০৩. ধনু শেখের লঞ্চ

ধনু শেখের লঞ্চটি একতলা। কাঠের বডি। যাত্রী ধারণক্ষমতা পঞ্চাশ। লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে। ধর্মপাশা সোহাগগঞ্জ রুটে। লঞ্চের নাম ‘এমএল বাহাদুর’। ‘কমলা’ নামই ঠিক ছিল, এর মধ্যে কমলার এক পুত্রসন্তান হওয়ায় নাম বদলেছে। ছেলের নাম বাহাদুর। তার নামে লিঞ্চের নাম। মেয়েছেলের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া ঠিক না। এতে দোষ লাগে। আয় উন্নতি হয় না।

মাওলানা ইদরিস দোয়া পড়ে লঞ্চে বখাশে দিয়েছেন। কালিবাড়ির পুরোহিত এবং অম্বিকা ভট্টাচাৰ্যও জবাফুল, গঙ্গাজল দিয়ে লঞ্চ শোধন করে দিলেন। সারেঙের ঘরে গণেশ মূর্তি বসানো হয়েছে। যাকে বলে আটঘটি বেঁধে নামা। নিজের লঞ্চ নিয়ে ধনু শেখ গেল ধর্মপাশায়। প্রাক্তন মুনিব নিবারণ চক্রবর্তীর আশীৰ্বাদ নিতে। উনাকে লঞ্চটা দেখানোর শখও আছে। নিবারণ চক্রবর্তী বিস্মিত হয়ে বললেন, তুমি লঞ্চ কোম্পানি খুলেছ?

ধনু বলল, জে কর্তা। একটাই এখন লঞ্চ— নাম দিয়েছি বাহাদুর। দোতলা একটা স্টিল বডি কিনার শখ আছে, যদি আপনের আশীৰ্বাদ পাই।

এত টাকা পাইলা কই? চুরি-ডাকাতি করছ নাকি?

ডাকাতি করার ইচ্ছাই ছিল, হঠাৎ একজন কিছু টেকা দিল।

সেই একজনটা কে?

জমিদার হরিচরণ বাবু।

কাছাখোলা জমিদার? কাছ খুইলা চলাফেরা করে। খড়ম পইরা জমিদারি দেখতে যায়। সে শুনছি। দুনিয়ার টাকা উড়াইতেছে। তোমারে হঠাৎ টাকা দিল কেন? তার মতলবটা কী?

ক্যামনে বলব। কেউ কানে ধইরা উঠবোস করায়, কেউ লঞ্চ কিন্যা দেয়কারণ বোঝা মুশকিল। দুনিয়া বড় জটিল।

ঠিক কইরা বলে তো, তুমি আমার আশীৰ্বাদ নিতে আসছি, নাকি অন্যকিছু?

অন্যকিছুই না।

হরিচরণ কি আমার পিছে লাগছে? তার সাথে তো আমার কোনো বিবাদ নাই। আমার ব্যবসা। তার জমিদারি।

উনার কথা মনেও আনবেন না। সাধু মানুষরে টানাটানি করা ঠিক না। উনি বিরাট সাধু।

আমারে উপদেশ দিবা না। কচুগাছের পাতা বড় হইলেই সে বটগাছ হয় না। কচুগাছ কচুগাছই থাকে।

অবশ্যই থাকে। খাঁটি কথা বলেছেন। এজাজত দেন, বিদায় হই।

ধনু শেখ হাসিমুখে বের হলো। নিজের লঞ্চে করে সোহাগগঞ্জ ফিরল। সারেং-এর ঘরে বাতাস খেতে খেতে ফেরা। এর মজাই অন্যরকম।

প্রথম মাসের লাভের অর্ধেক সে দিতে গেল। জমিদার হরিচরণকে। হরিচরণ বললেন, আমি তো তোমার সঙ্গে লঞ্চের ব্যবসায় নামি নাই।

ধনু শেখ বলল, তাহলে টাকা দিয়েছেন কী জন্যে?

তোমাকে সাহায্য করার জন্যে। বিরাট বিপদে পড়েছিলা। নিরন্ন দিন কাটাইতেছিলা। আমার কারণেই বিপদে পড়লা, তাই সামান্য সাহায্য।

টাকা ফেরত দেয়া লাগবে না?

অন্যভাবে ফেরত দিবা। ডিসিট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তায় মনিহারদির পুলটা ভাঙা। ভালো কাঠের পুল বানায়া দিবা।

পুল আপনে বানান।

আমার বানানো পুলে হিন্দুরা কেউ উঠবে না।

না উঠলে না। উঠবে। আপনের কী?

হরিচরণ চুপ করে রইলেন। ধনু শেখ তীব্রগলায় বলল, পুলে উঠবে না এইটা একটা কথা কইলেন? এরারে আমি থাপড়ায়া পুলে তুলব। আমার নাম ধনু।

হরিচরণ বললেন, ধনু নামের মানুষজন কি থাপড়াইতে ওস্তাদ?

ধনু জিব কাটল। মুরুব্বি মানুষের সামনে বেআদবি কথা বলা হয়েছে। তাকে আরো সাবধান হতে হবে। সে এখন বিশিষ্টজন। বিশিষ্টজনরা কথাবার্তা বলবে সাবধানে। হিসাব করে। একটা কথার আগে দশটা হিসাব।

 

বান্ধবপুরের আরেক বিশিষ্টজন মনিশংকর দেওয়ান। থাকেন কোলকাতায়। কাপড়ের ব্যবসা করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রামে ফিরেন। বিরাট আয়োজনে দুর্গাপূজা হয়। প্রতিবছরই তিনি পূজা উপলক্ষে কিছু না কিছু মজার আয়োজন করেন। কখনো যাত্রা, কখনো ঘেটু গান, ম্যাজিক শো, সাহেববাড়ির বাজনা। শোনা যাচ্ছে, এ বছর তিনি বাইজি নাচাবেন। দেবী দুর্গার সঙ্গে পূজা গ্রহণের জন্যে কাৰ্তিকও আসেন। কার্তিক আবার বারবনিতাদের গান-বাজনার ভক্ত। তাঁর অবসর সময় কাটে স্বর্গের নটিদের নৃত্যগীতাদি শুনে। দেবী দুর্গার সঙ্গে মায়ের বাড়ি বেড়াতে এসে নিরামিষ সময় কাটানো তাঁর পছন্দ না। পূজার উদ্যোক্তারা তাঁর আনন্দ বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার চেষ্টা নেন।

দুর্গাপূজার শুরুতে হরিচরণের কাছে এসে উপস্থিত হলেন শশী ভট্টাচার্য। থলেথলে পূজারি বামুন না। মোটামুটি ফিটফাট যুবা পুরুষ। বালক বালক চেহারা, মাথাভর্তি চুল। হালকা পাতলা শরীর। গায়ের বর্ণ গৌর। গায়ে হলুদ রঙের আলপাকার কোট । পায়ে চকচকে বার্নিশ করা জুতা। থিয়েটারের নায়কের পার্ট তাকে যে-কোনো সময় দেয়া যায়।

শশী ভট্টাচাৰ্য বললেন, আমি ব্ৰাহ্মণ বিধায় আপনাকে প্ৰণাম করতে পারছি না। আপনি প্ৰণম্য ব্যক্তি।

হরিচরণ বিস্মিত হয়ে বললেন, আপনার পরিচয়?

আমার নাম শশী ভট্টাচার্য। পিতা এককড়ি ভট্টাচাৰ্য, মাতার নাম যশোদা। তাঁরা বিত্তবান মানুষ। আমি তাদের একমাত্র সন্তান। তাঁরা সম্প্রতি আমাকে ত্যাগ করেছেন বিধায় আমি দেশে বিদেশে ঘুরতে ঘুরতে এখানে উপস্থিত হয়েছি। এক দুদিন থেকে চলে যাব যদি অনুমতি দেন।

আমি অনুমতি দেবার কে?

আপনার আশ্রয়ে থাকব বলেই অনুমতি প্রয়োজন। গাছতলায় তো থাকতে পারি না। মাথার উপর চাল প্রয়োজন।

হরিচরণ বললেন, আমি জাতিচু্যত মানুষ। একজন ব্ৰাহ্মণ সন্তান আমার সঙ্গে থাকতে পারেন না।

শশী ভট্টাচার্য বললেন, সেটাও কথা।

হরিচরণ বললেন, আমি অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দেই?

তাহলে খুবই ভালো হয়। আমি নির্জনে থাকতে পছন্দ করি। জলের কাছাকাছি হলে ভালো হয়। কলিকাতায় আমাদের বসতবাড়ি গঙ্গার উপরে। জল দেখে দেখে অভ্যাস হয়ে গেছে।

হরিচরণ বললেন, মাধাই খালের কাছে আমার টিনের ছোট্ট ঘর আছে, সেখানে থাকতে পারেন। একজন পাঁচকের ব্যবস্থা করে দিব।

শশী ভট্টাচাৰ্য বললেন, পাঁচক ফাচক লাগবে না। আমি নিজেই রাধব। ভালো কথা, আমি অন্যের সাহায্য বা ভিক্ষা গ্ৰহণ করি না। এই যে কয়েকদিন থাকিব তার বিনিময়ে আপনার জন্যে কী করতে পারি?

