নিরামিষাশী কবি

রবীন্দ্রনাথ ‘নতুন বৌঠান’ কাদম্বরী দেবী ও স্ত্রী মৃণালিণী দেবীর অকাল মৃত্যুতে বড় আঘাত পেয়েছিলেন। তাই এই দু’জনের মৃত্যুর পর কবি মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন। যদিও প্রথম বয়সে কবি মাছ-মাংস খেতে খুব ভালবাসতেন। একদিন সুধাকান্তর সঙ্গে কবির আমিষ-নিরামিষ নিয়ে জোর তর্ক বাধে। সুধাকান্ত ঘোর মাংসাশী। অন্যদিকে কবি তখন নিরামিষাশী। সুধাকান্ত একবার বাজি ধরে বাঘের মাংস খেয়েছিলেন। স্বভাবতই তিনি আমিষাহারকে সমর্থন করে বলেন, ‘জীব পর্যায়ে তৃণভোজীদের চেয়ে মাংসাশীরা বেশি বিক্রমশালী।’

এ কথা শুনে কবি বলেন, ‘বটে’! তাহলে হাতি, ঘোড়া, মহিষ, উট এদের বুঝি তোমরা জীবের মধ্যে গণ্য কর না? ওরা কেউ মাংস খায় বলে শুনিনি!’

আসলে সুধাকান্ত তর্ক করতে বসে তৃণভোজী বলতে শুধু গরু, ছাগল, হরিণ এদের কথাই ভেবেছিলেন। হাতি, ঘোড়া, উট, মহিষের নাম ওঠায় সুধাকান্তু অপ্ৰস্তুত হয়ে পড়েন। তা দেখে হাসতে হাসতে কবি বলেন, ‘দ্যাখো, নিরামিষের কাছে আমিষ হেরে গেল।’

সুধাকান্ত এবার হেসে ফেললেন কবির কথা শুনে।