আমি সেই হরিণটার কথা বলছিলাম

আমি সেই হরিণটার কথা বলছিলাম
হরিণটা দৌড়চ্ছিল
আমিও— পেছন পেছন—-
কচি ঘাস মাড়িয়ে
শাল শিমূল ফার্ন গাছের
ফাঁক ফোকর দিয়ে
জংলা কাদা জলে ক্ষুর চুবিয়ে
ছিটকে ছিটকে দৌড়চ্ছিল হরিণটা
আমিও—- পেছন পেছন
শিং—এর মধ্যে অজানা অতেনা গুল্মলতা
পিঠের মধ্যে অর্জুন গাছের ঘষটানি
অসম্ভব পিপাসা
কিন্তু নিঃশব্দে
দৌড়চ্ছিল হরিণটা
আমিও পেছন পেছন
প্রায় চার ক্রোশ পথ পেরিয়ে
জঙ্গল ছাড়িয়ে
হঠাৎ একটা গোটা আকাশ দেখতে গেলে
হরিণটা
এতটা আকাশ দেখে
একটু সংশয়ে ইতি উতি তাকিয়ে
দাঁড়িয়ে পড়ল
থমকে
কিছুক্ষণ
তারপর আলতো আলতো পায়ে হরিণটা
হাঁটতে থাকল বালির ওপর দিয়ে
আমিও— পেছন পেছন
তারপর সে একটা মরুভূমি পেরোল
আমিও — পেছন পেছন
তারপর কয়েকটা পাহাড় ডিঙোল
তারপর পাঁচটা সমুদ্র
সাতাশটা নদী
অজস্র শহর
অসংখ্য গ্রাম
লক্ষ লক্ষ পুকুর
শতাধিক নদী
অনর্গল পেরোতে থাকল
এক একটা সীমান্ত
এক একটা দেশ
এক একটা কাঁটাতার
এক একটা শীত
এক একটা বসন্ত
এক একটা মনুমেন্ট
শহিদ বেদি—- দেওয়াল ম্যাগাজিন
মিউজিয়াম—বিউটি পার্লার
থিয়েটার হল— নিষিদ্ধ পল্লি
ফুটপাথ—হাইওয়ে
ওষুধের দোকান— চা বাগান
মালভূমি —মালটিপ্লেক্স
পেরিয়ে হরিণটা আবার দাঁড়াল
কয়েক মুহূর্ত
আমিও — পেছন পেছন
তারপর হঠাৎ পেছন ফিরল হরিণটা
আমাকে সে দেখতে পেল না
সেটা তো আগে ভাগেই ঠিক করা ছিল
পেছনে তাকিয়ে
পড়ন্ত বিকেলে
সে দেখতে পেল নিজের ছায়াটা
তখনও লেপ্টে আছে তার সঙ্গে
এই প্রথম হরিণটা বিষণ্ণ হল
অবসন্ন হল
তারপর টলতে টলতে
হুমড়ি খেয়ে পড়ল নিজের ছায়ার ওপর
আমিও—- পেছন পেছন
বেসামাল হয়ে পড়লাম
ঝুপ করে— আমার ছায়ার ওপর
তারপর যখন চোখ খুলল
ঘুম ভাঙল
দেখলাম আপনি আমার
মুখের খুব কাছাকাছি
ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞাসা করছেন
‘কী বলছিলে ?’
তখনই আমি বললাম—
আমি সেই হরিণটার কথা বলছিলাম |

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *