রসের সাগর

রবীন্দ্ৰনাথ ইন্দিরা দেবীকে বিশেষ স্নেহ করতেন। ইন্দিরা দেবীও ভক্তি করতেন গুরুদেবকে। ইন্দিরা দেবী প্ৰতিদিন লরেটো কলেজে পড়তে যেতেন। তিনি যেতেন গাড়ি করে। যাবার সময় তিনি প্রতিদিন দেখতেন, বড় রাস্তার মুখে একজন সুসজ্জিত যুবক দাঁড়িয়ে। বাড়ির বড়দের নজরে এল ব্যাপারটা। কিন্তু তিনি কী করেন? কেউ যদি দাঁড়িয়ে থাকে তার দোষ কোথায়?

বাড়ির সমবয়সী ভাই দাদা দিদিরা মজা মস্করা করার এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইলেন না। তাঁরা ইন্দিরা দেবীকে রাগাতেন। কিন্তু মজা হবে অথচ রবীন্দ্ৰনাথ থাকবেন না তা কখনো হয়?

রবীন্দ্রনাথের কানে কথাটা যেতেই তিনি চুপি চুপি একটা গান লিখে ফেললেন এবং ইন্দিরা দেবীর উপস্থিতিতে সবার সামনে গেয়ে শোনালেন। ইন্দিরা দেবী তো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলেন গান শুনে। গানটা হল–

‘সখী, প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে।
তারে আমার মাথার একটি কুসুম দে।’

এরপর কবি গানটি দিলেন ইন্দিরা দেবীকে।

রবীন্দ্ৰনাথ সময় সুযোগ পেলেই চেনাপরিচিতদের সঙ্গে রঙ্গ রসিকতায় মেতে উঠতেন। তাঁকে রসের সাগর বললে খুব ভুল বলা হবে না।