হরিচরণ বললেন, কিছুই করার প্রয়োজন নেই। আপনি অতিথি। অতিথি হলেন নারায়ণ।

সব অতিথি নারায়ণ না। কিছু অতিথি বিভীষণ। যাই হোক, আমি কর্মী মানুষ। আপনার হয়ে কাজকর্ম করে দিতে আমার কোনোই অসুবিধা নেই। শুনেছি আপনি জমিদারি কিনেছেন। আমি জমিদারির কাগজপত্র দেখে দিতে পারি। খাজনা আদায় বিলি ব্যবস্থা এইসবও করতে পারি।

আপনার পিতার কি জমিদারি আছে?

ছিল। এখন নাই। এখন তারা ধর্মকর্ম নিয়ে থাকেন। তারা থাকেন ধর্মকর্ম নিয়ে, আমি থাকি বাদ্যবাজনা নিয়ে। এই নিয়েই তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ।

আপনি বাদ্যবাজনা করেন?

হুঁ, ব্যাঞ্জো বাজাই।

আপনার ঐ বাক্সে কি কলের গান?

ঠিক ধরেছেন। কলের গান। হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানির পঞ্চাশটার মতো থােল আমার কাছে আছে।

যন্ত্রটার নাম শুনেছি, কোনোদিন দেখি নাই।

আপনার কি বাদ্যবাজনার শখ আছে?

হরিচরণ বললেন, শখ নাই।

জমিদার মানুষদের শখ থাকে। আপনে কেমন জমিদার?

হরিচরণ হাসিমুখে বললেন, আমি খারাপ জমিদার।

আপনার অনেক সুখ্যাতি শুনেছি। আশা করি আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় শুভ হবে।

বাবা-মা ছেড়ে চলে আসা এই আলাভোলা ছেলেটাকে হরিচরণের অত্যন্ত পছন্দ হলো। তাঁর বারবারই মনে হলো, এই ছেলেটা যদি এখানে স্থায়ী হয়ে যেত। একটা স্কুল শুরু করা তাঁর অনেকদিনের বাসনা। ছেলেটাকে দিয়ে স্কুলের কাজ ধরা যায়। জমিদারি কাজেও মনে হয় এই ছেলে দক্ষ হবে। সমস্যা একটাই, কিছু মানুষ থাকে। কলমিশাকধর্মী। শিকড়বিহীন। কলমিশাক জলে ভাসে বলে শিকড় বসাতে পারে না। জলের উপর ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। এই ছেলেটাও মনে হচ্ছে জলেভাসা।

শশী ভট্টাচার্য নিজেকে কমী মানুষ বলে পরিচয় দিয়েছিল। বাস্তবেও সেরকম দেখা গেল। অতি অল্প সময়ে হরিচরণের টিনের ঘর ভেঙে মাধ্যই খালের আরো কাছে নিয়ে গেল। এত কাছে যে বাড়ির বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসলে পা খালের পানি স্পর্শ করে। ঝোপঝাড় কেটে নিয়া বসতি। কাঠের কাজ করে দিচ্ছে মিন্ত্রি সুলেমান। করাত দিয়ে কাঠ কাটতে কাটতে সে অবাক হয়ে নতুন মানুষটাকে দেখছে। নতুন মানুষটা হাত-পা নেড়ে বিড়বিড় করে কী বলে এটা তার জানার শখ। তার ধারণা যাত্ৰা থিয়েটারের কোন পাট।

শশী ভট্টাচার্য হাত-পা নেড়ে যা করে তার নাম কবিতা আবৃত্তি। গানবাজনা ছাড়াও তার কবিতা লেখার বাতিক আছে। তার লেখা কবিতা ‘উপাসনা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

সুলেমান কাজ বন্ধ করে হা করে তাকিয়ে আছে। শশী ভট্টাচার্য একটা জবাগাছের দিকে তর্জনী উঠিয়ে বলছে—

সেই তুমি মুক্ত আজি জয়ধ্বনি উঠে বাজি
অমরাবতীর সভাতলে,
ছন্দে ছন্দে কানপাতি উর্বশী নাচিছে মাতি
মহেন্দ্রের লুব্ধ আঁখিজলে।

পূজার ঢাকের বাদ্য বাজতে শুরু করেছে।

তাক দুমাদুম তাক দুমাদুম শব্দে বান্ধবপুর মুখরিত। আনন্দের ছোয়া লেগেছে মুসলমানদের মধ্যেও। ছেলেপুলেরা মহানন্দে পূজাবাড়ির উঠানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কিছু মনে করছে না। বয়স্ক মুসলমানরা আসছে। আজ তাদেরও কেউ কিছু বলছে না।

গারোদের ধুতি পরা মনিশংকর বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যেককেই আলাদা করে বলছেন, শেখের পো’রা প্রাসাদ না নিয়া কেউ যাবে না। সাইন্ধ্যাকালে বাইজি নাচ হবে। দলে-বলে আসবা। মেয়েছেলেদের জন্যে চিকের পর্দার ব্যবস্থা प्उछ्।

পূজা নিয়ে জুলেখার সংসারে বিরাট অশান্তি শুরু হলো। জুলেখা স্বামীর কাছে বায়না ধরেছে পূজা উপলক্ষে তাকে নতুন লাল শাড়ি দিতে হবে। সুলেমান বিস্মিত হয়ে বলেছে, তোমারে শাড়ি দিব কেন? তুমি কি হিন্দু?

জুলেখা বলল, ঈদেও শাড়ি দেন নাই।

পয়সার অভাবে দিতে পারি নাই।

এখন তো পয়সা হইছে। নিয়া বারুর কাম করেছেন। এখন দেন।

সুলেমান মহাবিরক্ত হয়ে বলেছে, পূজার সময় শাড়ি দেয়া ইসলামধর্মে নিষেধ আছে। বিরাট পাপ হয়। যে শাড়ি দিবে। সে যেমন পুলসেরাত পার হইতে পারবে না, যে শাড়ি পরবে সেও পারবে না।

আপনেরে বলছে কে?

বলাবলির কিছু নাই। সবাই জানে। প্রয়োজনবোধে জুম্মাঘরের ইমাম সাবরে জিগাইতে পার।

আমার একটা মাত্র শাড়ি। ভিজা শাড়ি শরীরে শুকাইতে হয়।

সুলেমান দরাজ গলায় বলল, পূজার ঝামেলা শেষ হোক, একটা শাড়ি কিন্যা দেব।

লাল শাড়ি।

সন্তান হওনের পর লাল শাড়ি পরা নিষেধ। জিন-ভূতের নজর থাকে লাল শাড়ির দিকে। তারপরেও দেখি বিবেচনা করে।

 

জুলেখার লাল শাড়ির শখ অদ্ভুত উপায়ে মিটে গেল। মনিশংকর বাবু পূজা উপলক্ষে বিতরণের জন্যে একগাদা শাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। পূজার দ্বিতীয় দিনে তিনি ঝাকাভর্তি শাড়ি নিয়ে বিতরণে বের হলেন। হিন্দু মুসলমান বিবেচনায় না। এনে সবাইকে শাড়ি দিতে লাগলেন। জুলেখার বাড়ির সামনে যখন এসে দাঁড়ালেন তখন দুপুর। জুলেখা পুকুরে গোসল সেরে ভেজা শাড়িতে উঠানে এসে দাঁড়িয়েছে। সুলেমান বাড়িতে নেই। তার ছেলেও বাড়িতে নেই। মনিশংকরকে দেখে গায়ে লেপ্টে থাকা ভেজা শাড়ির জন্যে তার লজ্জার সীমা রইল না। তার ইচ্ছা করল আবার ঝাঁপ দিয়ে পুকুরে পড়তে।

মনিশংকর বললেন, মাগো, আমি আপনার পুত্র। পুত্রের কাছে মাতার লজ্জার কিছু নাই। দেবী দুর্গা আপনার জন্যে সামান্য উপহার পাঠিয়েছেন। গ্ৰহণ করলে ধন্য হবো।

জুলেখা বলল, কে পাঠায়েছেন?

আমার মাধ্যমে দেবী দুর্গা পাঠিয়েছেন।

আমি মুসলমান।

জানি। মাগো, পছন্দ করে একটা শাড়ি নেন।

জুলেখা কাঁপা কাঁপা হাতে একটা শাড়ি নিল। তার কাছে মনে হলো সে তার জীবনে এত সুন্দর শাড়ি দেখে নি। জবাফুলের মতো লালশাড়ি। আঁচলে সোনালি ফুল। ফুলগুলি থেকে সোনালি আভা যেন ঠিকরে পড়ছে। শাড়ি নিয়ে সুলেমান কোনো ঝামেলা করল না। পূজার পরে তাকে শাড়ি কিনে দিতে হবে না। এই স্বস্তিই কাজ করল।

হরিচরণের বাড়িতে মনিশংকর উপস্থিত হয়েছেন। তার হাত ধরে আছে পুত্র শিবশংকর। ছেলেটা বাবার ন্যাওটা। বাবাকে ছেড়ে একমুহুৰ্তও থাকতে পারে না। পূজাবাড়ির হৈচৈ ফেলে সে বাবার হাত ধরে ঘুরছে।

হরিচরণ ব্যস্ত হয়ে উঠানে এসে দাঁড়াতেই মনিশংকর বললেন, আমার বাড়িতে মা এসেছেন। আপনি নাই কেন?

হরিচরণ বললেন, আমি কীভাবে যাব? আমি পতিতজন।

মনিশংকর বললেন, মা’র কাছে কেউ পতিত না। আমি আপনাকে নিতে এসেছি।

পূজামণ্ডপে আমি উপস্থিত হলে অন্যরা আপনাকে ত্যাগ করবে।

অন্যরা ত্যাগ করলে করবে। মা আমাকে ত্যাগ করবে না। আপনি যদি আমার সঙ্গে না যান। আমি কিন্তু আপনার উঠানে উপবাস করব।

দীর্ঘদিন পর হরিচরণের চোখে পানি এসে গেল। মনিশংকর ছেলেকে বললেন, যাও কাকাকে প্ৰণাম কর।

হরিচরণ আঁৎকে উঠে বললেন, না। না।

মনিশংকর বললেন, আপনি অতি পূণ্যবান ব্যক্তি। আপনাকে প্ৰণাম না করলে কাকে করবে!

মূল মণ্ডপের বাইরে উঠানে হাঁটুগেড়ে জোড় হস্তে হরিচরণ বসেছেন। তাঁর চোখ বন্ধ। ঘণ্টা এবং ঢাকের আওয়াজ কানে আসছে। নাকে আসছে ধূপের গন্ধ। তাঁর উচিত দেবী দুর্গার বন্দনা করা। তিনি একমনে বলছেন, কৃষ্ণ কোথায়? আমার কৃষ্ণ! কৃষ্ণ।

এইসময় একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। মোটামুটি অপরিচিত লোকজনের মধ্যে পরিচিত একজনকে দেখে দৌড়ে এসে তার কোলে ঝাপ দিয়ে পড়ল জহির। হরিচরণ অনেকদিন আগে দেখা স্বপ্লে ফিরে গেলেন। তার মনে হলো, সত্যি স্বয়ং শ্ৰীকৃষ্ণ তার কোলে। জ্ঞান হারিয়ে উঠানে পড়ে গেলেন। চারদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। পূজারি ঠাকুর ঘোষণা করলেন, ধর্মচ্যুত মানুষ দেবীর কাছাকাছি আসায় এই বিপত্তি। দেবী বিরক্তি হয়েছেন। দেবীর বিরাত্ত্বিও, দূৰ্গা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। আলাদা পূজাপাঠ লাগবে।

হরিচরণ দুর্বল শরীরে শুয়ে আছেন। তাঁকে দেখতে এসেছেন। শশী। ভট্টাচার্য। ডাক্তার কবিরাজের মতো গম্ভীর ভঙ্গিতে নাড়ি ধরে থেকে বলেছে, আপনার কি মৃগী আছে? হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মৃগীর লক্ষণ।

আমার মৃগী নাই।

নাই, হতে কতক্ষণ? সাবধানে থাকবেন। একাডোজ ওষুধ দিচ্ছি, খেয়ে ঘুমিয়ে থাকুন। ওষুধের কারণে সুনিদ্রা হবে। ক্লান্তি দূর হবে।

হরিচরণ বিস্মিত হয়ে বললেন, তুমি ডাক্তারি কর না-কি?

শশী ভট্টাচাৰ্য বললেন, আমি শখের চিকিৎসক। বায়োকেমিক চিকিৎসা করি। বায়োকেমিক চিকিৎসা বিষয়ে কি আপনি কিছু জানেন?

না।

আমাদের বায়োকেমিক শাস্ত্ৰে ওষুধের সংখ্যা মাত্র বারো। বারোটা ওষুধে সর্বরোগের উপশম। লক্ষণ বিচার করে ঠিকমতো ওষুধ দিতে পারলেই হলো।

 

শশী ভট্টাচাৰ্য মনে হয় বান্ধবপুরে স্থায়ী হয়ে গেছেন। বান্ধবপুরে প্রাইমারি স্কুল চালু হয়েছে। তিনি তার শিক্ষক। ছাত্রসংখ্যা তিন। তাঁর প্রধান কাজ ছাত্র সংগ্ৰহ করা। অপ্রধান কাজ হরিচরণের জমিদারির হিসাব-নিকাশ দেখা।

শশী ভট্টাচার্যের বর্তমান পরিচয়- পাগলা মাস্টার।

যে মাস্টার কালো একটা চামড়ার ব্যাগ হাতে ঘুরে বেড়ায়। ছোট ছেলে।পুলে দেখলে পেছন থেকে এসে ঘাড় চেপে ধরে বলে— তোর বাবার কাছে আমাকে নিয়ে যা। ভোকে স্কুলে ভর্তি করাব। পেট এত মোটা কেন? পেটভর্তি কৃমি গজগজ করছে। হা কর— ওষুধ খাবি।

রোগী পালাতে চেষ্টা করে। ঝেড়ে দৌড় দেয়। পেছনে পেছনে দৌড়ান শশী মাস্টার।

একদিন রোগীর পেছনে ছুটতে শশী মাস্টার শশাংক পালের সামনে পড়ে গেল। শশাংক পাল বললেন, আপনার পরিচয়?

