সলিল চৌধুরী : Tag

জীবন যদি জীবন হয় ‘জয়’ কে তুই আপন কর

জীবন যদি জীবন হয় .             ‘জয়’ কে তুই আপন কর স্বর্গ যদি কোথাও থাকে .            নামাও তাকে মাটির ‘পর | এই দুঃখ তো নয় চিরদিন এই কষ্ট তো নয় চিরদিন এ’দিন যাবেই যাবে এ-আজ যেমন গেছে হঠাৎ এ-দিন আবার হবে পৃথিবীটা .             বসন্তেরই এ-জীবন | ( স্বর্গ যদি কোথাও থাকে...

ঢেউ উঠেছে কারা টুটেছে

ঢেউ উঠেছে কারা টুটছে আলো ফুটছে প্রাণ জাগছে ঢেউ উঠেছে কারা টুটেছে আলো ফুটেছে প্রাণ জাগছে জাগছে জাগছে গুরু গুরু গুরু গুরু ডম্বর পিনাকী বেজেছে বেজেছে বেজেছে মরা বন্দরে আজ জোয়ার জাগানো ঢেউ তরণী ভাসানো ঢেউ উঠেছে। শোষণের চাকা আর ঘুরবে না ঘুরবে না চিমনীতে কালো ধোঁয়া উঠবে না...

ও মোদের দেশবাসীরে

ও মোদের দেশবাসীরে— আয়রে পরাণ ভাই আয়রে রহিম ভাই কালো নদী কে হবি পার। এই দেশের মাঝেরে পিশাচ আনেরে কালো বিভেদের বান, সেই বানে ভাসেরে মোদের দেশের মান। এই ফারাক নদীরে বাঁধবি যদিরে ধর গাঁইতি আর হাতিয়ার হেঁইয়া হেঁই হেঁইয়া মার, জোয়ান বাঁধ সেতু এবার | এই নদী তোমার আমার...

গাঁয়ের বধু

কোনো এক গাঁয়ের বধুর কথা তোমায় শোনাই শোনো রূপকথা নয় সে নয়। জীবনের মধুমাসের কুসুম ছিঁড়ে গাঁথা মালা শিশির ভেজা কাহিনী শোনাই শোনো। একটুখানি শ্যামল ঘেরা কুটিরে তার স্বপ্ন শত শত দেখা দিত ধানের শিষের ইশারাতে দিবা শেষে কিষাণ যখন আসতো ফিরে ঘি মউ-মউ আম কাঁঠালের পিঁড়িটিতে বসতো...

বুঝবে না কেউ বুঝবে না

বুঝবে না কেউ বুঝবে না কি যে মনের ব্যথা অন্ধ খনির অন্তরে থাকে যে সোনা সবাই জানে তারই কথা — বুঝবে না যদি এমন হতো যত বেদনা নিজেরই মতন করে যেতো গো শোনা লালে লাল ফুলে ফুলে ভরে যেত গো দূর থেকেই দেখে তাকে যেত গো চেনা বুঝবে না কেউ বুঝবে না মনের গভীরতা আমি তোমার কোন দোষ...

আজ নয় গুন গুন গুঞ্জন প্রেমে

আজ নয় গুন গুন গুঞ্জন প্রেমে চাঁদ ফুল জোছনার গান আর নয় ওগো প্রিয় মোর খোল বাহু ডোর পৃথিবী তোমারে চায়। আর নয় নিস্ফল ক্রন্দন শুধু নিজের স্বার্থের বন্ধন খুলে দাও জানালা আসুক সারা বিশ্বের বেদনার স্পন্দন ধরনীর ধুলি হোক চন্দন টিকা তার মাখে আজ পরে নাও পরে নাও পরে নাও। কার ঘরে...

ওগো আর তো কিছু নয়

ওগো আর কিছু তো নয়, বিদায় নেবার আগে তাই তোমারি নয়নে পাওয়া তোমারি সুরে গাওয়া এ গান খানি রেখে যাই। বরষা হয়ে তুমি আকাশ ভরে হৃদয় মরুতে মম পরেছ ঝরে সরস করিয়া মোরে যে ফুল ফোটালে ভোরে এমালা তারি রেখে যাই। জানিনা কখন মন হারায়ে গেল সকলি হারায়ে বুঝি সকলি পেল আজকে আশার নদী উদাসে...

