোপ। নিশ্চয়ই...

০৬. শীতের ভোরবেলায় ময়মনসিংহ শহর

শীতের ভোরবেলায় ময়মনসিংহ শহর মিসির আলির বেশ লাগল। তিনি অন্ধকার থাকতেই জেগে উঠেছেন। একটা উলের চাদর গায়ে দিয়ে শহর দেখতে বের হয়েছেন! আজ আর দারোয়ন তাঁকে বাধা দেয় নি, গেট খুলে দিয়েছে। এবং হাসিমুখে বলেছে, এত সকলে কই যান? সম্ভবত বরকত সাহেব দারোয়ানকে কিছু বলেছেন। সব মফস্বল শহর...

০৭. রহিমা

তোমার নাম রহিমা? জ্বি। ভালো আছে রহিমা? জ্বি, আল্লাহ্ তালা যেমুন রাখছে। রহিমা লম্বা একটা ঘোমটা টানল। এই লোকটি তার কাছে কী জানতে চায়, তা সে বুঝতে পারছে না। সে তো কিছুই জানে না, তাকে কিসের এত জিজ্ঞাসাবাদ! তিন্নির আহ্বা বলে দিয়েছেন।–উনি যা জানতে চান, সব বলবে। কিছুই...

০৮. ডঃ জাবেদ আহসান

ডঃ জাবেদ আহসান অবাক হয়ে বললেন, আপনি আমার কাছে ঠিক কী জানতে চান, বুঝতে পারছি না। কয়েকটি গাছপালার হাতে-আঁকা ছবি দিয়ে গিয়েছেন, আর তো কিছুই বলেন নি।‘ ছবিগুলো ভালো করে দেখেছেন? ভালো করে দেখার কী আছে? মিসির আলি লক্ষ করলেন ডঃ জাবেদ বেশ বিরক্ত। ভদ্রলোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের...

০৯. অমিতা

অমিতা অবাক হয়ে বলল, আরে মামা, তুমি। মিসির আলি বললেন, চিনতে পারছিস রে বেটি? কী আশ্চর্য মামা, তোমাকে চিনিব না! তোমাকে নিয়ে কত গল্প করি মানুষের সাথে। তিনি হাসলেন। অমিতা বলল, বিনা কারণে তুমি আমার কাছে আস নি। ভূমি সেই মানুষই না! কি জন্যে এসেছ বল। এখনি বলব? না, এখন না। আমি...

১০. তিন্নি সারা দিন ছাদে বসে আছে

তিন্নি আজ সারা দিন ছাদে বসে আছে। সে ছাদে গিয়েছে সূর্য ওঠার আগে। এখন প্রায় সন্ধ্যা, কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্য ড়ুবে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একবারও সে নিজের জায়গা থেকে নড়ে নি। তার ছোট্ট শরীরটি পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে আছে। মাঝেমাঝে বাতাসে তার চুল উড়ছে। এ থেকেই মনে...

১১. মিসির আলি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন

মিসির আলি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। দরজায় খুটাখুটি শব্দ শুনে জেগে উঠলেন। অনেক রাত। ঘড়ির ছোট কাটা একের ঘর পার হয়ে এসেছে। তিনি মৃদু স্বরে বললেন, কে? কোনো জবাব এল না। কিন্তু দরজার কড়া নড়াল। মিসির আলি অবাক হয়ে দরজা খুললেন। অন্ধকারে বরকত সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন। সরি, আপনার ঘুম ভাঙালাম...

১২. পাঁচ বছর পরের কথা

পাঁচ বছর পরের কথা। মিসির আলি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ময়মনসিংহে বেড়াতে এসেছেন। তাঁর স্ত্রীর নাম নীলু, হাসিখুশি ধরনের একটি মেয়ে। খুব সহজেই অবাক হয়, অল্পতেই মন-খারাপ করে, আবার সামান্য কারণেই মন ভালো হয়ে যায়। ময়মনসিংহে আসার নীলুর কোনো ইচ্ছা ছিল না। আসতে হয়েছে মিসির আলির...