রোগী ধরার জন্যে দৌড়াচ্ছি।

ও আচ্ছা! আপনি পাগলা মাস্টার। আপনার কথা শুনেছি। আমার নাম শশাংক পাল। জমিদারি ছিল। হাতিতে চড়ে ঘুরতাম। এখন হাঁটাহাঁটি করি।

শশী মাস্টার বললেন, হাঁটাহাঁটি করা শরীরের জন্যে ভালো। ভিক্ষুক শ্রেণীর যারা সারাদিন হাঁটার মধ্যে, তারা রোগমুক্ত।

শশাংক পাল বললেন, আমি বর্তমানে ভিক্ষুক শ্রেণীতেই পড়ি, তবে রোগমুক্ত না। নানান রোগ শরীরে স্থায়ী হয়েছে। ভালো কথা, আপনি কি মদ্যপান করেন?

না।

শশাংক পাল বললেন, মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ভালো হতো। আপনার সঙ্গে মদ্যপান করতাম। একা মধ্যপান করা বড়ই কষ্টের।

শশী মাস্টার বললেন, আপনি বোতল নিয়ে আমার এখানে চলে আসবেন। আপনি বোতল নামাবেন আমি ব্যাঞ্জো বাজাব। কলের গানের গানও শুনতে পারেন। আমার একটা কলের গানও আছে।

আপনার কলের গানের কথা শুনেছি। কলের গানের গান আমি পছন্দ করি না। যে গানে গায়ককে দেখা যায় না সেই গান মূল্যহীন। আপনার চামড়ার বাক্সে কি ওষুধ? লিভারের ব্যথার কোনো ওষুধ যদি থাকে দিন। খেয়ে দেখি। আমি আবার ওষুধ খেতে খুব পছন্দ করি। যে-কোনো ওষুধ আগ্রহ করে খাই।

 

বৈশাখ মাসের এক রাতের কথা। আকাশে নবমীর চাঁদ উঠেছে। শশী মাস্টারের টিনের চালে চাঁদের আলো পড়েছে। টিনের চাল ঝলমল করছে। বনভূমির ঝাঁকড়া সব গাছ মাথায় জোছনা মেখে দুলছে। সৃষ্টি হয়েছে অলৌকিক এক পরিবেশ। শশী মাস্টার কলের গান ছেড়ে জোছনা দেখতে ঘরের বার হয়ে থমকে দাঁড়ালেন। জামঘাছের নিচে টুকটুকে লালশাড়ি পরে এক তরুণী দাঁড়িয়ে আছে।

শশী ভট্টাচার্যের হঠাৎ মনে হলো, এ কোনো মানবী না। নিশ্চয়ই স্বর্গের উৰ্বশীদের কেউ। কিংবা দেবী স্বরস্বতী স্বয়ং মর্তভূমে নেমে এসেছেন। শশী ভট্টাচার্য বললেন, কে?

তরুণী চমকে উঠল। কিন্তু জবাব দিল না। ছুটে পালিয়েও গেল না।

শশী ভট্টাচার্য বললেন, আপনি কে? এখানে কী করেন?

তরুণী নিচু গলায় বলল, গান শুনি।

আপনি কি এই অঞ্চলের?

তরুণী হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। শশী ভট্টাচার্য বললেন, কলের গানে গান হচ্ছে। চোঙের ভেতর দিয়ে গান আসে। একটা যন্ত্র। হাত দিয়ে দম দিতে হয়। আপনি কি যন্ত্রটা দেখবেন?

না।

আপনি কি প্রথম গান শুনতে এসেছেন? নাকি আগেও এসেছেন?

আগেও আসছি।

তরুণী চারটা আঙুল দেখাল।

শশী মাষ্টার বললেন, গান শুনতে ভালো লাগছে?

হুঁ।

আরেকটা থাল দিব!

থাল কী?

গোল থালের মতো জিনিস। যেখানে গান বাঁধা থাকে।

তরুণী বলল, গান কি দই যে বাঁধা থাকব?

একটা থাল এনে আপনাকে দেখাই? থালটা যন্ত্রের ভেতর দিয়ে হ্যান্ডল চাপলেই থাল থেকে গান হয়।

তরুণী হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। শশী মাস্টার বললেন, আপনার নাম কী?

