Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প

সূচীপত্র

মামা না জ্যাঠা

মামা না জ্যাঠা শরৎচন্দ্র একদিন বন্ধু-আত্মীয়দের সঙ্গে সদর ঘরে গল্পগুজব করছেন। কথার মাঝে সুখটান দিচ্ছেন্ন গড়গড়ায়। হঠাৎ তিনি রাধারানী দেবীকে হাসতে হাসতে বললেন, হ্যাঁরে শোন, নরেন তো আমাকে শরৎদা বলে, তুই বলিস বড়দা। তোদের সস্তানরা আমাকে কী বলে ডাকবে ভেবে দেখেছিস? মামা না...

পুরাতন লাঠি

পুরাতন লাঠি কবিশেখর কালিদাস রায়ের আমন্ত্রণে শরৎচন্দ্ৰ মাঝেমাঝেই রবিবার সন্ধ্যায়। রাসচক্র-এর সাহিত্যসভায় যোগ দিতেন। তার হাতে থাকতো একটা অত্যস্ত পুরাতন শ্ৰীহীন লাঠি। অনেকেই রসিকতা করে তাঁকে বলতেন, শরৎবাবু, এবার এই লাঠিটা ফেলে দিয়ে একটা ভদ্রগোছের লাঠি ব্যবহার করুন দিকি?...

মঠের বেয়াড়া নিয়ম

মঠের বেয়াড়া নিয়ম শরৎচন্দ্র একবার রেঙ্গুনে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামীজী স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ ওরফে শশী মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে যান। কথাবার্তার মধ্যে শরৎচন্দ্ৰ স্বামীজীর কাছে জানতে চান, মহারাজ, আপনাদের এখানে সন্ন্যাসী হবার কী নিয়ম? স্বামীজী উত্তরে বলেন, মঠের সন্ন্যাসী হতে...

ভবঘুরে ও রাজলক্ষ্মী

ভবঘুরে ও রাজলক্ষ্মী শরৎচন্দ্র ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভবঘুরে। নিয়ম মেনে চলা তার পছন্দ হত না। তিনি রেঙ্গুন থেকে শিবপুরে আসার আগে কয়েকবার একটি সুন্দরী রমনীকে নিয়ে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি যান। তার সঙ্গে থাকতো একটি বাঁশের আড় বাঁশি ও একটি হারমোনিয়াম। এই নিয়ে শরৎচন্দ্র খুব মজা...

ব্যাকরণ কৌমুদী পড়া

ব্যাকরণ কৌমুদী পড়া শরৎচন্দ্র তখন থাকেন হাওড়ার পাণিত্রাস-সামীতাবেড়েব বাড়িতে। রূপনারায়ণ নদীর ধারে এই জায়গাটি ছিল তার খুব পছন্দের। একদিন সকালে তিনি সদর দালানে বসে মন দিয়ে প্রোগ্রেস অব সায়েন্স নামে একখানা বই পড়ছিলেন। পড়া বা লেখার সময় কেউ তাকে বিরক্ত করলে তিনি অসন্তুষ্ট...

চটিজুতো বিসর্জন

চটিজুতো বিসর্জন শরৎচন্দ্র একবার এসেছেন অভিনেতা শিশির ভাদুড়ীর থিয়েটারে। তাঁর নিজের লেখা একটি নাটকের অভিনয় দেখতে। নাট্য-অভিনয় দেখে শরৎচন্দ্ৰ মুগ্ধ। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। তাঁরাও খুশি। নাটকের শেষে বাড়ি ফেরার পালা। এই সময় ঘটলো এক কাণ্ড। শরৎচন্দ্ৰ তাঁর একপাটি...

