Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প

সূচীপত্র

মচ্ছরচ্চন্দ্র

মচ্ছরচ্চন্দ্র শরৎচন্দ্র তখন ভাগলপুরে। একজন পিওন একটা চিঠি নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরে তাঁর কাছে এসে জিগ্যেস করলেন, বাবু, এখানে মচ্ছ। রচন্দ্ৰবাবু বলে কেউ থাকেন শরৎচন্দ্ৰ বললেন, কই চিঠিটা একবার দেখি শরৎচন্দ্ৰ খামটা দেখে বললেন, এ আমার চিঠি। নাম লেখা-শ্ৰী মচ্ছরচ্চন্দ্ৰ শৰ্মা।...

হিন্দু-মুসলমান বিবাদ

হিন্দু-মুসলমান বিবাদ তখন হিন্দু-মুসলমান মিলন নিয়ে খুব মাথা ঘামাচ্ছে কংগ্রেস। শরৎচন্দ্ৰ সেই সময় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বললেন, আপনারা এত চেষ্টা করছেন, তবু হিন্দুমুসলমানের মিলনের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না! আমি একটা উপায় বাতলে দিচ্ছি, দেখুন চেষ্টা করে! দেশবন্ধু বললেন, কী...

দাড়ি বিভ্রাট

দাড়ি বিভ্রাট শরৎচন্দ্র খুব সুন্দর বানিয়ে গল্প বলতে পারতেন। রাসচক্রের আড্ডায় তিনি মাঝে মাঝেই এরকম গল্প শোনাতেন। একবার তিনি এমনই এক মজার গল্প শোনান। সেটা হল- রবীন্দ্রনাথের এক বিশিষ্ট বন্ধুর পাকা দাড়ি ছিল। তিনি বিলাতে গেলে অনেকেই তাঁকে রবীন্দ্রনাথ বলে ভুল করেন।...

দুটাকায় বন্ধু বিচ্ছেদ

দুটাকায় বন্ধু বিচ্ছেদ শরৎচন্দ্র একবার দিল্লি কংগ্রেসে যোগ দিতে যান। ফেরার পথে দিল্লি থেকে যান। বৃন্দাবনে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কাশীর উত্তরা পত্রিকার সম্পাদক সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী ও দিলীপকুমার রায়। দুজনকেই শরৎচন্দ্ৰ বিশেষ পছন্দ করতেন। শরৎচন্দ্রের মেজভাই প্রভাসচন্দ্ৰ...

চরকা না যুদ্ধ

চরকা না যুদ্ধ শরৎচন্দ্ৰ কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেসের চরকা ও খন্দরের ব্যাপারে। বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন না যে, চরকা কাঁটলেই স্বরাজ ত্বরান্বিত হবে। তবু কংগ্রেস চরকা কাটার প্রোগ্রাম নিয়েছিল বলেই তিনি চরকা কাটা শিখেছিলেন ও খদ্দর পরতেন। শরৎচন্দ্ৰ...

অরক্ষণীয়ার উপসংহার

অরক্ষণীয়ার উপসংহার শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রচনা অরক্ষণীয়া গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে ভারতবর্ষ মাসিকপত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। শেষ অংশ ভারতবর্ষ। পত্রিকায় প্রকাশের জন্য এলে অংশটি পড়ে দেখেন পত্রিকার অন্যতম সত্ত্বাধিকারী হরিদাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি শরৎচন্দ্রের...

বেইমানি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগার খবর শুনে এক বুড়ো শিখ মেজর জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে?’ ‘ইংরেজ-ফরাসি জার্মানির বিরুদ্ধে।’ সর্দারাজী আপসোস করে বললেন, ফরাসি হারলে দুনিয়া থেকে সৌন্দর্যের চর্চা উঠে যাবে আর জমনি হারলেও বুরি বাৎ, কারণ জ্ঞানবিজ্ঞান কলাকৌশল মারা যাবে।’...

গুরুদেবের ক্ষতি

গুরুদেবের ক্ষতি ১৩৪৪ সালে বিচিত্ৰা পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় রবীন্দ্ৰনাথ সাহিত্য ধর্ম নামে একটি প্ৰবন্ধ লেখেন। তৎকালীন পাঠক সমাজে প্ৰবন্ধটি আলোচনার কেন্দ্ৰবিন্দু হয়ে ওঠে। এমনই এক আলাপ আলোচনা চলতে থাকে ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে। রয়েছেন কয়েকজন সাহিত্যিক ও কর্মীরা। আলোচনার...

জলধর কথা

জলধর কথা ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক জলধর সেন। ১৩৪১ সালে তার ৭৫ তম জন্মদিনে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। এই উপলক্ষে . ঐ সময় জলধর কথা নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। পুস্তিকায় লেখেন বাংলার বিখ্যাত লেখক-লেখিকারা। ব্ৰজমোহন দাসের ওপর পড়েছিল...

ভাত

ভাত প্রখ্যাত নাট্যকার-কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভূমি কৃষ্ণনগর। ১৩৪১ সালের ১০ আশ্বিন, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণনগরে গেছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের নদীয়া শাখার বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্ৰ দিলীপকুমার ছিলেন শরৎচন্দ্রের বিশেষ...

