Bangla Jokes - বাংলা জোকস

বাংলা কৌতুক ও হাসির গল্প



সূচীপত্র

বিশেষ পদ

বিশেষ পদ শান্তিনিকেতনে এসেছেন এক বিশিষ্ট ভদ্রলোক। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে নিমন্ত্রণ করলেন। খাওয়ার জন্য। কবি এবং ঐ ব্যক্তি উভয়েই পাশাপাশি বসেছেন মধ্যাহ্নভোজনে। কবির ভৃত্য দুজনকেই একই খাবার খেতে দিয়েছে। অবশ্য কবি কম খান, কিন্তু অতিথি ভদ্রলোকের খাবার পরিমােন কিছু বেশি।...

ভূতে বিশ্বাস

ভূতে বিশ্বাস শান্তিনিকেতনের এক ভদ্রলোক একদিন রবীন্দ্রনাথকে জিগ্যেস করেন, ‘গুরুদেব, আপনি ভূতে বিশ্বাস করেন?’ উত্তরে রবীন্দ্ৰনাথ বলেন, ‘আমি তো বিশ্বাস করিই, স্বচক্ষে দেখেওছি। মাঝে মধ্যে তাঁর দৌরাত্ম্য টের পাই। ভূতেরা সাহিত্যে, রাজনীতিতে এবং এক সময় তুমুল দাপদাপি জুড়ে...

প্রাণ ও টাকা

প্রাণ ও টাকা একবার নির্মলকুমারী ট্রেনে চেপে বোলপুরে আসছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে। ভিড় ট্রেনে ওঠার সময় হঠাৎই তার পা ফসকে যায়! প্ৰায় ট্রেনের নীচে তিনি পড়ে যাচ্ছিলেন! এক সহযাত্রী কোনো রকমে তাকে বাঁচান! নির্মলকুমারী শান্তিনিকেতনে এসে ভয়ে ভয়ে রবীন্দ্রনাথকে পুরো...

কান্না হাসি

কান্না হাসি রবীন্দ্ৰনাথ শেষ বয়সে অন্ত্রোপচারের পর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই সময় অনেকেই কবির সেবায় নিযুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে একজন নির্মল কুমারী। একদিন সকালে নির্মলকুমারী গভীর মুখে কবির কাছে এসে দাঁড়ালেন। কবি তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভেঙে...

সেনগুপ্ত দাশগুপ্ত

সেনগুপ্ত দাশগুপ্ত একদিন রানী চন্দ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ট্রেনে চেপে চলেছেন। ট্রেনের দুলুনিতে রানী, চন্দের দু'চোখে লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর উঠে দেখলেন রবীন্দ্রনাথ নিজের মনে কী সব বিড় বিড়করছেন। শোনার জন্য রানী চন্দ নিজের কানটা নিয়ে গেলেন কবির মুখের কাছে।  তিনি শুনলেন কবি...

চাঁদ ঢাকা

চাঁদ ঢাকা শান্তিনিকেতনে একদিন রাতে রবীন্দ্রনাথ জানলার পাল্লা খোলা রেখে শুয়ে আছেন। পূৰ্ণিমার রাত, জ্যোৎস্না এসে পড়েছে কবির মুখে। চোখে আলো পড়ায় ঘুম আসছে না বলে কবি ভৃত্য মহাদেবকে ডেকে বললেন, ‘ওরে আমার ঘুম হচ্ছে না, চাঁদটা ঢেকে দে তো!’ কী ভাবে চাঁদ ঢাকা হবে তা কিছুতেই...

মেঘমুক্ত দিগন্ত

মেঘমুক্ত দিগন্ত সুধাকান্ত রায়চৌধুরী বা বলডুইন-এর মাথার টাক বাড়তে দেখে একদিন রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘ও সুধাকান্ত, তোর শিরোদেশ যে ক্রমেই মেঘমুক্ত দিগন্তের আকার ধারণ করছে। খুব সাবধান!’ এ কথা শুনে সুধাকান্ত বললেন, ‘গুরুদেব, আমার বাবারও শেষ জীবনে ও রকম হয়েছিল!’ এবার...

কালা সাহেব

কালা সাহেব রবীন্দ্রনাথ একদিন বোলপুর থেকে ট্রেনে চেপে চলেছেন। জানলার ধারে বসে সুন্দর প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চলেছেন। বর্ধমানে ট্রেন থামতে কবির কামরায় উঠলেন এক কালা সাহেব। তার মুখে সিগারেট। সঙ্গে অজস্র মালপত্র। কালা সাহেব ইচ্ছা করলেই কবির পাশের কামরাতে উঠতে...

বাক্যের আঘাত

বাক্যের আঘাত শান্তিনিকেতনে একবার কবি জুরে আক্রান্ত। লেখালিখি বন্ধ। শুধুই বিশ্রাম। সেই সময় একদিন সকালে কয়েকজন বিহারী সাহিত্যিক এলেন কবির সঙ্গে দেখা করতে। ভূত্যের মুখে তাদের আসার খবর শুনে কবি বললেন, ‘কী করা যাবে, ওঁদের ডাকো, এতটা পথ এসেছেন, ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।’...

গর্জন

গর্জন সময় সুযোগ পেলেই রবীন্দ্রনাথ চেনা মানুষজনের সঙ্গে রঙ্গ রসিকতা ঠাট্টা তামাসায় মেতে উঠতেন। কবি তার খাসভৃত্য উমাচরণের সঙ্গেও রঙ্গ রসিকতা করতেন। উমাচরণের মৃত্যুর পর তার জায়গায় এল সাধুচরণ। সে কাজকর্মে যথেষ্টই পটু। তবে সে বড়ই গভীর প্রকৃতির মানুষ। মনিবের সঙ্গে সবসময়...

গোলগোল অক্ষর

গোলগোল অক্ষর  মংপুতে লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে একবার বেড়াতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বেশ কিছুদিন ছিলেন। একদিন রবীন্দ্রনাথ মৈত্ৰেয়ী দেবীকে বলেন, ‘আচ্ছা মৈত্ৰেয়ী, একটা জিনিস আমি বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছি, তোমাদের প্রত্যেকের হাতের লেখা আশ্চর্যরকম এক! কেমন গোলগাল অক্ষর! এটা...

চোখের জল

চোখের জল বৃদ্ধ বয়সে রবীন্দ্রনাথের একবার চোখের অসুখ হয়। ডাক্তার চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ দেন। ড্রপার দিয়ে কবির চোখে সেই ওষুধ দিতেন রানী চন্দ। সেই ওষুধে কবির চোখ জ্বালা করত। এর ফলে চোখ দিয়ে জল বেরোতো। রবি কবি একদিন রসিকতা করে রানী চন্দকে বল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রঙ্গ রসিকতা...

বসন্তের টিকা

বসন্তের টিকা একবার বোলপুরে বসন্ত মহামারির আকার নেয়। রবীন্দ্রনাথ তখন শান্তিনিকেতনে। আশ্রমের সকলেই বসন্তের টিকা নিচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথকেও বসন্তের টিকা দেবার ব্যবস্থা করা হল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ না-রাজ। কিছুতেই তিনি টিকা নেবেন না। কেউই তাঁকে বোঝাতে পারলেন না। শেষে এলেন...

কবি কবিরাজ

কবি কবিরাজ শুধু কবিতা লেখাই নয়, রবীন্দ্ৰনাথ সময় সুযোগ পেলেই হোমিওপ্যাথি বায়োকেমিক চর্চা করতেন। অনেকেই তাঁকে বলতেন ক্ষুদে চিকিৎসক। তিনি নিয়মিত ডাক্তারি বই পড়তেন ও রোগীদের ওষুধ দিতেন। পাশাপাশি তিনি খাদ্যনীতির ওপর রীতিমত পরীক্ষণ নিরীক্ষা করতেন এবং অন্যদের তা অনুসরণ করতে...

মশা মারার তেল

মশা মারার তেল শান্তিনিকেতনে মশা কামড়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য রবীন্দ্ৰনাথ মাঝে মাঝে হাতে পায়ে একটা মশা মারার তেল মাখতেন। এমনই একদিন তিনি তেল মাখছেন। সেই সময় শান্তিনিকেতনের এক শিক্ষক তাকে তেল মাখতে দেখে জিগ্যেস আকরলেন, ‘গুরুদেব, কী তেল মাখছেন?’ রসিক রবীন্দ্রনাথ হেসে...

তৃতীয় রসস্ৰষ্টা

তৃতীয় রসস্ৰষ্টা একদিন সকালে সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বা বনফুল সন্ত্রীক দেখা করতে এসেছেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। গুরুদেবের জন্য বনফুলের স্ত্রী ঘরের দুধ দিয়ে খানিকটা সন্দেশ করে নিয়ে এসেছেন। ঘরে প্রবেশ করেই বনফুলের স্ত্রী সন্দেশের কৌটোটা রবীন্দ্রনাথের হাতে দিতেই...

নিরামিষ না আমিষ

নিরামিষ না আমিষ শান্তিনিকেতনে একবার একটি ছোট ছেলে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে জানতে চায়--’ডিম জিনিসটাকে কেন আমিষ বলা হয়? নিরামিষ বললে কী ক্ষতি?’ কবি উত্তরে মজা করে লিখলেন, ‘ঠিকই তো, কই ডিমের গায়ের আঁশ দেখেছি বলে তো মনে হয় না। কেমন সুন্দর দিব্যি গোলগাল-খাসা আলুর মত।’ রসিক...

বৈবাহিক

বৈবাহিক সে সময় শান্তিনিকেতনের গ্রন্থাগারের দায়িতে ছিলেন রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি রাতে বাড়িতে গিয়ে পড়ার জন্য প্রতিদিন গ্রন্থাগার থেকে অনেকগুলো বই বোঝাই করে নিয়ে ফিরতেন। এমনই এক সন্ধ্যায় তিনি বেশ কয়েকটা পছন্দের বই সঙ্গে নিয়ে গ্রন্থাগার থেকে...

চরণপদ্ম

চরণপদ্ম রবীন্দ্ৰনাথ একবার তাঁর পার্সেনাল সেক্রেটারি সুধাকান্ত রায় চৌধুরীকে নিয়ে রামগড় পাহাড়ে বেড়াতে গেছেন। একদিন সকালে সুধাকান্ত দেখলেন, গুরুদেব নীচে বসে এক পায়ের মোজা খুলে হাত দিয়ে পায়ের তলাটা ঘষছেন। সুধাকান্ত জিগ্যোস করলেন, ‘গুরুদেব, কী হয়েছে?’ রবীন্দ্ৰনাথ...

কমলের প্রতি রবির উক্তি

কমলের প্রতি রবির উক্তি রবীন্দ্ৰনাথ শান্তিনিকেতনে দেহলীর ওপর থাকতেন। নীচে থাকতেন তার সম্পর্কে নাতি দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দীনুর স্ত্রী কমলা দেবী। একদিন আডল্পর আসরে রবীন্দ্ৰনাথ দীনু ঠাকুরকে বললেন, দ্যাখ দীনু, তোর ঘরের কথা প্রকাশ করে হাটে হাঁড়ি ভাঙার কোনো প্রয়োজন আছে?...