নিরালা প্রহর

০১. ঘটনাটা যেমন নৃশংস তেমনি বীভৎস

ঘটনাটা যেমন নৃশংস তেমনি বীভৎস। পুলিস ইন্সপেক্টর সুদৰ্শন মল্লিক ঘরের মধ্যে ঢুকেই যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। সমস্ত ঘরের মেঝেতে চাপচাপ রক্ত। তার মধ্যে পড়ে আছে দুটি মৃতদেহ। একটি বছর ত্রিশ-একত্রিশের তরুণীর মৃতদেহ আর অন্যটি একটি বছর চারেকের শিশুর। দুজনকেই কোন ধারালো অন্ত্রের...

০২. তরুণীর মৃতদেহ

একটি বছর ত্রিশ-একত্রিশের তরুণীর মৃতদেহ, অন্যটি একটি বাচ্চা মেয়ের—বছর চার বয়স হবে বড় জোর, গায়ে কোন জামা নেই, কেবল একটা ইজের পরা। তারও পেটে-বুকে নিষ্ঠুর আঘাতের চিহ্ন। নৃশংস-বীভৎস ভাবে হত্যা করা হয়েছে দুজনকেই। কোন উন্মাদ যেন এক হত্যা-লালসায় কোন তীক্ষ্ণ ধারালো অস্ত্রের...

০৩. নীচের ব্যাঙ্কের কর্মচারী

নীচের ব্যাঙ্কের কর্মচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। কিন্তু তারা সবাই বললে, কেউ কিছু জুনে না—জানতেও পারেনি। জনা ছয়েক মিস্ত্রী যারা ভারায় বসে প্লাস্টারিংয়ের কাজ করছিল তাদের মধ্যে একজন মিস্ত্রী—মকবুল বললে, বেলা তখন সওয়া বারোটা কি সাড়ে বারোটা হবে, একা সে বাড়িটার অদূরে একটা...

০৪. একবার বাসায় যেতে হবে

আপাততঃ একবার বাসায় যেতে হবে—সেই সকাল সাড়ে সাতটায় বের হয়েছে, এখন রাত প্রায় পৌনে আটটা—একবার না ঘুরে আসলে সাবিত্রীর সঙ্গে অলিখিত চুক্তিটা ভঙ্গ হবে। বিয়ের কিছুদিন পরেই সাবিত্রীর সঙ্গে সুদর্শনের অলিখিত চুক্তি হয়েছিল সকালে কাজে বেরুলে যেমন করেই হোক সময় করে সুদৰ্শনকে একবার...

০৫. কয়েকটা স্তব্ধ মুহূর্ত

কয়েকটা স্তব্ধ মুহূর্ত। সমীরণ তাকিয়ে আছে। সুদর্শনের মুখের দিকে। আর সুদৰ্শন তাকিয়ে আছে। সমীরণের মুখের দিকে। দুজনে যেন দুজনের সমস্ত দৃষ্টি দিয়ে পরস্পরকে যাচাই করছে। দেবজ্যোতি কিন্তু দাঁড়িয়ে ছিল না। তার কথাটা শেষ করেই সে তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে গিয়েছিল। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে...

০৬. রক্তমাখা কাপড়

ছুরি আছে? ছুরি! হ্যাঁ। আছে—তবে কি হবে ছুরি দিয়ে? নিয়ে আসুন একটা ছুরি। সমীরণ একটা ছুরি নিয়ে এল—তারই সাহায্যে তালা ভেঙে সুটকেসটা খুলে ফেলল সুদৰ্শন। আর খুলতেই যেন ও চমকে ওঠে। রক্তমাখা কাপড়! টেনে বের করল। সুদৰ্শন। রক্তমাখা ধুতি-পাঞ্জাবি-গেঞ্জি—আর কাপড়ের মধ্যে জড়ানো ছিল...

০৭. মৃতদেহের দিকে এগিয়ে গেল

সুদৰ্শন মৃতদেহের দিকে এগিয়ে গেল। নীচু হয়ে বসে মৃতদেহের সামনেটা উল্টে দিল সুদৰ্শন। বুকে ও পেটের ক্ষতস্থান দুটো চোখে পড়ল। পেটের খানিকটা ইনটেসটিন বের হয়ে এসেছে—দুহাতের পাতায় রক্ত শুকিয়ে আছে। বুকের ক্ষতটাও প্রায় ইঞ্চি-দুই চওড়া। চোখে-মুখে অসহ্য একটা বিস্ময় ও যন্ত্রণার...

০৮. শম্ভু একটি ঘুঘু

তা বুঝলি কি করে শম্ভু একটি ঘুঘু? সুদৰ্শন প্রশ্ন করে। ও আমরা দেখলেই চিনতে পারি।–দাশু বললে। হুঁ। তা তুই আজ কখন জানতে পারিস যে তোর বাবু খুন হয়েছেন? বাবুর ঘুম ভাঙার পরই এক কাপ চায়ের দরকার হয়, সেই চা নিয়ে তাঁর ঘরে ঢুকে দেখি—শোবার ঘরে বাবু নেই, তখন ভাবলাম বাবু বোধ হয়।...

০৯. রহস্যের ব্যাপার

সুদৰ্শন বুঝতে পেরেছিল বর্তমান রহস্যের ব্যাপারে সে অন্ধকারে হাতড়ে ফিরলেও কিরীচীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে কোন একটা কিছু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই। রহস্যের ব্যাপারে তার বিশেষ অনুভূতিটা কোন একটা পথ খুঁজে পেয়েছে। সুদৰ্শন তাই আর দেরি করে না। দুটো ভ্যানে দুজন পুলিস অফিসার...

১০. কিছু নাটক সৃষ্টি

কিরীটী একটুক্ষণ চুপ করে থেকে সুদর্শনের দিকে তাকিয়ে বললে, এবারে সমীরণ দত্তকে নিয়ে এস, সুদৰ্শন।– সুদৰ্শন ঘর থেকে বের হয়ে গেল। এবং একটু পরেই সমীরণকে নিয়ে এসে ঘরে ঢুকল। মিঃ স্বামীনাথন! স্বামীনাথন কিরীটীর ডাকে ওর দিকে মুখ তুলে তাকাল। এঁকে চেনেন আপনি? সমীরণকে দেখিয়ে...

১১. মানুষের চরিত্র সত্যিই আশ্চর্য

সুদৰ্শন বাসাতে বসে পরের দিন সন্ধ্যায় সি. আই. টি. র ফ্ল্যাটের হত্যা-ব্যাপারটা নিয়েই কিরীটী আলোচনা করছিল। সামনে পাশাপাশি একটা সোফায় বসে সাবিত্রী ও সুদৰ্শন। একসময় সুদৰ্শন বললে, প্রথম থেকেই কি আপনার মণিশঙ্করের ওপরে সন্দেহ পড়েছিল দাদা? কিরীটী বললে, বলতে পার তোমার মুখে সব...