Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প



সূচীপত্র

হিন্দিতে বক্তৃতা

হিন্দিতে বক্তৃতা শরৎচন্দ্ৰ ভালো হিন্দি জানতেন না। তার হিন্দিজ্ঞান ছিল অতি সামান্য। একবার তিনি গেছেন। পাটনা শহরে। একটি সাহিত্যসভার প্রধান অতিথি হিসাবে। উদ্যোক্তারা শরৎচন্দ্ৰকে সংবর্ধনা জানালেন। ওই সভার হোতা এবং শ্রোতা সবাই হিন্দিভাষী। অতএব বক্তব্য রাখতে হলে শরৎচন্দ্ৰকে...

ভেলু

ভেলু ভেলু নামের একটি কুকুর ছিল শরৎচন্দ্রের। কুকুরটি ছিল তার খুব প্রিয়, খুব অনুগত। একদিন কুকুরটিকে নিয়ে শরৎচন্দ্ৰ খেলা করছিলেন, এমন সময় এক বৈষ্ণব এলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। বৈষ্ণবটি শরৎচন্দ্রের সঙ্গে জীবপ্ৰেম, বৈষ্ণবধর্ম, অহিংসা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এই সময়...

তুমি তাই তুমি তাই

তুমি তাই তুমি তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম শরৎচন্দ্ৰকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। তিনি নিয়মিত যেতেন শরৎচন্দ্রের হাওড়ার বাজে শিবপুরের বাসায়। একদিন নজরুল দুহাত তুলে গান গাইতে গাইতে ঢুকলেন শরৎচন্দ্রের ঘরে। শরৎচন্দ্র তখন লিখছিলেন। নজরুলকে দেখে তিনি বললেন, আরো কাজী যে, কী খবর?...

গল্পের বাড়ি গল্পের পুকুর

গল্পের বাড়ি গল্পের পুকুর শুধু নিজেই লিখতেন না, শরৎচন্দ্ৰ অন্যদের লেখার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তরুণ সাহিত্যিকরা অনেকেই তার কাছে আসতেন পরামর্শের জন্য। একদিন শরৎচন্দ্রের বাল্যবয়সের এক বন্ধু শরৎচন্দ্রের কাছে একটি গল্প লিখে নিয়ে এসেছেন। শরৎচন্দ্ৰ গল্পটি মন দিয়ে পড়লেন। একটা...

কবিতা লেখা ছেড়ে

কবিতা লেখা ছেড়ে শরৎচন্দ্ৰ নিয়মিত বিভিন্ন সাহিত্যসভায় যেতেন। একবার কবিশেখর কালিদাস রায় প্রতিষ্ঠিত রসচক্র সাহিত্যসংস্থার সাহিত্য সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে গেছেন শরৎচন্দ্ৰ। তাঁকে পেয়ে নবীন কবি-সাহিত্যিকরা স্বভাবতই উৎফুন্ন। শরৎচন্দ্ৰ বক্তব্য রাখতে উঠলেন। সবাই চুপ। শরৎচন্দ্ৰ...

আপনাদের জন্য আমাদের জন্য

আপনাদের জন্য আমাদের জন্য মানুষ বিখ্যাত হয়ে গেলে স্তাবক জোটে, চাটুকার জোটে! কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তার কাছে নিয়মিত বিভিন্ন লোক আসা-যাওয়া করতেন। শরৎচন্দ্র অবশ্য বিশেষ কয়েকজন ছাড়া বাকিদের বেশি আমল দিতেন না। কিন্তু মুখেও কিছু বলতেন না। একদিন সকালে...

জীবনের ভালো-মন্দ

জীবনের ভালো-মন্দ কবিগুরু রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুর অত্যন্ত স্নেহ করতেন শরৎচন্দ্ৰকে। শরৎচন্দ্ৰ নিয়মিত যেতেন গুরুদেবের কাছে। বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করতেন। একদিন রবীন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্ৰকে হাসতে হাসতে বললেন, শরৎ, তোমার জীবন সম্পর্কে লোকের বড় কৌতুহল। আমার জীবনস্মৃতির মত তুমিও তোমার...

বেতো ঘোড়া

বেতো ঘোড়া সাহিত্যিকরা তো আর সবসময় লেখালেখি করেন না। মাঝেমাঝে অন্যাকাজেও সময় কাটান। শরৎচন্দ্ৰও তেমনই মাঝেমাঝে বন্ধুদের সঙ্গে আডজ দিতেন, কখনো দাবা খেলতেন। একদিন শরৎচন্দ্ৰ সন্ধেবেলায় তার এক অস্তরঙ্গ বন্ধুর সঙ্গে দারা খেলছিলেন। দাবা তার খুব প্রিয় খেলা। খেলতে খেলতে তিনি...

বারোটা বাজেনি

বারোটা বাজেনি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। একটার পর একটা প্ৰকাশিত হচ্ছে তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলি। লেখকদের নামের সঙ্গে ও লেখার সঙ্গে সাধারণ মানুষ যতটা পরিচিত ততটা চেহারার সঙ্গে নয়। তাই শরৎচন্দ্ৰ প্রমুখ লেখকরা নিজেদের ইচ্ছেমত...

ডিম পেড়ে আনো

হাঁসের ডিম রাজশাহীর বাড়িতে রজনীকান্ত একদিন কতগুলি হাঁসের ডিম এনে ঘরের এক কুলুঙ্গিতে রেখে দেন। এবং সেটা কাউকে না জানিয়েই। পরের দিন কবি তার স্ত্রীর কাছে ডিম চাইলেন। স্ত্রী জানতে চাইলেন, হ্যাঁ গো, ডিমগুলো কোথায়? রজনীকান্ত হেসে উত্তর দিলেন, উঁচুতে রেখেছি, যাও ডিম পেড়ে...

