০৭. মাছ মারার জায়গা

নুরুদ্দিন খুঁজে খুঁজে চমৎকার একটি মাছ মারার জায়গা বের করেছে। বাড়ি থেকে সোয়া মাইল দূরে জংলা ভিটার ভাঙা ঘাট। জায়গাটি বড়ো নির্জন। দু পাশ অন্ধকার করে আছে ঘন কাঁটাবন। ভাঙা ঘাটের ফাঁকেফুঁকে সাপের আড্ডা। সে জন্যেই বড়ো কেউ আসে না এ-দিকটায়। ঘাটের লাগোয়া প্ৰকাণ্ড একটা ডেফল গাছে পাকা ডেফল টুকটুক করে। নুরুদ্দিন ছিপ ফেলে ডেফল গাছে হেলান দিয়ে সারা দুপুর বসে থাকে।

তার সঙ্গে প্রায়ই আসে অনুফা। সে নুরুদ্দিনকে বিরক্ত করে না। লম্বা একটি নারিকেলের ডোগা হাতে নিয়ে আপন মনে বিড়বিড় করে কীসব কথা বলে। নুরুদ্দিন মাঝে মাঝে ধমক দেয়, এ্যাই চুপ। অত কথা কইলে মাছ আই?

অনুফা অল্প কিছু সময়ের জন্যে চুপ করে আবার গুনগুন শুরু করে।

এ্যাই, অনুফা পাগলী নাহি তুই?

অনুফা রাগ করে না। খিলখিল করে হাসে। নুরুদ্দিনের বড় মায়া লাগে।

মাছ মারার এই জায়গাটা নুরুদ্দিন খুব সাবধানে গোপন করে রাখে। ঘাস কাটার জন্যে খোন্দায় করে কৈবর্তপাড়ার মাঝিরা এই খাল দিয়ে বড়ো গাঙের দিকে যায়। শব্দ পেলেই ডেফল গাছের আড়ালে চট করে লুকিয়ে পড়ে নুরুদ্দিন। তবু কেউ কেউ দেখে ফেলে। তখন বড়ো ঝামেলা হয়।

এইডা কে? মতি ভাইয়ের পুলা না? এই, কী করস তুই?

মাছ মারি।

মাছ মারস? মাথা খারাপ নাহি তর? এইডা মাছ মারণের জায়গা? যা, বাড়িত যা।

মাছ মারার জন্যে জায়গাটা কিন্তু খারাপ নয়। আজকেও নুরুদ্দিন দু হাত লম্বা একটা বোয়াল মেরে ফেলল।

অনুফার বিষ্ময়ের সীমা রইল না, ও বাসরে, এইডা তো জব্বর মাছ নুরু ভাই!

শক্ত কইরা মাতা ধর। পানিত যেন না পড়ে, সাবধান।

পাকা বৰ্ণেলের মতো মুখ করে নুরুদ্দিন দ্বিতীয় বার ছিপ ফেলতে যায়। কিন্তু বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে, এখন আর মাছে খাবে না।

চল, বাড়িত যাই অনুফা।

না।

না কি? দিয়াম এক চড়। বিষ্টি পড়ছে দেখস না?

পড়ুক বলেই অনুফা মাছ হাতে নিয়ে বিদ্যুৎবেগে বেরিয়ে গেল। এই তার একটা খেলা। দৌড়তে দৌড়তে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হবে, কোথাও এক দণ্ডের জন্যে থামবে না।

জংলা ভিটা থেকে বেরিয়ে নুরুদ্দিন দেখে খুব মেঘ করেছে। ডেফল গাছের আড়ালে থাকায় এতক্ষণ বোঝা যায় নি। নুরুদ্দিন দৌড়াতে শুরু করল। অনেকখানি ফাঁকা জায়গা পার হতে হবে। রানীমার পুকুরপাড়ে উঠে আসার আগেই সে ভিজে ন্যান্যা হয়ে গেল। পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে সিরাজ চাচার নতুন চালাঘর। লালচাচী ছোটাছুটি করে ধান তুলছে। শুকাতে দেওয়া ধানের বেশির ভাগই গেছে ভিজে। লালচাচী নুরুদ্দিনকে দেখেই চেচিয়ে বললেন, নুরু, হাত লাগা। তর চাচা আইজ খুব চেত।

ধান তোলা শেষ হতেই বৃষ্টি থেমে গেল। লালচাচী হাসিমুখে বললেন, কাটা কেমুন হইল নুরা?

বিষ্টি আবার আইব চাচী।

ধান তো বেবাক ভিজছে নুরা। করি কী এখন ক দেহি? একলা মানুষ আমি, অত ধান শুকাইতে পারি? তুই বিবেচনা কর দেহি?

