০০৯. সূরা তাওবা

সূরা তাওবা (অনুতাপ) বা বারাআত (সম্পর্কচ্ছেদ) - ৯
আয়াত ১২৯, রুকু ১৬, মাদানী
ভূমিকা : সূরা তাওবাহ্‌ (অনুতাপ) বা বারাত (রেহাই প্রাপ্ত) যুক্তিসঙ্গতভাবেই এই সূরাকে পূর্ববর্তী সূরার (৮) ধারাবাহিকতারূপে পরিগণিত করা যায়। শুধু ধারাবাহিকতা নয়, পূর্ববর্তী সূরার অংশরূপে গণ্য করা যায়। যদিও পূর্ববর্তী সূরা (৮) এবং এই সূরার (৯) অবতীর্ণ হবার সময়ের মধ্যে প্রায় সাত বছরের ব্যবধান রয়েছে।
পূর্বের সূরাতে (৮) নূতন মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মুসলমানদের সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে অভ্যুত্থান, যুদ্ধের ময়দানে প্রতিরক্ষার নিয়ম-কানুন, যুদ্ধ জয়ের পরে যুদ্ধলব্ধ মালের সুষ্ঠ বণ্টনের নিয়মাবলী, সম্মিলিতভাবে শত্রুসেনাদের পরাভূত করতে জাতীয় জীবনে যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন হয় এবং যুদ্ধ জয়ের প্রাক্কালে শত্রুদের প্রতি সদয় ব্যবহার, যা ব্যক্তির চরিত্রকে মহিমান্বিত করে প্রভৃতি আলোচনা করা হয়েছে। এই সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে যে, যদি শত্রুরা তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং বিশ্বাস ঘাতকতা করে - তখনকার করণীয় কর্তব্য। এটা সর্বজন স্বীকৃত সত্য যে শত্রুপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে তা মেনে চলার দায়িত্ব অন্য পক্ষের থাকে না। ইসলাম তবুও চুক্তিভঙ্গের পরে চারমাস সময় প্রদানের পক্ষে। এই মেয়াদ দেয়া হবে অনুতাপ করার জন্য। ভুল বুঝতে পেরে যদি কেউ মুসলমানদের কাছে ফিরে আসতে চায়, তাদের সে সুযোগ দান করার জন্য মুসলমানদের সখ্যতার হাত সদা-সম্প্রসারিত থাকবে। কিন্তু এর পরেও যদি কেউ অনুতপ্ত না হয় তবে সর্বশক্তি দ্বারা শত্রুদের আক্রমণ করতে হবে। এই-ই হচ্ছে এই সূরার সাধারণ নীতিমালা। পূর্ববর্তী সূরার সাথে ধারাবাহিকতার কারণে এই সূরাকে পূর্ববর্তী সূরার (সূরা আন্‌ফাল) ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।
আয়াত (১ - ২৯) পর্যন্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মপন্থা (State Policy) সম্বন্ধে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আয়াতগুলিতে যেসব কর্মপন্থা (Policy) ঘোষণা করা হয়েছে তার সময়কাল ছিল ৯ই হিজরী সন, সওয়াল মাস এবং তা সর্বসমক্ষে ঘোষণা করেন হযরত আলী (রাঃ)। এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ঘোষণার জন্য তিনি হজ্জ্বের ময়দানকে বেছে নেন। যদিও আয়াতগুলি অবতীর্ণ হওয়ার দু'মাস পরে তিনি তা করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পলিসিগুলি যাতে ব্যাপকভাবে প্রচার লাভ করে সে কারণেই আয়াতগুলি অবতীর্ণ হওয়ার দু'মাস পরে হজ্জ্বের ময়দানে তা প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। এই সূরার পরবর্তী অংশ অর্থাৎ আয়াত ৩০-১২৯ অবতীর্ণ হয় পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার কিছু পূর্বে। সম্ভবতঃ তা ছিল ৯ই হিজরী সনের রমজান মাস। এই আয়াতগুলিতে নবী করিমের (সাঃ) তাবুক অভিযানের শিক্ষণীয় বিষয়গুলিকে বর্ণনা করা হয়েছে। তাবুক অভিযান ছিল ৯ই হিজরী গ্রীষ্মের শেষ ভাগে [সম্ভবতঃ ৬৩০ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাস]। তাবুক অভিযানের সূত্রপাতের কারণ নিম্নরূপ :
আরবের শেষ সীমায় তাবুকের অবস্থান। সে সময়ে তাবুক ছিল সিরিয়ার একটি প্রদেশ [প্যালেস্টাইন ছিল এর অন্তর্ভুক্ত] এবং বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এর অবস্থান ছিল মদিনা থেকে ৩৫০ মাইল উত্তর পশ্চিমে এবং মা'ন (Ma'an) থেকে ১৫০ মাইল দক্ষিণে। বর্তমানে এই স্থানের উপর দিয়ে হিজাজ রেললাইন (Hijaz Railway) গিয়েছে। তাবুকে একটি মিষ্টি পানির ঝরণা ও একটি দূর্গ ছিল। সেই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্রমাগত একটি গুজব উদ্বিগ্ন করে তোলে। আর তা হচ্ছে : বাইজেনটাইন সম্রাট (পারস্য সম্রাট) আরব আক্রমণের প্রস্তুতির কারণে পারস্য সম্রাট স্বয়ং সীমান্তে অবস্থান করছেন। এরই প্রেক্ষিতে রাসূল (সাঃ) তাঁর সাধ্য অনুযায়ী বিরাট সেনাবাহিনী সংগ্রহ করেন এবং তাবুকের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু পারস্য সম্রাট কর্তৃক আরব আক্রমণের গুজবটি ছিল ভিত্তিহীন। কিন্তু নবীজি (সাঃ) তাবুক থেকে শুধু হাতে ফিরে আসেন নাই। তিনি এই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং মুসলমানদের সুসংহত করে অগ্রসর হন এবং 'আকাবা' উপসাগরের নিকট অবস্থিত খৃস্টান ও ইহুদী সম্প্রদায়ের সাথে "মিত্রচুক্তিতে" আবদ্ধ হয়ে মদিনাতে ফিরে আসেন। মদিনাতে ফিরে এসে তিনি পূর্বাপর সমস্ত ঘটনা বিবেচনা করে দেখেন। তাঁর অবর্তমানে মদিনার মুনাফিকরা যথারীতি দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করে। তাদের এই দ্বিমুখী নীতির কারণে এই সময়ে মুসলমান ও মুশরিকদের জন্য নীতির পরিবর্তন ঘটে। কারণ মুনাফিক ও মুশরিকরা বারে বারে মুসলমানদের মহানুভবতার অপব্যবহার করেছিল।
