বিষবৃক্ষ

বিষবৃক্ষ – ০১-১০

প্রথম পরিচ্ছেদ : নগেন্দ্রের নৌকাযাত্রা নগেন্দ্র দত্ত নৌকারোহণে যাইতেছিলেন। জ্যৈষ্ঠ মাস, তুফানের সময়; ভার্যা সূর্যমুখী মাথার দিব্য দিয়া বলিয়া দিয়াছিলেন, দেখিও নৌকা সাবধানে লইয়া যাইও, তুফান দেখিলে লাগাইও। ঝড়ের সময় কখন নৌকায় থাকিও না। নগেন্দ্র স্বীকৃত হইয়া নৌকারোহণ...

বিষবৃক্ষ – ১১-২০

একাদশ পরিচ্ছেদ : সূর্যমুখীর পত্র “প্রাণাধিকা শ্রীমতী কমলমণি দাসী চিরায়ুষ্মতীষু। আর তোমাকে আশীর্বাদ পাঠ লিখিতে লজ্জা করি। এখন তুমিও একজন হইয়া উঠিয়াছ–এক ঘরের গৃহিণী। তা যাহাই হউক, আমি তোমাকে আমার কনিষ্ঠা ভগিনী ভিন্ন আর কিছুই বলিয়া ভাবিতে পারিতেছি না। তোমাকে মানুষ...

বিষবৃক্ষ – ২১-৩০

একবিংশ পরিচ্ছেদ : হীরার কলহ–বিষবৃক্ষের মুকুল তা ত হলো। কুন্দ বশ হবে! কিন্তু সূর্যমুখী নগেন্দ্রের দুই চক্ষের বিষ না হলে ত কিছুতেই কিছু হবে না। গোড়ার কাজ সেই। হীরা এক্ষণে তাহাদের অভিন্ন হৃদয় ভিন্ন করিবার চেষ্টায় রহিল। এক দিন প্রভাত হইলে পাপ হীরা মুনিব-বাড়ী আসিয়া...

বিষবৃক্ষ – ৩১-৪০

একত্রিংশত্তম পরিচ্ছেদ : সকল সুখেরই সীমা আছে কুন্দনন্দিনী যে সুখের আশা করিতে কখন ভরসা করেন নাই, তাঁহার সে সুখ হইয়াছিল। তিনি নগেন্দ্রের স্ত্রী হইয়াছিলেন। যে দিন বিবাহ হইল, কুন্দনন্দিনী মনে করিলেন, এ সুখের সীমা নাই, পরিমাণ নাই। তাহার পর সূর্যমুখী পলায়ন করিলেন। তখন মনে...

বিষবৃক্ষ – ৪১-৫০

একচত্বারিংশত্তম পরিচ্ছেদ : হীরার আয়ি “হীরার আয়ি বুড়ী | গোবরের ঝুড়ি | হাঁটে গুড়ি গুড়ি | দাঁতে ভাঙ্গে নুড়ি | কাঁঠাল খায় দেড় বুড়ি |” হীরার আয়ি লাঠি ধরিয়া গুড়ি গুড়ি যাইতেছিল, পশ্চাৎ পশ্চাৎ বালকের পাল, এই অপূর্ব কবিতাটি পাঠ করিতে করিতে করতালি দিতে দিতে এবং নাচিতে নাচিতে...