নুরুদ্দিন বেশ খানিকক্ষণ বসে রইল লালচাচীর ঘরে। লালচাচীকে সে বেশ পছন্দ করে। নুরুদ্দিনের ধারণা, লালচাচীর মতো সুন্দরী (এবং ভালে) মেয়ে সোহাগীতে আর একটিও নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা, লালচাচী তার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলে–যেন সে এক জন অতি বিচক্ষণ ব্যক্তি। ও নুরা, তোর চাচারে কইলাম আমার হোড ভাইটারে আইনা রাখতে–কাজকামে সাহায্য হইব। তোর চাচা কী কয় জানস?

কী কয়?

কয়, চোরের গুষ্টি আইনা লাভ নাই।

কথাডা ঠিক অয় নাই চাচী, অলেহ্য হইছে।

আমার দাদা চোর আছিল, এইডা অস্বীকার যাই ক্যামনে? কিন্তুক হেইডা কোন আমলের কথা! পুরান কথা তুইল্যা মনে কষ্ট দেওন কি ঠিক?

না, ঠিক না চাচী।

হেইদিন তরকারির লবণ এটু বেশি হইছে, তোর চাচা কয়–চোরের গুষ্টির রান্দাবাড়া শিখনের তো কথা না।

কথাডা অলেহ্য হইছে চাচী।

অত চোর-চোর করলে বিয়া করল ক্যান? আমি কি পায়ে ধইরা সাধছিলাম?

ঠিক কথা চাচী।

বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। লালচাচী কিছুতেই ছাড়বে না। বাপের বাড়ির পুরনো সব গল্প আবার শুনতে হল। গুড় দিয়ে এক থালা মুড়ি খেতে হল।

বাড়ি ফিরে নুরুদ্দিনের মুখ শুকিয়ে গেল। আজরফ নাকি তাকে বেশ কয়েক বার খোঁজাখুঁজি করেছে। আজরফকে আজকাল সে খুব ভয় পায়। আজরফ তাকে কিছুই বলে না। তবু কেন জানি ভয়ভয় লাগে। শরিফা বলল, বিষ্টি-বাদলা না। হইলে রাইতে ধান মাড়াই দিতে চায়। তরে খুঁজছিল, কী যেন কইতে চায়।

কী কইতে চায়?

জিগাই নাই। অত কথা আমি জিগাই না।

নুরুদ্দিনের মনে হল, শুধু সে একা নয়–তার মা নিজেও আজকাল আজরফকে সমীহ করে চলে।

বন্দের মইধ্যে গিয়া জিগাইতাম?
যা, জিগা গিয়া।

 

উত্তর বলে আজ খুব কাজের ঘটা। ফিরাইল সাব বলেছেন, দু-এক দিনের মধ্যে প্ৰচণ্ড শিলাবৃষ্টি হবে। সেই শিলা ফেরাবার ক্ষমতা তাঁর নেই। কাজেই সম্ভব হলে আজকের মধ্যেই যেন ধান তুলে ফেলা হয়। চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। মশা তাড়াবার জন্যে ভেজা খড় পুড়িয়ে ধোঁয়া করা হয়েছে। ছোট ঘোট ছেলেমেয়েরা জ্বলন্ত খড়ের দড়ির কাছে হুঁকো হাতে দাঁড়িয়ে আছে। খুব কাজের চাপ তাদের। ডাক পড়তেই হঁকো নিয়ে ছুটে যেতে হচ্ছে। ধানকাটার পুরো দলটি বৃষ্টিতে ভিজে জবজব। উত্তর বলেও আধ হাতের মতো পানি। ঘনঘন হুকায় টান দিয়ে শরীর চাঙ্গা করে নিতে হয়। উজান দেশের বেশ কিছু কামলা এসছে ধান কাটতে। এদের হয়েছে অসুবিধা। দিন-রাত পানিতে থাকার অভ্যাস না থাকায় হাত-পা হেজে গিয়েছে। তারা ক্ষণে ক্ষণে কাজ ফেলে শুকনায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আজরফকে খুজে বের করতে বেশ দেরি হল। উত্তর বন্দে আজ সবাই ধান কাটছে। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় লোকজন চেনা যাচ্ছে না। তার উপর আজরফ কার জমিতে কাজ করছে তাও ঠিক জানা নেই। তাদের নিজেদের জমির সবটাই পুব বন্দে।

নুরুদ্দিন গলা উচিয়ে ডাকল, ও ভাইসাব।

খুব কাছ থেকে উত্তর হল, এই দিকে আয় নুরা।

আমারে নি খুঁজছিলা?