খদ্দর

খদ্দর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্ৰাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সদস্য। একবার বঙ্গীয় প্ৰাদেশিক কমিটির অফিসে কংগ্রেসের এক বিরাট সভা বসে। সেই সভায় হাজির আনিলবরণ রায়, শরৎচন্দ্ৰ বসু প্রমুখ। কংগ্ৰেসকমীরা মনে করতেন। চরকা কাঠা ও খন্দর পরা প্রত্যেক কংগ্রেস কর্মীর অবশ্য কর্তব্য।...

আফিং এবং মিষ্টি

আফিং এবং মিষ্টি শরৎচন্দ্র একদিন লেখা দিতে এসেছেন ভারতবর্ষ পত্রিকার অফিসে। সেই সময় অফিসে ছিলেন না পত্রিকার সত্ত্বাধিকারী হরিদাস চট্টোপাধ্যায় কিংবা তার ছোট ভাই সুধাংশুশেখর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। শরৎচন্দ্ৰ লেখার পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে নানারকম গল্প করছেন...

নাম বিভ্ৰাট

নাম বিভ্ৰাট তখন সাহিত্য ক্ষেত্রে শরৎচন্দ্রের খুব নাম। শ্ৰীকান্ত, দেবদাস প্রভৃতি বই হট কেক। সেই সময় শরৎচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায় নামে আর এক লেখকের আবির্ভাব হয়। এই শরৎচন্দ্ৰ চাদমুখ হিরের ফুল প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা এবং গল্পলহরী পত্রিকার সম্পাদক। স্বভাবতই দুই শরৎচন্দ্রের...

থামতে জানেন

থামতে জানেন শরৎচন্দ্র ছিলেন একজন সংগীতপ্ৰেমী। তার সংগীতপ্রেমের কথা কারো অজানা ছিল না। কাছে পিঠে কোথাও গানের আসর বসলে তার নিমন্ত্রণ হতো। একবার দিলীপকুমার রায়ের কলকাতার বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে সংগীত সম্মেলন। সেই আসরে গান গাওয়ার কথা বিখ্যাত সংগীতশিল্পী আবদুল করিম...

জ্যোতিষী বলেছেন

জ্যোতিষী বলেছেন একবার শরৎচন্দ্ৰ গেছেন রেঙ্গুনে গভর্নমেন্ট হাউসে। সঙ্গে ছিলেন লটপ্রাসাদের কস্ট্রোলার। কস্ট্রোলারকে শরৎচন্দ্ৰ বিশেষ স্নেহ করতেন। শরৎচন্দ্র বলরুমে প্ৰবেশ করে বিলিতি ঢঙে একটু নেচে নিলেন। তারপর উপরে শয়নকক্ষে প্রবেশ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শয়ন শয্যায় কিছুক্ষণ...

মজার আয়না

মজার আয়না শরৎচন্দ্র একবার সবান্ধব নিমন্ত্রিত হয়ে গেছেন চন্দননগরের হরিহর শেঠের বাড়িতে। হরিহর ছিলেন ধনী, সদাশয়, মহানুভব ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি ঠিক যেন রাজপ্রাসাদ। । ঘরে দামী আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর জিনিস। অতিথিরা ঘুরে দেখছেন। একটি হল ঘরে বিপরীতমুখী দুটি দেওয়ালে দুটি বিশাল...

ঘড়ি

ঘড়ি শরৎচন্দ্র একবার হোয়াইট এ ওয়ে লোডেল কোম্পানীর সেলে তিন টাকা পনের আনায় একটি হাত ঘড়ি কিনেছিলেন। কেনার পর ঘড়িটা পুবার মেরামত করতে হয়। তৃতীয়বার ঘড়িটি খারাপ হলে তিনি একগ্লাস কেরোসিন তেলে ঘড়িটি ডুবিয়ে রাখেন। আশ্চর্য! ঘড়িটি এর ফলে ঠিক হয়ে যায়। এর পর থেকে যখনই কারো ঘড়ি...

কেমন ঠকালাম

কেমন ঠকালাম শরৎচন্দ্র তার ভাগ্না-ভাগ্নীদের সঙ্গে খুব মজা করতেন। একবার তিনি তাঁর স্নেহের ভাগ্নী পারুললতাকে মজা করে বলেন, এই পারু, তুই এখানে বসে আছিস, ওদিকে আশালতা আমাকে খুব বড়ো একটা মাছের মুড়ো খেতে দিয়েছে। যা গিয়ে দেখে আয়। একথা শুনে দৌড় লাগাল পারুললিতা, গিয়ে দেখল। সব...

বিপরীতগামী ট্রেন

বিপরীতগামী ট্রেন শরৎচন্দ্র যখন পেগুতে উকিল মিঃ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ছিলেন তখন পেগু একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অফিসে দু-তিন মাস অস্থায়ীভাবে চাকুরি করেন। এই সময় তিনি মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন রেঙ্গুনে। তিনি ছিলেন। আপাদমস্তক ভবঘুরে। সবসময় তাঁর মধ্যে একটা উদাসভাব দেখা যেত।...

সভাপতি

সভাপতি শরৎচন্দ্ৰ কোনো সাহিত্যসভায় গিয়ে গভীরমুখে বসে থাকতে পারতেন না। ভক্তবৃন্দের আমন্ত্রণে তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে হত। তিনি মঞ্চের ওপর ফরাসে শ্রেষ্ঠ আসনে বসে হয় এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন, নাহলে হাঁটুর ওপর হাতের আঙুলগুলো বা পা নাচাচ্ছেন। কখনো বা...

Page 3 of 25412345...102030...Last »

Adsense

সাম্প্রতিক মন্তব্য