সমগ্র কুরআন শরীফে এটাই একমাত্র সূরা যার প্রারম্ভে "বিসমিল্লাহ্‌" সংযুক্ত হয় নাই। যদিও এই সূরাটির প্রত্যাদেশের সময়কাল ছিল শেষের দিকে তবুও রাসূল (সাঃ) এই সূরাটিকে সূরা আন্‌ফাল (৮)-কে অনুসরণ করতে আদেশ দান করেন। তবে এই সূরাটি একটি আলাদা সূরা হবে না সূরা আন্‌ফাল এর বর্ধিত অংশ হবে সে সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ তিনি দেন নাই। বর্তমানে এই সূরাটিকে একটি আলাদা সূরা হিসেবে গণ্য করা হলেও এর পূর্বে প্রারম্ভিক হিসেবে "বিসমিল্লাহ্‌" সংযুক্ত করা হয় না। যদিও কেউ নিশ্চিত নয় যে, আমাদের রাসূল (সাঃ) কুরআনের এই সূরাটি আবৃত্তির পূর্বে "বিস্‌মিল্লাহ্‌" বলে আরম্ভ করতেন কিনা।
এই সূরাটিকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়। সবচেয়ে বেশী প্রচলিত হচ্ছে : আত্‌-তাওবা (অনুতাপ)। এই নামকরণ হয়েছে এই সূরার ১০৪ নং আয়াত অনুযায়ী এবং (২) বারাআত (সম্পর্কচ্ছেদ করা)। এই নামকরণ হয়েছে সূরার প্রারম্ভিক আয়াত অনুযায়ী।
সারসংক্ষেপ : মুশরিকদের সাথে মুসলমানদের যে চুক্তি ছিল, তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সে চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তা কার্যকর করার জন্য চার মাস সময় দেয়া হয় যাতে মুশরিকরা অনুতাপ করার সুযোগ পায় (৯ : ১-২৯)।
কিতাবধারী জাতিরা আল্লাহ্‌র নির্দেশসমূহকে দুর্বোধ্য করে তুলেছে। কিন্তু সত্য সবার উপরে ভাস্বর হবে। আমরা সর্বদা ধর্মের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত থাকব। তা যদি না করি তবে আমরা আল্লাহ্‌র পতাকা বহনে অসমর্থ হব; এবং আল্লাহ্‌ আমাদের স্থলে অন্য আরেক দলকে এই দায়িত্ব অর্পন করবেন [৯ : ৩০-৪২]।
মুনাফিক ও তাদের দ্বিমুখী নীতি : তাদের দুরভিসন্ধি প্রকাশ করা হয়েছে। মু'মিন বান্দাদের জন্য আল্লাহ্‌র আশীর্বাদ যেমন সন্দেহাতীত, সেরূপ মুনাফিকদের জন্য আল্লাহ্‌র শাস্তিও অবধারিত [৯ : ৪৩-৭২]।
পাপীকে সবসময় প্রতিহত করতে হবে যদি না সে অনুতপ্ত হয়। মিথ্যাবাদীরা সত্যকে ভঙ্গ করেই সন্তুষ্ট থাকে না। বরং সমস্ত কল্যাণকেই সে উপহাস করে। মুনাফিকদের হিংসা না করে পরিহার করতে হবে [৯ : ৭৩-৯৯]।
আল্লাহ্‌ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহ্‌র রাস্তায় নিজেকে উৎসর্গ করে। যারা মন্দ কাজের পরে অনুতাপ করে আল্লাহ্‌ তাদের ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু যারা বিবাদ ঘটায় এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে অবিশ্বাস ও অনৈক্যের জন্য প্ররোচিত করে তাদের আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবেন না। বিশ্বাসী বা মু'মিন বান্দারা আল্লাহ্‌র কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করে, ফলে আল্লাহ্‌ তাদের সীমাহীন সুখ-শান্তি দান করেন। যারা বিশ্বাসে দোদুল্যমান, এবং কর্তব্যকর্মে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তারাও যদি শেষ পর্যন্ত অনুতপ্ত হয় - দয়াময় আল্লাহ্‌ তা গ্রহণ করেন [৯ : ১০০-১১৮]।
যারা বিশ্বাসী বা মু'মিন বান্দা, তারা সর্বদা পূণ্যবান, সত্যবাদী ও কর্তব্য-কর্মপরায়ণদের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে। যদি সম্প্রদায়ের সমস্ত লোক যুদ্ধক্ষেত্রে যাত্রা করে তবে এক অংশ নিজ অবস্থানে থাকবে, তা এই জন্য যে তারা অধ্যাবসায়ের সাথে ধর্ম সম্বন্ধে পড়াশুনা করবে এবং তাদের ভাইরা যখন প্রত্যাবর্তন করবে তাদের ধর্ম সম্বন্ধে শিক্ষাদান করবে। যারা বিশ্বাসী, প্রতিটি সূরা তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে। যাদের অন্তঃকরণ ব্যাধিগ্রস্থ, তাদের বেলায় সন্দেহ ক্রমাগত আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। মহা আরশের অধিপতি আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস স্থাপন কর [৯ : ১১৯-১২৯]।

