ভগবদগীতা-সমালোচনা – ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ (শেষ)

ভগবদগীতা-সমালোচনা – ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ (শেষ)

কেশব নিষ্কাম ধর্ম্মে প্রণোদিত হইয়া প্রিয় বন্ধুকে বিশ্বরূপ দর্শন করান নাই। তাহার কৌতূহল চরিতার্থ করাই তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মুখ সংগ্রামে সমস্ত প্রতিপক্ষীয় বীরগণকে হত্যা করিয়া অনায়াসে জয়লাভ করিতে পারিবেন, ইহা সপ্রমাণ করিয়া তাহাকে যুদ্ধে নিয়োজিত করাই তাঁহার উদ্দেশ্য।কিন্তু অত্যাশ্চর্য্য বিরাট রূপ দর্শন করিয়াও সব্যসাচির মোহাপনোদন হইল না। তখন গোবিন্দ কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হইয়া বলিলেন, সখে, জগতে দুই প্রকার লোক আছে। কেহ বা দৈব সম্পৎ লক্ষ করিয়া, কেহ বা আসুরসম্পৎ লক্ষ্য করিয়া জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমোক্তগণ আমার প্রিয় এবং শেষোক্তগণ আমার দ্বেষ্য(১)। আমি জানিতে পারিয়াছি তুমি দৈবসম্পৎ লক্ষ্য করিয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছ। তোমার ন্যায় ভাগ্যবান, ধনবান, ক্ষমাশীল, তেজঃসম্পন্ন লোক আর নাই। অতএব তুমি আর বৃথা শোক করিও না, আনন্দচিত্তে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হও।
আর দেখ “যাহারা শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করিয়া স্বেচ্ছাচার কার্য্যে প্রবৃত্ত হয়, তাহারা কখন সিদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না” (১৬অ–২৩)। “অতএব তুমি কার্য্য এবং অকার্য্য নির্ণয় বিষয়ে (শ্রুতি, স্মৃতি, পুরাণাদি) শাস্ত্রই তোমার প্রমাণ হউক। তুমি শাস্ত্রোক্ত কর্ম্ম অবগত হইয়া তাহার অনুষ্ঠান কর” (১৬অ–২৪)। বেদাদি শাস্ত্র সকলের পুনঃ পুনঃ নিন্দা করিয়া সহসা তাহাদের প্রতি কৃষ্ণের প্রগাঢ় ভক্তির উদ্রেক দর্শন করিয়া শাস্ত্রানুরাগী কৃষ্ণভক্তগণ বিশেষ আনন্দিত হইতে পারেন। কিন্তু এস্থলে শাস্ত্রের গৌরব বর্দ্ধনে কৃষ্ণের কিঞ্চিত স্বার্থ আছে। তিনি ভাবিয়াছিলেন, অর্জ্জুন ক্ষত্রিয়, যুদ্ধই তাহার স্বধর্ম্ম। সুতরাং শাস্ত্রে ভক্তি জন্মিলে তিনি স্বধর্ম্ম পালন না করিয়া থাকিতে পারিবেন না।

বাসুদেব বঙ্কিম বাবুর উপাস্য দেবতা। তিনি তাঁহাকে পূর্ণব্রহ্ম বলিয়া মনে করেন। কিন্তু ভক্তের যে টুকু জ্ঞান আছে, দেবতার তাহাও নাই। বঙ্কিম বাবু বিনা বিচারে শাস্ত্রাজ্ঞা পালন সম্বন্ধে লিখিয়াছেন–“বিনা বিচারে ঋষিদিগের বাক্যসকল মস্তকের উপর এতকাল বহন করিয়া আমরা বিশৃঙ্খলা, অধর্ম্ম এবং দুর্দ্দশায় আসিয়া পড়িয়াছি। এখন আর বিনা বিচারে গ্রহণ করা কর্ত্তব্য নহে”।

কেবলং শাস্ত্রমাশ্রিত্য ন কর্ত্তব্যো বিনির্ণয়ঃ।
যুক্তিহীনে বিচারেতু ধর্ম্মহানিঃ প্রজায়তে।।

