ব্রাইড মাদার

রবীন্দ্ৰনাথ মাঝে মাঝেই বিদেশভ্রমণে যেতেন। কখনো একা, কখনো কাউকে সঙ্গে নিয়ে নিতেন। কবির পুত্ৰবধু প্ৰতিমা দেবী বেশ কয়েকবার কবির সঙ্গে বিদেশ ভ্ৰমণে গিয়েছিলেন। প্ৰতিমা দেবীকে কবি বিশেষ স্নেহ করতেন। কবি প্ৰতিমা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ঘুরেছেন। কোনো কোনো সময় পুত্র রথীন্দ্রনাথও সঙ্গে থাকতেন। একবার কবি ভারতবর্ষের একটি শহরে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে চলেছেন ট্রেনে। কবি একটি কামরায় জানলার ধারে বসে মনোরম প্রাকৃতিক শোভা দেখতে দেখতে চলেছেন। পাশের কামরায় আছেন প্রতিমা দেবী সহ আরো কয়েকজন। কিন্তু কথায় আছে খ্যাতির বিড়ম্বনা। কোন স্টেশনে ট্রেন থামা মাত্রই ভক্তের দল কবিকে ফুলের মালায় ভরিয়ে দেন। কবি বারণ করতে পারেন না। মুচকি হাসেন ও ভক্তদের ভালবাসা মেনে নেন। কিন্তু কতক্ষণ এ রকম চলতে পারে? শেষমেষ কবি ভক্তদলের ভালবাসায় ক্লান্ত হয়ে একটা উপায় বের করলেন। কী উপায়? সম্ভাব্যস্থানে এসে পৌঁছতে তাঁর ভক্তরা যেই না ফুল মালা নিয়ে ছুটে আসেন, কবি তাঁদের বলেন, ‘আরো আপনারা করেন কী! আমি তো ফুলের মালায় ঢাকা পড়েই গেছি, পাশের কামরায় আমার ব্রাইড মাদার রয়েছেন, যান, তাকে গিয়ে নামান ও অভ্যর্থনা জানান।’

কবির কথা শুনে সবাই অবাক কে এই ব্রাইড মাদার? তখন কবি হাসতে হাসতে বললেন, ‘ডিটার ইন লি হল বাংলায় পুত্ৰবধু বা বউমা, তাই ব্রাইড মাদার।’

কবির কথা শুনে ভক্তের দল হেসে ফেললেন ও ছুটলেন প্রতিমা দেবীকে অভ্যর্থনা জানতে।