গোপাল ভাঁড়

সব দোষ ধোপার

সব দোষ ধোপার স্বামী : লণ্ড্রীতে কাচার পর নতুন কেনা পাঞ্জাবীটা কেমন ছোট হয়ে গেছে দেখছ ? কিছুতেই মাথা গলাতে পারছি না । স্ত্রী : কই দেখি ? ওমা জামা তো ঠিকই আছে, তুমি আসলে হাতার মধ্যে দিয়ে মাথা গলাবার চেষ্টা করছ...

নাম সংক্ষেপ

ক্যাডেটদের মাঝেমধ্যেই গণহারে নানা ঝোঁক চাপে। এই যেমন একটা টার্মে আমরা সব বিষয়ের শিক্ষকদের সংক্ষেপে ডাকা শুরু করলাম। বাংলার শিক্ষককে বাশি, ইংরেজির শিক্ষককে ইশি, আর ভূগোলের শিক্ষককে ভূশি। সেটা মোটামুটি সব স্যার জেনে গিয়েছিলেন। একদিন জামান স্যার ক্লাসে এসেই বললেন,...

নবাবের অষ্টাদশ-পর্ব মহাভারত কথা

একবার মুর্শিদাবাদের নবাবের খেয়াল হল, হিন্দুদের মত আমাকে নিয়ে মহাভারত রচিত হোক। যেমনি ভারা তেমনি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে নির্দেশ পাঠালেন, আপনাদের অর্থাৎ হিন্দুদের অনুকরণে, তাকে নিয়ে একটি নতুন মহাভারত পন্ডিতদের দিয়ে লিখে দিতে হবে একমাসের মধ্যে। সেইরূপ পন্ডিত অতি শীঘ্র...

চোরের আজব সাজা

একদিন গোপালের জ্বর হওয়ায় সে সেদিন রাজসভায় যেতে পারেনি। মহারাজ সভাসদদের নিয়ে নানা আলাপ আলোচনা করতে করতে হঠাৎ বললেন, আমার সভার মধ্যে এমন কি কেউ আছে, যে গোপালের ঘর থেকে কিছু চুরি করে আনতে পারে? যদি কেউ পারে, তবে সে সামান্য জিনিস হলেও আমি তাকে বিশেষভাবে পুরষ্কৃত করব।...

গাছে কাঁঠাল গোফে তেল

গোপালের পাশের এক প্রতিবেশীর নাম কেদার। তার বাড়ির উঠানে কাঁঠাল গাছ ছিল। গাছটিতে প্রতি বছর বেশ বড় বড় কাঁঠাল হত। খেতে মধুর মত মিষ্টি। কিন্তু একটা কাঁঠালও সে কাউকে দিত না। গাছে একটি কাঠাঁল পাকলে তার গন্ধে পাড়া মাত করে তুলত। গোপাল যাচ্ছিল কেদারের বাড়ির সামনের রাস্তাদিয়ে।...

মোসায়েবি সোজা নয়

খতেগঞ্জের এক জমিদার, তাঁর বড় সখ, গোপাল ভাঁড়ের মত তার সভাতেও এমনই একটি ভাঁড় রাখেন। কিন্তু মনে মত ভাঁড় আর তিনি পান না। একদিন গোপালকে ডেকে বললেন, বাপু গোপাল। তুমিই একটা লোক আমায় বাজিয়ে দেখে দাও- যেন মোটামটি তোমার মত হয়। গোপাল রাজী হয়ে বললে, তা বেশ। এ কাজের জন্য ঢ্যাড়া...

সর্দি মোছার পাছা

সেদিন বড় গঞ্জের হাটবার। সকলকে সেই হাটেবাজার করতে যেতে হয়। গোপাল গঞ্জের বাজারে চলেছে গ্রামের কয়েকজন চেনাজানা লোকের সঙ্গে গল্প করতে করতে। যেতে যেতে হঠাৎ গোপালের নজরে পড়ে, সামনে একটি মেয়েও যাচ্ছে বোঝা মাথায় নিয়ে। গোপাল ভালভাবে নজর দিয়ে দেখতে পেলে, মেয়েটি ভারি বোঝার জন্য...

একি মগের মল্লুক

এক পাড় মাতাল রাস্তা দিয়ে যেতে যেত গোপালের বাড়ির রোয়াকে বসে হেড়ে গলায় গান জুড়ে দিল। গোপাল তার ছেলেদের ডেকে বললে, বেটাকে বেধে ঘা কতক দে তো। এপাধা নি ব্যাটাকে দে প্যাদানি। মাতাল ফিক করে হেসে বলল কি বাওয়া। তোমারও কি নেশা হল নাকি? যা নয় তাই বলতে শুরু করলে। আমি কি মনের সুখে...

সবচেয়ে বড় ফারসী শব্দ

মৌলভী সাহেব একদিন মক্তবে ফারসী পড়াতে পড়াতে প্রশ্ন করলেন, আরবী ফারসীতে সবচেয়ে বড় শব্দ কি, যে যা জান, তোমরা ভেবে চিন্তে সব বল। বারো চোদ্দ অক্ষরের এক একটা শব্দ ছেলেরা অভিধান থেকে টেনে টেনে বার করতে লাগলো। মৌলভী সাহেব টুপি নাড়াতে নাড়াতে একবার এধার একবার ওধার ঘাড় দুলিয়ে...

ধরে আনতে বেঁধে আনা

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার পেয়াদাকে ডেকে বললেন, ওরে ভজহরি ব্যাপারীকে একবার ডেকে আনবি তো। ভজহরি সরেস গুড়ের কারবার করত। পেয়াদা ব্যাপারীকে একেবারে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাজসভায় হাজির করলে। ভজহরি গোপালকে ধারে মাল দিতে চাইত না, তাই তার ওপর গোপাল চটে ছিল। পেয়াদা তাকে আজ একেবারে...

জাত-কুল সব গেল

গোপালের স্ত্রী নিজেই দেখাশোনা করে বড় মেয়েকে এক বামুনের বাড়িতে বিয়ে দিয়েছিল। সেই মেয়ের মেয়ে বড় হোল একদিন। তারই বিয়ের নিমন্তন্নে গোপালেরা উপস্থিত। স্ত্রী একান্তে ডেকে বললে, হ্যাঁ গা, আমাদের বড় মেয়ের জামাই নাকি জাতে নাপিত বামুন নয়। কিন্তু সে সম্বন্ধ তুমি কিছু জান কি?...

পাওনাদার

গোপাল একবর বাইরে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়েই অসুখে পড়ে গিয়ে বিভ্রাট। সেখানকার লোকজনেরা তখন তাকে একটি হাসপাতালে দিয়ে আসে। বিদেশ বিভুই তাই সেখানে জানা শোনা লোক ছিল না তার। রোজগার পত্র না থাকায় অনেক ধারটার হয়েও গেল সেখানে। সেই হাসপাতালে এক বৃদ্ধা তাঁর ছেলেকে রোজ দেখতে...

হিসাবী লোক

গোপাল একবার দূর দেশে বেড়াতে যাবে বহুদিন ভাড়াটে বাড়িতে রয়েছে, একে একে অনেক আসবাবপত্র জমা হয়েছে। সে সব আসবাব সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব, অথচ বেচে যেতেই ইচ্ছে নেই। হেকে পয়সা পাবে। বেচে গেলে টাকা পয়সা যা পাওয়া যাবে এখন, তাতে ফিরে এলে সে টাকায় তো আর খরিদ করা যাবে না, ভালো...

একই কপি

একদিন একটি বিশাল ধর্মসভায় বক্তৃতা হচ্ছিল সেখানে গোপালও ছিল বক্তৃতা শুনছে। একজন সকালবেলায় যে বক্তৃতা দিলেন, বিকালবেলার অন্য একজনও সেই একই বক্তৃতা দিলেন- একই ভাষা, একই কথা। লোকজন সবাই অবাক। শেষে সকলে শুনে বললে, এরূপ কি কোনদিন হয়? গোপাল বলল নিশ্চয়ই বক্তৃতা কিনে এনেছেন।...

তোমার আমার ব্যাপার

গোপাল একদিন তার প্রিয় বন্ধু নেপালকে বললে, দেখো ভাই সবই তোমার আমার ব্যাপার। নেপাল জিজ্ঞাস করলে, সে আবার কি রকম? গোপাল বললে, এই ধরো নেপাল- তোমার বাড়ি আমার বাড়ি, আমার বাড়ি তোমার বাড়ি, তোমার টাকা আমার টাকা, আমার টাকা তোমার টাকা, তোমার জামা আমার জামা, আমার জামা তোমার জামা...

ঘোড়া নয়, গাধা দরকার

গোপালের গ্রামে এক ধোপা বাস করত। সে খুবই বোকা। তার একটা ঘোড়া ছিল। কিন্তু ঘোড়ার দ্বারা কাপড় কেচে বাড়ি বাড়ি দেওয় যায়না। তার একটা গাধার দরকার। ঘোড়া বিক্রি করে সেই টাকায় গাধা ভাল রকম কিনে আনতে পারে- সে এ কথাটা ভাবতে পারে না। এমনই তরল তার মগজের ঘিলু। গোপাল অনেক কাজ সমাধা...

আজ যে ভীম একাদশী

গোপাল একাদশী করত। তার একাদশী করা অভ্যাস। গোপাল একাদশীর দিন সন্ধ্যেবেলায় প্রসাদ পেত লুচি, মিষ্টি- নানাবিধ ফল সহকারে। সেদিন যেন মহোৎসব লেগে যেত। গোপালকে ওভাবে একাদশীর দিন ভোজন করতে দেখে তার এক চাকর বললে, সামনের তারিখ থেকে আমিও একাদশী পালন করব বাবু। আমার একাদশী করার খুব...

খারাপ ছাড়া ভাল হবে না

এক ভদ্রলোক গোপালের কর্মচারীর কাছে এসে বললে, আপনাদের বাবু নাকি কানে খাটো? ধান শুনতে গান শুনে কানে হাত দিয়ে তান ধরেন? এই বলে সে দমভরে হাসতে লাগল। কর্মচারীটি তখন বললে, একটু আস্তে কনমশাই। বাবু পাশেই বসে আছে, শুনতে পারলে সর্বনাশ হবে। আপনার কাছে মোটেই ভাল তা ঠেকবে না। গায়ের...

আমায় জাগিয়ে দিও মা

গোপালের মেয়ের প্রথম সন্তান হবে। গর্ভবতী অবস্থায় গোপালের মেয়ে গোপালের বাড়িতে সন্তান প্রসবের জন্য এসেছিল। রাতে শুতে যাবার আগ মেয়ে মাকে বললে আমার ‍আজ বড্ড ঘুম পাচ্ছে, আমি শুতে যাচ্ছি-আমার যখন প্রসব বেদনা উঠবে, তখন তুমি আমায় জাগিয়ে দিতে ভুল কর না যেন মা। মেয়ের এই কথা শুনে...

হাসি আর ধরে না যে দাদার

গোপাল গ্রামের এক মহাজনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। আজ দেব, কাল দেব বলে সে টাকা আর শোধ করতে পারেনি। সেই লোক গোপালকে একদিন হাটের মধ্যে পাকড়াও করে বললে, আমার টাকাগুলো দিয়ে দাও তো গোপাল, নইলে আজ আর তোমার ছাড়ব না। তোমাকে এত লোকের সামনে অপমান করব, দেখি তুমি কোথা যাও...