চিকিৎসক ভীতি

চিকিৎসক ভীতি অ্যাপেণ্ডিসাইটিসের অপারেশান হবে রোগীকে অজ্ঞান করার তোড়জোড় চলছে । হঠাৎ অপরেশান টেবিল থেকে রোগী লাফিয়ে নেমে ছুটে পালাল । তাকে অনেক বুঝিয়ে কেবিনে ফিরিয়ে আনার পর বাড়ির লোক তার পলায়নের কারণ জানতে চাইল । তখন রোগী বললো, আসলে অজ্ঞান করার আগে শুনলাম কিনা...

পাদুকা পুরাণ

পাদুকা পুরাণ গুরুদের রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একবার দেখা করতে এসেছেন শরৎচন্দ্ৰ। ঘরে ঢুকে শরৎচন্দ্ৰ দেখলেন রবীন্দ্রনাথ কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ফরাসে জমিয়ে বসে আছেন। শরৎচন্দ্ৰ আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে গুরুদেবকে প্ৰণাম করলেন। রবীন্দ্ৰনাথ দেখলেন, শরৎচন্দ্রের হাতে কাগজে মোড়া...

দাঙ্গায় হাজতবাস

দাঙ্গায় হাজতবাস শরৎচন্দ্র তখন থাকতেন। হাওড়া শহরে। সেই সময় একবার হাওড়া শহরে দাঙ্গা বেঁধে যায় দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে। দাঙ্গার সময় শরৎচন্দ্ৰ ভুল করে রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন কোথাও যাওয়ার জন্য। শরৎচন্দ্রের গালে কদিনের না কাটা দাড়ি, মাথায় উস্কো খুস্কো চুল দেখে পুলিশ তাকে...

সাম্যতাবেড়ে গ্রামে

সাম্যতাবেড়ে গ্রামে হাওড়া জেলার দেউলটি রেলস্টেশন সংলগ্ন পাণিত্রাস সাম্যতাবেড়ে গ্রামে রূপনারায়ণ নদীর ধারে শরৎচন্দ্ৰ বাস করতেন। তার বেশ কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস তিনি এখানে থাকাকালীন রচনা করেন। এই গ্রামে একবার ম্যালেরিয়া অসুখ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। সেই সময় শরৎচন্দ্রের এক...

মহামারী

মহামারী শুধু সাহিত্যচৰ্চাই নয়, শরৎচন্দ্র একটু-আধটু বায়োকেমিক ও হোমিওপ্যাথির চর্চাও করতেন। তিনি গ্রামে থাকাকালীন একবার গ্রামে কলেরা মহামারীর আকার নেয়। শরৎচন্দ্ৰ ওষুধপত্র নিয়ে ছুটলেন রোগীদের শুশ্রুষা করতে। কিন্তু সবার কাছে যাওয়া তো তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়। স্বভাবতই...

গাধা জন্ম

গাধা জন্ম কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বেড়াতে খুব ভালবাসতেন। একবার তিনি সবান্ধব বেড়াতে গেছেন কাশীতে। পুরো দলকে মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। কাশী থেকে তাঁরা একদিন বেড়াতে গেলেন কাশীর বিপরীতে রামনগরে। তারা নৌকায় চেপে রামনগরে গেলেন। নদীপথে ভ্ৰমণ খুব পছন্দ শরৎচন্দ্রের।...

হিন্দিতে বক্তৃতা

হিন্দিতে বক্তৃতা শরৎচন্দ্ৰ ভালো হিন্দি জানতেন না। তার হিন্দিজ্ঞান ছিল অতি সামান্য। একবার তিনি গেছেন। পাটনা শহরে। একটি সাহিত্যসভার প্রধান অতিথি হিসাবে। উদ্যোক্তারা শরৎচন্দ্ৰকে সংবর্ধনা জানালেন। ওই সভার হোতা এবং শ্রোতা সবাই হিন্দিভাষী। অতএব বক্তব্য রাখতে হলে শরৎচন্দ্ৰকে...