ও বাঁশী কেন গায় আমারে কাঁদায়

ও বাঁশী কেন গায় আমারে কাঁদায় কে গেছে হারায়ে স্বণের বেদনায় কেন মনে এনে দেয়। ও বাঁশী কখনও আনন্দ ছিল জীবনের ছন্দে হৃদয় মাতাল হতো ফাগুনের গন্ধে সে যেন কোথায় আমি বা কোথায় যদি না জানা। তমাল কদম্ব আমার গোপিনী সপিনি যমুনা উজান গেছে আরতো দেখিনি সাধ যদি যায় ধুলিতে মিলায় তবু কেন...

যারে যারে উড়ে যারে পাখী

যারে যারে উড়ে যারে পাখী ফুরালো প্রাণের মেলা শেষ হয়ে এলো বেলা আর কেন মিছে তোরে বেঁধে রাখি। আকাশে আকাশে ফিরে যারে ফিরে আপন নীড়ে শ্যামল মাটির বনছায় শুধু মনে মনে তোকে ডাকি চাহিনা খেলিতে খেলা শেষ হয়ে এলো বেলা আর কেন মিছে তোরে বেঁধে রাখি। আমারই স্বপ্ন হয়ে আর কত কি এনেছ...

এই সূর্যদয়ের ভোরে এস আজ

এই সূর্যদয়ের ভোরে এস আজ সবে মিলে নিই এ শপথ এই ধ্বংস স্তুপ মাঝারে গড়ব ইমারত।। তাই কি আসে বুকে বুকে যত আশা স্বপ্ন এবার পাবে নতুন করে ভাষা ভেঙ্গে গেছে ঘর তাদের হারায়ে গেছে সব লাখ শহীদের আত্মার শোন কলরব দু’বাহুতে আন বল ভুলে যাই দলাদল এস পূর্ণ করি মনোরথ।। নতুন ফসল মাঠে...

আমার প্রতিবাদের ভাষা

আমার প্রতিবাদের ভাষা আমার প্রতিরোধের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে যেন দ্বিগুন দারুণ প্রতিশোধে করে চূর্ণ ছিন্ন -ভিন্ন শত ষড়যন্ত্রের জাল যেন আনে মুক্তি আলো আনে আনে লক্ষ শত প্রাণে। আমার প্রতি নিঃশ্বাসের বিষে বিশ্বের বঞ্চনার ভাষা দারুণ বিস্ফোরণ যেন ধ্বংসের গর্জনে আসে যত বিপ্লব...

ক্লান্তি নামে গো রাত্রি নামে গো

ক্লান্তি নামে গো, রাত্রি নামে গো বাইতে পারিনা যে তরণী আর কতদূর হায় কোথায় শ্যামল মাটির মায়া হায় কোথায় সবুজ বনের ছায়া কোথা সে নীড় গভীর প্রেমের মোহনা আহা কোথায় রে সে দিন। এ শুধু নিঠুর ভেঙ্গে ফেলা দিবা নিশি ভাসাই আশার ভেলা মনোবীণার তারে শুধুই বাজে আয় আলোক। তবু তুমি আশার...

গ্রাম নগর- মাঠ পাথার বন্দরে তৈরী হও

গ্রাম নগর- মাঠ পাথার বন্দরে তৈরী হও কার ঘরে জ্বলেনি দীপ, চির আঁধার তৈরী হও।। কার বাছার জোটেনি দুধ শুকনো মুখ, তৈরী হও, ঘরে ঘরে ডাক পাঠাও, তৈরী হও, জোট বাঁধ, মাঠে কিষাণ, কলে মজুর, নওজোয়ান জোট বাঁধ এই মিছিল সব হারার, সব পাওয়ার এই মিছিল।। কথা: সলিল চৌধুরী সুর: সলিল...