নাম বলব না।

বলতে না চাইলে বলবেন না। আপনি দাঁড়ান, আমি থাল এনে দেখাচ্ছি।

তরুণী বলল, আচ্ছা।

শশী মাস্টার রেকর্ড নিয়ে এসে তরুণীকে দেখতে পেলেন না। জামগাছের নিচে কেউ নেই। আশেপাশেও নেই। কোনো এক বিচিত্র কারণে তার সারারাত ঘুম হলো না। তিনি গভীররাতে ডায়েরি খুলে লিখলেন—

I saw an Indian lady at the dead of night. Her captivating beauty was all engulfing. For a moment I lost all my senses, I felt like bowing down at her feet.

 

শ্রাবণ মাস। হাওরে পানি এসেছে। নদীনালা ফুলে ফোঁপে উঠছে। ধনু শেখ তার একতলা লঞ্চ বিক্রি করে দোতলা লঞ্চ কিনেছেন। এই লঞ্চের প্রধান বিশেষত্ব তার হর্ন। ঘাটে ভিড়েই এমন বিকট শব্দে ‘ভো’ দেয় যে বাজারের লোকজন চমকে উঠে। লঞ্চের দ্বিতীয় বিশেষত্ব হিন্দু মুসলিমের আলাদা আসন। হিন্দুরা দোতলায়। মুসলমানরা একতলায়। কোনো মুসলমান দোতলায় উঠতে পারবে না। দোতলায় ভাতের হোটেল আছে। ব্ৰাহ্মণ বাবুর্চির হাতে হোটেল। ছয় আনায় অতি উত্তম ব্যবস্থা। পেটচুক্তি ভাত। সবজি, ডাল, ছোট মাছের চচ্চড়ি। খাওয়ার শেষে একবাটি মিষ্টি দই।

মুসলমানদের জন্যে আলাদা হোটেল নেই। যারা খেতে চায় দোতলার খাবার নিচে চলে আসে। তবে মুসলমানরা সাধারণত কিছু খায় না। তাদের এত পয়সাকড়ি নেই।

দোতলা লঞ্চ চালুর দিনও ধনু শেখ গেল নিবারণ চক্রবর্তীর কাছে। তাঁর আশীৰ্বাদ নিতে।

নিবারণ চক্রবর্তী বললেন, দোতলা লঞ্চ কিনেছ খবর পাইছি। অল্পদিনে ভালো দেখাইলা।

ধনু শেখ বিনীত গলায় বলল, আপনার আশীৰ্বাদ। আপনার আশীৰ্বাদ বিনা এই কাজ সম্ভব ছিল না।

লঞ্চের নাম নাকি দিছ- জয় মা কালী সার্ভিস?

জে। কর্তা।

তুমি মুসলমান হইয়া লঞ্চের নাম দিলা জয় মা কালী?

ধনু শেখ বলল, বাতাস বুইজ্যা পাল তুলছি। হিন্দু যাত্রী বেশি। সেই কারণে হিন্দু নাম।

নিবারণ চক্রবর্তী বললেন, মুসলমান যাত্রী যদি বেশি হওয়া শুরু করে তখন কি নাম পাল্টাইবা?

ধনু শেখ হাসিমুখে বললেন, অবশ্যই। তখন নাম হইব ‘মা ফাতেমা সার্ভিস’।

মা ফাতেমাটা কে?

আমাদের নবিজির কন্যা।

ভালো। ভালো। খুব ভালো।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা আপনেরে লঞ্চ করে সোহাগগঞ্জ বাজারে নিয়া যাব। একটু ইজ্জত করব।

নিবারণ চক্রবর্তী বিরক্ত গলায় বললেন, ইজ্জত আমার যথেষ্টই আছে। তোমার ইজ্জতের প্রয়োজন নাই।

ধনু শেখ বলল, অবশ্যই অবশ্যই।

এই ঘটনার দু’দিন পরই নিবারণ চক্রবর্তীর দোতলা লঞ্চ সোহাগীগঞ্জে অচল হয়ে পড়ে গেল। ইঞ্জিনে যে ডিজেল দেয়া হয়েছিল। সেখানে নাকি পানি মেশানো ছিল। ডিজেল কেনা হয়েছিল ধনু শেখের দোকান থেকে। সে ডিজেল এবং কেরোসিনের ডিলারশিপ পেয়েছে। তার কাছ থেকে ডিজেল না কিনে উপায় নেই।

 