বঙ্কিম বাবু দোষটা ফেলিয়াছেন ভাষ্যকার ঋষিগণের উপর। কিন্তু একটু অনুধাবন করিয়া দেখিলে শাস্ত্রকারগণেরও দোষ দেখিতে পাইতেন। কেবল শাস্ত্রের দোহাই দিয়া যুক্তিহীন বিচারে ধর্ম্মহানি হয়, ভারতবাসী এই মহা বাক্যের স্বার্থকতা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিলে আজ গীতার এত আদর দেখিতে পাইতাম না।

বঙ্কিম বাবু সপ্তদশ অধ্যায়ের অষ্টম শ্লোক হইতে মাংসাহারের নির্দ্দোষতা প্রমাণ করিয়া কুক্কুটাণ্ডলোলুপ বৈষ্ণবগণের বিশেষ ধন্যবাদার্হ হইয়াছেন। কেবল কুক্কুট কেন, বিলাতি ভট্টাচার্য্যগণের অনুমতি লইয়া ভগবতীর পবিত্র মাংসেও দেহের পুষ্টিসাধন করা যাইতে পারে, অগাধ শাস্ত্র-সমুদ্র মন্থন করিয়া ডিপুটীবাবু এই মহার্ঘ রত্নটী উত্তোলন করিয়াছেন। (ধর্ম্মতত্ত্ব–১০১ পৃষ্ঠা।)

মহামতি সব্যসাচি নিঃশব্দে সমস্ত উপদেশ শ্রবণ করিলেন। উত্তপ্ত মরুভূমিতে বারিবিন্দুর ন্যায় কৃষ্ণের অষ্টাদশাধ্যায়ব্যাপী দীর্ঘ বক্তৃতাও তাহার হৃদয় আর্দ্র করিতে পারিল না। তখন তর্ক এবং যুক্তি-মার্গ পরিত্যাগ পূর্ব্বক নিতান্ত হতাশ চিত্তে কাতরস্বরে বাসুদেব বলিলেন,–হে অর্জ্জুন “তুমি আমার কথা শোনো। তুমি মনোবৃত্তি দ্বারা সমস্ত কর্ম্ম আমাতে সমর্পণ করিয়া মৎপরায়ণ হও। তুমি যদি অহঙ্কার প্রযুক্ত যুদ্ধ করিব না এরূপ প্রতিজ্ঞা করিয়া থাক, তাহা হইলে উহা নিষ্ফল হইয়াছে। কেননা ক্ষত্রিয়-স্বভাব-সুলভ শূরতার বশীভূত হইয়া অবশ্যই তোমাকে যুদ্ধানুষ্ঠান করিতে হইবে (২) (১৮অ–৫৯)।
অতএব তুমি আমার স্মরণাপন্ন হও। তুমি আমাকে চিত্ত সমর্পণ কর। তুমি সমস্ত ধর্ম্মানুষ্ঠান পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র আমার স্মরণাপন্ন হও। তোমার কিছুমাত্র ভাবনা নাই। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ এবং সমস্ত বিপদ হইতে মুক্ত করিব। তুমি আমার একান্ত প্রিয়তম; তি নিমিত্তই তোমাকে পরম গুহ্য হিতকর বাক্য কহিলাম; এখন তোমার যাহা ইচ্ছা হয়। কর।”
(বোধ হয় মিষ্ট কথায় কোন কাজ হইল না দেখিয়া) অবশেষে ক্রোধভরে যোগেশ্বর হরি বলিলেন, দেখ অর্জ্জুন নিশ্চিত জানিও যে, “অহঙ্কার প্রযুক্ত আমার কথা না শুনিলে তুমি নিঃসন্দহ বিনাশ প্রাপ্ত হইবে” (১৮অ–৫৮)। কেন এখন কি তোমার অজ্ঞানজনিত মোহ অপগত হইয়াছে? অতি সুবোধ বালকের ন্যায় আর দ্বিরুক্তি না করিয়া মহামতি ধনঞ্জয় বলিলেন;–“হে মাধব, তোমার অনুগ্রহে মোহান্ধকার নিরাকৃত হওয়াতে আমি স্মৃতি লাভ করিয়াছি। আমার সকল সন্দেহ দূর হইয়াছে; এক্ষণে তুমি যাহা কহিবে, আমি অবশ্যই তাহার অনুষ্ঠান করিব।” এত ধস্তাধস্তির পর সহসা পার্থের মোহরাশির অপনোদন দর্শন করিয়া পাঠকবর্গ যারপর নাই আনন্দিত হইবেন, সন্দেহ নাই; তবে তিনি ভ্রান্তিনাশের কারণটা প্রকাশ করিয়া বলিলে অত্যন্ত সুখের বিষয় হইত। গ্রন্থারম্ভে তিনি যে সকল আপত্তির উত্থাপন করিয়াছিলেন, যথা;–পূজনীয় গুরুগণকে হত্যা করা অন্যায়; আত্মীয় স্বজনকে বধ করিয়া রাজ্য লাভেও সুখ হইবে না; কুল নাশ করিলে কুল অধর্ম্মে পরিপূর্ণ এবং কুলস্ত্রীগণ অসৎ চরিত্রা হইবে; ইত্যাদি আপত্তি সকলের খণ্ডন হইল কি প্রকারে?