দিলে খেলে পেলে

দিলে খেলে পেলে রাম ভাদুড়ী মহাশয় একদিন কান্তকবি রজনীকান্তকে বললেন, ও রজনী, শুনলাম তুমি নাকি কাল কোন একটা বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলে। বিয়েতে যে গেলে, তা দিলে কী? খেলেই বা কী? পেলেই বা কী? উত্তরে রজনীকান্ত হোসে রসিকতা করে বললেন, আজ্ঞে, দৌড় দিলাম, আছাড় খেলাম, ব্যথা পেলাম! এ কথা...

কুলীন বন্ধুর বিবাহ

কুলীন বন্ধুর বিবাহ একবার এক কুলীন বন্ধুর বিবাহে বরযাত্রী হয়ে যান কবি রজনীকান্ত সেন। বন্ধুর এটি ছিল দ্বিতীয় বিবাহ। বিবাহের পরের দিন সকালে বর নধবধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন রজনীকান্তও সঙ্গে ছিলেন। মাঝপথে নববধূ প্রবল জুরে আক্রাস্ত হলেন। জ্বর প্রায় ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত...

পঞ্চম পুত্রের নাম

পঞ্চম পুত্রের নাম রজনীকান্ত সেন তার উকিল বন্ধুদের নামকরণ নিয়ে একটি মজার গল্প শুনিয়েছিলেন। সেটা হল—এক পণ্ডিতমহাশয়ের কাছে এলেন একজন ভদ্রলোক। তিনি পুত্রের নামকরণ নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছেন। তাই পণ্ডিতমহাশয়ের কাছে জানতে চাইলেন, আমার প্রথম পুত্রের নাম জগৎপতি, দ্বিতীয় পুত্রের...

আরাম

আরাম কবি রজনীকান্ত একবার রোগ শয্যায় শুয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। কবি রসময় লাহা তার আরাম গ্ৰন্থখানি সেই সময় রজনীকান্তকে উপহার দিয়ে যান। উপহার পেয়ে খুশি হয়ে রজনীকান্ত রসময়কে মজা করে বলেব, আমার এই ব্যারামে বেশ আরাম...

অমৃত নিয়ে যান

অমৃত নিয়ে যান কবি রজনীকান্ত সেন এক সকালে বসে কবিতা লিখছিলেন। সেই সময় তার বাড়িতে এলেন আর এক কবি রসময় লাহা। রসময় তার সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ছাইভস্ম রজনীকান্তকে উপহার দিয়ে বললেন, এই নিন, আমার ছাইভষ্ম। রজনীকান্তর অমৃত নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সবে মাত্র বেরিয়েছে। ছাইভম্ম...

রোগা গরু মোটা গরু

রোগা গরু মোটা গরু কবি রজনীকান্ত সেন ছিলেন বিখ্যাত উকিল। কিন্তু তিনি উকিলদের আড্ডায় বসে উকিলদের নিয়েই ঠাট্টা তামাসা করতেন। অন্য উকিলরা তা উপভোগ করতেন। একদিন রজনীকান্ত এক মজার গল্প শোনান— একজন রাখাল একদিন দুটো গরু নিয়ে মাঠে চলেছে। দুটো গরুর মধ্যে একটা রোগ, আরেকটা মোটা।...

পুত্রবধু ও শাশুড়ি

পুত্রবধু ও শাশুড়ি বিয়ের দু-তিন বছর পরেও কবি রজনীকান্ত সেনের স্ত্রী শাশুড়িকে মা বলে ডাকতেন না। এই জন্য রজনীকান্তর মা ছেলেকে একদিন দুঃখ করে বলেই ফেললেন, আমার একমাত্র পুত্রবধু, দুঃখের কথা সেও আমাকে মা বলে না! রজনীকান্তর স্ত্রী শাশুড়িকে আপনি, আসুন, বসুন, খান, নেবেন,...

চাচার দাড়ি

চাচার দাড়ি কবি রজনীকান্ত সেন একদিন রাজসাহীর বাড়ির বৈঠকখানায় বসে কবিতা লিখছিলেন। এমন সময এক গোঁড়া মুসলমান মকেল তার কাছে এলেন। বৈঠকখানা ঘরে থাকত একটা ব্রাস, চিরুনি আর একটা আয়না। মুসলমান মক্কেল তার কাগজপত্ৰ এগিয়ে দিলেন রজনীকান্তের দিকে। তা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে...

চাষীর স্ত্রীর বয়স

চাষীর স্ত্রীর বয়স বিখ্যাত স্বদেশীগান মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়, মাথায় তুলে নেরে ভাই-এর রচয়িতা কবি রজনীকান্ত সেন কান্তকবি নামেই বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ বাণী কল্যাণী। কবি রজনীকান্ত সেন পেশায় ছিলেন উকিল। উকিলদের আড্ডার আসরে তিনি চমৎকার সব গল্প...

দীর্ঘ গুম্ফযুক্ত

দীর্ঘ গুম্ফযুক্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারমাইকেল অধ্যাপক দেবদত্ত ভাণ্ডারকর একদিন সকলের সামনে হাসতে হাসতে বললেন, জানেন, তক্ষশীলা নগরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডিরেকটির জেনারেল একখানি নতুন রাজতপত্র আবিষ্কার করেছেন। প্রত্নতত্ত্ব-বিভাগের শিলালিপিপাঠক তা পাঠ করে বলেন--এটা...

Page 5 of 255« First...34567...102030...Last »