আজরফ কাজ থামিয়ে উঠে দাঁড়াল। লুঙ্গির গেজ থেকে একটা কাগজ বের করে বলল, বাজানের চিঠি। জলিল মাঝির সাথে পাঠাইছে। ডাক্তার চাচারে দিয়া পড়াইয়া আন।

আইচ্ছা।

আর হন, আইজ ধান মাড়াই হইব।

কোন সময়? রাইত।

গরু পাইবা কই?

কালাচান চাচারে কইয়া রাখছি। তুই আরেক বার গিয়া জিগা।

আইচ্ছা।

যা, বাড়িত যা।

ভাত খাই না?

আইজ সরকারবাড়িত খাইয়াম। হেরার ধান কাটতাছি।

একটা বোয়াল মাছ মারছি, দুই আত লম্বা।

আজরফ খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, জংলা বাড়ির ভিটাত আর যাইস না নুরা। জায়গাড়া খারাপ। দোষ আছে। হের উপরে আবার সাপের উপদ্রুপ।

নুরুদ্দিনের মুখে কথা ফোটে না। তার গোপন জায়গার কথা আজরফ কীভাবে জানল কে জানে।

বাড়িত যা নুরা।

উত্তর বন্দ থেকে একা-একা বাড়ি ফিরতে নুরুদ্দিনের বড়োই ভালো লাগে। এত বড়ো বন্দ এই অঞ্চলে আর নেই। দিন-রাত হাওয়ায় শো-শোঁ শব্দ তোলে। উত্তর পশ্চিমে তাকালে কিছুই চোখে পড়ে না। শুধু মনে হয়, দূরের আকাশ নেমে এসেছে মাটিতে। পুব দিকে তাকালে নিমতলি গ্রামের সীমানার তালগাছ দুটি আবছা চোখে পড়ে। তালগাছ দুটিতে দোষ আছে। গভীর রাত্রে মাছ মারতে এসে অনেকেই দেখেছে, একটা জাম্বুরার মতো বড়ো আগুনের গোলা গাছ দুটির মাথায়। এ গাছ থেকে ও গাছে যাচ্ছে, আবার ক্ষণে ক্ষণে মিলিয়ে যাচ্ছে।

 

আমিন ডাক্তার বাড়ির পেছনে খোলা চুলায় রান্না চাপিয়েছে। রান্নার আয়োজন নগণ্য। ঝিঙ্গে তাজি আর খেসারির ডাল। ভেজা কাঠের জন্যে প্রচুর ধোঁয়া উঠছে চুলা থেকে। নুরুদ্দিন গিয়ে দেখে, একটা কাঠের চোঙায় মুখ দিয়ে আমিন ডাক্তার প্রাণপণে ফু দিচ্ছে। তার নিজের চোখ-মুখ লাল। কি রে নুরা, কী চাস? ভাত খাইবি?

নাহ্।

না কিরে ব্যাটা? ঝিঙ্গা ভাজা করলাম। গাওয়া ঘি আছে, দিয়াম নে এক চামুচ।

আইজ না চাচাজী। বাজানের একটা চিডি আনছি, পইড়া দেন। মতি মিয়া নিজেও লেখাপড়া জানে না। কাউকে দিয়ে লিখিয়েছে—

আজরফ মিয়া দেয়াগো,

আশা করি পরম করুণাময় আল্লাহতালার কৃপায় সুস্থ শরীরে শান্তিমতো আছ। পর সমাচার এই যে, আমরা দল লইয়া অতি শীঘ্ৰ নেত্রকোণা যাইতেছি। বিবেকের গান খুব নাম কামাইয়াছে। স্বয়ং কানা নিবারণও বলিয়াছে–গলা খুব উত্তম। কিন্তু দুঃখের বিষয় পুরাতন বিবেক ফিরিয়া আসিয়াছে। কাজকর্ম ঠিকমতো করিবা। নতুন ধান উঠিবামাত্র আমাকে নি ঠিকানায় বিশটি টাকা অতি অবশ্য পাঠাইবা। কিঞ্চিৎ আর্থিক অসুবিধায় আছি। আজ এই পর্যন্ত। ইতি।

আমিন ডাক্তার চিঠি শেষ করে ভ্রূ কুঞ্চিত করে রইল। চিঠিতে করে ফিরবে, কি, কোনো উল্লেখ নেই। সবচেয়ে বড় কথা শরিফার কোনো কথা নেই।

আমিন ডাক্তার থেমে থেমে বলল, তর মায়ের কথাও লেখছে কোণাদিয়া— তোমার মাতার কথাও সর্বদা স্মরণ হয়। তুমি তাহার যথাসাধ্য যত্ন করিবাস্। নুরা তোর মায়েরে কইছ। তার কথাও লেখা।

আইচ্ছা। আর চাচাজী, আইজ আমরার ধান মাড়াই। আপনের যাওন লাগব। ২০৮।

দেহি।

দেহাদিহি নাই, যাওন লাগব।

রুগীইগী না থাকলে যাইয়াম নে এক ঘুরান।

ধান মাড়াইয়ের ব্যাপারে নুরুদ্দিনের খুব উৎসাহ।

মাঝরাতের দিকে চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধান মাড়াই শুরু হবে। চলবে সারা রাত। এক জন পালা করে থাকবে গরুর পেছনে, অন্য সবাই দল বেঁধে উঠোনে বসে। গল্প শুনবে। গল্প বলার জন্যে কথক আছে। তাদের বড়ো দাম এই রাত্রে। পানতামাকের ডালা খোলা। শেষত্রে পিঠা-চিড়ার ব্যবস্থা।

নুরুদ্দিনের খুব ইচ্ছায় এবারও গত বারের মতো আলাউদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। পেশায় সে চোর, কিন্তু তার মত বড় কথক ভাটি অঞ্চলে আর নেই। সে যখন কোমরে লাল গামছা পেঁচিয়ে দু হাত নেড়ে কিচ্ছা শুরু করে, তখন নিঃশ্বাস ফেলতে পর্যন্ত মনে থাকে না।

শুনে শুনেন দশ জনাতে
শুনেন দিয়া মন।
লাল চাঁন বাদশার কথা হইয়াছে স্মরণ

তারপর হেই লাল চাঁন বাদশা উজির সাবরে ডাইক্যা কইল–ও উজির, একটা কথার জবাব দেও দেহি।

বাড়ি ফিরে নুরুদ্দিনের খুব মন খারাপ হল। কথক আলাউদ্দিন নিমতলি গিয়েছে, সন্ধ্যায় ফেরবার কথা, এখনো ফেরে নি। যদি না ফেরে? তার চেয়ে বড় কথা, শরিফা রেগে গিয়ে খড়ম ছুঁড়ে মেরেছে অনুফার দিকে। সেই খড়ম কপালে লেগে রক্তারক্তি কাণ্ড। অনুফা বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে। রহিমা মুখ কালো করে ঘরের কাজকর্ম করছে। নুরুদ্দিন অনুফার খোঁজে বেরুল। সে কোথায় আছে তা জানা। ছোট গাঙের পাড়ে জলপাই গাছের কাছে এসে নুরুদ্দিন ডাকল, ও অনুফা।

অনুফা সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এল।

আয়, বাড়িত যাই।

অনুফা কোনো আপত্তি করল না।

বড়ো অন্ধাইর, হাত ধর অনুফা।

অনুফা এসে হাত ধরল। নুরুদ্দিন বলল, আইজ ধান মাড়াই, জানস?

জানি।

আলাউদ্দিন আইত না।

অনুফা মৃদু স্বরে বলল, আইব।

কী কস তুই।

দেখবা তুমি, আইব।

তুই খুব পাগলী অনুফা।

অনুফা খিলখিল করে হাসল। কিন্তু কী আশ্চর্য, বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দেখা গেল আলাউদ্দিন তার দল নিয়ে এসে পড়েছে। চাঁদ এখনো ওঠে নি। অন্ধকারেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে আলাউদ্দিনের রোগা লম্বা শরীর। সে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে হুক টানছে।

কিচ্ছা শুরু হল অনেক রাত্রে। গ্রামের অনেকেই এসেছে। আজরফ হচ্ছে ঘরের কর্তা, পান-তামাক এগিয়ে দিচ্ছে। বউ-ঝিরা ভেতরবাড়িতে। আশ্চর্যের উপর আশ্চর্য, চৌধুরী সাহেবও এসেছেন। তাঁর জন্যে চেয়ার আনা হয়েছে।

আলাউদ্দিন কোমরে লাল গামছা পেঁচিয়ে কিচ্ছা শুরু করেছে। সেই পুরান লাল চাঁন বাদশার গল্প। কিন্তু এ গল্প কি আর সত্যি সত্যি পুরনো হয়?

(গীত)

শুনে শুনেন দশ জনাতে
শুনেন দিয়া মন।
লাল চাঁন বাদশার কথা হইয়াছে শরণ।
লাল চাঁন বাদশার মনে বড়ো দুঃখ ছিল,
বার বল্প পার হইল পূত্র না জন্মিল।
লাল চাঁনের দুঃখ দেইখ্যা কান্দে গাছের পাতা
…………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *