নতুন বাসায় উঠলাম আমরা। আমার ধারের অন্ত নেই, স্ত্রীর খুশির অন্ত নেই।
সন্ধেবেলায় দরজায় কলিং বেল। খুলে দেখি, অপরিচিত এক লোক দাঁড়িয়ে। হাতে ধরে আছে পা। গরুর। জানলাম, প্রতিবেশী। সে বলল, ‘আমার ফ্রিজটা নষ্ট হয়ে গেছে। আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।’
প্রতিবেশী যখন বলছে, সাহায্য অবশ্যই করা উচিত। তার ফ্রিজের সমস্ত জিনিসপত্র ঢোকানো হলো আমাদের ফ্রিজে। তবে ফ্রিজে রাখা আমাদের খাবারদাবার বের করে খেয়ে ফেলতে হলো, যাতে নষ্ট হয়ে না যায়। প্রতিবেশীকে ধন্যবাদ, সে সাহায্য না করলে আমরা খেয়ে শেষ করতে পারতাম না।

আরেক দিন কলিং বেল। আবার প্রতিবেশী। হাতে কিছু নেই বটে, তবে তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন।
সে বলল, ‘আমরা কয়েকজন ফুটবল দেখব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু আমার টিভিটা নষ্ট হয়ে গেছে। আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।’
প্রতিবেশী যখন বলছে, সাহায্য অবশ্যই করা উচিত। আমাদের ফ্রিজ থেকে তার খাবারদাবার বের করে সে বন্ধুদের নিয়ে বসে পড়ল আমাদের টিভির সামনে।
তবে সত্যি বলতে কি, আমি আর আমার স্ত্রী টিভিতে সিনেমা দেখব বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের ফুটবল দল যখন খেলছে আরেক দলের সঙ্গে এবং প্রায় জিততে চলেছে, তখন কিসের সিনেমা! আর ঠিক সেই সময় আমাদের দলকে নিশ্চিত একটা পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করল রেফারি। প্রতিবেশীকে ধন্যবাদ; সে এক ঘা বসিয়ে দিল রেফারিকে। বোতল দিয়ে। একেবারে টিভির পর্দায়।
দিন পনেরো পর আবার কলিং বেল। প্রতিবেশী। একা। হাতে কুঁচকে যাওয়া প্যান্ট।

বলল, ‘বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।’
প্রতিবেশী যখন বলছে, সাহায্য অবশ্যই করা উচিত। কিন্তু করতে পারছি না। কিছুতেই না। এমনকি আমাকে মেরে ফেললেও না। এর কারণ এই নয়, আমার এই প্রতিবেশীকে আমি খারাপ চোখে দেখতে শুরু করেছি। কারণটা আসলে খুব সহজ—আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।