পদ্মনাভমুখপদ্মবিনিঃসৃত, পঞ্চমবেদস্বরূপ মহাভারতের উজ্জ্বল রত্ন শ্রীমদ্‌ভাগবদ্‌গীতোপনিষৎ পাঠ করিয়া আমরা কোন তত্ত্ব শিক্ষা লাভ করিলাম? এই প্রশ্নটী মনোমধ্যে উদয় হইলে কোন গুরুমহাশয়কর্ত্তৃক চাণক্য শ্লোকের ব্যাখ্যার গল্পটী মনে পড়ে। “পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ” পরের দ্রব্য লোষ্ট্রের ন্যায় জ্ঞান করিবে; অর্থাৎ অপরের ঢিল যেমন ইচ্ছা হইলেই অনায়াসে গ্রহণ করা যায়; সেইরূপ, আবশ্যক হইলে অপরের যে কোন দ্রব্যও গ্রহণ করা যাইতে পারে। বস্তুতঃ গীতা পুস্তকের অনেক স্থলই কতক গুলি সর্ব্বজনবিদিত সত্যের ব্যঙ্গকাব্য (Caricature) বলিয়া বোধ হয়। দুই একটী উদাহরণ দেখিলেই পাঠক বর্গ বুঝিতে পারিবেন।
১ম। আত্মার অমরত্ব;–ইহা গীতার আবিষ্কৃত নয়–উপনিষৎ হইতে গৃহীত। গীতায় তাহার কোন নূতন প্রমাণ নাই। “বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়” ইত্যাদি শ্লোকের অপেক্ষা Worlds worth এর Ode to Immortality কাব্যাংশে শ্রেষ্ঠ। আত্মার অবিনশ্বরত্ব হইতে গীতালেখক ব্যাসদেব একটী আশ্চর্য্য সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন;–“মানব মানবকে হত্যা করিতে পারে না”!!! “নায়ং হন্তি ন হন্যতে”। “কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তিহন্তি কম্‌”।
২য়। ফলে আকাঙ্খা না করিয়া নিঃস্বার্থভাবে হিতকর কার্য্যে নিযুক্ত হইতে সকল ধর্ম্মই উপদেশ দেন।
Xavier এর সুন্দর প্রার্থনাটী সকলেই ত অবগত আছেন;–
Then why O Blessed Jesus Christ
Should I not love thee well;
Not for the sake of willing Heaven,
Not for escaping Hell,
Not for the sake of gaining aught
Not hoping for reward,
But as theyself hast loved me
O ever–loving Lord.

কৃষ্ণের নিষ্কাম ধর্ম্মের ব্যাখ্যা এই যে;–নিষ্কামভাবে নরহত্যা করিলেও দোষ হয় না।
হত্বাপি স ইম্ললোঁকান্ন হন্তি ন নিবধ্যতে।র
(১) জাতিকর্ম্ম গর্হিত হইলেও পালন করা মানবের উচিত, (২) আমাদের কৃত কর্ম্মের জন্য আমরা দায়ী নই, (৩) বিনা বিচারে শাস্ত্রাজ্ঞাপালন করা উচিত; ইত্যাদি গীতোক্ত উপদেশমালাই বোধ হয় ডেলি নিউসের (Indian Daily News) ভূতপূর্ব্ব সম্পাদক ডেলি সাহেবের মতে ইউরোপের সমস্ত ঐশ্বর্য্য অপেক্ষা অধিকতর মূল্যবান।

ধর্ম্মশাস্ত্র মানবকে পরিত্রাণের উপায় শিক্ষা দেয়। ভগবদ্‌গীতায়ও পরিত্রাণের অনেকগুলি উপায় বর্ণিত আছে। যথা,–যিনি ভাবেন, কৃষ্ণের কর্ম্মফলে স্পৃহা নাই, কর্ম্ম কৃষ্ণকে স্পর্শ করিতে পারে না, তিনি কর্ম্ম বন্ধন হইতে মুক্তিলাভ করেন। (৪অ–১৪)। যে যোগী উত্তরায়ণের শুক্লপক্ষে প্রাণত্যাগ করেন, তিনি ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হয়েন। কিন্তু যে যোগীর দক্ষিণায়ণের কৃষ্ণপক্ষে মৃত্যু হয়, তাঁহাকে সংসারে প্রত্যাগমণ করিতে হয় (৮অ–২৪)। যিনি রোগাদিতে অভিভূত, যাঁহার ধনোপার্জ্জনের ইচ্ছা বলবতী, (৭অ–১৬) বা যিনি যজ্ঞ বাড়ীতে উত্তমরূপে ভোজন করেন (৩অ–১৩)। (৪অ–৩০), সেই সকল লোকদের মোক্ষ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।

পণ্ডিতবর Cherles H. Tawney সমস্ত গীতা পাঠ করিয়া বলেনঃ–The conclusion of the whole matter is that the only doctrine appropriate to a member of the warrior caste is devotion by means of work, an unselfish discharge of the duties fo the caste, through on recommending this devotion to Arjun, Krishna appeals to selfish motive. (২অ–৩৭)। (১১অ–৩৩)। It is impossible to resist the conviction that a vein of insincerity runs through this exhortation.
“অষ্টাদশ শত বৎসর ভগবৎগীতা পাঠ করিয়া ভারতবাসী কি উপকার প্রাপ্ত হইয়াছেন?” কোন বিদেশীয় এই প্রশ্ন করেন।
Has it promoted popular education and good government? Has it educated the people in generous emotions? Has it obtained for windows the liberty of re-marriage? Has it driven away dancing girls from the temple? Has it abolished polygamy? Has it repressed vice and encourage virtue? Was it this philosophy which abolished female infanticide, the Meriah sacrifice, and the burning of the widows? Is it this which has kindled amongst the native inhabitants of India the spirit of improvement and enterprise which is now apparent? Need I ask the question! All this time the philosophy of quietism has been sound asleep; or with its eye fixed on the point of its nose, according to the directions of the Gita, it has been thinking itself out of its wits. What could be expected of the philosophy of Apathy, but that it should leave things to take their course.
ভগবৎগীতার যোগাদি সম্বন্ধে উপদেশ গুলি পাঠ করিতে করিতে Lord Macanlayএর কথা গুলি মনে পড়ে।
Words, and more words, and nothing but words, had been all the fruit of all the toil of all the most renowned (ancient) sages. The ancient philosophers promised what was impracticable:–They despised what was practicable:–they filled the world with long words and long beards.–and they left it as wicked and as ignorant as they found it.
(Macaulay’s essay on Lord Bacon.)