শশী মাস্টার ভোরবেলা ঘর ছেড়ে বের হন। মাধাই খালে একঘণ্টা সাতার কাটেন। ভেজা কাপড়েই যান স্কুলে। ভেজা কাপড় গায়ে শুকালে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এই যুক্তিতে ভেজা কাপড় গায়ে শুকান। স্কুলের ছাত্র পড়ানো শেষ করে, জমিদারির কাগজপত্র নিয়ে বসেন। দুপুরে হরিচরণের সঙ্গে ফলাহার করেন। হরিচরণের সঙ্গে টুকটাক কিছু কথাবার্তা হয়। সবই ধর্মবিষয়ক। ঈশ্বরের স্বরূপ কী? উপনিষদ বলছে- জগত মায়া। মায়ার অর্থ কী? জগৎ যদি মায়া হয়। তাহলে কি প্ৰেম-ভালোবাসা, স্নেহ-মমতাও মায়া? শশী মাস্টারের নিজের বাড়িতে ফিরতে ফিরতে বরাবরই সন্ধ্যা হয়। নিত্যদিনের এই রুটিনে একদিন ব্যতিক্রম হলো। হঠাৎ জ্বর এসে যাওয়ায় স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি ফিরে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। জামগাছের নিচে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটি তাঁর ঘরে। কলের গানের সামনে বসে আছে। পেতলের চোঙের ভেতর চোখ রেখে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করছে। শশী মাস্টারকে দেখে তরুণী ফ্যাকাশে হয়ে গেল। শশী মাস্টার নিজের বিস্ময় গোপন রেখে বললেন, ঐ রাতে আপনাকে দেখাবার জন্যে থাল এনে দেখি আপনি নাই। চলে গেলেন কেন?

তরুণী জবাব দিল না। মাথা নিচু করে বসে রইল।

শশী মাস্টার বললেন, কলের গান কীভাবে বাজে দেখাব?

তরুণী হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। শশী মাস্টার বললেন, আপনি কি আমার বাড়িতে এর আগেও ঢুকেছেন।

তরুণী হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে তিনটা আঙুল উঁচিয়ে দেখাল। সে তিনবার ঢুকেছে।

কলের গান দেখার জন্যে?

হুঁ।

আপনার নাম জানতে পারি? আজ কি আপনি আপনার নামটা বলবেন?

জুলেখা।

মুসলমান?

হুঁ।

গান খুব পছন্দ করেন?

জুলেখা হঁহা-সূচক মাথা নেড়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল, আপনি নিজে একটা বাজনা বাজান আমি দেখছি। বেঞ্জো।

হ্যাঁ, ব্যাঞ্জো।

আপনার বাজনা ভালো না। তাল কাটে।

আপনি কি গান গাইতে পারেন?

হুঁ।

আমি কি আপনার একটা গান শুনতে পারি?

না। কলের গানটা বাজান। আমি দেখি।

শশী মাস্টার কলের গান চালু করলেন। মীরার ভজন হচ্ছে। শশী মাস্টার অবাক হয়ে লক্ষ করলেন- গান শুনতে শুনতে এই অস্বাভাবিক রূপবতী মেয়েটি চোখের পানি ফেলছে।

শশী মাস্টার বললেন, কলের গানটা আপনি নিয়ে যান। আমি আপনাকে দিলাম। উপহার।

জুলেখা বলল, আপনার জিনিস। আমি নিব কী জন্যে? আপনে আমার কে?

আরেকটা থাল দিব? অন্য গান।

জুলেখা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।

 

সেই রাতে হারিকেন জ্বলিয়ে শশী মাস্টার ডায়েরি লিখতে বসলেন- What a shame! I am deeply in love with the muslim lady—মুনিগণ ধ্যান ভেঙে দেয় পয়ে তপস্যার ফল।

অনেক রাতে শশী মাস্টার একটি কবিতাও লিখলেন–

এক জোড়া কালো আঁখি; এত মূল্য তারি!
নিতান্ত পাগল ছাড়া কে করে প্রত্যয়?
জগতের যন্ত রত্ন লাজে মানে হারি—
বিনিময়ে দিতে পারি, যা কিছু সঞ্চয়!

অনেকদিন পর হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি ইসলামি গান’ শিরোনামে রূপবতী জুলেখার একটি রেকর্ড প্রকাশ করে। সেখানে তার নাম লেখা হয় চান বিবি। গানের প্রথম কলি- ‘কে যাবি কে যাবি বল সোনার মদিনায়।” সেই গল্প যথাসময়ে বলা হবে। এই ফাঁকে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থাটা বলে নেই। সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং রানী মেরী বেড়াতে এসেছেন ভারতবর্ষে (ডিসেম্বর, ১৯১১)। তাঁদের সম্মানে দিল্লিতে এক মহা দরবার অনুষ্ঠিত হলো। সেই দরবারে সম্রাট হঠাৎ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করলেন। মুসলমানরা মর্মাহত। মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্যে যে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন তার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ইংরেজের প্রিয়পাত্র হয়েও তিনি বঙ্গভঙ্গের কঠিন সমালোচনা করলেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলি, মাওলানা জাফর আলি খান। রাজনীতির আসরে এই সময় যুক্ত হয়েছেন বরিশালের চাখার থেকে আসা এক তরুণ। তার নাম এ কে ফজলুল হক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *