Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প



সূচীপত্র

ঠাকুর ও পণ্ডিত

ঠাকুর ও পণ্ডিত এক পরিচিত ভদ্রলোক একদিন দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিতকে জিগ্যেস করলেন, মশাই, আপনি রবি ঠাকুরকে দেখেছেন? প্রশ্নের উত্তরে হাসতে হাসতে দাদাঠাকুর বললেন, না দেখিনি, তবে দেখা হলে আমি বলতুম, আপনি যেমন ঠাকুর, আমিও তেমন পণ্ডিত। এ কথা শুনে সেই ভদ্রলোক হেসে...

এ ডেড স্কুল

এ ডেড স্কুল এ ডেড স্কুল দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিত অল্পবয়সে যখন স্কুলে পড়তেন তখন এক মজার কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। কী কাণ্ড? একদিন তাদের গ্রামের স্কুলে বিদ্যালয় পরিদর্শক বা স্কুল ইন্সপেকটর আসা উপলক্ষে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। একদিকে রান্না হচ্ছে, অন্য দিকে খাবার আয়োজন।...

পয়সার গরম

পয়সার গরম দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিত শীতকালে একটি সাহিত্যসভায় আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন। সভার অন্য অতিথিরা অনেকেই দামী শাল ও জমকালো পোশাক গায়ে দিয়ে এসেছেন। শীতের রাতে কনকনে ঠাণ্ডা! দাদাঠাকুরের তাতে কোনো হেলদোল নেই। তিনি এসেছেন খালি গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে। যেমন ভাবে সব জায়গায়...

গরুর ছানা

গরুর ছানা শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিতও। সকলের সঙ্গে খেতে বসেছেন দাদাঠাকুর। সুস্বাদু বিভিন্ন পদ। তৃপ্তি করে খাচ্ছেন। একজন পরিবেশক দাদাঠাকুরের পাতে ছানার ডালনা দিয়ে গেলেন। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নলিনীকান্ত বললেন, দাদাঠাকুর, গরুর ছানার ডালনা আর একটু নেবেন নাকি? সঙ্গে সঙ্গে দাদাঠাকুর...

নলিনী পণ্ডিতের সম্পত্তি

নলিনী পণ্ডিতের সম্পত্তি একদিন রাতে দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিত ও নলিনীকান্ত সরকার পাশাপাশি শুয়ে ঘুমোচ্ছেন। গভীর রাতে হঠাৎ দাদাঠাকুর ঘুম ভেঙে উঠে ঘুমন্ত নলিনীকান্তকে জাগিয়ে বললেন, ও নলিনী, একটা বড় জিনিস আবিষ্কার করেছি হে, ওঠে ওঠে, এটা ঘুমোবার সময় নয়! ডাক শুনে চোখ...

রাস-ঝুলন

রাস-ঝুলন একদিন সকালে দাদাঠাকুর নলিনীকান্ত সরকারের বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, বুঝলে হে নলিনী, তোমাদের এই কলকাতা এক অদ্ভুত শহর। নলিনী বললেন, কেন, আমন কথা বলছেন কেন? এই শহরের আবার কী হল? দাদাঠাকুর বললেন, কী আবার হবে? পাঁজিতে লেখা আছে। বছরে একদিন বুলন, একদিন রাস। কিন্তু...

গণেশের শুড়

গণেশের শুড় শরৎকালে দুর্গাপুজোর সময় একবার দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিতের পুত্রর অসুখ হয়। স্বভাবতই দাদাঠাকুর চিন্তিত। তার স্ত্রী পুজোর দিন সকালে প্রতিমা দর্শন করে এসে দাদাঠাকুরকে বললেন, ছেলের অসুখের জন্য মায়ের কাছে গিয়ে মানত করে এলাম। মাকে অনেক করে বলে এলান--মা, আমার...

কেন পণ্ডিত

কেন পণ্ডিত এক আড্ডার আসরে একজন ব্যক্তি রসিকতা করে দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিতকে জিগ্যেস করলেন, দাদাঠাকুর, আপনার উপাধিটা কী করে পণ্ডিত হলো? প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে রসিক দাদাঠাকুর উত্তরে বললেন, কেন হবে না বলো, কোনও বস্তু যখন খণ্ড খণ্ড হয় তখন তাকে বলে খণ্ডিত, তেমনি আমি যখন...

গজেন ঘোষের আড্ডায়

গজেন ঘোষের আড্ডায় দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিত যখন কলকাতার বাগমারিতে এসেছেন, তখন বিদূষকপত্রিকাটি তিনি নিজেই শহরের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন। এই পয়সায় তিনি সংসার চালাতেন। সারাদিন পত্রিকা বিক্রির পর বিকেলে যেতেন নির্মলচন্দ্রের বাড়িতে বৈকালিক জলযোগ...

ট্যাক্সি

ট্যাক্সি রসিক সাহিত্যিক ছিলেন দাদাঠাকুর। তাঁর প্রকৃত নাম শরৎচন্দ্ৰ পণ্ডিত। কিন্তু দাদাঠাকুর নামেই তিনি বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তিনি বিদূষক পত্রিকার সম্পাদকপ্রকাশক। শুধু তাই নয়, তিনি বাস্তায় ঘুরে ঘুরে নিজেই পত্রিকা বিক্রি করতেন। অন্যদিকে তিনি ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতি। সময়...

সাপের মাথায় মণি

সাপের মাথায় মণি একদিন শরৎচন্দ্ৰ, উপেন্দ্ৰ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুরেন গঙ্গোপাধ্যায়-তিন মামা-ভাগ্নে ভবানীপুরের জগুবাবু বাজারের ধারে এক ভাবে রাস্তার এক গর্তের দিকে তাকিয়েছিলেন। তাঁদের এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অনেকের কৌত্বহল হল। এক ব্যক্তি শেষমেষ জিগ্যেস করে বসলেন, কী হয়েছে।...

পুরোহিত ক্লাস

পুরোহিত ক্লাস শরৎচন্দ্ৰ মুঙ্গেরে গেছেন তার নিজের ভাই-এর বিয়ে উপলক্ষে। কিন্তু ভুলে গেছেন পুরোহিত নিয়ে যেতে। কী করা যায়! পুরোহিত ছাড়া বিয়ে তো হবে না! শরৎচন্দ্রের এক বিশিষ্ট সাহিত্যিক বন্ধু তার গৃহপুরোহিতকে ভার দিলেন বিবাহ অনুষ্ঠানের। পুরোহিত আসায় সুশৃঙ্খলভাবে বিবাহের...

ট্রামে অচল টাকা

ট্রামে অচল টাকা শরৎচন্দ্র একবার উপেন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ট্রামে করে চলেছেন। কন্ডাক্টর এলে উপেন পকেট থেকে এক টাকা বের করে দেন। কন্ডাক্টর টাকা নিয়ে না দেখে ব্যাগে পুরে টিকিট কাটতে যাবেন, এমন সময় শরৎচন্দ্ৰ উপেনের কানে ফিস ফিস করে বললেন, সেই টাকাটা না? কন্ডাক্টরকে...

মচ্ছরচ্চন্দ্র

মচ্ছরচ্চন্দ্র শরৎচন্দ্র তখন ভাগলপুরে। একজন পিওন একটা চিঠি নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরে তাঁর কাছে এসে জিগ্যেস করলেন, বাবু, এখানে মচ্ছ। রচন্দ্ৰবাবু বলে কেউ থাকেন শরৎচন্দ্ৰ বললেন, কই চিঠিটা একবার দেখি শরৎচন্দ্ৰ খামটা দেখে বললেন, এ আমার চিঠি। নাম লেখা-শ্ৰী মচ্ছরচ্চন্দ্ৰ শৰ্মা।...

হিন্দু-মুসলমান বিবাদ

হিন্দু-মুসলমান বিবাদ তখন হিন্দু-মুসলমান মিলন নিয়ে খুব মাথা ঘামাচ্ছে কংগ্রেস। শরৎচন্দ্ৰ সেই সময় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বললেন, আপনারা এত চেষ্টা করছেন, তবু হিন্দুমুসলমানের মিলনের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না! আমি একটা উপায় বাতলে দিচ্ছি, দেখুন চেষ্টা করে! দেশবন্ধু বললেন, কী...

দাড়ি বিভ্রাট

দাড়ি বিভ্রাট শরৎচন্দ্র খুব সুন্দর বানিয়ে গল্প বলতে পারতেন। রাসচক্রের আড্ডায় তিনি মাঝে মাঝেই এরকম গল্প শোনাতেন। একবার তিনি এমনই এক মজার গল্প শোনান। সেটা হল- রবীন্দ্রনাথের এক বিশিষ্ট বন্ধুর পাকা দাড়ি ছিল। তিনি বিলাতে গেলে অনেকেই তাঁকে রবীন্দ্রনাথ বলে ভুল করেন।...

দুটাকায় বন্ধু বিচ্ছেদ

দুটাকায় বন্ধু বিচ্ছেদ শরৎচন্দ্র একবার দিল্লি কংগ্রেসে যোগ দিতে যান। ফেরার পথে দিল্লি থেকে যান। বৃন্দাবনে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কাশীর উত্তরা পত্রিকার সম্পাদক সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী ও দিলীপকুমার রায়। দুজনকেই শরৎচন্দ্ৰ বিশেষ পছন্দ করতেন। শরৎচন্দ্রের মেজভাই প্রভাসচন্দ্ৰ...

চরকা না যুদ্ধ

চরকা না যুদ্ধ শরৎচন্দ্ৰ কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেসের চরকা ও খন্দরের ব্যাপারে। বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন না যে, চরকা কাঁটলেই স্বরাজ ত্বরান্বিত হবে। তবু কংগ্রেস চরকা কাটার প্রোগ্রাম নিয়েছিল বলেই তিনি চরকা কাটা শিখেছিলেন ও খদ্দর পরতেন। শরৎচন্দ্ৰ...

অরক্ষণীয়ার উপসংহার

অরক্ষণীয়ার উপসংহার শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রচনা অরক্ষণীয়া গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে ভারতবর্ষ মাসিকপত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। শেষ অংশ ভারতবর্ষ। পত্রিকায় প্রকাশের জন্য এলে অংশটি পড়ে দেখেন পত্রিকার অন্যতম সত্ত্বাধিকারী হরিদাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি শরৎচন্দ্রের...

বেইমানি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগার খবর শুনে এক বুড়ো শিখ মেজর জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে?’ ‘ইংরেজ-ফরাসি জার্মানির বিরুদ্ধে।’ সর্দারাজী আপসোস করে বললেন, ফরাসি হারলে দুনিয়া থেকে সৌন্দর্যের চর্চা উঠে যাবে আর জমনি হারলেও বুরি বাৎ, কারণ জ্ঞানবিজ্ঞান কলাকৌশল মারা যাবে।’...