009.001

সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। Freedom from (all) obligations (is declared) from Allâh and His Messenger (SAW) to those of the Mushrikûn (polytheists, pagans, idolaters, disbelievers in the...

009.002

অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন। So travel freely (O Mushrikûn – see V.2:105) for four months (as you will) throughout the land, but know that you...

009.003

আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে...

009.004

তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন। Except those of the Mushrikûn with whom...

009.005

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম...

009.006

আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না। And if anyone of the Mushrikûn (polytheists, idolaters, pagans, disbelievers in the...

009.007

মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন। How can there be a...

009.008

কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী। How (can there be such a covenant with them) that when you are...

009.009

তারা আল্লাহর আয়াত সমূহ নগন্য মুল্যে বিক্রয় করে, অতঃপর লোকদের নিবৃত রাখে তাঁর পথ থেকে, তারা যা করে চলছে, তা অতি নিকৃষ্ট। They have purchased with the Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) of Allâh a little gain, and they hindered men from...

009.010

তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী। With regard to a believer, they respect not the ties, either of kinship or of covenant! It is they who are the transgressors. لاَ يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلاًّ وَلاَ...

009.011

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। But if they repent, perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât) and give Zakât, then they are your brethren in religion....

009.012

আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে। But if they violate their oaths after their covenant, and attack your religion with disapproval and...

009.013

তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। Will you not fight a...

009.014

যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন। Fight against them so that Allâh will punish them by your hands and disgrace them and give you victory over them...

009.015

এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। And remove the anger of their (believers’) hearts. Allâh accepts the repentance of whom He wills. Allâh is All-Knowing, All-Wise. وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ...

009.016

তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। Do you think that...

009.017

মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। It is not for the Mushrikûn (polytheists, idolaters, pagans, disbelievers in the Oneness of Allâh), to maintain...

009.018

নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। The Mosques of Allâh shall be maintained only...

009.019

তোমরা কি হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল-হারাম আবাদকরণকে সেই লোকের সমান মনে কর, যে ঈমান রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি এবং যুদ্ধ করেছে আল্লাহর রাহে, এরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সমান নয়, আর আল্লাহ জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না। Do you consider the providing of drinking water...

009.020

যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম। Those who believed (in the Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism) and emigrated and strove hard and fought in Allâh’s Cause...