মণিবাবার মাহাত্ম্য

লেখালিখির ফাঁকে রবীন্দ্রনাথ তার খাস ভূত্য বনমালীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্পগুজব করতেন। কবি মাঝে মাঝেই রঙ্গ রসিকতায় মেতে উঠতেন খাস ভূত্যের সঙ্গে। একদিন সন্ধেবেলায় কবি গল্প করছিলেন অনিল চন্দের সঙ্গে। কাছেই দাঁড়িয়েছিল বনমালী। কথা প্রসঙ্গে সাপের কথা উঠতেই বনমালী বলল, ‘জানেন বাবামশাই, আমাদের গ্রামে একজন আছে—তার নাম মণিবাবা-’ এই বলে বনমালী মণিবাবার মাহাত্ম্য শুরু করল, ‘মণিবাবার এত মাহাত্ম্য, যদি কাউকে বিষধর সাপ কাটে তো তার সামনে তিনবার মণিবাবা, মণিবাবা, মণিবাবা বললেই সে উঠে বসবে, বিয অমনিই নেমে যাবে। আমাদের গায়ে তাই সবাই মণিবাবাকে খুব মানে।’

এ কথা শুনে রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘বটে’?’

বনমালী বললেন, ‘হ্যাঁ, মণিবাবার নামের এত গুণ!’

এবার রবীন্দ্ৰনাথ অনিল চন্দকে বললেন, ‘অনিল, যা তো যেখান থেকে পারিস একটা বিষধর কেউটে সাপ জোগাড় করে আন। এনে সাপটিকে দিয়ে বনমালীকে কাটা। তারপর তিনবার, থুড়ি তিনশোবার মণিবাবার নাম উচ্চারণ করা, দেখি বনমালী কেমন করে উঠে দাঁড়ায়।’

কবির কথা শুনে অনিল চন্দ হেসে ফেললেন। তা দেখে বনমালী লজ্জা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাথা চুলকোতে চুলকোতে সেখান থেকে চলে গেল। মনিব রবীন্দ্রনাথ ভৃত্য বনমালীকে বিশেষ স্নেহ করতেন। বনমালী ছিল সহজ সরল মাটির মানুষ। ঘরের কাজকর্মে সে ছিল দক্ষ।