ভাত

প্রখ্যাত নাট্যকার-কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভূমি কৃষ্ণনগর। ১৩৪১ সালের ১০ আশ্বিন, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণনগরে গেছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের নদীয়া শাখার বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্ৰ দিলীপকুমার ছিলেন শরৎচন্দ্রের বিশেষ স্নেহভাজন। কৃষ্ণনগরে শরৎচন্দ্ৰ দিলীপকুমারকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কৃষ্ণনগরে যাবেন, অথচ দ্বিজেন্দ্রলালের পৈতৃক বাসভবনে যাবেন না, তা হয়? দ্বিজেন্দ্রলালের দাদা সুরেন্দ্রলাল রায় সেই সময় কৃষ্ণনগরে পৈতৃক বাসভবনে বসবাস করছিলেন। শরৎচন্দ্ৰ দিলীপকুমারের সঙ্গে গেলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের পৈতৃক বাসভবনে। দিলীপকুমার তাঁর জ্যাঠামশাই-এর সঙ্গে শরৎচন্দ্রের আলাপ করিয়ে দিলেন। পরিচয় পৰ্ব্ব শেষ হলে শরৎচন্দ্ৰ সুরেন্দ্রলালকে হাতজোড় করে নমস্কার করে বললেন, আপনি বিখ্যাত কবি দ্বিজেন্দ্রলালের দাদা, তাই আপনিও উনার মত প্ৰাতঃস্মরণীয়। আপনাকে দেখেও পুণ্য হয়। তা আপনি ভাত খেয়েছেন?

শরৎচন্দ্রের মুখে হঠাৎ ভাত খাওয়ার কথা শুনে অবাক সুরেন্দ্রলাল। বিস্ময়ের ভাব কাটিয়ে জানতে চাইলেন, হঠাৎ ভাত খাওয়ার প্রসঙ্গ কেন?

শরৎচন্দ্ৰ হাসতে হাসতে বললেন, জানিনা মশাই, এখানে রাস্তার ধারে একটা ঘরে আছি, তা ঘরে বসেই শুনছি, রাস্তা দিয়ে যত লোক যাতায়াত করছে, পরিচিতদের দেখলেই জিগ্যেস করছে, ভাত খেয়েছেন? আমি ভাবলুম এটা বুঝি এখানকার রীতি। তাই বললুম।

শরৎচন্দ্রের কথা শুনে মুচকি হাসলেন সুরেন্দ্রলাল ও দিলীপকুমার। এরপর শরৎচন্দ্ৰ হাসতে হাসতে আরও বললেন, কী কারণে এই ধরনের প্রশ্ন এখানে করা হয়। তা আমি অবশ্য পরে জেনেছি। এখানে বড্ড ম্যালেরিয়া হয়। এখানকার লোকেরা খালি জ্বরে ভোগে। তাই ভাত খেতে পাওয়াটা এদের কাছে একটা মস্ত বড় ব্যাপার। তাই বোধহয় পরিচিতজনদের দেখলেই একে অন্যকে জিগ্যেস করে, ভাত খেয়েছেন তো? অর্থাৎ সুস্থ আছেন কিনা!

শরৎচন্দ্রের কথা শেষ হতেই এবার সুরেন্দ্রলাল ও দিলীপকুমার হো হো করে হেসে উঠলেন।

Share This