নওজোয়ান নওজোয়ান বিশ্বে জেগেছে নওজোয়ান

নওজোয়ান নওজোয়ান বিশ্বে জেগেছে নওজোয়ান কোটি প্রাণ একই প্রাণ একই স্বপ্নে মহীয়ান তুচ্ছ ভয় সন্ত্রাসের রক্ত পিপাসু দানবের একতার হিম্মতের শান্তি শপথে বলীয়ান।। আমাদের মুক্তি স্বপ্নে সূর্যে রং লাগে যৌবনেরই অভ্যূদয়ে হিমালয় জাগে আমাদের শান্তি মিছিলে সিন্ধু চলমান যুদ্ধ খোর...

আর দূর নেই দিগন্তের বেশী দূর নেই

আর দূর নেই দিগন্তের বেশী দূর নেই সব ক্লান্তির অন্ত এবার এই রাত্রির সীমান্তের যারা যাত্রী, সংক্রান্তির লগ্ন এবার।। ধরো তুলে ধরো যুগান্তের জড় যত সাধনা, পরো মাথে পরো রক্ত তিলক পরো যত বেদনা। ঢেউয়ে ঢেউয়ে দুলে, সে কী মাতন তোলে, জন কল্লোলে আসে বন্যা।। যত আছে ক্ষত শতাব্দীর শত...

হেই সামালো ধান হো

হেই সামালো ধান হো কাস্তেটা দাও শাণ হো জান কবুল আর মান কবুল আর দেবনা আর দেবনা রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো।। চিনি তোমায় চিনি গো জানি তোমায় জানি গো, সাদা হাতির কালা মাহুত তুমি নও।। পঞ্চাশে লাখ প্রাণ দিসি মা-বোনেদের মান দিসি, কালোবাজার আলো কর তুমি না।। মোরা তুলবনা ধান...

আয়রে ও আয়রে

আয়রে ও আয়রে, ও ভাই রে, ও ভাই রে, ভাই বন্ধু, চল্‌ যাই রে, ও রাম-রহিমের বাছা‌, ও বাঁচা আপন বাঁচা চল্‌ ধান কাটি আর কাকে ডরি, নিজ খামার নিজে ভরি, কাস্তেটা শানাই রে।। এই মাটিতে কলিজার আশা, স্বপ্নের বীজ বুনি, আর চোখেরই জল সেচ দিয়ে ফসলের কাল গুনি ক্ষেতের আলে আলে আজ সোনারই...

নাও গান ভরে নাও প্রাণ ভরে

নাও গান ভরে, নাও প্রাণ ভরে চলো যাই যেখানে প্রান্তর সোনার ধানের শীষে ডাকে যেখানে সোনা ভরা অন্তর।। সেই ঝিম ঝিম ঝিম ধরা দিন দিন দিন, যেথা ঝির ঝির ঝির ঝির বাতাসে সেই ঝিন ঝিন ঝিন সুরে ঝিঁঝি ডাকা দুপুরে, শান্তির আহবান যে আসে স্বপ্নের তুলি দেয় সোনা রঙ আকাশে।। ডাক দেয় শোন...

ও আলোর পথযাত্রী

ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী এখানে থেমোনা এ বালুচরে আশার তরণী তোমার যেন বেঁধোনা আমি শ্রান্ত যে, তবু হাল ধর আমি রিক্ত যে, সেই সান্তনা, তব ছিন্ন পালে জয় পতাকা তুলে, সূর্য তোরণ দাও হানা।। আহা বুক ভেঙ্গে ভেঙ্গে, পথে নেমে শোণিত কণা কত যুগ ধরে ধরে করেছে তারা সূর্য রচনা আর...

সেদিন আর কতদুরে

সেদিন আর কতদুরে, যখন প্রাণের সৌরভে সবার গৌরবে ভরে রবে এ দেশ ধন ধান্যে শিক্ষায় জ্ঞানে-মান্যে আনন্দের গানে গানে সুরে।। (গামা পাধাপা, পা, সা, পা, ধা, গামাপাধাপা, পা…….নি……….. নির্সার্রের্গার্রে. র্রে………র্সানিধানি পাধানির্সা...
পাতা 1/212