ভেলু

ভেলু ভেলু নামের একটি কুকুর ছিল শরৎচন্দ্রের। কুকুরটি ছিল তার খুব প্রিয়, খুব অনুগত। একদিন কুকুরটিকে নিয়ে শরৎচন্দ্ৰ খেলা করছিলেন, এমন সময় এক বৈষ্ণব এলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। বৈষ্ণবটি শরৎচন্দ্রের সঙ্গে জীবপ্ৰেম, বৈষ্ণবধর্ম, অহিংসা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এই সময়...

তুমি তাই তুমি তাই

তুমি তাই তুমি তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম শরৎচন্দ্ৰকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। তিনি নিয়মিত যেতেন শরৎচন্দ্রের হাওড়ার বাজে শিবপুরের বাসায়। একদিন নজরুল দুহাত তুলে গান গাইতে গাইতে ঢুকলেন শরৎচন্দ্রের ঘরে। শরৎচন্দ্র তখন লিখছিলেন। নজরুলকে দেখে তিনি বললেন, আরো কাজী যে, কী খবর?...

গল্পের বাড়ি গল্পের পুকুর

গল্পের বাড়ি গল্পের পুকুর শুধু নিজেই লিখতেন না, শরৎচন্দ্ৰ অন্যদের লেখার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তরুণ সাহিত্যিকরা অনেকেই তার কাছে আসতেন পরামর্শের জন্য। একদিন শরৎচন্দ্রের বাল্যবয়সের এক বন্ধু শরৎচন্দ্রের কাছে একটি গল্প লিখে নিয়ে এসেছেন। শরৎচন্দ্ৰ গল্পটি মন দিয়ে পড়লেন। একটা...

কবিতা লেখা ছেড়ে

কবিতা লেখা ছেড়ে শরৎচন্দ্ৰ নিয়মিত বিভিন্ন সাহিত্যসভায় যেতেন। একবার কবিশেখর কালিদাস রায় প্রতিষ্ঠিত রসচক্র সাহিত্যসংস্থার সাহিত্য সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে গেছেন শরৎচন্দ্ৰ। তাঁকে পেয়ে নবীন কবি-সাহিত্যিকরা স্বভাবতই উৎফুন্ন। শরৎচন্দ্ৰ বক্তব্য রাখতে উঠলেন। সবাই চুপ। শরৎচন্দ্ৰ...

আপনাদের জন্য আমাদের জন্য

আপনাদের জন্য আমাদের জন্য মানুষ বিখ্যাত হয়ে গেলে স্তাবক জোটে, চাটুকার জোটে! কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তার কাছে নিয়মিত বিভিন্ন লোক আসা-যাওয়া করতেন। শরৎচন্দ্র অবশ্য বিশেষ কয়েকজন ছাড়া বাকিদের বেশি আমল দিতেন না। কিন্তু মুখেও কিছু বলতেন না। একদিন সকালে...

জীবনের ভালো-মন্দ

জীবনের ভালো-মন্দ কবিগুরু রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুর অত্যন্ত স্নেহ করতেন শরৎচন্দ্ৰকে। শরৎচন্দ্ৰ নিয়মিত যেতেন গুরুদেবের কাছে। বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করতেন। একদিন রবীন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্ৰকে হাসতে হাসতে বললেন, শরৎ, তোমার জীবন সম্পর্কে লোকের বড় কৌতুহল। আমার জীবনস্মৃতির মত তুমিও তোমার...

বেতো ঘোড়া

বেতো ঘোড়া সাহিত্যিকরা তো আর সবসময় লেখালেখি করেন না। মাঝেমাঝে অন্যাকাজেও সময় কাটান। শরৎচন্দ্ৰও তেমনই মাঝেমাঝে বন্ধুদের সঙ্গে আডজ দিতেন, কখনো দাবা খেলতেন। একদিন শরৎচন্দ্ৰ সন্ধেবেলায় তার এক অস্তরঙ্গ বন্ধুর সঙ্গে দারা খেলছিলেন। দাবা তার খুব প্রিয় খেলা। খেলতে খেলতে তিনি...

Page 4 of 254« First...23456...102030...Last »

Adsense

সাম্প্রতিক মন্তব্য