বিলিতি ও দেশী

কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একদিন রায়পুরে এক দরবারে অদ্ভুত পোশাক পরে হাজির হলেন। কী রকম? ধুতি-চাদর-লালকোট–বিলিতি টুপি! উপস্থিত সকলেই তাঁর এই বেশ দেখে অবাক! কমিশনার সাহেব হেসে বললেন, আপনি পাগল নাকি মশাই! না হলে এরকম পোশাক পরে কেউ আসে?’

দ্বিজেন্দ্রলাল রাগ করলেন না, হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি বিলিতি ও দেশী পোশাক মিশিয়ে পরে এই দুই আলাদা জাতির মিলনের পরিচয় দিয়েছি। এবার বলুন আইডিয়াটা কেমন?’

দ্বিজেন্দ্রলালের কথা শুনে উপস্থিত প্ৰত্যেকেই হোঃ হেঃ করে হেসে উঠলেন। কবি এরকম রঙ্গ রসিকতা করতে খুব ভালবাসতেন।

রিজেন্ট পার্কে কবি দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায় একদিন বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতার রিজেন্ট পার্কের ভেতর দিয়ে গল্প করতে করতে আসছিলেন। এমন সময় তিনি দেখেন, পার্কের ভেতরে এক সাদাপোশাক পরিহিত পাদ্রী হাত নেড়ে নেড়ে চিৎকার করে বক্তৃতা করছেন! বক্তৃতার মধ্যদিয়ে তিনি ধর্মোপদেশ দিচ্ছিলেন। স্বভাবতই তার চারদিকে ধর্মভীরু মানুষের ভিড়। ভিড়ে খ্রীস্টানদের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলমান শ্রোতাও রয়েছেন!

‘কী বলছেন পাদ্রী, একটু শুনি চলুন’ –বন্ধুদের একথা বলে উৎসুক দ্বিজেন্দ্রলাল ভিড় ঠেলে বক্তৃতা শোনার জন্য একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন ধর্মপ্রচারক পাদ্রী সাহেব তাঁর মুখের দিক তাকিয়ে বললেন, ‘শয়তান তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে!’

দ্বিজেন্দ্রলাল পাদ্রীসাহেবের এই কথা শুনে ভিড়শুদ্ধ লোকের সামনে গলা তুলে বললেন, ’হ্যাঁ-হ্যাঁ, সে তুমিই বটে!’

দ্বিজেন্দ্রলালের কথা শুনে পাদ্রীর মুখ চুন!

হোঃ হেঃ করে হেসে উঠলেন উপস্থিত সকলেই।