গীতার মাহাত্ম্য আমাদের পাপ চক্ষে বিশেষ কিছু দৃষ্ট হইল না।(৩) তজ্জন্য আমাদের লজ্জিত হইবার কোন কারণ নাই।
গীতামাহাত্ম্য পুস্তকে লিখিত আছে, যে কেবল গোপালনন্দন হরিই গীতার মহাত্ম্য সম্যকরূপে বিদিত আছেন। আর কুন্তীসূত অর্জ্জুন, ব্যাসদেব, ব্যাসের পুত্র শুকদেব যাজ্ঞবল্ক্য মুনি এবং জনক রাজা, কিঞ্চিতমাত্র জানেন। গীতার মাহাত্ম্য এরূপ গুপ্ততম যে, অন্যের কথা দূরে থাকুক, গণ্ডুষে সমুদ্র শোষণ করিতে পারেন, বা দ্রোণী মধ্যে রেতঃপতন হইলেও সন্তান উৎপন্ন হয়, এরূপ অব্যর্থবীর্য্য, অমিততেজা বড় বড় মুনিঋষিগণও ইহার লেশমাত্র অবগত নন। মহর্ষি সূত নৈমিষারণ্যে মহামুনি ব্যাসের নিকট শ্রবণ করিয়াছিলেন যে, ছয় আনার পয়সা ব্যয় করিলেই অতি সহজে সকল বিপদ হইতে মুক্ত হওয়া যায়; অর্থাৎ এক খানি গীতা কিনিয়া গৃহে রাখিলে, বেদ পুরাণাদি পাঠ, দান, ধ্যান, যজ্ঞাদি, তীর্থদর্শন আর করিবার আবশ্যক থাকে না। গীতা পাঠেই সমস্ত ফল লাভ হইতে পারে। ভগবান স্বয়ংই বলিয়াছেন;–যিনি গীতার এক অধ্যায় পাঠ করেন, তিনি রুদ্রলোকে চিরকাল বাস করেন। অর্দ্ধ অধ্যায় পাঠ করিলে শত মন্বন্তর সূর্য্যলোকে বাস, একটী দুইটী শ্লোক এমন কি, অর্দ্ধটী পাঠ করিলেও অযুত বর্ষ চন্দ্রলোকে বাস, কেহই নিবারণ করিতে পারে না। আর যদি ইহজীবনে গীতা পড়িবার অবকাশ নাই পাও, এবং চিরজীবন পাপ করিয়া মৃত্যুর পর যদি নরকে গমনও কর, যদি শ্রাদ্ধের সময় তোমার পুত্র একবার গীতা খানি পড়িয়া ফেলেন, তবে আর তোমায় পায় কে। একবারে চতুর্ভূজ রূপ ধারণ করিয়া অমরাবতীর অপ্সরাসেবিত মন্দাকিনীতটে মনের সুখে বিহার করিবে!!! এমন প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য ভারতের ঋষিকুলেই সম্ভবে।

——————
(১) ইতিপূর্ব্বে কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্র নিজ মুখেই বলিয়াছিলে, “আমার দ্বেষ্য বা প্রিয় কেহই নাই।” ন মে দ্বেষ্যোহন্তি না প্রিয়ঃ।
(২) “অর্জ্জুনের প্রকৃতিই তাহাকে যুদ্ধে নিযুক্ত করিবে” ইহা নিশ্চিত হইলে, কৃষ্ণের এত বাক্যব্যয়ের আবশ্যক কি?
(৩) তবে দেশে বিদেশে গীতার এত সম্মান কেন? পুরাণাদি শাস্ত্র সকল এতদূর জঘন্য যে তাহাদের সহিত তুলনায় গীতার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি হয়। John Davies বলেন:–It may be certainly affirmed, that if any one, after reading Puranas or other popular religious books, should then turn for the first time to the study of Bhagbat Gita, he mus be conscious of having come to a new country where nearly every thing is changed. The thoughts, the sentiments, and the methods of expression have another stamp. He feels that he has come to a higher region, where the air is much more pure and invigorating, and where the prospect has a wider range. He has come from a system which gives honour to gods who are stained by cruelty and lust, to a spiritual system which recognises only one God, who, if not set forth in such terms as Christians would utter, is yet a spiritual being, the source and maintainer of all life, and is to be worshipped with a purely spiritual worship.

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *